|

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায়: পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য, রাতের আকাশের কোটি কোটি নক্ষত্র, চলন্ত ধূমকেতু, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মধ্যবর্তী শূন্য (ফাঁকা) স্থানকেই আমরা আকাশ নামে জানি। সহজ কথায় পৃথিবীর উপরবর্তী সব ফাঁকা জায়গাই হলো আকাশ। আকাশের কোনো সীমা নেই, এর শেষ নেই।

বিজ্ঞানীদের ধারণা সীমাহীন আকাশ সীমাহীন গতিতে সীমাহীন পথে বর্ধিষ্ণু। এ শিখন অভিজ্ঞতার প্রথম পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের চিরচেনা এই আকাশের স্বরূপ অনুসন্ধান করবে। গ্রহ ও নক্ষত্রের পার্থক্য করতে শিখবে, মহাকাশের বিভিন্ন ধরনের বস্তু সম্পর্কে ধারণা তৈরি করবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টি কীভাবে হয়েছিল তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে বিগ ব্যাং সম্পর্কে জানবে এবং এই তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কীভাবে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে ধারণা স্পষ্ট করবে।

এই আলোচনা থেকে ক্রমান্বয়ে মহাবিশ্বের নক্ষত্রমণ্ডলী, গ্যালাক্সি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করবে। তৃতীয় পর্যায়ে তারা বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডলী পর্যবেক্ষণ করে সে সম্পর্কিত পৌরাণিক গল্প অনুসন্ধান করবে এবং নিজেরাও কল্পনাশক্তি কাজে লাগিয়ে তারার বিন্যাস থেকে ছবি ও গল্প তৈরি করবে। নক্ষত্রমন্ডলীর বিন্যাস থেকে রাশিচক্রের ধারণা এবং মানুষের জীবনে এর বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক দুই ধরনের ব্যবহারই অনুসন্ধান করবে। নক্ষত্রের বিন্যাস থেকে কীভাবে জ্যোতিষবিদ্যার বিভিন্ন কুসংস্কারের সৃষ্টি হলো তা অনুধাবন করবে। সবশেষে বাস্তব জীবনে কুসংস্কার নিরসনে কী করা যায় এই বিষয়ে নিজস্ব মতামত তৈরি করবে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। দিনের আকাশের রঙ কেমন থাকে?
উত্তর: নীল।

প্রশ্ন ২। রাতের আকাশের রঙ কেমন হয়?
উত্তর: কালো।

প্রশ্ন ৩। অসংখ্য নক্ষত্রের সমষ্টিকে কী বলে?
উত্তর : গ্যালাক্সি।

প্রশ্ন ৪। গ্যালাক্সি দেখতে কেমন হয়?
উত্তর: থালার মতো।

প্রশ্ন ৫। মহাবিশ্বে মোট গ্যালাক্সির সংখ্যা কত?
উত্তর: এক ট্রিলিয়ন (লক্ষ কোটি)।

প্রশ্ন ৬। মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের অন্য নাম কী?
উত্তর: বিগ ব্যাং তত্ত্ব।

প্রশ্ন ৭। বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন কে?
উত্তর: পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।

প্রশ্ন ৮। বিগ ব্যাং বিস্ফোরণ হয়েছিল কবে?
উত্তর: ১৪ বিলিয়ন বছর আগে।

প্রশ্ন ৯। কোন বিস্ফোরণের মাধ্যমে ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি হয়?
উত্তর: সুপার নোভা।

প্রশ্ন ১০। নক্ষত্রের জ্বালানি কী?
উত্তর: হাইড্রোজেন।

প্রশ্ন ১১। মহাজাগতিক ধূলিকণা ও গ্যাস এর সমন্বয়ে কী তৈরি হয়?
উত্তর: নেবুলা।

প্রশ্ন ১২। নেবুলা শব্দের বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: নীহারিকা।

প্রশ্ন ১৩। ধনুকাকৃতি নক্ষত্রমণ্ডলীর নাম কী?
উত্তর: বৃশ্চিক।

প্রশ্ন ১৪। কালপুরুষ কখন দেখা যায়?
উত্তর: শীতকালে।

প্রশ্ন ১৫। কালপুরুষ কে ছিল?
উত্তর: বিখ্যাত এক যোদ্ধা ও শিকারী ।

প্রশ্ন ১৬ ৷ Big Dipper কী?
উত্তর: সপ্তর্ষীমণ্ডল।

প্রশ্ন ১৭। সপ্তর্ষিমণ্ডল কোন আকাশে দেখা যায়?
উত্তর: উত্তর আকাশে।

প্রশ্ন ১৮। সপ্তর্ষিমণ্ডলকে কীসের মত দেখা যায়?
উত্তর: প্রশ্নবোধক চিহ্নের মত।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। নক্ষত্র কী?
উত্তর: যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তারাই হলো নক্ষত্র।

প্রশ্ন ২। নক্ষত্রের আলোর উৎস কী?
উত্তর: নক্ষত্রের আলোর উৎস হলো এতে থাকা হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়ার ফিউসান বিক্রিয়া।

প্রশ্ন ৩। গ্যালাক্সি কী?
উত্তর: গ্যালাক্সি হচ্ছে অসংখ্য নক্ষত্রের সমষ্টি।

প্রশ্ন ৪। ছায়াপথ কী?
উত্তর: রাতের অন্ধকার আকাশে উত্তর দক্ষিণে উজ্জ্বল দীপ্ত দীর্ঘ পথের মতো যে তারকারাশি দেখা যায় তাকে ছায়াপথ বলে।

প্রশ্ন ৫। আকাশ গঙ্গা কী?
উত্তর: আমাদের সৌরমণ্ডল যে ছায়াপথ বা গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নামই হলো আকাশ গঙ্গা।

প্রশ্ন ৬। বিগ ব্যাং কী?
উত্তর: বিগ ব্যাং হলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রদত্ত একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব।

প্রশ্ন ৭। হোয়াইট ডোয়ার্ফ কী?
উত্তর: হোয়াইট ডোয়ার্ফ হলো আলোহীন নিষ্প্রভ নক্ষত্রের অবশেষ।

প্রশ্ন ৮। সুপারনোডা কী?
উত্তর: সুপারনোভা হলো নক্ষত্রের বিস্ফোরণ।

প্রশ্ন ৯। জ্যোতিখিবিদ্যা কী?
উত্তর: জ্যোতিষিবিদ্যা হলো মহাবিশ্বে বিরাজমান বিভিন্ন গ্রহ, নক্ষত্র ও অন্যান্য জ্যোতিষ্কের গতি-প্রকৃতি সম্বন্ধীয় বিদ্যা।

প্রশ্ন ১০। সপ্তর্ষিমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর: উত্তর আকাশে সাতটি উজ্জ্বল তারাকে একত্রে সপ্তর্ষিমণ্ডল বলে।

প্রশ্ন ১১। কালপুরুষ কাকে বলে?
উত্তর: শীতের সময় সন্ধ্যাবেলা পূর্ব আকাশে তরবারি হাতে মনুষ্যাকৃতির যে নক্ষত্রমণ্ডল দেখা যায় তাকে কালপুরুষ বলে।

প্রশ্ন ১২। ধ্রুবতারা কী?
উত্তর: পৃথিবীর উত্তর মেরুর অক্ষ বরাবর দৃশ্যমান তারাই হলো ধ্রুবতারা।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আকাশ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রং ধারণ করে কেন?
উত্তর: মূলত আকাশ হলো আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। এই বায়ুমণ্ডল যে রং ছড়াবে আকাশও সেই রং ধারণ করবে, সূর্যরশ্মি পৃথিবীতে আসে এই বায়ুমণ্ডল ভেদ করে। এ সময় বিভিন্ন রঙের আলো বিভিন্নভাবে বিক্ষেপিত হয়। আলোর এই বিক্ষেপণের কারণেই আকাশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রং ধারণ করে। অর্থাৎ আলোর বিক্ষেপণের কারণেই দিনের বেলা আকাশ সচরাচর নীল থাকে; আবার কখনো সাদা বা কালো মেঘে ঢাকা থাকে। সকাল ও সন্ধ্যার আকাশে কোনো কোনো অংশে নামে রঙের বন্যা। কখনো বা সারা আকাশ ভেসে যায় লাল আলোতে।

প্রশ্ন ২। বিগ ব্যাং তত্ত্বের সপক্ষে বিজ্ঞানীদের ধারণা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বিজ্ঞানীরা যখন দেখলেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে শুধু গ্যালাক্সি আর গ্যালাক্সি তখন তারা সেগুলোকে নিয়ে গবেষণা করা শুরু করলেন এবং অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন গ্যালাক্সিগুলো একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যাচ্ছে। যার অর্থ একসময় সেগুলো নিশ্চয়ই কাছাকাছি ছিল! বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন আজ থেকে ১৪ বিলিয়ন (এক হাজার চারশত কোটি) বছর আগে পুরো এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড একটি বিন্দুতে ছিল। অবিশ্বাস্য একটি বিস্ফোরণের পর সেই বিন্দুটি প্রসারিত হয়ে বর্তমান বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে রূপ নিয়েছে। সেই বিস্ফোরণটির নাম বিগ ব্যাং (Big Bang)। ১৪ বিলিয়ন বছর আগে যে প্রসারণ শুরু হয়েছিল সেটি কিন্তু এখনও চলছে এবং চলতেই থাকবে।

প্রশ্ন ৩। মহাকাশের শুরু আছে, শেষ নেই- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। অতীতে মহাকাশের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই বলে ধরে নেওয়া হতো এবং যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি দেখতে পাওয়া যায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বজ্রাকৃতির বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাওয়া যায়। যার ফলে বুঝা যায়, প্রকৃতপক্ষে মহাকাশের কোনো শেষ নেই। তাই বলা যায়, মহাকাশের শুরু আছে, শেষ নেই।

প্রশ্ন ৪। বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ বলা হয় না কেন?
উত্তর: পৃথিবীর মতো এর বায়ুমণ্ডলও মহাকাশে ঘুরছে। এজন্য বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। একে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু।

প্রশ্ন ৫। রাতের আকাশে আমরা যখন তারা (নক্ষত্র) দেখি, তখন মনে হয় তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলছে। এর কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মহাকাশে অবস্থিত লক্ষ কোটি তারা বা নক্ষত্রের মধ্যে খুব অল্প নক্ষত্রই আমরা দেখতে পাই, যেগুলো আকাশে মিটমিট করে জ্বলে। বাকি নক্ষত্রগুলো এত বেশি দূরে অবস্থিত যে সেসব নক্ষত্র থেকে আলো আসতে আসতে তা বিলীন হয়ে যায়। তারাদের এমন মিটমিট করে জ্বলার পেছনে মূল যে কারণ সেটি হলো আলোর প্রতিসরণ। অসীম দূরত্ব অতিক্রম করে পৃথিবীতে আসতে হলে তারা থেকে আগত আলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ভূ-পৃষ্ঠে আসতে হয়। তাই যখন এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তখন তার যাত্রাপথে মাধ্যমের পরিবর্তন ঘটে।

সংক্ষেপে বললে আলো শূন্য মাধ্যম থেকে বায়বীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে। আবার, বায়ুমণ্ডলে সর্বত্র গ্যাসের ঘনত্ব সমান নয়। কোথাও বায়ুমণ্ডলের স্তর হালকা আবার কোথাও অপেক্ষাকৃত ঘন। যে কারণে তারা থেকে আগত আলোক রশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে আসতে বার বার প্রতিসরিত হতে হয় এবং বারবার দিক পরিবর্তন করতে হয়। আর আমাদের বায়ুমণ্ডলও স্থির নয়। এর বিভিন্ন স্তর ক্রমাগত কাঁপতে থাকে। ফলে যখন তারার আলো ভূপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায় তখন মনে হয় কখনো জ্বলছে আবার কখনো নিভছে। তারার আলোর যাত্রাপথে বায়ুমণ্ডলের ভেতর এসব ঘটনার কারণেই আমরা রাতের আকাশের তারাগুলোকে স্থির না দেখে মিটমিট করে জ্বলতে দেখি।

প্রশ্ন ৬। ব্ল্যাকহোল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোনো কিছুই বের হতে পারে না। এমনকি আলোর মতো তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচণ্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে। না। যেহেতু এখান থেকে কোনো আলো বের হতে পারে না; তাই আমরা খালি চোখে এদের দেখতে পাই না।

প্রশ্ন ৭। ব্ল্যাকহোল আমরা খালি চোখে দেখতে পাইনা কেন?
উত্তর: ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোনো কিছুই বের হতে পারে না। এমনকি আলোর মতো তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচণ্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে না। যেহেতু এখান থেকে কোনো আলো বের হতে পারে না, তাই আমরা খালি চোখে এদের দেখতে পাই না।

প্রশ্ন ৮। জোতিষবিদ্যার উদ্ভব কীভাবে হয়েছে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জন্মক্ষণে নক্ষত্রমণ্ডলীর উদিত হওয়া থেকে জ্যোতিষবিদ্যার উদ্ভব হয়েছে। প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিদগণ আকাশকে নক্ষত্রের ওপর ভিত্তি করে। ১২ ভাগে বিভক্ত করেন। এর প্রতি ভাগকে বলা হলো রাশি। কারো জন্মের সময় যে নক্ষত্র উদয় হতো সেটি দিয়ে তার রাশি নির্ণয় করা হতো। এর ওপর ভিত্তি করে তার ভাগ্যও নির্ণয় করা হতো। এভাবেই জ্যেতিষবিদ্যার উদ্ভব ঘটে।

প্রশ্ন ১৪। ধ্রুবতারা স্থির কেন?
উত্তর: আমরা জানি পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়। আর তাই পৃথিবীর উত্তর এবং দক্ষিণ অংশ স্থির থাকে, যাদের আমরা মেরু অঞ্চল বলে থাকি। যে কারণে তারাটিকে আমরা সবসময় একই অবস্থানে দেখি অর্থাৎ স্থির দেখি। প্রশ্ন ১৫ । সূর্য কি কখনো ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও। উত্তর: সূর্য কখনো ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে না। সূর্য ব্ল্যাক হোলে পরিণত হওয়ার মতো যথেষ্ট বড় নক্ষত্র নয়। বরং পাঁচশ কোটি বছর পর সূর্যের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এর বাইরের স্তর নিঃশেষ হয়ে শুধু ভেতরের কেন্দ্রটি থাকবে। তারপর একসময় সূর্য আলোহীন নিষ্প্রভ হোয়াইট ডর্ফে পরিণত হবে।

প্রশ্ন ১০। কালপুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কার ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: কালপুরুষ সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কার হলো- “কালপুরুষ ছিল বিখ্যাত এক যোদ্ধা ও শিকারী! অহংকারে তার মাটিতে পা পড়ত না। সে দাবি করতো যে পৃথিবীর সকল জন্তুই সে শিকার করতে সক্ষম! তার এত অহংকারে দেবতারা ক্ষুদ্ধ হলেন। তারা একটা বৃশ্চিক বা -কাঁকড়াবিছা পাঠালেন কালপুরুষকে শায়েস্তা করার জন্য। সেই বিছার কামড়েই মৃত্যু হলো কালপুরুষেরা দেবতারা পৃথিবীর মানুষকে অহংকারের পরিণাম দেখানোর জন্য কালপুরুষ আর বৃশ্চিক দুজনকেই আকাশে স্থান দিলেন, যাতে আকাশে তাকালেই মানুষের এই শিক্ষা মনে পড়ে যায়।

প্রশ্ন ১১। নিউক্লিয়ার ফিউসান বিক্রিয়া বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউসান বিক্রিয়া বলে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয়ার ফিউসান বিক্রিয়া।

প্রশ্ন ১২। হোয়াইট ডোয়ার্ফ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: হোয়াইট ডোয়ার্ফ হচ্ছে একটি সুস্থিত শ্বেত তারকা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নক্ষত্ররা আস্তে আস্তে প্রসারিত হয় এবং তাপ বিকিরণ করে। যখন নক্ষত্র দ্বিগুণ প্রসারিত হয় তখন নক্ষত্রের তাপমাত্রা হয় অর্ধেক। তাপ বিকিরণ করতে করতে একসময় নক্ষত্রের ইলেকট্রনগুলো অন্তবর্তী তাপ বর্জন তত্ত্বের বিকর্ষণের দ্বারা শোষিত হয়। এবং সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে নক্ষত্রের তাপমাত্রা কমে গিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এইরূপ নক্ষত্রকে বলা হয় হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেত বামন।

প্রশ্ন ১৩। সুপারনোভা বিস্ফোরণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সুপারনোভা হলো নক্ষত্রের বিস্ফোরণ। নক্ষত্রের জ্বালানি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়ার ফিউসনের ফলে এই হাইড্রোজেন হিলিয়ামে পরিণত হয়। আর নক্ষত্রের আকার ও উজ্জ্বলতা বাড়তে থাকে। নক্ষত্রের জীবনটি বিচিত্র। যে নক্ষত্রের ভর যত বেশি সেটি ততো দ্রুত তার জ্বালানি শেষ করে ফেলে। যদি নক্ষত্র অনেক বড় হয় তাহলে তার জ্বালানি শেষ করে অনেক ধরনের মৌল তৈরি করে এক সময় অবিশ্বাস্য এক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তার জীবন শেষ করে দেয়। সেই বিস্ফোরণকে বলে সুপারনোভা বিস্ফোরণ।


আশাকরি বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।