|

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায়: এই শিখন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করবে এবং সেই মডেল পর্যবেক্ষণ করে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা উদঘাটন করবে এবং এই কাজের মধ্য দিয়ে তারা মহাকাশের এই বস্তুসমূহ নিজেদের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে যে গতিশীল সাম্যাবস্থা সৃষ্টি করে তা আবিষ্কার করবে।

শুরুতে তারা চন্দ্রগ্রহণের একটা বিখ্যাত ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হবে যেখানে বিখ্যাত অভিযাত্রিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস চন্দ্রগ্রহণের দিনক্ষণ আগাম জানা থাকার তথ্য নিজের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক গল্পের সূত্র ধরে চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে ঘটে তা বোঝার জন্য শিক্ষার্থীরা এরপর হাতের কাছে পাওয়া যায় এমন উপকরণ দিয়ে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর মডেল তৈরি করবে এবং এগুলোর ঘূর্ণনের কক্ষপথ সেই মডেলে দেখাবে।

এই মডেল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আগে তারা দিন-রাতের পরিবর্তন, ঋতু পরিবর্তন এই বিষয়গুলো ঝালাই করে নেবে। এরপর চাঁদের বিভিন্ন দশা পর্যবেক্ষণের পর তারা পূর্ণিমা ও অমাবস্যা কখন হয় এবং চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কখন ঘটে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তারা তাদের বানানো মডেলে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক পরিবর্তন করবে এবং এই গতিশীল সিস্টেমে কীভাবে সাম্যাবস্থা বজায় থাকে সে বিষয়ে ধারণা তৈরি করবে। পৃথিবীর উপর চাঁদ ও সূর্যের আর কী কী প্রভাব আছে তা অনুসন্ধান করে জোয়ার-ডাটা ও তেজ কটাল-মরা কটাল কীভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করবে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। অভিশপ্ত চাঁদ গল্পটির বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: চন্দ্রগ্রহণ।

প্রশ্ন ২। চন্দ্রগ্রহণ যে হবে কলম্বাস কীভাবে আগে থেকে জানলেন?
উত্তর: জার্মান জ্যোতির্বিদের তৈরি একটা পঞ্জিকা থেকে।

প্রশ্ন ৩। অভিশপ্ত চাঁদ গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
উত্তর: ক্রিস্টোফার কলম্বাস।

প্রশ্ন ৪। কলম্বাস কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
উত্তর: স্পেন।

প্রশ্ন ৫। প্রথম শ্বেতাঙ্গ হিসেবে কে আমেরিকার মাটিতে পা রাখেন?
উত্তর: ক্রিস্টোফার কলম্বাস।

প্রশ্ন ৬। কলম্বাসের জাহাজ কোন সৈকতে নোঙর করেছিল?
উত্তর: জ্যামাইকান সৈকতে।

প্রশ্ন ৭। কত সালে কলম্বাসের জাহাজ জ্যামাইকান সৈকতে নোঙর করেছিল?
উত্তর: ১৫০৩ সালের মাঝামাঝি সময়।

প্রশ্ন ৮। অভিশপ্ত চাঁদ গল্পে সেই রাতে আসলে কী ঘটেছিল?
উত্তর: চন্দ্রগ্রহণ।

প্রশ্ন ৯। কখন জ্যামাইকার আদিবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল?
উত্তর: ১৫০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

প্রশ্ন ১০। জ্যামাইকার আদিবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে কী আবিষ্কার করল?
উত্তর: পূর্ণিমার চাঁদ ধবধবে চাঁদকে গিলে খাচ্ছে একরাশ অন্ধকার।

প্রশ্ন ১১। অভিশপ্ত চাঁদ গল্পের অভিযাত্রিকের নাম কী?
উত্তর: ক্রিস্টোফার কলম্বাস।

প্রশ্ন ১২। বিখ্যাত অভিযাত্রিক কলম্বাস কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
উত্তর: ইতালি।

প্রশ্ন ১৩। কে প্রথম শ্বেতাঙ্গ হিসেবে আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছিলেন?
উত্তর: ক্রিস্টোফার কলম্বাস।

প্রশ্ন ১৪। কলম্বাসের জাহাজের বহর কত সালে জ্যামাইকান সৈকতে নোঙর করেছিল?
উত্তর: ১৫০৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে।

প্রশ্ন ১৫। অভিশপ্ত চাঁদ গল্পের ঐ রাতে আসলে কী ঘটেছিল?
উত্তর: চন্দ্রগ্রহণ।

প্রশ্ন ১৬। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ছেলের নাম কী?
উত্তর: ফার্দিনান্দ।

প্রশ্ন ১৭। অভিশপ্ত চাঁদ গল্পটি আমরা কীভাবে জানতে পারলাম?
উত্তর: ফার্দিনান্দ-এর লিখে যাওয়া বয়ানে।

প্রশ্ন ১৮। চন্দ্রগ্রহণের সময় আসলে ঠিক কী ঘটে?
উত্তর: কিছু সময়ের জন্য চাঁদ অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রশ্ন ১৯। সূর্যের মতোই চাঁদ পূর্ব দিকে উদিত হয়ে পশ্চিম দিকে অন্ত যায় কেন?
উত্তর: পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য।

প্রশ্ন ২০। পূর্ণিমার ভরা চাঁদ ক্ষীণ হতে হতে কখন পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়?
উত্তর: অমাবস্যায়।

প্রশ্ন ২১। চাঁদের নিজের কী নেই?
উত্তর: আলো নেই।

প্রশ্ন ২২। চাঁদের নাকিত অংশের নাম কী?
উত্তর: চন্দ্রকলা।

প্রশ্ন ২৩। চন্দ্রগ্রহণ পরবর্তী পুরো দৃশ্যমান চাঁদটিকে আমরা কী বলি?
উত্তর: পূর্ণিমার চাঁদ ।

প্রশ্ন ২৪। চাঁদের দৃশ্যমান অংশ যখন বাড়তে থাকে সেই সময়কালকে কী বলে?
উত্তর: শুক্লপক্ষ।

প্রশ্ন ২৫। চাঁদের দৃশ্যমান অংশ যখন কমতে থাকে সেই সময়কালকে কী বলে?
উত্তর: কৃষ্ণপক্ষ।

প্রশ্ন ২৬। চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরে আসতে কত সময় লাগে?
উত্তর: ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা।

প্রশ্ন ২৭। একটি নতুন চাঁদ থেকে পরের নতুন চাঁদ দেখতে কত সময় লাগে?
উত্তর: ২৯ দিন ৮ ঘণ্টা।

প্রশ্ন ২৮। পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের অবস্থান কেমন হলে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে?
উত্তর: একই সরলরেখায় আসলে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। পূর্ণিমা কাকে বলে?
উত্তর: যখন পৃথিবী চন্দ্র ও সূর্যের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থান করে, তখন চন্দ্রের এক পাশ আলোকিত হয়, এ আলোকিত অংশটিকে পূর্ণিমা বলে।

প্রশ্ন ২। অমাবস্যা কাকে বলে?
উত্তর: যখন চন্দ্র পৃথিবী ও সূর্যের একদিকে থাকে তখন সমগ্ৰ চন্দ্ৰপৃষ্ঠ অন্ধকার হয়ে যায়, এ অন্ধকার অংশটিকে অমাবস্যা বলে।

প্রশ্ন ৩। চন্দ্রকলা কী?
উত্তর: চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়ার সময় সূর্যের সাপেক্ষে তার অবস্থানের জন্য চাঁদের আলোকিত অংশের আকার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। চাঁদের আলোকিত অংশের এই পরিবর্তনের একটি সুন্দর নাম আছে। সেটিই হচ্ছে ‘চন্দ্রকলা’।

প্রশ্ন ৪। শুক্লপক্ষ কী?
উত্তর: চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এ ধরনের ঘূর্ণনের কারণে চাঁদের দৃশ্যমান অংশটুকু কমতে কমতে একসময় অমাবস্যায় পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। পুনরায় চাঁদের দৃশ্যমান অংশ যখন বাড়তে থাকে, সেই সময়কে বলে শুক্লপক্ষ। সাধারণত পূর্ণিমা থেকে পরের ১৫ দিন এবং পূর্ণিমার আগের ১৫ দিনকে শুক্লপক্ষ বলা হয়।

প্রশ্ন ৫। কৃষ্ণপক্ষ কী?
উত্তর: অমাবস্যার শুরুতে চাঁদের দৃশ্যমান অংশ যখন কমতে থাকে তখন তাকে বলে কৃষ্ণপক্ষ।

প্রশ্ন ৬। পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের অবস্থান কেমন হলে চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে?
উত্তর: আমরা পৃথিবী সূর্যকে এবং চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। ঘটনাক্রমে যদি পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে,তখন চাঁদের উপর পৃথিবীর ছায়া পড়ে এবং তখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে।

প্রশ্ন ৭।সূর্যগ্রহণ কী?
উত্তর: আমরা জানি, চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরে। তাই ঘুরতে ঘুরতে প্রতি অমাবস্যাতেই এটি সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। ঘটনাক্রমে যদি পৃথিবী, চাঁদ এবং সূর্য একই সরলরেখায় হাজির হয়, তখন চাঁদের
কারণে সূর্যটা ঢাকা পড়ে এবং এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে।

প্রশ্ন ৮। চন্দ্রগ্রহণ কী?
উত্তর: পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে। কাজেই যখনই পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে সূর্য আর চাঁদের মধ্যখানে চলে আসে, চাঁদের গায়ে পৃথিবীর ছায়া পড়ে। পৃথিবী থেকে আমরা দেখতে পাই চাঁদকে যেন একটা ঘন অন্ধকার গিলে নিচ্ছে। এই ঘটনাকে আমরা বলি চন্দ্রগ্রহণ।

প্রশ্ন ৯। আহ্নিক গতি কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বলে।

প্রশ্ন ১০। বার্ষিক গতি কাকে বলে?
উত্তর: সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর একটি পূর্ণাঙ্গ আবর্তনকালকে বার্ষিক গতি বলে।

প্রশ্ন ১১। অমাবস্যা কী?
উত্তর: ঘূর্ণনের সময় চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে থাকে তখন চাঁদের আলোকিত অংশ আমরা দেখতে পাই না, এই অবস্থাকে অমাবস্যা বলে।

প্রশ্ন ১২। জোয়ার-ভাটা কাকে বলে?
উত্তর: সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। এই ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ডাটা বলে।

প্রশ্ন ১৩। কোন গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়?
উত্তর: বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন হয়।

প্রশ্ন ১৪। কতদিন পর নতুন চাঁদ দেখা যায়?
উত্তর: একটি নতুন চাঁদের ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা পর আরেকটি নতুন চাঁদ দেখা যায়।

প্রশ্ন ১৫। চাঁদ পৃথিবীর সাপেক্ষে কত ডিগ্রি কোণে প্রদক্ষিণ করে?
উত্তর: চাঁদ পৃথিবীর সাপেক্ষে ৫ ডিগ্রি কোণে প্রদক্ষিণ করে।

প্রশ্ন ১৬। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরে আসতে চাঁদের কত সময় লাগে?
উত্তর: ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায় বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। পৃথিবীর সব জায়গায় দিন-রাতের দৈর্ঘ্য এক হয় না কেন?
উত্তর: পৃথিবী যদি পুরোপুরি খাড়াভাবে নিজ অক্ষে ঘুরত তাহলে পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত থাকতো। কিন্তু পৃথিবী পুরোপুরি খাড়াভাবে না ঘুরে, অক্ষের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে ঘোরে। তাই পৃথিবীর সব জায়গায় দিন-রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয় না। কোথাও দিন ছোট, কোথাও লম্বা। এমনকি মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে অনেকদিন ধরে দিন এবং অনেকদিন ধরে রাত থাকতে পারে।

প্রশ্ন ২। কখন দিন-রাত সমান হয় এবং কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দিন-রাত সমান হয়। কারণ এসময় সূর্যের আলো কটি ক্লান্তি ও মকর ক্লান্তি রেখার ঠিক মাঝখানে আপতিত হয়, অর্থাৎ বিষুব রেখার উপর আপতিত হয়। তাই এই দুইদিন দিন এবং রাত হয় ঠিক ১২ ঘণ্টা করে।

প্রশ্ন ৩। চাঁদের আকৃতির পরিবর্তন হতে দেখি কেন?
উত্তর: আসলে চাঁদের আকারের কোনো পরিবর্তন হয় না। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের যে অংশে পড়ে, আমরা সেই অংশটা দেখতে পাই। পৃথিবীর চারপাশে ঘূর্ণনের সময় সূর্যের সাপেক্ষে চাঁদের অবস্থানের পরিবর্তনের জন্য চাদের আলোকিত অংশের আকার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। এ কারণেই আমরা চাঁদের আকৃতির পরিবর্তন হতে দেখি।

প্রশ্ন ৪। রাত ও দিন ছোট বড় হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বার্ষিক গতির কারণে রাত ও দিন ছোট বড় হয়। আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী ঘূর্ণায়মান। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সূর্য পৃথিবীর যে গোলার্ধের নিকট অবস্থান করে তখন সেই গোলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছোট হয়। তার বিপরীত গোলার্ধে রাত বড় এবং দিন ছোট হয়।

প্রশ্ন ৫। আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা হয় বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করাকে আহ্নিক গতি বলে। আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা হয়। মাধ্যাকর্ষণের নিয়ম অনুসারে চাঁদ ও সূর্য উভয়ই পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু সূর্যের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কাছে আছে বলে পৃথিবীর ওপর চাদের আকর্ষণের প্রভাব বেশি। আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে স্থান চাঁদের সামনে আসে সেই স্থানের জলরাশি ফুলে ওঠে অর্থাৎ জোয়ার হয়। একই সময় এর ঠিক বিপরীত দিকে, পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কেন্দ্ৰবহির্মুখী বা বিকর্ষণ শক্তির প্রভাবে জোয়ার হয় এবং এর সমকোণে অবস্থিত স্থানে তখন ভাটা হয়।

প্রশ্ন ৬। চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেই কী পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে তা দেখা যাবে? তোমার ধারণার যৌক্তিক ব্যাখ্যা লিখ।
উত্তর: চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেই পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে তা দেখা যাবে না। কারণ আমরা জানি, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে, আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে চাঁদ। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর ছায়া যখন চাঁদের ওপর পড়ে, অর্থাৎ সূর্যের আলো চাঁদের গায়ে পড়ার আগে মাঝপথে পৃথিবীতে বাধা পায়। তখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে। আর এ চন্দ্রগ্রহণ ঘটনাটি ঘটবে শুধুমাত্র রাতে এ ঘটনা কখনো দিনে দেখা যাবে না। কিন্তু পৃথিবীর সব অঞ্চলেই একই সময়ে রাত অথবা একই সময়ে দিন হয় না। তাই পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে রাত থাকবে শুধুমাত্র সেসব অঞ্চলের মানুষই চন্দ্রগ্রহণ দেখবে। এ সময় চাঁদের বিপরীত অঞ্চলের মানুষ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে পাবে না। সুতরাং চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেই পৃথিবীর সব জায়গা থেকে দেখা যাবে না।

প্রশ্ন ৭। কেন প্রতি অমাবস্যা ও পূর্ণিমাতে সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণ হয় না?
উত্তর: চাঁদ যদি পৃথিবীর কক্ষপথের সাথে একই তলে থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করত, তাহলে প্রতি পূর্ণিমা এবং অমাবস্যায় চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ দেখা যেত। কিন্তু চাঁদ পৃথিবীর সাপেক্ষে ৫ ডিগ্রি কোপে প্রদক্ষিণ করে। তাই প্রতি পূর্ণিমায় এবং অমাবস্যায় সূর্য আর পৃথিবীকে একই সরলরেখায় সংযুক্ত করতে পারে না। যার কারণে প্রতি পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয় না।

প্রশ্ন ৯। বার্ষিক গতির কারণে কী পৃথিবীতে ঋতুর পরিবর্তন হয়? যুক্তি উপস্থাপন কর।
উত্তর: সূর্যের চতুর্দিকে পৃথিবীর একটি পূর্ণাঙ্গ আবর্তনকালকে বার্ষিক গতি বলা হয়। আবার এই সময়কে পৃথিবীতে একটি বছর হিসেবে গণনা করি। পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ পুরোপুরি খাড়া না হয়ে ২৩.৫° (সাড়ে তেইশ ডিগ্রি) হেলে থাকার কারণে দিন-রাতের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হয়। সূর্যের আলো যেখানে যত খাড়া বা লম্বাভাবে পড়বে, সেই স্থান ততো বেশি সূর্যের উত্তাপ পাবে এবং গরম হবে। আবার বছরের অন্য সময় যখন সূর্যের আলো বাঁকাভাবে পড়বে, তখন সূর্যের আলো অনেক বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে কম উত্তাপ পাওয়া যায়। এ কারণে পৃথিবীতে ঋতু পরির্তন হয়।

প্রশ্ন ১০। চাঁদ কখনো সম্পূর্ণ, কখনো আংশিক বা একেবারেই দেখা যায় না এর কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য সূর্যের মতো চাঁদ পূর্ব দিকে উদিত হয় পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। এক দিন থেকে পরের দিন সূর্যের আকার আকৃতির কোনো পরিবর্তন হয় না, কিন্তু আমরা চাঁদের আকৃতির পরিবর্তন হতে দেখি। পূর্ণিমার ভরা চাঁদ ক্ষীণ হতে হতে অমাবস্যায় পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার নতুন চাঁদ ধীরে ধীরে বড় হয়ে পূর্ণিমার চাঁদে পরিণত হয়।

আসলে চাঁদের আকারের কোনো পরিবর্তন হয় না, চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই, সূর্যের আলো চাঁদের যে অংশে পড়ে, আমরা সেই অংশটা দেখতে পাই এবং পৃথিবীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হওয়ার সময় সূর্যের সাপেক্ষে তার অবস্থানের জন্য চাঁদের আলোকিত অংশের আকার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। পৃথিবীকে ঘিরে ঘূর্ণনের সময় চাঁদ যখন পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে থাকে, সূর্যের আলো তখন চাঁদের পিছন দিকটি আলোকিত করে, পৃথিবী থেকে আমরা সেই আলোকিত অংশটি দেখতে পাই না বলে চাঁদ আমাদের সামনে অদৃশ্য থাকে এবং আমরা সেই সময়টাকে বলি অমাবস্যা। চাঁদটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যখন ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে, তখন চাঁদের আলোকিত অংশটুকু পৃথিবী থেকে একটু একটু দেখা যেতে শুরু করে। তখন বলি আংশিক চাঁদ।

আবার, চাঁদের আলোকিত অংশটুকু দৃশ্যমান হতে হতে যখন চাঁদ সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবীর পেছনে থাকে, তখন পুরো চাঁদটি দৃশ্যমান হয় এবং আমরা সেটিকে পূর্ণিমার চাঁদ বলি। চাঁদের ঘূর্ণনের কারণে আবার চাঁদের দৃশ্যমান অংশটুকু কমতে কমতে একসময় অমাবস্যায় পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায় । চাঁদের দৃশ্যমান অংশ যখন বাড়তে থাকে, সেই সময়কে বলে শুক্লপক্ষ; যখন কমতে থাকে, তাকে বলে কৃষ্ণপক্ষ। পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের ঘূর্ণনের কারণেই মূলত চাঁদ কখনো সম্পূর্ণ, কখনো আংশিক বা একেবারেই দেখা যায় না। প্রশ্ন

প্রশ্ন ১১। একটি বস্তুকে পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহে নিয়ে পরিমাপ করলে তার ওজন এবং ভরের মধ্যে কোনটি অপরিবর্তিত থাকবে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভর হলো কোনো বস্তুতে অবস্থিত পদার্থের উপাদানের মোট পরিমাণ। কিন্তু ওজন হলো নির্দিষ্ট স্থানে বস্তুর উপর প্রযুক্ত আকর্ষণ বল। পৃথিবী এবং মঙ্গলগ্রহে বস্তুর উপর প্রযুক্ত আকর্ষণ বল সমান নয়। তাই এই দুই স্থানে বস্তুর ওজনের তারতম্য ঘটবে। কিন্তু একটি বস্তুকে যেখানেই দেয়া হোক না কেন তার উপাদানের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলে তার ভর সবসময় সমান হবে। তাই পৃথিবী এবং মঙ্গলগ্রহে বস্তুর ওজন পরিবর্তন হলেও ভর অপরিবর্তিত থাকবে।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৭ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৮ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।