|

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১১ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১১ অধ্যায়: এই শিখন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কীভাবে কাজ করে তা অনুসন্ধান করে নিজের শরীর ও শারীরবৃত্তিক কাজ সম্পর্কে ধারণা তৈরি করবে এবং এর ভিত্তিতে নিজের জীবনচর্যায় ইতিবাচক পরিবর্তনের দায়িত্ব নেবে। বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্র কী কাজ করে তা বোঝার জন্য একটা খেলার আয়োজন করা হবে, যেখানে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা এক একটি অঙ্গ বেছে নিয়ে অভিনয় করবে এবং অন্যদের বোঝানোর চেষ্টা করবে কেন ওই অঙ্গ সবচেয়ে জরুরি!

প্রতিযোগিতার পরে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তাদের এই উপলব্ধি তৈরি হবে যে, শরীরে সকল অঙ্গই প্রয়োজনীয় এবং সবগুলো অঙ্গের কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমেই আমরা টিকে থাকি। সবশেষে তারা শরীর ও মনের সুস্থতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে নিজের সুস্বাস্থ্যের জন্য একটা প্রাত্যহিক রুটিন তৈরি করবে।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১১ অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। শরীরের যেসব অঙ্গ বাইরে থেকে দেখা যায় সেগুলোকে কী বলে?
উত্তর: বাহ্যিক অঙ্গ।

প্রশ্ন ২। শরীরের যেসব অঙ্গ বাইরে থেকে দেখা যায় না সেগুলোকে কী বলে?
উত্তর: অভ্যন্তরীণ অঙ্গ।

প্রশ্ন ৩। কোন ধরনের বাহ্যিক অঙ্গ দিয়ে আমরা দেখি?
উত্তর: চোখ

প্রশ্ন ৪। কোন ধরনের বাহ্যিক অঙ্গ দিয়ে আমরা শব্দ শুনি?
উত্তর: কান।

প্রশ্ন ৫। শ্বাস-প্রশ্বাস পরিচালনাকারী অঙ্গের নাম কী?
উত্তর: নাক।

প্রশ্ন ৬। আমরা গোলাপের সুগন্ধ বুঝতে পারি কোন অঙ্গের মাধ্যমে?
উত্তর: নাক।

প্রশ্ন ৭। মানব শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গের নাম কী?
উত্তর: ত্বক।

প্রশ্ন ৮। কোন অঙ্গের মাধ্যমে সারা দেহে রক্তপরিবহন ঘটে?
উত্তর: হৃৎপিণ্ড।

প্রশ্ন ৯। কোন অঙ্গের মাধ্যমে আমরা শীত ও গরম অনুভব করতে পারি?
উত্তর: মস্তিষ্ক (স্নায়ুতন্ত্র)।

প্রশ্ন ১০। দেহ থেকে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য অপসারণকারী অল্যের নাম কী?
উত্তর: বৃদ্ধ বা কিডনি।

প্রশ্ন ১১। শরীরকে ক্ষতিকর অণুজীব থেকে রক্ষা করে কোন তন্ত্র?
উত্তর: তুকতন্ত্র।

প্রশ্ন ১২। শরীরের হাড় এবং পেশি মিলে গঠিত তন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: পেশি-কঙ্কালতন্ত্র।

প্রশ্ন ১৩। ফুসফুস কোন তন্ত্রের অংশ?
উত্তর: শ্বসনতন্ত্রের।

প্রশ্ন ১৪। কোন তন্ত্র বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে?
উত্তর: শ্বসনতন্ত্র ।

প্রশ্ন ১৫। হূৎপিণ্ড, রক্ত এবং রক্তনালি সমন্বয়ে গঠিত তন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: সংবহনতন্ত্র।

প্রশ্ন ১৬। মুখ, খাদ্যনালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত তন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: পরিপাক/পাচনতন্ত্র ।

প্রশ্ন ১৭। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্র থেকে কোন ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হয়?
উত্তর: হরমোন।

প্রশ্ন ১৮। কোন তন্ত্রের মাধ্যমে জীবের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটে?
উত্তর: প্রজননতন্ত্র।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১১ অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। কোষ কী?
উত্তর: কোষ হলো জীবের ক্ষুদ্রতম জীবিত একক।

প্রশ্ন ২। পেশি কলা কাকে বলে?
উত্তর: স্তূগীয় মেসোডার্ম থেকে তৈরি সংকোচন-প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের কলাকে পেশি কলা বলে।

প্রশ্ন ৩। নার্ভ টিস্যু কাকে বলে?
উত্তর: যেসব টিস্যু আমাদের শরীরের সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুতন্ত্র তৈরি করে সেসব টিস্যুকে নার্ভ টিস্যু বলে।

প্রশ্ন ৪। কানেক্টিভ টিস্যু কী?
উত্তর: যেসব টিস্যু দূরবর্তী কোষগুলোকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংযুক্ত করে এবং শরীরের কাঠামোকে একত্রিত করে সেসব টিস্যুই হলো কানেক্টিড টিস্যু।

প্রশ্ন ৫। হূৎপিণ্ডের কাজ কী?
উত্তর: হূৎপিণ্ডের কাজ হলো রক্ত সঞ্চালনে ভূমিকা রাখা।

প্রশ্ন ৬। মানুষের শরীরের কঙ্কালতন্ত্র কতটি হাড় নিয়ে গঠিত?
উত্তর: মানুষের শরীরের কঙ্কালতন্ত্র প্রায় ২০৬টি হাড় নিয়ে গঠিত।

প্রশ্ন ৭। শ্বসনতন্ত্র কী?
উত্তর: আমাদের শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ ফুসফুস এবং শ্বাস- প্রশ্বাসের পেশিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত তন্ত্রই হলো শ্বসনতন্ত্র।

প্রশ্ন ৮। রক্ত সংবহনতন্ত্র কাকে বলে?
উত্তর: যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রতিনিয়ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ এবং অংশে চলাচল করে তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।

প্রশ্ন ৯। পরিপাক কী?
উত্তর: যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু বিভিন্ন এনজাইমের উপস্থিতিতে ভেঙ্গে সরল খাদ্যরসে পরিণত হয় তাই পরিপাক।

প্রশ্ন ১০। বয়ঃসন্ধিকাল কী?
উত্তর: বয়ঃসন্ধিকাল হচ্ছে মূলত শারীরিক ও মানসিক বিকাশের এক ক্রান্তিকাল।


বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১১ অধ্যায় বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। তোমাদের শরীরের প্রধান তন্ত্রগুলোর কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর: আমাদের শরীর বিভিন্ন ধরনের তন্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলোর মধ্যে প্রধান তন্ত্রগুলোর কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
১. ত্বকতন্ত্র: ক্ষতিকর অণুজীব এবং রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এছাড়াও শরীরকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে।

২. পেশি ও কঙ্কালতন্ত্র: পেশিতন্ত্র কঙ্কালতন্ত্রের সঙ্গে মিলে শরীরকে চলাচলে সাহায্য করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
৩. শ্বসনতন্ত্র: শ্বসনতন্ত্র বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন- ডাই অক্সাইড বাতাসে ফিরিয়ে দেয়।
৪. সংবহনতন্ত্র: শরীরের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি উপাদান পৌছে দেওয়া বর্তা সংগ্রহ করার পাশাপাশি আমাদের শরীরের তাপমাত্রা, সবসময় যে একই থাকে (জ্বর ছাড়া) তা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫. পরিপাকতন্ত্র: পরিপাকতন্ত্র আমাদের গ্রহণ করা খাদ্যকে ব্যবহারযোগ্য পুষ্টি উপাদানে ডেঙে দেয়, যা পরে আমাদের শরীরে শোষিত হয়।
৬. রেচনতন্ত্র: রেচনতন্ত্র আমাদের শরীরে মূত্র উৎপাদন এবং এর মাধ্যমে রক্ত থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেন যৌগ এবং অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করে।
৭. স্নায়ুতন্ত্র: আমরা যে চিন্তা করতে পারি, সিদ্ধান্ত নিতে পারি, কারও ডাকে সাড়া দিতে পারি, শীত-গরম উপলব্ধি করতে পারি তা সম্ভব হয় আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের কারণে।

৮. অন্তক্ষরা গ্রন্দ্বিতন্ত্র: শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতন্ত্র রাসায়নিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। এ গ্রন্থি থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়।
৯. প্রজননতন্ত্র: প্রজাতির ধারাকে বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত নতুন প্রজাতি সৃষ্টির লক্ষ্যে গ্যামেট (অর্থাৎ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরি করে।

প্রশ্ন ৩। হূৎপিণ্ডকে দরকারি অঙ্গ বলা হয় কেন?
উত্তর: মানব শরীরের অন্যান্য সকল অঙ্গাণুর তুলনায় হূৎপিণ্ড সবচেয়ে বেশি দরকারি অ্য। কারণ প্রাণের অস্তিত্বের শুরুতেই যে অঙ্গাণুর উৎপত্তি হয় তা হলো হূৎপিণ্ড। হূৎপিণ্ডের স্পন্দনের মাধ্যমেই আমরা প্রাণের উপস্থিতি বুঝতে পারি। এ অঙ্গাণুর স্পন্দন একবার শুরু হলে মৃত্যুর মাধ্যমেই এর সমাপ্তি ঘটে। অর্থাৎ হৃৎস্পন্দন যতক্ষণ চলে ততোক্ষণ পর্যন্ত প্রাণীকে জীবিত বলা হয়। আর যখনই হূৎস্পন্দন একেবারে বন্ধ হয়ে যায় তখনই প্রাণীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এ কারণেই হূৎপিণ্ডকে সবচেয়ে বেশি দরকারি অঙ্গ বলা হয়।

প্রশ্ন ৪। তোমার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হৃৎপিণ্ড যদি কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে কী অবস্থা দাঁড়াবে?
উত্তর: আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের ভেতর যোগাযোগের জন্য রক্তের মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা আছে। হূৎপিণ্ড শরীরের রক্ত সঞ্চালন করে, রক্তনালির মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কোষে অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করে এবং সেসব জায়গায় সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ পরিবহন করে।

এই হূৎপিণ্ড, রক্ত এবং রক্তনালিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয় সংবহনতন্ত্র। শরীরের বিভিন্ন অংশে পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া, বর্জ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি আমাদের শরীরের তাপমাত্রা সব সময় যে একই থাকে (জ্বর ছাড়া) তা নিয়ন্ত্রণ করে এই সংবহন তন্ত্র। তাই কোনো কারণে যদি হৃৎপিণ্ড তার কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তাহলে মানবশরীরের রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যাবে।

প্রশ্ন ৫। তুমি কীভাবে তোমার শরীরের যত্ন নেবে তা সংক্ষেপে বর্ণনা
উত্তর: মানবদেহ বিভিন্ন অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত। প্রতিটি অঙ্গই শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরের কোনো অঙ্গ বিকল হলে দৈনন্দিন জীবনটাই বড্ড ঝামেলা মনে হয়। কাজেই সুস্থ থাকতে হলে আসলে এই পুরো দেহযন্ত্রেরই যত্ন নিতে হয় যাতে সকল তন্ত্র মিলেমিশে কাজ করতে পারে। নিম্নলিখিতভাবে আমরা শরীরের যত্ন নিতে পারি-
১. সময়মতো সুষম খাবার খাব।
২. বেশি রাত না জেগে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাব।

৩. নিয়মিত গোসলের মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো।
৪. রুটিন মাফিক বিকেল বেলা বন্ধুদের সাথে খেলা করবো।
৫. মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা, গল্পের বই পড়া, ছবি আঁকা বা অন্য যেকোনো সখের কাজ করবো।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৭ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৮ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৯ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১০ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১১ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।