|

বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১ প্রশ্ন ও উত্তর

বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১: ভূমিকম্প হচ্ছে ভূমির কম্পন। ভূমিকম্প এমন একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোনো একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। ভূ-অভ্যন্তরে যখন একটি শিলা অন্য একটি শিলার উপরে উঠে আসে তখন ভূ-কম্পন হয়। পৃথিবী পৃষ্ঠের অংশবিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমি কম্পন।

বাংলাদেশে কোনো আগ্নেয়গিরি না থাকলেও বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক গঠন, টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ভূমিকম্পের জন্য আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব নয়। এটি যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে। ভূমিকম্পের জন্য সবসময় সতর্ক থাকতে হয়।


বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১ সত্য/মিথ্যা নির্ণয়

১. মাটি বা ভূমি কেঁপে ওঠার ঘটনাকে ভূমিকম্প বলা হয়।
২. বাংলাদেশে আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
৩. ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি সাথে টেকটোনিক প্লেটের কোনো সম্পর্ক নেই।
৪. টেকটোনিক প্লেটের গতি অতি অল্প হয়।
৫. ইতালিতে আগ্নেয়গিরি দেখা যায় না।

৬. প্লেট সীমানাতে অনেকগুলো চ্যুতিরেখা থাকে।
৭. ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্র হলো থার্মোমিটার।
৮. রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলো মাঝারি ভূমিকম্প।
৯. ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
১০. স্পের পূর্বাভাস পাওয়া যায়।

১১. ভূমিকম্পের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় না।
১২ ভূমিকম্পের সময় আতংকিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।
১৩. ভূমিকম্পের সময় ছোটাছুটি করতে হবে।
১৪. বড় ভূমিকম্প হলে পরে আফটার শক হিসেবে পুনরায় ভূমিকম্প হতে পারে।
১৫. ভূমিকম্পের সময় শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

উত্তর: ১. সত্য, ২. মিথ্যা, ৩. মিথ্যা, ৪. সত্য, ৫. মিথ্যা, ৬. সত্য, ৭. মিথ্যা, ৮. সত্য, ৯. সত্য, ১০ মিথ্যা, ১১. মিথ্যা, ১২. সত্য, ১৩. মিথ্যা, ১৪. সত্য, ১৫. সত্য।


বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। ভূমিকম্প কী?
উত্তর: কোনো স্থানের মাটি বা ভূমির কেঁপে উঠা বা কম্পন সৃষ্টি হওয়াই ভূমিকম্প।

প্রশ্ন-২। চ্যুতিরেখা কোথায় থাকে?
উত্তর: প্লেট সীমানায় অসংখ্য চ্যুতিরেখা বিদ্যমান থাকে।

প্রশ্ন-৩। ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় কীসের সাহায্যে?
উত্তর: রিখটার স্কেলের সাহায্যে ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ

প্রশ্ন-৪। ভূমিকম্প কেন হয়?
উত্তর: টেকটোনিক প্লেট এর স্থানান্তরের কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

প্রশ্ন-৫। কোন যন্ত্র দিয়ে ভূ-কম্পন মাপা হয়?
উত্তর: সিসমোগ্রাফ নামক যন্ত্র দিয়ে ভূ-কম্পন মাপা হয়।


বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১ যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১। মনে কর, এই মুহূর্তে হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলো। এরকম পরিস্থিতিতে তুমি প্রথমেই কী করবে?
উত্তর: ভূমিকম্প এমন একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোনো অঞ্চল বা দেশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে আমি মাথা ঠান্ডা রেখে বিপদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করব। কোনো অবস্থাতেই অহেতুক ভয়ে এবং আতঙ্কে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হওয়া যাবে না।

বড় দালানের ভেতর অবস্থান করলে সেখানে শক্ত টেবিল বা আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। যথাসম্ভব কাচের জানালা এবং ভারী জিনিসপত্রের কাছাকাছি অবস্থান থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রয়োজন হলেও কখনো লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নিচের দিকে সতর্কতার সাথে নামতে হবে। এছাড়া বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাসের পাইপ এবং আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে।

প্রশ্ন-২। কোনো এলাকায় ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পর সেখানকার উদ্ধারকর্মীরা কীভাবে জনগণকে সহায়তা করতে পারে?
উত্তর: কোনো এলাকায় ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পর সেখানকার উদ্ধারকর্মীরা প্রথমেই বৈদ্যুতিক লাইন এবং গ্যাসের পাইপ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। তারপর হতাহত লোকের উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ক্ষতিগ্রস্ত দালানের মধ্যে আটকে থাকা মানুষের উদ্ধারে তাদের।

শরীর অক্ষত রাখার চেষ্টা করবে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাবে। বেশি আঘাতপ্রাপ্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো মানের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে পরবর্তী সময়ে আফটার শক হিসেবে আরো ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় জনগণকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ প্রদান করবে।

প্রশ্ন-৩। তোমার চাচা ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানে থাকে। সেখানে ভূমিকম্পের আগে নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর: ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ বা এলাকায় যেকোনো সময়ে ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষায় সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। এসব দেশে বা এলাকায় ভূমিকম্প প্রতিরোধক নীতিমালা মেনে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করতে হবে। নিয়মিত পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন পরিসেবা পরীক্ষা করতে হবে।

আগুন নেভানোর জন্য নিয়মিত অগ্নিমহড়া, অগ্নি নির্বাপক চালনা প্রশিক্ষণ এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন- প্রাথমিক চিকিৎসা কিট, শুকনা খাবার এবং পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া গ্যাস পাইপ, বৈদ্যুতিক লাইন এবং পানি সরবরাহের লাইন বন্ধ করার উপায় জেনে রাখতে হবে।

প্রশ্ন-৪ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিরোশিমায় ছোড়া নিউক্লিয়ার বোমার নির্গত শক্তির সাথে ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির পরিমাণ বেশি না কম হবে? গাণিতিক যুক্তি দাও।
উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিরোশিমায় ছোড়া নিউক্লিয়ার বোমা থেকে একটি ৬ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। আমরা জানি, রিখটার স্কেলে প্রতি মাত্রায় ভূমিকম্পের কম্পন ১০ গুণ করে বেড়ে যায়। কিন্তু নির্গত শক্তির পরিমাণ প্রতি মাত্রায় প্রায় ৩২ গুণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে নির্গত’ শক্তির চেয়ে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির পরিমাণ প্রায় ১০০০ গুণ বেশি।

প্রশ্ন-৫। মাটির ভেতরে টেকটোনিক প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠার সময় আমরা সবাই চমকে উঠি। কিন্তু এ প্লেটগুলো সরে যাওয়া আমরা বুঝতে পারি না কেন?
উত্তর: ভূত্বকের অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটগুলো স্থির নয়। এগুলো আনুভূমিক । বিভিন্ন গতিতে সঞ্চারিত হয়। এটির গতি ধীরে ধীরে হওয়ায় দীর্ঘসময় ধরে অগ্রসর হয়। সময়ের তুলনায় গতি অল্প হওয়ার কারণে প্লেটগুলো সরে যাওয়া আমরা বুঝতে পারি না।

প্রশ্ন-৬। চ্যুতিরেখা ভূমিকম্প সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে বলে কি তোমার মনে হয়?
উত্তর: টেকটোনিক গঠনগত দিক দিয়ে তিনটি প্লেটের সংযোগ স্থল বাংলাদেশ এবং তার কাছাকাছি এলাকায় পড়েছে। প্লেট সীমানাতে প্লেটের গতি ও সঞ্চিত শক্তির উপর নির্ভর করে চ্যুতিরেখার ভূমিকম্প। অনেক বছর আগে ভূমিকম্প হলে চ্যুতিরেখার শক্তি সজ্জিত হতে থাকে এবং প্লেটের গতির ফলে সক্রিয় চ্যুতিরেখা ভূমিকম্প সৃষ্টি করে। এসব চ্যুতিরেখা যেকোনো সময় মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং বলা যায়, চ্যুতিরেখা ভূমিকম্প সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে।

প্রশ্ন-৭। রিনা ঢাকাতে একটি দালানে বসে রাত ৮ টার সংবাদে শুনলো, অস্ট্রেলিয়াতে মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে কিন্তু সে কোনো কম্পনের তীব্রতা লক্ষ করলো না। এটার কারণ কী?
উত্তর: রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে মাঝারি ভূমিকম্প। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ায় উৎপন্ন ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্প চলাকালীন যদি ১০০ মিমি বা ১০ সেন্টিমিটার বিস্তৃত কম্পন অনুভূত হয় তখন তাকে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প বা মাঝারি ভূমিকম্প বলা হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে যত বেশি দূরত্বে থাকা যায় ততো বেশি কম্পন অনুভূত হয়। ঢাকা অস্ট্রেলিয়া থেকে বহুদূরে ও প্লেট আলাদা হওয়ার ফলে রিনা ভূমিকম্প বুঝতে পারেনি।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৬ষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৭ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৮ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ৯ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি ১০ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১১ প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।