|

বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৫ প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৫: মানুষ সবসময় কৌতূহলী। তাই প্রাচীনকালে যখন মানুষ তার চারপাশে প্রকৃতি দেখত তখন তারা নিজেদের মতো একটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কল্পনা করে নিত। তাদের কাছে মনে হতো, পৃথিবীটাই বুঝি পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, সেটা সমতল এবং আকাশ পৃথিবীটাকে বাটির মতো ঢেকে রেখেছে। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বেশির ভাগ বিজ্ঞানী এখন একটি তত্ত্বকে গ্রহণ করেন। এ তত্ত্বে বলা হয় যে, মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। হাজার বছর ধরে মানুষ চিন্তা করেছে কীভাবে পৃথিবী ও মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে।

দিনের বেলা আকাশের দিকে তাকালে আমরা সূর্যকে দেখতে পাই। রাতের মেঘমুক্ত আকাশ আমাদের বিস্মিত করে। রাতের আকাশে থাকে চাঁদ ও মিটমিট করে জ্বলা অসংখ্য তারা। এদের সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। আমাদের মাথার উপর রয়েছে অনন্ত আকাশ, সীমাহীন ফাঁকা জায়গা বা মহাকাশ। সূর্য, চাঁদ, গ্রহ, তারা, মহাকাশ, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদি দেখা না দেখা সবকিছুকে নিয়ে মহাবিশ্ব। মহাবিশ্বের সকল কিছুকে বলা হয় নভোমণ্ডলীয় বস্তু।


বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৫ সত্য/মিথ্যা নির্ণয়

১. পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ সূর্যকে ঘিরে ঘুরছে।
২. সিসমোগ্রাফ দ্বারা মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
৩. সূর্য অতি সাধারণ একটি নক্ষত্র।
৪. কয়েকটি নক্ষত্র নিয়ে গ্যালাক্সি গঠিত।
৫. হাবল নামক বিজ্ঞানী গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করেন।

৬. বিগ ব্যাং দিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে।
৭. নক্ষত্র জীবিত প্রাণী।
৮. নক্ষত্রের জীবন খুবই বিচিত্র।
৯. সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌছাতে ২০ মিনিট সময় লাগে।
১০. ব্ল্যাকহোলের রহস্য খুবই চমকপ্রদ।

১১. একশ বিলিয়ন বছর পূর্বে সূর্য জন্ম নিয়েছে।
১২. বিশ্বব্রহ্মাণ্ড প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে প্রসারণ দিয়ে শুরু হয়েছে।
১৩. গ্রীষ্মকালে এনড্রোমিডা নামক গ্যালাক্সি দেখা যায়।
১৪. আমাদের দৃশ্যমান বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রায় এক ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে।
১৫. বিগ ব্যাং –এর পর মহাবিশ্ব প্রসারিত হতে শুরু করেছে।

উত্তর: ১. সত্য, ২. মিথ্যা, ৩. সত্য, ৪. মিথ্যা, ৫. সত্য, ৬. সত্য, ৭. মিথ্যা, ৮. সত্য, ৯. মিথ্যা, ১০. সত্য, ১১. মিথ্যা, ১২. সত্য, ১৩. মিথ্যা, ১৪. সত্য, ১৫. সত্য।


বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৫ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। গ্যালাক্সি কী?
উত্তর: অসংখ্য নক্ষত্র যখন মহাকর্ষ বলে একসঙ্গে আটকে থাকে, সেটাই হলো গ্যালাক্সি।

প্রশ্ন-২। সূর্য কী? 
উত্তর: গ্যালাক্সির ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের মধ্যে সাদামাটা একটি নক্ষত্র হলো সূর্য।

প্রশ্ন-৩। এক আলোকবর্ষ কী?
উত্তর: এক বছরে আলো যেটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে, সেটিই এক আলোকবর্ষ।

প্রশ্ন-৪। বিগ ব্যাং কী?
উত্তর: ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বে মহাবিশ্ব একটি প্রসারণ দিয়ে শুরু হয়েছে যা বিগ ব্যাং নামে পরিচিত।

প্রশ্ন-৫। ব্ল্যাকহোল কী?
উত্তর: সুপারনোভা বিস্ফোরণে নক্ষত্রের বাইরের অংশটুকু ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন হয় কিন্তু ভিতরের অংশটুকু মহাকর্ষ বলের প্রচণ্ড আকর্ষণে সংকুচিত হতে হতে ব্ল্যাকহোলে রূপান্তরিত হয়।

প্রশ্ন-৬। দৃশ্যমান বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কী?
উত্তর: আমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যে অংশটুকু দেখতে পাই, তাই দৃশ্যমান বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।

আরও পড়ুনঃ ৮ম শ্রেণীর এসাইনমেন্ট অষ্টম শ্রেণির ১৮ তম সপ্তাহের গণিত ও শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর


বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৫ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। আমরা কখনো কখনো রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে অসংখ্য নক্ষত্রকে জ্বলজ্বল করতে দেখি। কিন্তু দিনের বেলায় সূর্য ছাড়া অন্যান্য নক্ষত্রগুলো দেখতে পাই না কেন?
উত্তর: মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েক হাজার নক্ষত্র আমরা খালি চোখে দেখতে পাই। নক্ষত্রগুলো হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের জ্বলন্ত গ্যাসপিড দিয়ে তৈরি। এ দুটি গ্যাস অধিক তাপমাত্রায় (প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) জ্বলতে থাকায় সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলা আমরা অন্যান্য নক্ষত্রগুলো দেখতে পাই না।

প্রশ্ন-২। বই, টেবিল, ঘরের মেঝে ইত্যাদির দৈর্ঘ্য পরিমাপে সে.মি., ইঞ্চি, মিটার প্রভৃতি একক ব্যবহৃত হলেও পৃথিবী ও অন্যান্য নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব পরিমাপে আলোকবর্ষ প্রয়োজন বর্ণনা কর।
উত্তর: ছোট পরিমাপের দূরত্ব, যেমন- বই, খাতা, টেবিল ইত্যাদির দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ মাপতে সে.মি., ইঞ্চি প্রভৃতি একক ব্যবহার করা হয়। এগুলো থেকে বড় মাপের ঘরের মেঝে, টাওয়ারের উচ্চতা ইত্যাদি পরিমাপে মিটার একক ব্যবহৃত হয়।

আবার এগুলো থেকে বেশি দূরত্ব, যেমন- দেশের এক জেলা হতে অন্য জেলার দূরত্ব জানার জন্য কিলোমিটার একক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মিলিয়ন, বিলিয়ন বা ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব উপরে বর্ণিত ছোট একক দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ফলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি এককের দরকার হয়। অই পৃথিবী ও অন্যান্য নক্ষত্রের মধ্যকার বিশাল দূরত্বকে পরিমাপে আলোর গতির সাথে- মিল রেখে আলোক এককের প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন-৩। তোমার পরিচিত একটি নক্ষত্রের জীবনচক্রের ধারণা দাও।
উত্তর: আমার পরিচিত একটি নক্ষত্র হলো সূর্য। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রথমে শুধু হাইড্রোজেন ছিল। এই হাইড্রোজেন কোথাও কোথাও মহাকর্ষ বলের কারণে একত্রিত হয়ে একটি গ্যাসপিডের আকার ধারণ করে। যখন এটির পরিমাণ বেশি হয় তখন মহাকর্ষ বলের কারণে সেগুলো সংকুচিত হতে থাকে। এভাবে যত সংকুচিত হয় তত পরিমাণে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। একসময় তাপমাত্রার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে অনেক বেশি বেড়ে গেলে তখন ভেতরের হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস একটি অন্যটির সাথে একত্রিত হতে শুরু করে।

এ প্রক্রিয়াটি নিউক্লিয়ার ফিউশন নামে পরিচিত যা থেকে বিশাল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। এভাবে তাপ ও আলো ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে সূর্যের জন্ম হয়। আজ থেকে পাঁচ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের সকল শক্তির মূল এ উৎসটির আবির্ভাব ঘটে। ধীরে ধীরে সূর্যের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাপ ও আলো ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আরও পাঁচ বিলিয়ন বছর সূর্য এভাবে আলো দেওয়ার পর একসময় হাইড্রোজেন জ্বালানি নিঃশেষ হয়ে যায়। এ সময় সূর্যের জ্বর বেশি থাকায় এটির ভেতর অনেক ধরনের মৌল তৈরি করে বিস্ফোরণ ঘটায়। ফলে সূর্য নক্ষত্রের মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন-৪। সূর্যের আলো দেওয়ার ক্ষমতা কি কখনো শেষ হবে? – তোমার মতামত দাও।
উত্তর: সূর্যের আলো দেওয়ার ক্ষমতা একসময় শেষ হবে। সূর্য একটি নক্ষত্র। নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু রয়েছে। একটি গ্যাসপিড যখন মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে সংকুচিত হয়ে হাইড্রোজেন এর নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি ও আলো উৎপন্ন করে তখন নক্ষত্রের জন্ম হয়। নক্ষত্রের এই আলো উৎপাদন ও শক্তি এর মূল উপাদান হচ্ছে হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেন জ্বালানি না থাকলে নক্ষত্র আলো দেওয়া বন্ধ করে দিবে এবং নিষ্প্রভ হয়ে যাবে, যা নক্ষত্রের মৃত্যু নামে পরিচিত। সুতরাং বলা যায়, সূর্যের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সূর্যের আলো দেওয়ার ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন-৫। আতশবাজির সাথে নক্ষত্রের সাদৃশ্য রয়েছে- উক্তিটির যুক্তি দাও।
উত্তর: আতশবাজি বিস্ফোরণের সময় রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে যায় এবং বিস্ফোরণের পর আতশবাজি নিষ্প্রভ হয়ে যায়। ঠিক তেমনি নক্ষত্র মৃত্যুর সময় বিস্ফোরিত হয় এবং এ বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আলোতে পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আলোকিত হয়ে যায়।

প্রশ্ন-৬। আমাদের গ্যালাক্সির নক্ষত্রদের মৃত্যু হলেও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির নক্ষত্রদের মৃত্যু হয় কি না? – তোমার মতামত দাও।
উত্তর: অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি আমাদের গ্যালাক্সির সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সি। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু একই প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে। অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির নক্ষত্রও হাইড্রোজেন গ্যাসপিণ্ড দিয়ে তৈরি। হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে এদের জন্ম হয়। এদের হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে মৃত্যু হয়। সুতরাং অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির নক্ষত্রদেরও মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন-৭। পৃথিবী গ্রহ হলেও নক্ষত্র নয় কেন? এর পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: নক্ষত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার ফলে আমরা বলতে পারি কোনটি নক্ষত্র আর কোনটি নক্ষত্র নয়। নক্ষত্র গ্যাসপিডের দ্বারা তৈরি। নক্ষত্র আলো এবং শক্তি প্রদান করে। অর্থাৎ নক্ষত্রের নিজস্ব আলো আছে। কিন্তু পৃথিবীর নিজস্ব কোনো আলো নেই। হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হলে নক্ষত্রের আলো শেষ হয়ে যায় -এবং নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটে। অপরদিকে পৃথিবী হাইড্রোজেন গ্যাসপিড দ্বারা তৈরি না হওয়ায় এর কোনো হাইড্রোজেন জ্বালানি নেই। সুতরাং উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি পৃথিবী নক্ষত্র নয়। পৃথিবী হচ্ছে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরা একটি গ্রহ।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৭ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৮ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৯ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ১০ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১ প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১২ প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৩ প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৪ প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৫ প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।