|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – কল্পনানির্ভর লেখা

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ: আমরা এমন কিছু কাহিনি শুনি বা পড়ি, যা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। এসব কাহিনি বা ঘটনায় কিছু চরিত্র বাস্তবে থাকে না। আবার কিছু ঘটনা বাস্তবে ঘটেও না। এসব কাহিনি কল্পনা করে লেখা হয়। এ জাতীয় লেখাকে কল্পনানির্ভর লেখা বলে।

কল্পনানির্ভর লেখা পড়ে আমরা নিছক আনন্দ পাই। আবার এ থেকে অনেক কিছু জানাও যায়। ‘সাত ভাই চম্পা’ গল্পে কল্পনার আশ্রয়ে এমনই একটি কাহিনি। বর্ণিত হয়েছে। এই গল্পটি পড়ে আমরা যেমন আনন্দ পেয়েছি তেমনি এটাও জেনেছি যে, হিংসা করা ভালো নয়।


লেখক সম্পর্কে জেনে নাও

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় লেখক। তাঁর জন্ম ১৯৫২ সালে। তিনি কিশোর উপযোগী প্রচুর সংখ্যক গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, যেমন: ‘দীপু নাম্বার টু’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ইত্যাদি। তাঁর লেখা বইয়ের একটা বড়ো অংশ জুড়ে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি; যেমন: ‘কপোট্রনিক সুখ দুঃখ”, “ত্রিনিত্রি রাশিমালা’, ‘প্রজেক্ট নেবুলা’ ইত্যাদি।

মূলভাব

অনেক গল্পে বাস্তব জীবনের ঘটনার বর্ণনা থাকে। আবার এমন কিছু আছে যেগুলো বাস্তবের ঘটনার সঙ্গে মেলে না। এগুলোকে গল্প বা কল্পকাহিনি বলে। তার মানে, বাস্তব জগতে বাস করেও গল্পকাররা কল্পনার জগৎ তৈরি করতে পারেন। বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে লেখা এমন কাল্পনিক গল্পকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বলে।

এসব কাহিনিতে থাকে মহাকাশের কাল্পনিক প্রাণী, তাদের যাতায়াতের জন্য থাকে ফ্লাইং সসার, মানুষের মতো আচরণকারী রোবট ইত্যাদি। তাছাড়া এমন কিছু বিষয় থাকে যা বিজ্ঞান হয়তো এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি, কিন্তু লেখকেরা সেই বিষয়কেও গল্পে নিয়ে আসেন। ‘আমড়া ও ক্লাব নেবুলা’ এমনই একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।

পাঠ বিশ্লেষণ

পাঠের উদ্দেশ্য: শিক্ষার্থীদের কল্পনানির্ভর লেখা পড়তে, বুঝতে ও লিখতে পারদর্শী করে তোলা ।
নামকরণ: পরিচ্ছেদটি পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কল্পনানির্ভর লেখা সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। এ পরিচ্ছেদে কল্পকাহিনির নমুনা হিসেবে ভিন্ন গ্রহের কল্পিত প্রাণীদের নিয়ে একটি গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। যাদের গ্রহের নাম ক্র্যাব নেবুলা এবং সেটি আমড়ার আঁটির মতো দেখতে। সে বিবেচনায় রচনাটির নাম ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ রাখা সার্থক হয়েছে।
রূপশ্রেণি: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।


কল্পকাহিনি

কল্পকাহিনি বা কল্প সাহিত্য বলতে শিল্প-সাহিত্যের এমন এক শাখাকে বোঝায় যেখানে সাহিত্য রচয়িতার কল্পনা থেকে সৃষ্ট কাহিনি বা গল্প লিখিত হয়, বাস্তব ঘটনা বা ইতিহাস নয়। কল্পকাহিনিকে শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। যেমন: সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, অ্যানিমেশন, ভিডিও গেম ইত্যাদি। কল্পকাহিনি সৃজনশীল লেখা বলে এর ঘটনা বাস্তবসম্মত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

কল্পকাহিনির বৈশিষ্ট্য

কল্পকাহিনির বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলো-

  • কল্পকাহিনির অনেক ঘটনার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল থাকে না।
  • কল্পকাহিনি শুনতে বা পড়তে ভালো লাগে।
  • কল্পকাহিনিতে অনেক কাল্পনিক চরিত্র থাকে যেগুলো বাস্তবে দেখা যায় না।
  • কল্পকাহিনিতে বিভিন্ন অবাস্তব ধারণা বর্ণনা করা থাকে।

কল্পকাহিনি লেখার কৌশল

কল্পকাহিনি লেখার বেশকিছু কৌশল রয়েছে। সেগুলো হলো—

  • যে বিষয়ে কল্পকাহিনি লিখতে ইচ্ছুক সেই বিষয়ে ভালো ধারণা লাভ করা।
  • বাস্তবে দেখা যায় না বা অস্তিত্ব নেই এমন চরিত্র সৃষ্টি করা।
  • লেখায় নাটকীয়তার দিকে খেয়াল রাখা।
  • কাদের জন্য লেখা হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখা।
  • লেখা সহজ ও সাবলীল করা।

কল্পকাহিনির শ্রেণিবিভাগ

কল্পকাহিনি নিম্নলিখিত শ্রেণির হতে পারে। সেগুলো হলো- ১. রূপকথা; ২. উপকথা; ৩. বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি এছাড়াও গল্প, উপন্যাস, পৌরাণিক ঘটনা, মহাকাব্য, নাটক, কমিকস ইত্যাদি কল্পকাহিনির অন্তর্ভুক্ত।

১. রূপকথা: মানুষের পাশাপাশি ভূত-পেতনি, ডাইনি-পরি, রাক্ষস-খোক্ষস, দৈত্য-দানো ইত্যাদি কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে যে গল্প বলা বা লেখা হয়, তাকে রূপকথা বলে। শিশুদের মনে আনন্দ জাগিয়ে তুলতেই এসব গল্প বলা বা লেখা হয়। ‘তোতাকাহিনি’, ‘সুয়োরানির সাধ’, ‘ডালিমকুমার’, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ প্রভৃতি রূপকথার গল্পের বই।

২. উপকথা: যে সকল সাহিত্যে পশু-পাখি, গাছ, জড়বস্তু প্রভৃতি মানুষের মতো কথা বলে বা আচরণ করে, তাকে উপকথা বলে। এ ধরনের সাহিত্যের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়। ঈশপের গল্প’, ‘ক্ষীরের পুতুল’, ‘টুনটুনি আর রাজার কথা’ প্রভৃতি উপকথা- বিষয়ক বই।

৩. বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি: বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে রচিত কাল্পনিক গল্পকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বলে। এ ধরনের গল্পে বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়। ‘প্রফেসর শঙ্কু’, ‘প্রফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা”, “মিছির আলী’, ‘নীল মানুষ’, ‘সবুজ মানুষ’ প্রভৃতি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমূলক বই।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. সাহিত্য রচয়িতার কল্পনা থেকে সৃষ্ট কাহিনি বা গল্পকে কী বলে?
উত্তর: কল্পকাহিনি।

প্রশ্ন-২. কোন ধরনের সাহিত্যে অনেক কাল্পনিক চরিত্র থাকে যেগুলো বাস্তবে দেখা যায় না?
উত্তর: কল্পকাহিনিতে।

প্রশ্ন-৩. বিভিন্ন অলৌকিক ধারণা বর্ণনা করা থাকে কোন ধরনের সাহিত্যে?
উত্তর: কল্পকাহিনিতে।

প্রশ্ন-৪. মানুষের পাশাপাশি ভূত-পেতনি, ডাইনি-পরি, রাক্ষস-খোক্ষস, দৈত্য-দানো ইত্যাদি কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে যে গল্প বলা বা লেখা হয়, তাকে কী বলে?
উত্তর: রূপকথা।

প্রশ্ন-৫. যে ধরনের সাহিত্যে পশু-পাখি, গাছ, জড়বস্তু প্রভৃতি মানুষের মতো কথা বলে, আচরণ করে তাকে কী বলে?
উত্তর: উপকথা।

প্রশ্ন-৬. বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে রচিত কাল্পনিক গল্পকে কী বলে?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি।

প্রশ্ন-৭. বৈজ্ঞানিক যুক্তি, তত্ত্ব ব্যবহার করা হয় কোন ধরনের গল্পে?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে।

প্রশ্ন-৮. কোন ধরনের সাহিত্যের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়?
উত্তর: উপকথা।


শিখন অভিজ্ঞতা ১৩: কল্পনানির্ভর লেখা

ক. বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি’ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণাকে কেন্দ্র করে লেখা কাল্পনিক গল্পকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি’ বলে।

খ. আগে আর কোন ধরনের কল্পকাহিনি তুমি পড়েছ?
উত্তর: এর আগে আমি রূপকথা, পশুপাখির কাহিনি, দৈত্যদানবের কাহিনি জাতীয় কল্পকাহিনি পড়েছি।

গ. ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পের কোন কোন ঘটনা কাল্পনিক?
উত্তর: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পে রঞ্জুর বলা ভালুক ও ময়ূরের ঘটনা, মহাকাশের আগন্তুকের ঘটনা, ফ্লাইং সসার থেকে বিদঘুটে প্রাণীর লেজারগান দিয়ে গুলি করার ঘটনা, রোবটের ঘটনা এবং ছাদে-আসা ফ্লাইং সসার ও কাঠির মতো মানুষদের ঘটনাগুলো কাল্পনিক।

ঘ. এই গল্পের কোন কোন ঘটনা বাস্তব?
উত্তর: এই গল্পে রঞ্জুর আব্বা, আম্মা ও বোন শিউলির সঙ্গে যেসব ঘটনা ঘটে তা বাস্তবের ঘটনা। যেমন রঞ্জুর বাবা-মার সঙ্গে ঘুমানো, শিউলির সঙ্গে একঘরে শুতে দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথোপকথন, রঞ্জুর চমৎকার চমৎকার গল্পফাঁদা, দোয়াত ভেঙে যাওয়ার ঘটনা, শিউলিকে দেওয়া রঞ্জুর হাতের আমড়া ইত্যাদি।

ঙ. রূপকথার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মিল-অমিল কোথায়?
উত্তর: রূপকথা ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির প্রধান মিল হচ্ছে দুটিই কল্পিত। রূপকথার কাহিনিতে থাকে লোকমুখে প্রচলিত নানা চরিত্রের গল্প। যেমন, রাজা-রানি, ড্রাগন, রাক্ষস-খোক্কস, পরি, মৎস্যকন্যা, ডাইনি ইত্যাদির গল্প; অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে থাকে উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা কাহিনি ও চরিত্রের গল্প। যেমন— মহাকাশ অনুসন্ধান, সময়-ভ্রমণ, মহাবিশ্বের জীবন, রোবট, ফ্লাইং সসার ইত্যাদির গল্প । রূপকথা অনেকের সৃষ্টি, কিন্তু বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ব্যক্তিবিশেষের সৃষ্টি।


প্রশ্ন. ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি নিজের ভাষায় বলো এবং নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পের মূল চরিত্র রঞ্জু। রঞ্জু একজন সমৃদ্ধ কল্পনাশক্তির অধিকারী বালক। সে প্রচুর বানিয়ে গল্প বলে ও ধীরে ধীরে তার এ প্রবণতা বাড়তেই থাকে। সবচেয়ে বেশি বেড়ে যায় যখন সে সায়েন্স ফিকশন পড়া শুরু করে। রঞ্জুর গল্পগুলোর সবচেয়ে মনোযোগী শ্রোতা তার বড়ো বোন শিউলি। একদিন রঞ্জু শিউলিকে বলল, সে নাকি একটি রোবটের দেখা পেয়েছে।

সেই রোবট নাকি স্বরে কথা বলে, তার মাথার দুই পাশ থেকে আলো বের হয় এবং তার চোখগুলো সবুজ। রোবটটি নাকি রঞ্জুর কাছে সাহায্যও চেয়েছে, তা হলো রঞ্জু যাতে রোবটের জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়। রোবট রঞ্জুকে বলেছে, তাদের যখন খিদে পায় তখন তাদের মোটা মোটা ডি সাইজের ব্যাটারি খেতে হয়। রঞ্জু তখন রোবটের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকে দুই ডজন ব্যাটারি কিনে দিলো এবং রোবট সেগুলো কচকচ করে খেয়ে ফেলল।

উপকারের বিনিময়ে রোবটটি রঞ্জুকে তেঁতুলের বিচি সদৃশ কিছু দিলো, যেগুলো থেকে গাছ হয় এবং সেই গাছ থেকে ক্যানসারের ওষুধ আবিষ্কার করা যায়। শিউলি মনোযোগ দিয়ে শুনলেও এর কিছুই বিশ্বাস করেনি। একদিন রঞ্জু মায়ের বকা খেয়ে মন খারাপ করে ছাদে গিয়ে বসল।

হঠাৎ দেখল একটি ছোটো মহাকাশযান এসে ছাদে নেমেছে। সেখান থেকে মানুষের মতো- দেখতে একটি প্রাণী বের হয়ে আসল। সে দিব্যি বাংলায় কথা বলতে পারে। তাদের, মহাকাশযানের ফুয়েল ট্যাংকে একটি লিকেজ দেখা দেওয়ায় সে রঞ্জুর কাছে সাহায্য চাইতে এসেছে। রঞ্জুর কাছে থাকা চুইংগাম দিয়ে সে তার মহাকাশযানের লিকেজ ঠিক করে নিলো। এবার তারা তাদের বাসস্থান ব্র্যাব নেবুলাতে ফিরে যেতে পারবে।

ফিরে যাওয়ার সময় অদ্ভুত সেই প্রাণী রঞ্জুকে একটি আমড়া উপহার দিলো। আমড়ার আঁটি দেখতে ক্র্যাব নেবুলার মতোই। রঞ্জু এবার আর শিউলিকে পুরো কাহিনি বলার উৎসাহ পেল না। শিউলি যখন তাকে জিজ্ঞেস করল সে আমড়া, কোথায় পেয়েছে, রঞ্জু জবাব দিলো, “সবাই যেখানে পায় সেখানেই পেয়েছি!”।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ০১: সায়েন্স ফিকশন কী? ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি পড়ে সায়েন্স ফিকশন সম্পর্কে তুমি যা জানতে পেরেছ তা লেখো।
উত্তর: সায়েন্স ফিকশন হলো কথা সাহিত্যের একটি আলাদা ধারা। এটি মূলত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কেমন কীরূপ উন্নতি হতে পারে এবং তা মানুষের জীবনযাত্রায় কেমন প্রভাব ফেলবে তার কল্পিত ধারণা নিয়ে এক ধরনের কল্পনানির্ভর লেখা। আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি পড়ে আমি জানতে পেরেছি যে, ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা হয়তো এতটাই উন্নত হবে, সেখানে এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে সহজেই যাওয়া যাবে। রাস্তায় রোবটের চলাফেরা হয়তো খুব স্বাভাবিক একটি দৃশ্য হবে।

প্রশ্ন ০২: ব্ল্যাকহোল কী? ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে যা জান লেখো।
উত্তর: ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণ গহ্বর হলো মহাবিশ্বের এমন কিছু জায়গা, যার মহাকর্ষ বল অনেক বেশি। মহাকাশে রয়েছে অনেক নক্ষত্র। এর মধ্যে বড়ো নক্ষত্র সমূহ জীবদ্দশার শেষ পর্যায়ে এসে বিস্ফোরিত হয়। একে সুপারনোভা বলে।

সুপারনোভা দ্বারা কোনো নক্ষত্রের কেন্দ্র বিলুপ্ত হয়। যে নক্ষত্রের কেন্দ্রের ঘনত্ব বেশি থাকে তারা সুপারনোভার পর ব্ল্যাকহোলে রূপান্তরিত হয়। ব্ল্যাকহোলে মহাকর্শ শক্তি এতটাই বেশি যে, এর মধ্যে আলো প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না।

প্রশ্ন ০৩: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি পড়ার আগে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি সম্পর্কে তুমি কী জানতে? তোমার জানা বিষয়টি কেমন ছিল তা সংক্ষেপে তুলে ধরো।
উত্তর: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি পড়ার আগে আমি যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো পড়েছি তাতে মহাকাশের প্রাণীদের নিষ্ঠুরভাবে দেখানো হয়েছিল।

আবার অন্য একটি গল্পে পড়েছিলাম যে টাইম ট্রাভেল করে ডায়নোসরের সময়ে ফিরে গেছে মানুষ। সেখানেও মানুষ ডায়নোসরদের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিল। ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি পড়ে আমার মনে হয়েছে যে নিষ্ঠুর কাহিনি ছাড়াও সায়েন্স ফিকশন হতে পারে, যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবার কল্যাণ হয়।

প্রশ্ন ০৪: কল্পনানির্ভর লেখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়?
উত্তর: কল্পনানির্ভর লেখার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হয় তা নিম্নরূপ:
→ কোন বিষয়ে লিখব;
→ লেখাটি মৌলিক কি না;
→ কোন ধরনের পাঠকের জন্য লিখব;
→ সৃজনশীলতা প্রয়োগ করতে পারছি কি না ইত্যাদি।

প্রশ্ন ০৫: তোমাকে একটি কল্পনানির্ভর লেখা লিখতে দিলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় রাখবে?
উত্তর: আমাকে একটি কল্পনানির্ভর লেখা লিখতে হলে প্রথমেই বিবেচনায় আনব লেখাটি কল্পনাকে আশ্রয় করে লিখিত হচ্ছে কি না, যা বাস্তব ঘটনাগুলোর চেয়ে আলাদা। এরপর আমাকে গল্প নির্মাণ করতে হবে। চরিত্র সংযোজন করে সংলাপ বানাতে হবে। এর পাশাপাশি আমাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, আমার গল্পের পাঠক কারা। এইসর্ব দিক বিবেচনায় রেখে আমি একটি কল্পনানির্ভর লেখা লিখতে পারব।

প্রশ্ন ০৬: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পটি যে কল্পনানির্ভর লেখা তা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ‘আমড়া ও ক্র্যাব নেবুলা’ গল্পে বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই এমন অনেক বিষয় রয়েছে। যেমন রঞ্জুর সঙ্গে রোবটের রাস্তায় দেখা হওয়া, বর্তমান বাস্তবতায় রোবট সাধারণ বিষয় হলেও রাস্তায় তাদের হাঁটতে দেখা যায় না, আবার রঞ্জুর বাসার ছাদে মহাকাশযান অবতরণের বিষয়টিও কাল্পনিক।

মহাকাশ থেকে আগত কোনো প্রাণীর সন্ধান এখনো আমরা জানি না। তাই এই রচনাটি পুরোপুরি কল্পনা আশ্রিত। কল্পনাকে আশ্রয় করে রচিত হওয়া ও বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল না থাকার কারণেই ‘আমরা ও ক্র্যাব নেবুলা’ একটি কল্পনানির্ভর লেখা।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – শব্দের অর্থ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – যতিচিহ্ন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – বাক্য

আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায় – চারপাশের লেখার সাথে পরিচিত হই
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – প্রায়োগিক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – বিবরণমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – তথ্যমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – বিশ্লেষণমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: গান


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।