|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – ছড়া

৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ: অনুচ্ছেদটিতে সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় শাখা ছড়া সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সাধারণত শিশুদের জন্য বানানো কবিতাকেই ছড়া বলা হয়। ছড়া আয়তনে ছোটো হয় এবং এর প্রতি জোড়া লাইনের শেষে মিল শব্দ থাকে। যাঁরা ছড়া লেখেন তাঁদের ছড়াকার বলা হয়। ইচ্ছেমতো যেকোনো বিষয় নিয়েই ছড়া লেখা হয়। এ পরিচ্ছেদটিতে নমুনা হিসেবে বিখ্যাত সাহিত্যিক ও ছড়াকার অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘ঢাকাই ছড়া’ নামের ছড়াটি উপস্থাপন করা হয়েছে।


‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়ার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

কবি সম্পর্কিত তথ্য: অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিপুল সংখ্যক গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, ও ছড়া-কবিতা লিখেছেন। তাঁর বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে আছে ‘পথে প্রবাসে’, ‘বাংলাদেশে’, ‘উড়কি ধানের মুড়কি’ ইত্যাদি।

মূলবক্তব্য: ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটিতে কবির মনে বাংলাদেশের প্রতি যে মমত্ববোধ রয়েছে, তা-ই ব্যক্ত হয়েছে। কবি বিমান থেকে পদ্মা নদী দেখছিলেন, পদ্মার রূপ তাঁকে বিমোহিত করেছে, পাশাপাশি বিমান থেকে ঢাকা শহরের বিশালতাও তাঁকে আকৃষ্ট করে। বিমান থেকে নেমে বন্ধুদের দেখে কবির মন জুড়ায়। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। পাকিস্তানের পরাজয়ের বিপরীতে বাঙালির জয় তাঁকে গর্বিত করে। তিনি মনে করেন, এ গৌরবজনক কাহিনি নতুন প্রজন্মের লেখকদের লেখায় উঠে আসা উচিত।

পাঠ বিশ্লেষণ

উৎস পরিচিতি: ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘রাঙা মাথায় চিরুনি’ ছড়ার বইয়ের অন্তর্গত।
পাঠের উদ্দেশ্য: সাহিত্যের অন্যতম শাখা হিসেবে ‘ছড়া’ সম্পর্কে ধারণা দান এবং ছড়া পাঠ ও রচনায় পারদর্শী করে তোলা।


ছড়া

ছড়া হলো এক ধরনের শিশুতোষ কবিতা। ছড়ার বর্ণনার ধরন সাধারণত সহজ-সরল হয়। সাহিত্যের এ শাখাটি যেহেতু শিশুদের উদ্দেশ্য করেই, তাই ছড়ার ভাষা এবং ভাব সহজ-সরল হয়। পাশাপাশি এর পরিধিও কম হয়ে থাকে।

ছড়ার বৈশিষ্ট্য

  • ছড়ায় অবশ্যই লাইনের শেষে মিল-শব্দ থাকবে।
  • এতে প্রয়োজন অনুসারে শব্দরূপের পরিবর্তন হয়।
  • সাধারণত ছড়ার লাইনগুলোতে ব্যবহৃত শব্দসংখ্যা সমান হয়।
  • ছড়া সবসময়েই তাল রক্ষা করে পড়া সম্ভব।
  • ছড়া সাধারণত সহজ-সরল পদ্য ভাষায় লিখিত হয়।
  • ছড়ার লাইন আকারে ছোটো হয়ে থাকে।

সাহিত্যে ছড়ার স্থান

বাংলা সাহিত্যে কবিতার মতো ছড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পদ্য সাহিত্যের এ আঙ্গিকটি বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে শিশুদের মাঝে হুড়ার জনপ্রিয়তা সাহিত্যের অন্যান্য শাখার থেকে অনেকটাই বেশি। কবিতা যেমন বড়োদের মনের খোরাক, তেমনই শিশুদের মনের খোরাক হলো ছড়া।

এজন্য বাংলা সাহিত্যে ছড়ার একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। তাছাড়া এ অঞ্চলে ছড়ার ইতিহাস সুপ্রাচীন। সাহিত্য লেখ্য রূপ লাভের পূর্বে ছড়ার মাধ্যমেই মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করত। এছাড়াও ধ্বনির দ্যোতনা সৃষ্টি করে তালে তালে পড়া যায় বলে ছড়া শ্রুতিমধুর এক সাহিত্য রূপ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, ‘সুরময় ধ্বনিই ছড়ার প্রাণ।

ছড়া লেখার কিছু কৌশল

ছড়া মূলত কবিতারই একটি রূপভেদ মাত্র। সে হিসেবে কবিতা আর ছড়ার মধ্যে বেশকিছু মিল থাকলেও কিছু বিষয়ে ভিন্নতাও রয়েছে। এ কারণে ছড়া লেখার জন্য বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। এগুলো হলো-

  • ছড়া মূলত শিশুদের জন্য রচিত হয় বলে এর বিষয়বস্তু সহজ ও সাবলীল হতে হবে।
  • ছড়ার লাইনের শেষে অবশ্যই মিল শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
  • সাধারণত ছড়া তাল সহযোগে পড়া যায়। এ কারণে ছড়া লেখার সময় তাল ও ছন্দমিল যাতে বজায় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • ছড়ার বক্তব্য সহজ-সরল এবং অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে।

কবিতা ও ছড়ার সম্পর্ক

কবিতার সঙ্গে ছড়ার মিল রয়েছে অনেক জায়গায়। তবে, এই মিলের ভেতরেও কবিতার মধ্যে ছড়াকে আলাদা করে চেনা যায়।
১. কবিতায় মিল শব্দ থাকে। কোনো কবিতায় লাইনের শেষে মিল-শব্দ নাও থাকতে পারে। তবে ছড়ায় অবশ্যই লাইনের শেষে মিল-শব্দ থাকে।

২. কবিতার মতো ছড়াতেও শব্দরূপের পরিবর্তন হয়।
৩. কবিতা তাল দিয়ে দিয়ে পড়া যায়। এই তাল কখনো ধীর গতিতে পড়ে, কখনো দ্রুত গতিতে পড়ে। আবার কোনো কোনো কবিতায় তাল একেবারেই থাকে না। তবে, ছড়া অবশ্যই তাল দিয়ে পড়া যায়। আর সেই তালও পড়ে খুব ঘন ঘন।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. ছড়া কী?
উত্তর: এক ধরনের শিশুতোষ কবিতা।

প্রশ্ন-২. ছড়া কোন ধরনের সাহিত্যের অন্তর্গত?
উত্তর: শিশুতোষ সাহিত্য।

প্রশ্ন-৩. ছড়ার লাইনের শেষে কোনটি থাকা আবশ্যক?
উত্তর: মিল-শব্দ।

প্রশ্ন-৪. আকৃতিগত দিক থেকে ছড়ার পরিধি সাধারণত কেমন হয়?
উত্তর: কম হয়।

প্রশ্ন-৫. সাহিত্যের কোন শাখাটি শিশুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়?
উত্তর: ছড়া।


১. ‘ঢাকাই হুড়া’ নামের হুড়াটি পড়ে কী বুঝতে পারলে তা নিচে লেখো।
উত্তর: কবি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটি আমাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগায়। ছড়াটিতে কবি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন। বহুতা পদ্মার বিশালতা আর আঁকাবাঁকা জলের রেখা কবিমনকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। কবি প্রাণ জুড়ানো সুমধুর বাংলা ভাষার গুণগান গেয়েছেন। স্বাধীনতাকামী বাঙালির আত্মদানে পাওয়া এই বাংলা নিয়ে তিনি গর্ব করেছেন।

বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন কবি। তিনি সিন্ধুর সাথে পদ্মার বিশালতার তুলনা করেছেন। আকাশপথে দেখা পদ্মার সৌন্দর্য তাঁর ছড়ায় ব্যক্ত করেছেন। গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে ভরপুর আমাদের বাংলা ভাষা খুবই শ্রুতিমধুর অনুভূত হয়েছে কবির কাছে। পাকিস্তানিদের শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস শেষে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংস-বিধ্বস্ত দেশের পুনরুদ্ধারে কবি নবীনদের আহ্বান জানিয়েছেন। কবি আশা ব্যক্ত করেছেন নতুন প্রজন্মের হাত ধরে বাংলার ইতিহাস নতুনভাবে লেখা হবে।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ০১: ‘ছড়া’ পরিচ্ছেদটি পড়ে যা বুঝতে পারলে তার আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো।
ক. ছড়া ও কবিতার মধ্যে মিল ও অমিল কোথায়?
উত্তর: ছড়া ও কবিতার মিল: ছড়া ও কবিতা উভয়েরই লাইনের শেষে মিল-শব্দ রয়েছে। পড়ার সময় উভয়েরই তাল রক্ষা করতে হয়। উভয়েই পদ্য ভাষায় লেখা। উভয়েরই লাইনগুলোতে অক্ষর সংখ্যার সংগতি বজায় রেখে চলতে হয়। ছড়া ও কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই শব্দররূপের পরিবর্তন হয়।

ছড়া ও কবিতার অমিল: ছড়া সাধারণত স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত হয়, আর কবিতা যেকোনো ছন্দেই রচিত হতে পারে। ছড়ার লাইনগুলোতে অবশ্যই অন্ত্যমিল থাকবে, অন্যদিকে কিছু কবিতায় অন্তমিল নাও থাকতে পারে।

খ. এর আগে কখনো ছড়া পড়েছ? পড়ে থাকলে সেটি কোন বিষয় নিয়ে?
উত্তর: এর আগে আমি অনেক ছড়া পড়েছি। যার মধ্যে একটি ছড়ার কথা বিশেষভাবে মনে পড়ছে। ছড়াটির নাম ‘বাবুরাম সাপুড়ে’, লিখেছেন সুকুমার রায়। ছড়াটিতে দেখা যায় কোনো একজন মানুষ একজন সাপুড়ের কাছে দুটি সাপের সন্ধান করছেন, যে সাপ মেরে তিনি নিজেকে অনেক সাহসী প্রমাণ করতে চাচ্ছেন। ছড়াটি মূলত ব্যঙ্গার্থে লেখা হয়েছে।

গ. কোনো লেখাকে হুড়া বলতে হলে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়?
উত্তর: কোনো লেখাকে ‘ছড়া’ বলতে হলে তার নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ থাকতে হবে:
১. পদ্য ভাষায় লেখা হতে হবে।
২. লাইনের শেষে মিল শব্দ থাকতে হবে।

৩. লাইনগুলোতে অক্ষর সংখ্যার সংগতি বজায় রাখেত হবে।
৪. পড়ার সময় তাল রক্ষা করে পড়তে হবে।

প্রশ্ন ০২: ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটি পড়ে বুঝে নিয়ে দুটি দলে ভাগ হও। এরপর ছড়াটি কেমন বুঝতে পেরেছ তা যাচাই করার জন্য একদল আরেক দলকে নিচের প্রশ্নগুলো করো এবং উত্তর দাও।
ক. ‘ঢাকাই ছড়া’ লেখায় কবি ঢাকা আসছেন কীভাবে? কত সময় লেগেছিল আসতে?
উত্তর: কবি ঢাকায় এসেছেন বিমানে করে। তাঁর সময় লেগেছিল আধঘণ্টা।

খ. এ ছড়ায় পদ্মা নদীকে কার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: এ ছড়ায় পদ্মা নদীকে সিন্ধুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

গ. কবির শ্রবণ ও নয়ন জুড়ায় কীসে?
উত্তর: কবির শ্রবণ জুড়ায় বাংলা ভাষায় এবং নয়ন জুড়ায় বন্ধুদের দর্শনে।

ঘ. খান সেনা ও টিক্কা খান কে বা কারা?
উত্তর; খান সেনা বলতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্যকে বোঝাত এবং টিক্কা খান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক।

ঙ. ‘ঢাকাই ছড়া’ লেখার প্রধান বিষয় কী?
উত্তর: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের বিজয়ের পর কবির কলকাতা থেকে ঢাকায় ভ্রমণ ‘ঢাকাই ছড়া’র প্রধান বিষয়। বিমানের যাত্রাপথ, নদ-নদী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, নতুন ঢাকার বর্ণিল রূপ, বাংলা ভাষা ও বন্ধুদের প্রতি আবেগ, একাত্তরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও বাঙালির জয় এবং নতুন সাহিত্য রচনার পটভূমি ছড়াটিতে উপজীব্য হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন ০৩: ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটির মূলভাব লেখো।
উত্তর: ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটিতে কবির মনে বাংলাদেশের প্রতি যে মমত্ববোধ রয়েছে, তা-ই ব্যক্ত হয়েছে। কবি বিমান থেকে পদ্মা নদী দেখছিলেন, পদ্মার রূপ তাঁকে বিমোহিত করেছে, পাশাপাশি বিমান থেকে ঢাকা শহরের বিশালতাও তাঁকে আকৃষ্ট করে। বিমান থেকে নেমে বন্ধুদের দেখে কবির মন জুড়ায়। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। পাকিস্তানের পরাজয়ে বিপরীতে বাঙালির জয় তাঁকে গর্বিত করে। তিনি মনে করেন এ গৌরবজনক কাহিনি নতুন প্রজন্মের লেখকদের লেখায় উঠে আসা উচিত।

প্রশ্ন ০৪: ‘ঢাকাই ছড়া’ নামের ছড়াটির সঙ্গে তোমার জীবনের বা চারপাশের কোনো মিল বা সম্পর্ক খুঁজে পাও কি না, লেখো।
উত্তর: ‘ঢাকাই ছড়া’ নামের ছড়াটির সঙ্গে আমার জীবনের একটি অংশের বিশেষভাবে সাদৃশ্য খুঁজে পাই। আমার গ্রামের পাশ দিয়ে নবগঙ্গা নদী বয়ে গেছে। নদীটির সঙ্গে শৈশবের অনেক সুমধুর স্মৃতি রয়েছে আমার। নদীতে সাঁতার কাটা, মাছ ধরা আরও কত কী করেছি! নদীর পারে ঘুড়ি উড়িয়েছি, আড্ডা দিয়েছি। যদিও আজ সবই অতীত। গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশ, নদীর পার, ফেলে আসা স্মৃতি অতীতের কথা জানান দেয়। পাঠ্যবইয়ের ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটিতে পদ্মানদীর বর্ণনার সঙ্গে আমার গ্রামের সেই নবগঙ্গা নদীর বিশেষ সম্পর্ক খুঁজে পাই।

প্রশ্ন ০৫: ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটিকে গদ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: একবার আমি বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ পেলাম। বিমানযোগে যেতে মাত্র আধঘণ্টা লাগলেও অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হলো। অবশেষে বিমানে ওঠার সুযোগ পেলাম। জানালার পাশের কাঙ্ক্ষিত আসন পেয়ে গেলাম। একটু পরেই দেখি বিশাল এক নদী। দেখতে যেন সাগরেই মতো। আমার মনে বিস্ময় জাগল, এটাই কি সেই পদ্মা নদী যার কোনো অন্ত নেই বলে শোনা যায়! একটু পরে বিমান থেকে একটি শহর দেখা গেল, এটাই মনে হয় ঢাকা শহর।

বিমান থামলে আমি এক ভিন্ন দেশে পৌঁছে গেলাম। কিন্তু এদেশেরও মাতৃভাষা বাংলা, আর আমার এ দেশীয় বন্ধুদের দেখে মন আনন্দে ভরে উঠল। মনে হলো, যেন বাংলা ভাষা চারদিকে তার বিজয়গাথা লিখে রেখেছে। ঔদ্ধত্যপূর্ণ খান সেনাদের পাকিস্তান আর নেই। রাজারবাগ আর রায়ের বাজার বধ্যভূমি দেখে আমার মনে হলো ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনোভাবেই কুরুক্ষেত্র বা কারবালার চেয়ে কম নয়। একদিন এই ঘটনাগুলোকে নিয়েই মহান সব সাহিত্যকর্ম রচিত হবে। নতুন প্রজন্মের লেখক এসে নিজ ইতিহাস বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন।

প্রশ্ন ০৬: ‘ঢাকাই হুড়া’ ছড়াটিতে ছড়ার সকল বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে কি? ব্যখ্যা করো।
উত্তর: কবি অন্নদাশঙ্কর কর্তৃক রচিত ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটিতে একটা ছড়ার সব বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে। নিম্নে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো: ছাড়া মূলত শিশুদের জন্য বানানো কবিতা। ছড়ায় লাইনের শেষে শব্দ-মিল থাকে। ছড়ার আয়তন সাধারণত ছোটো হয়। ছড়া তাল দিয়ে পড়া যায়। এটা সংলাপনির্ভর নয়। সাধারণত তুলনামূলক সহজ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছড়া লেখা হয়। এবং পাঠ্যবইয়ে প্রাপ্ত ছড়ার সকল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘ঢাকাই ছড়া’ ছড়াটির সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তাই পরিশেষে বলা যায়, ‘ঢাকাই ছড়া ছড়াটিতে ছড়ার সকল বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রশ্ন ০৭: ছড়া লেখার ৫টি কৌশল উল্লেখ করো।
উত্তর: ছড়া লেখার কৌশলগুলো হলো-
১. ছড়া মূলত শিশুদের জন্য রচিত হয় বলে এর বিষয়বস্তু সহজ, ও সাধারণ হতে হবে।
২. ছড়ার লাইনের শেষে অবশ্যই মিল শব্দ ব্যবহার করতে হবে।

৩. সাধারণত ছড়া তাল সহযোগে পড়া যায়। এ কারণে লেখার সময় তাল ও ছন্দমিল যাতে বজায় থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৪. ছড়াটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হতে হবে। অর্থাৎ ছড়া লেখার সময় অন্য কোনো ছড়ার অনুকরণ করা যাবে না।
৫. ছড়ার বক্তব্য সহজ-সরল এবং অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – বিশ্লেষণমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – কল্পনানির্ভর লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – কবিতা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: গান
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ – নাটক
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৭ম পরিচ্ছেদ – সাহিত্যের নান রূপ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৭ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – প্রশ্ন করতে শেখা


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।