|

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায়: আমরা আমাদের চারপাশে প্রকৃতিতে যা দেখতে পারি, পরিমাণ করতে পারি ও সত্যমিথ্যা যাচাই করতে পারি তার সুশৃঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞানই হলো বিজ্ঞান। অন্যদিকে, প্রযুক্তি বলতে মানুষের আবিষ্কার করা উপাদান বা উপকরণ এবং সেসব উপকরণ ব্যবহারের প্রায়োগিক জ্ঞানকে বোঝায়। এই শিখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বরূপ অনুধাবন করবে। বিজ্ঞান কী এবং বিজ্ঞান কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এই শিখন অভিজ্ঞতার কাজ শুরু হবে।

বিজ্ঞানের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরির পর প্রযুক্তির বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমে আসবে। বিভিন্ন দৈনন্দিন প্রযুক্তির উদাহরণ থেকে প্রতিফলনমূলক আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন হবে এবং বাস্তব জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহারকে খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করবে। সেজন্য শুরুতেই তারা তাদের পরিবারে ও কমিউনিটিতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার অনুসন্ধান করবে।

এর বাইরেও বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং এগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করে কোন প্রযুক্তি মানুষের প্রয়োজন আর কোনটি অপ্রয়োজনীয়, কোনটি ভালো কাজে লাগে আর কোনটি খারাপ কাজে ব্যবহার হয়, কোন প্রযুক্তি মানুষের জন্য কল্যাণকর আর কোনটি ক্ষতিকর সে অনুযায়ী শ্রেণিবন্ধ করবে এবং তাদের মতামতের পক্ষে যুক্তি দেবে। বিজ্ঞান কী এবং কীভাবে কাজ করে তা অনুধাবন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্থক্য করতে পারবে। নিজেদের উপলব্ধি থেকে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে করণীয় নির্ধারণ করবে এবং সে অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ধাপ কয়টি?
উত্তর: ছয়টি।

প্রশ্ন ২। বিজ্ঞান কী?
উত্তর: এক ধরনের জ্ঞান।

প্রশ্ন ৩। হরিপদ কাপালী কী আবিষ্কার করেন?
উত্তর: হরিধান।

প্রশ্ন ৪। ১টি কৃষি প্রযুক্তির নাম লেখ।
উত্তর: ট্রাক্টর।

প্রশ্ন ৫। এক্স-রে কোন ধরনের প্রযুক্তি?
উত্তর: চিকিৎসা প্রযুক্তি।

প্রশ্ন ৬। প্রজেক্টর কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: শিক্ষা ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন ৭। ইলেকট্রনিক্স, গাণিতিক ও তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কী তৈরি করা হয়েছে?
উত্তর: কম্পিউটার।

প্রশ্ন ৮। ই-মেইল কোন কাজে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: যোগাযোগ।

প্রশ্ন ৯। দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ করে কোনটি?
উত্তর: রোবট।

প্রশ্ন ১০ টারবাইন দিয়ে কী উৎপাদন করা হয়?
উত্তর: বিদ্যুৎ।

প্রশ্ন ১১। মহাকাশ অভিযানে কী ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: রকেট।

প্রশ্ন ১২। অনলাইন মাধ্যমের বইকে কী বলে?
উত্তর: ই-বুক।

প্রশ্ন ১৩। একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম লেখ।
উত্তর: ফেসবুক।

প্রশ্ন ১৪। যেকোনো ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ের প্রযুক্তি কোনটি?
উত্তর: জিপিএস।

প্রশ্ন ১৫। একটি খারাপ প্রযুক্তির নাম লেখ।
উত্তর: নিউক্লিয়ার বোমা।

প্রশ্ন ১৬। একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তির নাম লেখ।
উত্তর: নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্র।

প্রশ্ন ১৭। থার্মোমিটার কোন কাজে ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: জ্বর মাপতে।

প্রশ্ন ১৮। এমন একটি প্রযুক্তির নাম লেখ যার ভালো ও খারাপ উভয় দিক আছে?
উত্তর: মোবাইল ফোন।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। বিজ্ঞান কী?
উত্তর: বিজ্ঞান হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ জ্ঞান যা সবসময় পরীক্ষা- নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা যায়।

প্রশ্ন ২। বিজ্ঞানী কাকে বলে?
উত্তর: যিনি অনুসন্ধিৎসু ও সৃজনশীল মনের অধিকারী এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ করেন তাকেই বিজ্ঞানী বলে।

প্রশ্ন ৩। প্রযুক্তি কাকে বলে?
উত্তর: বিজ্ঞানের জ্ঞানটুকু যখন আমাদের জীবনের কোনো একটি প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হয় তখন সেটাকে বলে প্রযুক্তি।

প্রশ্ন ৪। দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক এককের নাম কী?
উত্তর: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দৈর্ঘ্যের এককের নাম হলো মিটার।

প্রশ্ন ৫। পরিমাপ কাকে বলে?
উত্তর: কোন কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করাকে পরিমাপ বলে।

প্রশ্ন ৬। হরিধান কাকে বলে?
উত্তর: ঝিনাইদহ জেলার অভিজ্ঞ’ কৃষক হরিপদ কাপালী কর্তৃক আবিষ্কৃত উচ্চ ফলনশীল ধানকেই হরিধান বলে।

প্রশ্ন ৭। এমন একটি প্রযুক্তির নাম লেখ যার ভালো ও খারাপ উভয় দিক আছে?
উত্তর: ভালো ও খারাপ উভয় দিক আছে এমন প্রযুক্তি হলো মোবাইল ফোন।

প্রশ্ন ৮। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কাকে বলে?
উত্তর: বিজ্ঞানীরা যে বিশেষ পদ্ধতিতে কোনো সমস্যা সমাধান করেন তাকে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান বা কর্মপদ্ধতি বলে।

প্রশ্ন ৯। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে কী করা হয়?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রথম ধাপে কোনো কিছু পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রশ্ন ১০। দুটি চিকিৎসা প্রযুক্তির নাম লেখ?
উত্তর: দুটি চিকিৎসা প্রযুক্তির নাম হলো- ঔষধ ও এক্স-রে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। প্রকৃতি সম্পর্কে যেকোনো তথ্যই বিজ্ঞান নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে আন। বিজ্ঞানের জ্ঞান হতে হলে হয় তা পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ করে পেতে হবে অথবা পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্য দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। কেউ যদি কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়, তা বিমান হবে না। কারণ এসব ব্যাখ্যা পরীক্ষা থেকে পাওয়া নয় কিংবা কোনো পরীক্ষা এদেরকে সমর্থন করে না। তাই প্রকৃতি সম্পর্কে যেকোনো তথ্যই বিজ্ঞান নয়।

প্রশ্ন ২। সত্যিকারের বিজ্ঞানীদের কী কী বৈশিষ্ট্য থাকে? তোমার পর্যবেক্ষণের আলোকে উত্তর দাও।
উত্তর: সত্যিকারের বিজ্ঞানীদের মধ্যে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়-
১. নির্দিষ্ট কোনো কিছু পর্যবেক্ষণ করা।
২. পর্যবেক্ষণকৃত বিষয়টি কেন ঘটে, কীভাবে ঘটে তা জানার চেষ্টা করা।

৩. গবেষণার মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা।
৪. বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে জ্ঞান অর্জন করা।
৫. অনুসন্ধিৎসু ও সৃজনশীল মনোভাব থাকা।
৬. উদার, বিনয়ী, স্বার্থহীন ও মানবপ্রেমী মনোভাব থাকা।

প্রশ্ন ৩। বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে কী সবসময়ই আধুনিক ল্যাবরেটরীর প্রয়োজন হয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে সবসময়ই অনেক আধুনিক ল্যাবরেটরি বা যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হয় না। দুইবার রসায়নে নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী মাদাম কুরির ল্যাবরেটরিটি ছিল একেবারেই সাদামাটা। আবার হরিধানের আবিষ্কারক হরিপদ কাপালীর কোনো ল্যাবরেটরিই ছিল না।

প্রশ্ন ৪। স্যার আইজাক নিউটন ও হরিপদ কাপালীর বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রক্রিয়ার মধ্যে কী কী মিল আছে? পর্যবেক্ষণ করে উত্তর দাও।
উত্তর: স্যার আইজাক নিউটন ও হরিপদ কাপালীর বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রক্রিয়ার মধ্যে নিচের মিলগুলো লক্ষ করা যায়- ১. উভয়েই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করেছেন।

২. পর্যবেক্ষণকৃত সমস্যার উত্তর খুঁজছেন।
৩. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেছেন।

প্রশ্ন ৫। বিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জীবনের কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা সরাসরি আমাদের প্রয়োজন মেটাই?
উত্তর: বিজ্ঞানের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জীবনের যেসব ক্ষেত্রে আমরা সরাসরি প্রয়োজন মেটাই তা হলো-
১. কৃষি ক্ষেত্রে: যেমন— ট্রাক্টর, সেচ পাম্প, ফসল মাড়াই যন্ত্র, রাসায়নিক সার, জৈব প্রযুক্তি ইত্যাদি ব্যবহার করে অধিক্ ফসল ফলাই।

২. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: যেমন- ঔষধ, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি ইত্যাদি ব্যবহার করে উন্নত চিকিৎসা পাই।
৩. শিক্ষা ক্ষেত্রে: যেমন- কলম, কাগজ, কম্পিউটার, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট ইত্যাদি ব্যবহার করে সহজে পড়াশুনা করি।

৪. যোগাযোগ ক্ষেত্রে: যেমন- গাড়ি, জাহাজ, উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ইত্যাদি ব্যবহার করে দ্রুত একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাই।
৫. দৈনন্দিন জীবনে: যেমন- মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান ইত্যাদি ব্যবহার করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাই।

প্রশ্ন ৯। অপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ব্যবহার, কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহার কমাতে আমাদের কী করার আছে?
উত্তর: অপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তির ব্যবহার কমাতে সরকারিভাবে এর উৎপাদন বন্ধ বা কমাতে হবে। আমাদেরকে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার কমাতে এর খারাপ দিকগুলো সবাইকে জানাতে হবে। মোটকথা সবাইকে অপ্রয়োজনীয় প্রযুক্তি কিংবা প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। আমার নিজেকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

প্রশ্ন ১০। বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি পরীক্ষণ— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পরীক্ষণ বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। কারণ এ পদ্ধতিতে কোনো প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য প্রথমে জানা তথ্যের আলোকে একটি আনুমানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপর পরীক্ষণের মাধ্যমে ঐ অনুমিত সিদ্ধান্তের সত্যতা যাচাই করা হয়। পরীক্ষণের উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুমিত সিদ্ধান্তের সত্যতা প্রমাণ না হলে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাই পরীক্ষণ বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।