|

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায়: কোনো স্থানের দৈনিক বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুর গতি ও চাপ, সূর্যালোক প্রভৃতির সামগ্রিক অবস্থাকে ঐ স্থানের কোনো নির্দিষ্ট দিনের আবহাওয়া বলে। কিসের ভিত্তিতে আমরা আবহাওয়া বুঝি তা শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞতা থেকে নির্ধারণ করবে। টানা এক সপ্তাহ আবহাওয়ার প্যাটার্ন লক্ষ করে তার ভিত্তিতে পরবর্তী সপ্তাহের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার চেষ্টা করবে।

শিক্ষার্থীরা আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য খুঁজে বের করবে এবং কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে জলবায়ুর প্যাটার্ন নিয়ে আলোচনা করবে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবী ও বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদান পরস্পরের সাথে মিথস্ক্রিয়ার ফলে কীভাবে বৈশ্বিক জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে, তা উদ্ঘাটন করবে, ওজোন স্তর কীভাবে পৃথিবী ও এর জীববৈচিত্রাকে রক্ষা করে, গ্রিন হাউস গ্যাস কীভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ঠিক রাখে, এই বিষয়গুলো অনুসন্ধান করবে।

গ্রিন হাউস ইফেক্ট ও অ্যাসিড বৃষ্টিসহ মানবসৃষ্ট কী কী কারণে জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং জীববৈচিত্র্যের কী রকম ক্ষতি হয় সেটা তারা পরীক্ষণের মাধ্যমে যাচাই করবে। কী কী কারণে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাস বেড়ে যায় এবং অ্যাসিড বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয় সে বিষয়ে নিজ কমিউনিটিতে অনুসন্ধান করবে। সবশেষে শিক্ষার্থীরা কীভাবে এই ধরনের আচরণ কমিয়ে আনা যায় এবং মানুষকে সচেতন করা যায়, তা নির্ধারণ করবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। বায়ুর তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: ঘার্মোমিটার।

প্রশ্ন ২। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: বেইনগঞ্জ।

প্রশ্ন ৩। কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুচাপ পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: ব্যারোমিটার।

প্রশ্ন ৪। বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: হাইগ্রোমিটার।

প্রশ্ন ৫। কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: উইন্ডভেন যন্ত্র।

প্রশ্ন ৬। সময়ের সাথে আবহাওয়ার কী ঘটে?
উত্তর: পরিবর্তন।

প্রশ্ন ৭। তাপমাত্রার পরিবর্তন কেন হয়?
উত্তর: জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে।

প্রশ্ন ৮। পৃথিবীতে শক্তির প্রধান উৎসের নাম কী?
উত্তর: সূর্য।

প্রশ্ন ৯। আবহাওয়ার একটি অন্যতম উপাদানের নাম কী?
উত্তর: বৃষ্টি।

প্রশ্ন ১০। পানি বাতাসের তুলনায় ভারী নাকি হালকা?
উত্তর: অনেক ভারী।

প্রশ্ন ১১। বায়ুচাপের একককে কী বলা হয়?
উত্তর: মিলিবার (Millibar)।

প্রশ্ন ১২। বাতাসের গড় বায়ুচাপ কত?
উত্তর: ১০১৩ মিলিবার।

প্রশ্ন ১৩। কোনো একটি এলাকার নির্দিষ্ট সময়ের গড় আবহাওয়াকে কী বলে?
উত্তর: জলবায়ু।

প্রশ্ন ১৪ । উদ্ভিদ, প্রাণী তথা জৈববস্তুর পচনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন ধরনের গ্যাস নির্গত হয়?
উত্তর: মিথেন।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আবহাওয়া কী?
উত্তর: আবহাওয়া হলো বায়ুমণ্ডলের অবস্থা। কোনো স্থানের দৈনিক বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুর গতি ও চাপ, সূর্যালোক প্রভৃতির সামগ্রিক অবস্থাকে ঐ স্থানের কোনো নির্দিষ্ট দিনের আবহাওয়া বলে।

প্রশ্ন ২। লম্বা সময়ের ক্ষেত্রে আবহাওয়া কি একই রকম থাকে?
উত্তর: লম্বা সময়ের ক্ষেত্রে আবহাওয়া একই রকম থাকে না। সময়ের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়।

প্রশ্ন ৩। তাপমাত্রার পরিবর্তন কেন হয়?
উত্তর: জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়।

প্রশ্ন ৪। বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখে কীভাবে?
উত্তর: গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল তাপ ধরে রাখে। এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

প্রশ্ন ৫। মানুষের কি কি কর্মকান্ডের জন্য গ্রিন হাউস গ্যাস বেড়ে যায়?
উত্তর: তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর ফলে, গাছ কেটে বন উজাড় করার ফলে, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অ্যারোসোল ব্যবহারের ফলে গ্রিন হাউস গ্যাস বেড়ে যায়।

প্রশ্ন ৬। অ্যাসিড কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: অ্যাসিড ল্যাবরেটরি, দোকান, অনেক সময় বাসা বাড়িতে পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৭। গ্রিন হাউস কী?
উত্তর: গ্রিন হাউস হলো কাচ বা অন্য স্বচ্ছ বস্তু দিয়ে নির্মিত ঘর।

প্রশ্ন ৮। গ্রিন হাউস গ্যাস কাকে বলে?
উত্তর: জলীয়বাষ্প, মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসের কারণে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া ঘটে এবং এই গ্যাসগুলোকে গ্রিন হাউস গ্যাস বলা হয়।

প্রশ্ন ৯। অ্যাসিড বৃষ্টি কী?
উত্তর: বৃষ্টির পানির সাথে অ্যাসিড বা অ্যাসিড জাতীয় উপাদান মিশ্রিত থাকলে সেটাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলা হয়।

প্রশ্ন ১০। থার্মোমিটার কী?
উত্তর: থার্মোমিটার হলো এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে বায়ুর তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়।

প্রশ্ন ১১। বৃষ্টি কী?
উত্তর: বৃষ্টি এক ধরনের তরল পদার্থ যা আকাশ থেকে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠের দিকে পড়ে।

প্রশ্ন ১২। গ্রিন হাউস গ্যাস কমানোর উপায় কী?
উত্তর: গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে হলে বেশি করে গাছপালা লাগাতেহবে। পেট্রোল, কয়লা, তেল পোড়ানো যাবে না, নাইট্রোজেনযুক্ত সার ব্যবহার করা যাবে না। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে হবে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। গ্রিন হাউস গ্যাস বাড়তে থাকলে জলবায়ুর কেমন পরিবর্তন ঘটবে?
উত্তর: গ্রিন হাউস গ্যাস বাড়তে থাকলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়বে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হার ও মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে খরা দেখা দিবে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিবে।

প্রশ্ন ২। গ্রিন হাউস গ্যাসগুলোর প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি কারণ ও তার ফলাফল দেখ।
উত্তর: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রাথমিক গ্রিন হাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজোন ইত্যাদি রয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলীয় এই গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে বিকিরিত হয়। এই বিকীর্ণ তাপ ভূপৃষ্ঠে উপস্থিতিতে ও বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ফিরে এসে ভূপৃষ্ঠের তথা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির এ প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটে। ফলে মেরু অঞ্চল ও পর্বতের চূড়ার বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশসমূহ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশ্ন ৩। মানুষের এমন পাঁচটি কর্মকান্ডের উল্লেখ কর, যা গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
উত্তর: গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালনকারী মানুষের পাঁচটি কর্মকাণ্ড হলো-
১. শিল্পকারখানাতে তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর ফলে।
২. গবাদি পশুর খামারে গবাদি পশু পালন বেড়ে গেলে।

৩. কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনের জন্য নাইট্রোজেনযুক্ত সার ব্যবহারের ফলে।
৪. বাসস্থানের সংকট নিরসনে এবং আসবাবপত্রের চাহিদা পূরণে বন ধ্বংস করা এবং গাছ কাটার ফলে।
৫. বাসাবাড়িতে রেফ্রিজারেটর, ফোম, এয়ারকন্ডিশনার, অ্যারোসোল ইত্যাদি ব্যবহারের ফলে।

প্রশ্ন ৪। অ্যাসিড বৃষ্টি প্রতিরোধে তোমার সুপারিশ লেখ।
উত্তর: অ্যাসিড বৃষ্টি প্রতিরোধে আমার সুপারিশ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. অ্যাসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী নিঃসরণকারী গ্যাসসমূহ সহনীয় পর্যায়ে আনার ব্যবস্থা করা।
২. নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

৩. বায়ুমণ্ডলে সালফার কার্বন মুক্ত না হয় সেজন্য বিভিন্ন শিল্পকারখানায় এসব গ্যাস শোষণ প্ল্যান্টের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
৪. কার্বন ডাইঅক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য স্কুলের অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক আন্দোলনে গড়ে তুলতে হবে।

প্রশ্ন ৫। আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে মিল ও অমিল কোথায়?

উত্তর: আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে মিল ও অমিল নিচে উল্লেখ করা হলো-
মিল:
আবহাওয়া ও জলবায়ু একই উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। উপাদানগুলো হলো- তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, বৃষ্টিপাত ও বায়ুচাপ।

অমিল:
১. আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থা। অন্যদিকে কোনো স্থানের আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থা হলো জলবায়ু।
২. আবহাওয়া অল্প সময়ে পরিবর্তিত হলেও জলবায়ু পরিবর্তন হতে অনেক বছর কেটে যায়।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।