|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – কবিতা

৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ: সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মাঝে কবিতা অন্যতম। এককথায় বলতে গেলে সাহিত্যের যে শাখায় কবি-ভাবনার ছন্দময় প্রকাশ ঘটে, তা-ই কবিতা। বিষয়টিকে আরও সহজ করে বলা যায়, পদ্যে বা ছন্দ বজায় রেখে লেখা সাহিত্যই কবিতা।

সাহিত্যের অন্য সকল শাখার মতো কবিতায়ও কবির ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বা কল্পনা, সমাজভাবনা, রাজনীতি ও দর্শনের প্রকাশ ঘটে। তবে গদ্যের মতো কবিতার বক্তব্য সবসময় খুব স্পষ্ট করে বলা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে কবিতায় নানা বিষয়ের ইঙ্গিত থাকে। এর মধ্য দিয়ে কবি-ভাবনার শৈল্পিক প্রকাশ ঘটে।


লেখক পরিচিতি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি রচনায় তিনি অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ‘বলাকা’, ‘পুনশ্চ’, ‘গোরা’, ‘অচলায়তন’, ‘কালান্তর’ তাঁর কয়েকটি বইয়ের নাম। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা।

বন্দে আলী মিয়া: বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শিশুসাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ময়নামতীর চর’, ‘কুঁচবরণ কন্যা’, ‘শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা’ ইত্যাদি। কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির বর্ণনায় তিনি নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন।

আল মাহমুদ: আল মাহমুদ বাংলাদেশের প্রধান কবিদের একজন। তিনি ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার বইয়ের মধ্যে আছে ‘লোক-লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘সোনালি কাবিন’ ইত্যাদি।

‘মাঝি’ কবিতার মূলবক্তব্য

‘মাঝি’ কবিতাটির কিশোর বড়ো হয়ে খেয়াঘাটের মাঝি হতে চায়। কেননা নদীর ওইপারের সৌন্দর্য তাকে টানে। সেখানে দিনের বেলা সারি সারি ডিঙি নৌকা বাঁধা থাকে, কৃষকেরা লাঙল কাঁধে পার হয়, জেলেরা জাল টানে আর রাখালেরা গোরু-মহিষ সাঁতরে নিয়ে যায়। রাতের বেলা ওইপারের ঝাউডাঙায় শেয়াল ডাকে।

কিশোর শুনেছে ওইপারে ভেতরের দিকে জলার মতো জায়গা আছে। সেখানে বর্ষাকালে ঝাঁক বেঁধে চখাচখি আসে। ধারে জন্মানো শরবনে মানিকজোড়ের বাসা আর কাদামাটিতে কাদাখোঁচা পাখির পায়ের চিহ্ন দেখা যায়। কবিতার কিশোর সন্ধ্যাবেলা ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে সেখানকার কাশবনে চাঁদের আলোর সৌন্দর্য দেখেছে। কিশোর খেয়াঘাটের মাঝি হয়ে নৌকা নিয়ে এপার-ওপার যাতায়াত করতে চায়।

এসময় স্নানঘাটের ছেলেমেয়ে অবাক হয়ে নৌকার মাঝি কিশোরকে দেখবে বলে কিশোর মনে করে। সারাদিন খেয়া পারাপার করে সন্ধ্যায় আবার বাসায় ফিরে আসবে সে। মায়ের অনুমতি পেলে বড়ো হয়ে বাবার মতো বিদেশে না গিয়ে খেয়াঘাটের মাঝি হয়েই কিশোর মায়ের কাছাকাছিই যেতে চায়। মূলত জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার টানেই কিশোর বিদেশে না গিয়ে দেশেই খেয়াঘাটের মাঝি হয়ে থাকতে চায়।

‘ময়নামতীর চর’ কবিতার মূলবক্তব্য

‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় একটি নদীর চরের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন চাষিরা লাঙল দিয়ে জমি চাষ করে আর কুমিরেরা রোদ পোহায়। চরে কূল ঘেঁষে সাঁতার কাটা খরশুলা আর দাঁড়িকানা মাছ ছোঁ মেরে ধরে গাঙচিল গাছে বসে খায়। সেই চরে গোরুর পাল ঘাস খায়, ঝিমায়, জাবর কাটে। সেখানে গোচর পাখির আর শালিকের আনাগোনা। নতুন চরের পলি জমিতে চাষিরা কলাই বুনেছে।

শীতের রাতে চাষিরা আখখেত পাহারার জন্য বাঁশ পুঁতে মাচা করেছে। সেখানে বিচুলি দিয়ে বিছানা করে তারা পাহারা করে। রাতে বন্য শুকরের দল যাতে নদী সাঁতরে এসে আখ খেয়ে নষ্ট করতে না পারে সেজন্য চাষিরা ঠকঠকি বাজিয়ে এবং হাতে তালি দিয়ে শব্দ করে। মূলত ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় নদীর চরের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

‘নোলক’ কবিতার মূলবক্তব্য

‘নোলক’ কবিতায় কিশোরের মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেছে। কিশোর সেই নোলক সারা বাংলাদেশে খুঁজে বেড়ায়। নদীর কাছে গেলে নদী বোয়াল মাছের ভয় দেখায়। বনের কাছে গেলে সেখানকার পাখপাখালিও অপারগতা জানায়। পাহাড়, হরিণ কারো কাছেই কিশোর তার মায়ের নোলকের সন্ধান পায় না। কবিতায় মূলত মা ও মাতৃভূমির প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে দেশকে মা হিসেবে মনে করলে নোলক হলো তার হারানো ঐতিহ্য।

পাঠ বিশ্লেষণ

উৎস পরিচিতি: 

  • ‘মাঝি’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ‘শিশু’ কাব্যের অন্তর্গত।
  • ময়নামতীর চর’ কবিতাটি বন্দে আলী মিয়ার ‘ময়নামতীর চর’ নামের কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
  • ‘নোলক’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

পাঠের উদ্দেশ্য: সাহিত্যের অন্যতম শাখা হিসেবে কবিতা সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং কবিতা চর্চায় পারদর্শী করে তোলা।


কবিতা

সাহিত্যের যে শাখায় কবি-ভাবনার ছন্দময় প্রকাশ ঘটে, তা-ই কবিতা। বিষয়টিকে আরও সহজ করে বলা যায়, ছন্দ বজায় রেখে লেখা রচনাই কবিতা। সাহিত্যের অন্য সকল শাখার মতো কবিতায়ও কবির ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বা কল্পনা, সমাজ ভাবনা, রাজনীতি ও দর্শনের প্রকাশ ঘটে। তবে গদ্যের মতো এর বক্তব্য সবসময় এতটা স্পষ্ট করে বলা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে কবিতায় নানা বিষয়ের ইঙ্গিত থাকে। তাই কবিতা পড়ার সময় অর্থ ও ভাব বুঝে নিয়ে একে আয়ত্ত করতে হয়।

কবিতার বৈশিষ্ট্য

  • কবিতা ছন্দবদ্ধ হয়।
  • কবিতা পদ্যে রচিত হয়।
  • কবিতায় সাধারণত পরপর দুই লাইনের শেষে অন্ত্যমিল থাকে।
  • হাতে তালি দিয়ে দিয়ে সুর করে কবিতা পড়া যায়।
  • কবিতার লাইনগুলো সাধারণত সমান দৈর্ঘ্যের হয়।
  • কবিতায় সাধারণত কোনো কাহিনি থাকে না।
  • কবিতায় সাধারণত কোনো সংলাপ থাকে না।
  • কবিতা পাঠ বা আবৃত্তি করা যায়।

সাহিত্যে কবিতার স্থান

সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মধ্যে কবিতা একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এক অর্থে বলতে গেলে কাব্য বা কবিতা ছাড়া বাংলা সাহিত্য অপূর্ণ থেকে যায়। এটি সাহিত্যের প্রাচীন শাখাগুলোর অন্যতম। তাছাড়া বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন রূপটি ছিল কাব্যধর্মী। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও কবিতার কদর একেবারে কমে যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, কবিতাবিহীন বাংলা সাহিত্যের কথা ভাবাই যায় না।

কবিতা লেখার কিছু কৌশল

সাহিত্যের অন্যান্য শাখার মতো কবিতারও কিছু নিয়ম রয়েছে। এজন্য বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করা আবশ্যক। নিচে কবিতা লেখার কিছু কৌশল উল্লেখ করা হলো-

  • কবিতা লেখার জন্য প্রথমেই বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকদের লেখা পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
  • নিজের শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
  • অর্থসংগতি বজায় রেখে বিভিন্ন ধরনের শব্দ সাজিয়ে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
  • চারপাশে ঘটমান নানা ঘটনা ও বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে এবং উপযুক্ত শব্দ দিয়ে তা পদ্যাকারে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
  • কবিতার ছাদ ও মাত্রা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. সাহিত্যের যে শাখায় কবি ভাবনার ছন্দময় প্রকাশ ঘটে, তাকে কী বলে?
উত্তর: কবিতা।

প্রশ্ন-২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন রূপ কেমন ছিল?
উত্তর: কাব্যধর্মী।

প্রশ্ন-৩. ছন্দ কী?
উত্তর: নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে থেমে থেমে বলা।

প্রশ্ন-৪. কবিতায় একই রকম উচ্চারণের শব্দকে কী বলে?
উত্তর: মিল শব্দ।

প্রশ্ন-৫. কবিতার ভাষাকে কী ভাষা বলা হয়?
উত্তর: পদ্য-ভাষা।

প্রশ্ন-৬. সাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন শাখা কোনটি?
উত্তর: কবিতা।

প্রশ্ন-৭. কী ব্যতীত সাহিত্যচর্চা অপূর্ণ থেকে যায়?
উত্তর: কবিতা।


কবিতা ০১ – মাঝি

১. ‘মাঝি’ কবিতাটি পড়ে কী বুঝতে পারলে তা নিচে লেখো।
উত্তর: ‘মাঝি’ কবিতাটিতে একটি শিশুর সরল মনের ইচ্ছের কথা প্রকাশ পেয়েছে। শিশুর বাড়ির কাছেই রয়েছে একটি নদী। সেই নদীর ওপারে সারি সারি করে নৌকা বাঁধা থাকে বাঁশের খোঁটায়। কৃষকেরা লাঙল কাঁধে করে নদী পার হয়ে যান, জেলে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরেন।

রাখাল ছেলে গরু-মহিষ সাঁতরে নিয়ে নদীর ওপারে যায়। এসব দেখে শিশুটিরও ইচ্ছা করে নদীর ওই পারে যেতে। তার ইচ্ছা হয়, সে যখন বড়ো হবে, তখন সে এই খেয়াঘাটের একজন মাঝি হবে। কেননা, তাহলেই সে নদীর অন্য পারে যেতে পারবে। নদীর অপর পারের প্রকৃতি তার মনে কৌতূহল জাগায়। সে শুনেছে, নদীর একধারে একটি জলার মতো আছে, সেখানে বর্ষা শেষে চখাচখীর সমাগম ঘটে।

পাশেই শরবনে বাসা বেঁধেছে মানিকজোড় পাখি রয়েছে কাদাখোঁচা পাখির পায়ের চিহ্ন। শিশুটি ছাদে দাঁড়িয়ে প্রায়ই তন্ময় হয়ে সেখানকার কাশবনের জোছনা দেখে। সে মনে মনে ভাবে, যখন সে খেয়াঘাটের মাঝি হবে, নদীর ঘাটে থাকা স্নানরত শিশুরা তাকে অবাক হয়ে দেখবে। সন্ধ্যা হলে সে ঘরে ফিরে আসবে, বাবার মতো বিদেশে কাজ করতে যাবে না। মায়ের কাছে শিশুটি আবেদন জানায়, সে বড়ো হয়ে খেয়াঘাটের মাঝি হবে।

২. ‘মাঝি’ কবিতাটির সঙ্গে তোমার জীবনের বা চারপাশের কোনো মিল খুঁজে পাও কি না, কিংবা কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাও কি না তা নিচে লেখো।
উত্তর: ‘মাঝি’ কবিতার সঙ্গে আমার জীবনের মিল হলো ছোটোবেলায় আমি একজন ফেরিওয়ালা হতে চাইতাম। ফেরিওয়ালা বিচিত্র ধরনের জিনিস বিক্রি করেন। যা দেখে আমার মনে হতো, তাঁদের কোনো আশ্চর্য ক্ষমতা আছে।

ফেরিওয়ালা হতে পারলে আমারও তা থাকবে। এই ধরনের বিচিত্র ইচ্ছার পাশাপাশি মাঝি’ কবিতায় যে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, আমাদের বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে মিল রয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকে অদূরেই রয়েছে একটি নদী। নদীকে ঘিরে সেখানকার মানুষের জীবন আবর্তিত হয়।

‘মাঝি’ কবিতায় সেসব পেশার মানুষের কথা বলা হয়েছে, তাঁরা সবাই আমার চারপাশেও রয়েছেন। চাষি, রাখাল, জেলে সবাই আছেন এখানে। নদীর পারে কাশবন, পাখির আনাগোনা, আর ছেলেমেয়েদের নদীর পানিতে ঝাঁপ দেওয়া আমার খুব পরিচিত একটি দৃশ্য। ‘মাঝি’ কবিতার সঙ্গে আমার চারপাশ ও লিখিত বিষয়গুলোতে আমি মিল খুঁজে পেয়েছি।


কবিতা ০২ – ময়নামতীর চর

১. ময়নামতীর চর কবিতাটি পড়ে কি বুঝতে পারলে তা নিচে লেখ।
উত্তর: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় ময়নামতীর চরকে ঘিরে যে প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় এই চরকে ঘিরে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততার চিত্র ফুটে উঠেছে। একটি মৃতপ্রায় নদীর চরে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর সহাবস্থান।

সেখানে জেগে ওঠা চরে কৃষক যেমন জমিতে চাষ করেন, তেমনি কুমিরের মতো ভয়ংকর প্রাণীরা রোদ পোহায়। গাঙচিল মাছ ধরে, মাঠে গরু চরে বেড়ায়। নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা এই নতুন চরে কেউ কেউ আবার কলাই আর আখ চাষ করেন। আখের খামার বুনো শুকরের কবল থেকে রক্ষা করতে রাত জেগে তাঁরা পাহারা দেন। বস্তুত, ময়নামতীর চর মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবুও তাদের মধ্যে কোনো কলহ নেই। রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।

২. ‘ময়নামতীর চর’ কবিতাটির সঙ্গে তোমার জীবনের বা চারপাশের কোনো মিল খুঁজে পাও কি না, কিংবা কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাও কি না, তা নিচে লেখো।
উত্তর: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতাটিতে বর্ণিত প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কর্মপ্রণালির সঙ্গে আমাদের গ্রামীণ জীবনের সাদৃশ্য খুঁজে পাই। ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় বর্ণিত দৃশ্যের মতো আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটি নদী বয়ে গেছে। আগে এটি একটি খরস্রোতা নদী থাকলেও বর্তমানে এই নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে। নদীর কিছু কিছু অংশে চর জেগে উঠেছে। বর্ষাকাল ছাড়া এই নদীতে পানি থাকে না খুব একটা।

নদীর কিনারে কৃষকেরা ধান চাষ করেন, জেগে ওঠা চরে অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়। ফসল চাষের পাশাপাশি তা একটি গো-চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নদীর চরে তরমুজ, শীতকালীন সবজি ও গ্রীষ্মকালীন অন্যান্য সবজি চাষ করা হয়। চাষ করা ফসল বন্য প্রাণী ও ইঁদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে ঠকঠকির ব্যবহার করা হয়। ঠকঠকি হলো এক ধরনের ঘণ্টা, যা দূর থেকে সুতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ময়নামতীর চর’ কবিতায় বর্ণিত প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে আমাদের এলাকার শান্ত নদীর চারপাশের মিল খুঁজে পাই আমি।


কবিতা ০৩ – নোলক

১. ‘নোলক’ কবিতাটি পড়ে কী বুঝতে পারলে তা নিচে লেখো।
উত্তর: ‘নোলক’ ‘কবিতায় মা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা মায়ের নোলক রূপকের মাধ্যমে ফুঠে উঠেছে। কবি এ দেশের হারানো ঐতিহ্য খুঁজতে বের হয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের ঐশ্বর্য খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমেই এসেছে এদেশের নদীর কথা।

নদী তার সমৃদ্ধির উদাহরণ দিয়েছে বোয়াল মাছের প্রাচুর্যকে সামনে এনে। নদীর মনোহর প্রকৃতি ও সমৃদ্ধতার মাঝেও সেই ঐতিহ্য খুঁজে না পেয়ে কবি যখন বনের দিকে গেলেন, তখন তাঁর সঙ্গে দেখা হলো সবুজ টিয়ের। বাংলার পাখপাখালির রূপ অদ্বিতীয় হলেও সেখানেও তিনি তাঁর মায়ের গয়না খুঁজে পাননি। আবার যখন পাহাড়ের কাছে গেলেন, তখন পাহাড়ও তার ভান্ডার থেকে কিছু সামগ্রী কবিকে দিতে চাইল। কিন্তু সেখানেও মায়ের সোনার নোলক খুঁজে না পেয়ে কবির মনে এক ধরনের জেদ সঞ্চারিত হলো, জন্ম নিল মায়ের গয়না ছাড়া ঘরে না ফেরার প্রত্যয়।

২. ‘নোলক’ কবিতাটির সঙ্গে তোমার জীবনের বা চারপাশের কোনো মিল খুঁজে পাও কি না, কিংবা কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাও কি না, তা নিচে লেখো।
উত্তর: ‘নোলক’ কবিতাটির প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে আমার চারপাশের অনেক মিল খুঁজে পাই। ‘নোলক’ কবিতায় কবি যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন, তা নৈসর্গিক। তিতাস নদীর বোয়াল মাছ, সাদা পালকের বক, বনের হরিৎ টিয়ে, বুনোফুল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পাহাড়ের রূপ ফুটে উঠেছে ‘নোলক’ কবিতায়।

ঠিক তেমনই আমার গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মধুমতী নদী। যার স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অকল্পনীয়। নদীর দুপারে ফসলের খেত। স্বচ্ছ জলে মাছের বিচরণ। বালুময় নদীতট রোদের আলোয় করে ঝিকমিক। দিনজুড়ে হাঁসেরা সেই নদীতে জলকেলি করে; যা অনিন্দ্য সুন্দর করে তোলে আমার গ্রামের পরিবেশকে। ‘নোলক’ কবিতার তিতাস নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ আর আমার গ্রামের পাশে বয়ে চলা মধুমতী নদী যেন অপার সৌন্দর্যের প্রতীক।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ০১: ‘মাঝি’ কবিতাটি পড়ে বুঝে নিয়ে দুটি দলে ভাগ হও। এরপর কবিতাটি কেমন বুঝতে পেরেছ তা যাচাই করার জন্য একদল আরেক দলকে নিচের প্রশ্নগুলো করো এবং উত্তর দাও।
ক. ‘মাঝি” কবিতায় কবির কোথায় যেতে ইচ্ছা করে।
উত্তর: মাঝি’ কবিতায় কবির নদীর ওপারে যেতে ইচ্ছা করে।

খ. নদীর ওপারে কী আছে?
উত্তর: নদীর ওপারে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ডিঙি নৌকা সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে। কিষানেরা লাঙল কাঁধে করে নদী পার হন, জেলে নদীতে জাল টেনে মাছ ধরেন। গরু-মহিষ সাঁতরে নিয়ে নদী পার হয় রাখাল। নদীর ওপারে দিনের বেলা মানুষের কোলাহল থাকলেও রাতের বেলা শিয়াল ডাকে ঝাউঘেরা ডাঙায়।

কবি শুনেছেন, সেই ঝাউডাঙার ভেতরে জলাভূমি আছে, যেখানে চখাচখী পাখির আসর বসে। সেখানকার শরবনে মানিকজোড় পাখির বাসা রয়েছে, আর কাদায় লেপ্টে আছে কাদাখোঁচা পাখির বিচরণের চিহ্ন। সন্ধেবেলা ঘরের ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে কবি খেয়াল করেছেন, নদীর ওপারের সাদা কাশবন, যেখানে জোছনা ছড়িয়ে পড়ে।

গ. এ কবিতায় কোন বিষয়টি প্রধান হয়ে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: গ্রামবাংলার ছবি এবং কবির অন্তরের ইচ্ছা।

ঘ. বড়ো হয়ে কবি কী হতে চান এবং কেন?
উত্তর: বড়ো হয়ে কবি মাঝি হতে চান। মাঝি হয়ে তিনি এপার- ওপার নৌকা পারাপার করবেন। তার নৌকা পারাপারের দৃশ্য দেখবে স্নানরত পাড়ার ছেলেমেয়েরা। খেয়া পারাপার শেষে কবি দুপুরবেলায় ঘরে ফিরে মায়ের কাছে খাবার চাইবেন। সন্ধেবেলাও কবি ঠিকমতো ঘরে ফিরবেন। কবি সবসময় মায়ের আশপাশেই থাকতে চান; বাবার মতো কখনো বিদেশ-বিভুঁইয়ে পড়ে থাকতে চান না। তাই মা যদি রাজি থাকেন, তাহলে কবি বড়ো হয়ে খেয়াঘাটের মাঝি হতে চান।

ঙ. এই কবিতায় কবির সবচেয়ে ভালোবাসা কার প্রতি প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: মা ও মাতৃভূমির প্রতি।

প্রশ্ন ০২: কোনো লেখাকে কবিতা বলতে হলে তাতে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়?
উত্তর: ক = কথা; বি= বিন্যাস; তা = তাল। মানুষের মনের কথা, ভালোবাসা, সুখ-দুঃখ, দেশের কথা প্রভৃতি যখন ছন্দে ছন্দে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে কবিতা বলে। যেসব বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যাবে এটি কবিতা, তা নিম্নরূপ-
• কবিতার বাক্যগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে।
• কবিতায় ছোটো ছোটো অংশ থাকে, যাকে স্তবক বলে।

• কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ছন্দ’। ছন্দই কবিতাকে প্রাথমিক পরিচয় দান করে।
• যতিচিহ্ন আর শব্দের বিন্যাস কবিতার ছন্দকে সংজ্ঞায়িত করে।
• সাধারণত পরপর দুই লাইনের শেষে মিল-শব্দ থাকে।
• কবিতায় শব্দ রূপের পরিবর্তন হয়।
• তাল রেখে পড়ার ব্যাপারটি কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

প্রশ্ন ০৩: তোমাদের মধ্যে কেউ কি নিজে থেকে কবিতা লিখেছ কখনো? লিখে থাকলে সে কবিতা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: একবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আমাদের বিদ্যালয় থেকে ছয় পৃষ্ঠার একটি ভাঁজপত্র প্রকাশ করা হয়। যেখানে আমি প্রথমবারের মতো একটি কবিতা লিখেছিলাম। আমার কবিতাটির শিরোনাম ছিল আমার মা’। আমার মা সম্পর্কে লিখেছিলাম কবিতাটি।

প্রশ্ন ০৪: ‘মাঝি’ কবিতাটির মূলভাব লেখো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মাঝি’ কবিতায় শিশুমনের স্বভাবসুলভ কৌতূহল ও বড়ো হয়ে একজন মাঝি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। শিশুটির বাড়ির কাছেই রয়েছে একটি নদী, এই নদীর পারে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকে, জেলেরা মাছ ধরেন, রাখাল ছেলে গরু-মহিষ ওপারে সাঁতরে নিয়ে যায়, কৃষকেরা লাঙল কাঁধে নিয়ে নদী পাড়ি দেন। নদীটির কাছেই একটি ঝাউডাঙা আছে, যেখানে অসংখ্য পাখির সমাগম ঘটে। দূর থেকে এই জীবনের গতিচাঞ্চল্য দেখে ছেলেটির ইচ্ছা হয় সে একদিন ওই নদীর খেয়াঘাটের একজন মাঝি হবে। এই গল্প মাকে বলার সময় সে মায়ের সম্মতি আশা করে।

প্রশ্ন ০৫: ‘মাঝি’ কবিতাটিকে গদ্যে রূপান্তর করে লেখো।
উত্তর: নদীর ওই পাড়ে নৌকাগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো। যেখানে কৃষকেরা লাঙল কাঁধে নিয়ে নদী পাড়ি দেন, রাখালেরা গরুগুলোকে সাঁতরে ওপারে নিয়ে যায়। ঝাউডাঙায় রাতদুপুরে শিয়াল ডেকে ওঠে, সেখানে এক বালকের যেতে ইচ্ছা করে। সে চায় তার মা রাজি থাকলে বড়ো হয়ে সে একজন মাঝি হবে।

ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে সে নদীর ধারে কাশবনের জোছনা দেখে। সে শুনেছে বর্ষার পরে ওই নদীর পাড়ে অনেক পাখির আগমন ঘটে। সব মিলিয়ে নদীটি যেন এক অপার রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। তাই ছেলেটি বাবার মতো বিদেশে না গিয়ে খেয়াঘাটের মাঝি হতে চায়। কর্মক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে মায়ের হাতের খাবার খেতে চায়। এজন্য সে বারবার তার মাকে বলে, মা রাজি থাকলে একদিন সে খেয়াঘাটের মাঝি হবে।

প্রশ্ন ০৬: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতাটি পড়ে বুঝে নিয়ে দুটি দলে ভাগ হও। এরপর কবিতাটি কেমন বুঝতে পেরেছ তা যাচাই করার জন্য একদল আরেক দলকে নিচের প্রশ্নগুলো করো এবং উত্তর দাও।
ক. ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় কবি কীসের বর্ণনা দিয়েছেন?
উত্তর: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় কবি একটি নদীর চরের বর্ণনা দিয়েছেন।

খ. এ কবিতার প্রধান বিষয় কী?
উত্তর: এ কবিতার প্রধান বিষয় ময়নামতী চরের প্রাত্যহিক চিত্র ও জীবনযাত্রার ছবি।

গ. এ কবিতায় কী কী প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে?
উত্তর: এ কবিতায় কুমির, খরশুলা ও দাঁড়িকানা মাছ, গাঙচিল, গরু, উকুন, বক, শালিক, বরাহ প্রভৃতি পশুপাখি ও প্রাণীর উল্লেখ রয়েছে।

ঘ. আখের খেত পাহারা দিতে চাষিরা কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন?
উত্তর: আখের খেত পাহারা দিতে গিয়ে চাষিরা খেতের কোনায় বাঁশ পুঁতে ঘর তৈরি করেছেন। ঘরের ভেতরে বাঁশের বাখারির ওপর বিচালির শয্যা বানিয়েছেন। তীব্র শীতের মধ্যেও মাঠের মাঝখানে আগুনের মশাল জ্বালিয়ে হাত দিয়ে তালি বাজিয়ে খেত পাহারা দেন। যাতে রাতের বেলা পদ্মার ওপার থেকে শূকর এসে আখের খেত নষ্ট না করে।

প্রশ্ন ০৭: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় ফুটে ওঠা কবির মনোভাব ব্যক্ত করো।
উত্তর: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতার কবি বন্দে আলী মিয়া। এ কবিতায় তিনি একটি চরের জীবনযাত্রার ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতিতে জীবন থাকে শান্ত ও সুস্থির। সেখানে কোলাহল নেই, নগরের যান্ত্রিকতা নেই রয়েছে জীবনের নির্বিঘ্ন বহমানতা। কবি তাঁর কবিতায় জীবনের এই বহমানতার মনোভাবটিই ফুটিয়ে তুলেছেন।

প্রশ্ন ০৮: পাঠ্যবই থেকে ‘ময়নামতীর চর’ কবিতাটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. তুমি কি কখনো চর দেখেছ? তোমার দেখা চরটি কেমন? না দেখলে, চর বলতে তোমার মনে কী ধরনের চিত্র ভাসে?
উত্তর: হ্যাঁ, আমি চর দেখেছি। দীর্ঘদিন পলি জমে নদীর বাঁকে বা নদীর মধ্যবর্তী কোনো স্থানে চর জেগে ওঠে। চরের মাটিতে অনেক ফসল ফলতে দেখেছি। আমার দেখা চরটিতে তরমুজ চাষ হতে দেখেছি। চরের মাটি অনেক উর্বর হয়। কখনো কখনো চরের মালিকানা নিয়ে মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ হতেও শুনেছি।

খ. কবির মতো তুমিও কি কখনো চারপাশের পরিবেশ ও জীবনযাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছ? যদি করে থাকো, তবে সে পর্যবেক্ষণে তুমি কী কী দেখেছ?
উত্তর: মাঝে মাঝে আমি আমার চারপাশের পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি। একবার আমরা লঞ্চে করে বরিশালে যাচ্ছিলাম। সেখানে যাত্রীদের কার্যকলাপ ও লঞ্চের কর্মীদের জীবনযাত্রা আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। একটি লঞ্চে কীভাবে টিকিট কাটা হয়, কে কোথায় বসেন, কোন মানুষকে বেশি চিন্তিত লাগছে, কাকে দেখে প্রশান্ত মনে হচ্ছে ইত্যাদি বিষয় পর্যবেক্ষণ করে দেখেছিলাম।

গ. নদীর চরে কী ধরনের ফসলের আবাদ হয়? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: নদীর চরে প্রায় সব ধরনের ফসলই আবাদ করা যায়। নদীর চরে সাধারণত ধান, গম, টমেটো, বাঁধাকপি, তরমুজ ইত্যাদি ফসলের আবাদ হয়। অনেক সময় ভূমিহীন কৃষকেরা নদীর চরে আবাদ করেন। সাধারণত বর্ষাকালের শেষে নদীর চরে আবাদ শুরু হয়।

প্রশ্ন ০৯: ‘ময়নামতীর চর’ কবিতাটিকে গদ্যে রূপান্তর করো।
উত্তর: নদীর পানি কমে আগাছায় ভরে গেছে। নদীর এক পাশে বুনো ঝাউ আর অপর পাশে একটি বুড়ো বটগাছ রয়েছে। নদীতট থেকে একটু উঁচু পাড়ে কৃষক লাঙল দিয়ে চাষবাস করছেন, কাছেই কিছু কুমির শুয়ে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে। নদীতে মাছের অভাব নেই। গাঙচিল সেখান থেকে মাছ ধরছে।

একটু দূরে একপাল গরু চরে বেড়াচ্ছে। সেগুলোর কোনো কোনোটি জাবর কাটছে শুয়ে শুয়ে। সেখানে ভিড় করেছে কিছু গোচর পাখি। নদীর চরে কেউ আখের খামার করছে, কেউ কলাই চাষ করছে, বুনো শূকরের কবল থেকে ফসল বাঁচাতে রাতভর পাহারা দেয় খড়ের মশাল জ্বেলে আর ঠকঠকি নেড়ে শব্দ করে।

প্রশ্ন ১০: ‘নোলক’ কবিতাটি পড়ে বুঝে নিয়ে দুটি দলে ভাগ হও। এরপর কবিতাটি কেমন বুঝতে পেরেছ তা যাচাই করার জন্য একদল আরেক দলকে নিচের প্রশ্নগুলো করো এবং উত্তর দাও।
ক. ‘নোলক’ কবিতার মূলভাব কী?
উত্তর: ‘নোলক’ কবিতার মূলভাব মা ও মাতৃভূমির প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা।

খ. ‘মায়ের সোনার নোলক’ কবি কোথায় খুঁজে বেড়ান?
উত্তর: ‘মায়ের সোনার নোলক’ কবি সারা বাংলাদেশে খুঁজে বেড়ান।

গ. এ কবিতায় বাংলাদেশের কোন নিসর্গ-প্রকৃতির বর্ণনা আছে?
উত্তর: এ কবিতায় বাংলাদেশের নদীনালা, সবুজ বন, পাখপাখালি, পাহাড়, আকাশ ও অন্ধকার রাতের বর্ণনা রয়েছে।

ঘ. নোলক বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: নোলক বলতে লেখক মায়ের প্রিয় জিনিসকে বুঝিয়েছেন। দেশকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হলে হারানো ঐতিহ্যকে নোলকের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

ঙ. কবি মায়ের গয়না ছাড়া ঘরে ফিরে যেতে চান না কেন?
উত্তর: নোলক বা গয়না মায়ের অতি প্রিয় বস্তু। সেটা হারিয়ে গেছে, তাই মায়ের মুখ আজ অলংকারহীন, মলিন। কবির দায়িত্ব হচ্ছে, মায়ের সেই হারিয়ে যাওয়া অলংকার খুঁজে বের করা। কারণ, মায়ের মুখের লাবণ্য ও মাকে খুশি করার জন্য গয়না খুব প্রয়োজন। তাই কবি গয়না ছাড়া ঘরে ফিরে যেতে চান না।

প্রশ্ন-১১: ‘নোলক’ কবিতায় ফুটে ওঠা কবির মনোভাব ব্যক্ত করো।
উত্তর: ‘নোলক’ কবিতায় কবি আল মাহমুদ বাংলার হারানো ঐতিহ্যকে খুঁজে পেতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে ঐতিহ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে কবি বাংলার প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। মূলত কবি বোঝাতে চেয়েছেন বাংলার কিছু ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধি এখনো অটুট। এর মাধ্যমে দেশের প্রতি কবির অনুরাগ ও ভালোবাসার মনোভাবই ফুটে উঠেছে।

প্ৰশ্ন ১২: ‘নোলক’ কবিতায় কবি কী খুঁজে ফিরছেন?
উত্তর: ‘নোলক’ কবিতায় নোলকের রূপকে কৰি খুঁজে চলেছেন বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে। অতীতকালে আমাদের যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয়তাবোধ ছিল, তা যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের সংস্কৃতিও প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও কিছু চিরাচরিত মূল্যবোধ লুপ্তপ্রায়। এ কবিতায় কবি সেই হারানো ঐতিহ্যকেই খুঁজে ফিরেছেন।

প্রশ্ন ১৩: পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত ‘নোলক’ কবিতাটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. তোমার পছন্দের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে গেলে তুমি কী করবে?
উত্তর: আমার পছন্দের কোনো জিনিস হারিয়ে গেলে আমি তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। প্রথমে যেসব জায়গায় জিনিসটি হারাতে পারে, সেসব জায়গায় খোঁজ নেব। কেউ সেটা দেখেছে কি না, জানতে চাইব। খুব মূল্যবান কিছু হলে পুলিশের সাহায্য নেব। আর একেবারে যদি খুঁজে না পাওয়া যায় তবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেব।

খ. আমাদের কোন কোন ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে তুমি মনে করো? সেগুলো ফিরিয়ে আনা কেন গুরুত্বপূর্ণ? যদি তাই মনে করো, তবে এ ব্যাপরে কী করা যেতে পারে?
উত্তর: প্রযুক্তির উৎকর্ষের ভিড়ে বর্তমানে আমাদের অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এমন কিছু ঐতিহ্যবাহী জিনিস হলো: পালকি, হারিকেন, ঢেঁকি ইত্যাদি। এসব ব্যবহারিক উপকরণের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা যেমন ডাংগুলি, কানামাছি ইত্যাদি হারিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গরুর গাড়ি, বসার পিড়ি, নকশিকাঁথা ও কৃষকের মাথাল। বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলেও আমাদের মন থেকে যেন একেবারে মুছে না যায়, সেজন্য এসব ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা উচিত। এ ব্যাপারে ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন-১৪ কবিতা কী? কবিতা লেখার ৫টি কৌশল উল্লেখ করো।
উত্তর: সাহিত্যের যে শাখায় কবি-ভাবনার ছন্দময় প্রকাশ ঘটে, তা-ই কবিতা। এটি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান শাখা। নিচে কবিতা লেখার কয়েকটি কৌশল উল্লেখ করা হলো-

• কবিতা লেখার জন্য প্রথমেই বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকের লেখা পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
• নিজের শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
• অর্থসংগতি বজায় রেখে বিভিন্ন ধরনের শব্দ সাজিয়ে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
• চারপাশে ঘটমান নানা ঘটনা ও বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে এবং উপযুক্ত শব্দ দিয়ে তা পদ্য আকারে লেখার অভ্যাস করতে হবে।
• কবিতার ছন্দ ও মাত্রা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – প্রায়োগিক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – বিবরণমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – তথ্যমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – বিশ্লেষণমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – কল্পনানির্ভর লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: গান


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।