|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – তথ্যমূলক লেখা

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: যে লেখা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে লিখিত হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সন্নিবেশিত হয়, তাকে তথ্যমূলক লেখা বলা হয়। এ ধরনের লেখা ব্যক্তি, বিষয় ও ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়। এছাড়া এতে দরকারি ছক-ছবি-সারণি ও অডিও-ভিডিও থাকতে পারে। জীবনী এক ধরনের তথ্যমূলক লেখা। জীবনীতে যার জীবনী আলোচনা করা হয়, তাঁর সম্পর্কে নানা রকম তথ্যের সন্নিবেশ করা থাকে।


‘জগদীশচন্দ্র বসু’ রচনার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

লেখক সম্পর্কে জেনে নাও

গোলাম মুরশিদ ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার একজন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে আশার ছলনে ভুলি’, ‘হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি’, ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য

মূলবক্তব্য

রচনাটিতে গোলাম মুরশিদ বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে বলেছেন। পৃথিবীর একজন নামকরা বিজ্ঞানী ছিলেন জগদীশচন্দ্র বসু। তাঁর খ্যাতি এমন ছিল যে চাঁদের একটি গর্তের নামও তাঁর নামানুসারেই হয়েছে। জগদীশচন্দ্র বসু বাংলাদেশের একটি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা করেন দেশ-বিদেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কর্মজীবনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে।

বৈদ্যুতিক চুম্বক তরঙ্গ, রেডিওর মাধ্যমে বিনা তারে যোগাযোগের মূল কৌশল ইত্যাদি হলো, তাঁর উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কারের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে রেডিও-টেলিভিশন, ইন্টারনেট, মাইক্রোওয়েভ কুকার ইত্যাদি। এছাড়া এ রচনায় লেখক জগদীশচন্দ্র বসুর নানা কীর্তি, পুরস্কার ও সম্মাননার কথাও তুলে ধরেছেন।


তথ্যমূলক লেখার ধারণা

তথ্য পরিবেশন করাই যেসব সৃজনশীল লেখার মূল লক্ষ্য, সেগুলোকে তথ্যমূলক লেখা বলে। এ ধরনের লেখায় তথ্য পরিবেশনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয়। বইপত্র পড়ে, অনলাইনের মাধ্যমে কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য পাওয়া যায়। তথ্য উপস্থাপনের সময় জানা তথ্যও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে মিলিয়ে নিতে হয়। তথ্যমূলক রচনাকে আকর্ষণীয় করার জন্য নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা দরকার। এ ধরনের লেখায় বিষয় অনুযায়ী একটি শিরোনাম থাকে। কোন তথ্যের পর কোন তথ্য পরিবেশন করা হবে, তার একটি ধারাবাহিকতা রাখতে হয়।

সাধারণত একই ধরনের তথ্য এক জায়গায় রাখা হয়। তথ্যমূলক লেখার মধ্যে ছবি, ছক, সারণি ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। কোনো ব্যক্তির জীবনী, স্কুল বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বিভিন্ন ধরনের সংখ্যা-নির্ভর বিবরণ ইত্যাদি নিয়ে তথ্যমূলক রচনা তৈরি করা যায়। তথ্যমূলক লেখার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে তথ্য জানানো। তাই এ ধরনের লেখায় ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি দ্বারা প্রভাবিত হওয়া ঠিক নয়।

তথ্যমূলক লেখার বৈশিষ্ট্য

  • তথ্যমূলক লেখাটিতে একটি শিরোনাম দিতে হয়।
  • নানারকম তথ্য পরিবেশন করাই তথ্যমূলক রচনার অন্যতম লক্ষ্য
  • তথ্যমূলক রচনায় যেসব তথ্য পরিবেশন করা হবে তার ধারাবাহিকতা রাখতে হয়।
  • তথ্যমূলক রচনার প্রধান উদ্দেশ্য পাঠককে তথ্য জানানো
  • তথ্যমূলক লেখায় বিভিন্ন ছবি, হক, সারণি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়।
  • তথ্যমূলক লেখায় ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বর্জন করতে হয়।

তথ্যমূলক লেখা রচনার উপায়

তথ্যমূলক লেখায় বিষয় অনুযায়ী প্রথমে একটি শিরোনাম দিতে হবে। যে বিষয়ে রচনাটি লিখতে হবে সে বিষয়ে সকল ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ করতে সে বিষয়ের বইপত্র, অনলাইন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আশ্রয় নিতে হবে। কোন তথ্যের পর কোন তথ্য পরিবেশন করা হবে, তার একটি ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।

সাধারণত একই ধরনের তথ্য এক জায়গায় রাখতে হবে। তথ্যমূলক লেখার মধ্যে ছবি, ছক, সারণি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। তথ্যমূলক লেখার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে তথ্য জানানো। তাই এ ধরনের লেখায় ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি তুলে ধরা যাবে না।

জীবনী সাহিত্য

জীবনী সাহিত্য হলো মানুষের জীবনকেন্দ্রিক সাহিত্য। এতে মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে তথ্যমূলক লেখা উপস্থাপন করা হয়। জীবনী সাহিত্যের সংজ্ঞায় বলা যায়, যে সাহিত্যে কোনো কল্পনার আশ্রয় না নিয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে কোনো মানুষের জীবন, কর্ম ও অবদান আলোচিত হয়, তাকে জীবনী সাহিত্য বলে। জীবনী সাহিত্যে কল্পনার স্থান নেই।

মানবজীবনের বাস্তব ঘটনাই উঠে আসে জীবনী সাহিত্যে। জীবনী সাহিত্যে ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়। তাই জীবনী সাহিত্যের পরিধি অনেক ব্যাপক। জীবনী সাহিত্য আধুনিক যুগে জনপ্রিয়তা লাভ করলেও এটি লেখা শুরু হয়েছিল মধ্যযুগে শ্রী চৈতন্য দেবের আবির্ভাবের পর। মূলত, তাঁর জীবনকে কেন্দ্র করে জীবনী সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়।

জীবনী সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য

  • ‘জীবনী’ এক ধরনের তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ।
  • জীবনী সাহিত্যে তথ্যবহুল বিষয় থাকলেও সাহিত্যরস উপস্থিত থাকবে।
  • জীবনী সাহিত্যে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়। তাই একে ইতিহাসের শাখাও বলা যায়
  • মূল চরিত্রটিকে অপরিবর্তনীয় অবস্থায় সাহিত্যের মধ্যে বর্ণনা করা হয়ে থাকে।

জীবনী সাহিত্য রচনার কৌশল

জীবনী রচনার ক্ষেত্রে করণীয় হলো-

  • অন্য লেখকদের লেখা জীবনী সাহিত্য ভালোভাবে পড়তে হবে।
  • যে ব্যক্তির জীবনী লিখবে তাঁর সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
  • ব্যক্তির সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
  • জীবনীতে কোন কোন বিষয় আসবে তার তালিকা তৈরি করতে হবে।
  • ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তথ্যগুলো সাজাতে হবে।
  • প্রয়োজনে জীবনী লেখার জন্য যার জীবনী লেখা হবে, তার কাছ থেকে অথবা তার পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. তথ্য পরিবেশন করা যেসব লেখার মূল লক্ষ্য, সেগুলোকে কী ধরনের লেখা বলে?
উত্তর: তথ্যমূলক লেখা।

প্রশ্ন-২. তথ্যমূলক লেখার প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: পাঠককে তথ্য জানানো।

প্রশ্ন-৩. তথ্যমূলক লেখায় কোন বিষয়টি বর্জন করতে হয়?
উত্তর: ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি।

প্রশ্ন-৪. জীবনী সাহিত্যে কীসের স্থান নেই?
উত্তর: কল্পনার।

প্রশ্ন-৫. যে সাহিত্যে কোনো কল্পনার আশ্রয় না নিয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে কোনো মানুষের জীবন, কর্ম ও অবদান আলোচিত হয়, তাকে কী ধরনের সাহিত্য বলে?
উত্তর: জীবনী সাহিত্য।

প্রশ্ন-৬. জীবনী সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয় কখন?
উত্তর: মধ্যযুগে।

প্রশ্ন-৭. কার জীবনকে কেন্দ্র করে জীবনী সাহিত্য রচনার সূত্রপাত হয়?
উত্তর: শ্রী চৈতন্য দেব।


শিখন অভিজ্ঞতা ১১: বিবরণমূলক লেখা

ক. জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে এই লেখায় কী কী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে?
উত্তর: এই লেখায় তাগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। যেমন: তাঁর জন্ম, পরিচয়, শিক্ষাদীক্ষা, কর্মজীবন ও নানা আবিষ্কারের কথা রয়েছে। এমনকি তাঁকে সম্মান জানিয়ে ব্রিটিশ সরকার কাগজি মুদ্রার নোটে যে ছবি ছাপে, তার তথ্যও প্রবন্ধটিতে রয়েছে।

গ. এই ধরনের জীবন-তথ্যমূলক আর কী কী রচনা তুমি পড়েছ?
উত্তর: এই ধরনের জীবন-তথ্যমূলক বিভিন্ন রচনা এর আগে আমি পড়েছি। যেমন: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইত্যাদি।

ঘ. এই লেখা থেকে জগদীশচন্দ্র বসুর কী কী আবিষ্কারের কথা জানতে পারলে?
উত্তর: এই লেখা থেকে জগদীশচন্দ্র বসুর যেসব আবিষ্কারের কথা জানতে পেরেছি তার মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক চুম্বক-তরঙ্গ, উদ্ভিদের যে প্রাণ আছে তার আবিষ্কার, উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার যন্ত্র বেসুকোগ্রাফ, রেডিওর মাধ্যমে বিনা তারে যোগাযোগের মূল কৌশল ইত্যাদি।

ঙ. বিবরণমূলক লেখার সঙ্গে তথ্যমূলক লেখার মিল-অমিল খুঁজে বের করো?
উত্তর: বিবরণমূলক লেখায় থাকে কোনো কিছুর বর্ণনা এবং তথ্যমূলক লেখায় থাকে কোনো কিছু সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য বা তথ্যাদি। তবে বিবরণমূলক লেখায় যেমন নানা তথ্য থাকতে পারে, তেমনি তথ্যমূলক রচনা বিবরণমূলকও হতে পারে।


প্রশ্ন- ‘জগদীশচন্দ্র বসু’ রচনায় লেখক যা বলেছেন, তা নিজের ভাষায় বলো এবং নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: জগদীশচন্দ্র বসু পৃথিবীর নামকরা একজন বিজ্ঞানী ছিলেন। এমনই নামকরা যে চাঁদের একটি গর্ভের নাম তাঁর নামানুসারেই হয়েছে। জগদীশচন্দ্র বসুর জন্ম বাংলাদেশে। জন্মেছিলেন একটি সাধারণ পরিবারে। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তিনি কেমব্রিজ ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেন। ছেলেবেলায় তাঁর প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে পড়াশোনার আগ্রহ তৈরি হয়।

কর্মজীবনে জগদীশচন্দ্র বসু নিজেকে পদার্থ বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হচ্ছে বৈদ্যুতিক চুম্বক-তরঙ্গ, রেডিওর মাধ্যমে বিনা তারে যোগাযোগের মূল কৌশল ইত্যাদি। রেডিও- টেলিভিশন, ইন্টারনেট, মাইক্রোওয়েভ কুকার ইত্যাদি জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কারের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে।

এছাড়া প্রাকৃতিক বিজ্ঞানী হিসেবে উদ্ভিদের প্রাণ আছে এই তত্ত্ব ও উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপার যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ আবিষ্কারও জগদীশচন্দ্রের বিশেষ কীর্তি। তাঁর বিশেষ কীর্তির জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করে এবং তাঁকে সম্মান জানিয়ে ব্রিটিশ সরকার কাগুজে মুদ্রার নোটে তাঁর ছবিও ছাপে।

 


তথ্যমূলক রচনা লিখি

৪. তোমরা দলে ভাগ হও। এরপর শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করো। এখানে কয়েকটি নমুনা প্রশ্ন দেওয়া হলো:

ক. স্কুলের আশপাশে কী কী ফলের গাছ আছে? কোন গাছ কতটি করে আছে?
উত্তর: স্কুলের চারপাশের ফলগাছ বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে নানা ধরনের ফল উৎপাদিত হয়। আমাদের স্কুলের চারপাশেও হরেক রকমের মৌসুমি ফলের গাছ রয়েছে। একেক ঋতুতে একেক ধরনের ফল পাওয়া যায়। স্কুল থেকে বের হতেই হাতের ডান পাশে রয়েছে দুটি নারকেলগাছ। সারাবছরই সেখানে নারকেল ধরে। এরপরেই রয়েছে কিছু আমগাছ। বসন্তে আমগাছে মুকুল ধরে, গ্রীষ্মে আম পাকে। এছাড়া আমাদের স্কুলের পেছনে রয়েছে জামগাছ।

জামও একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। জামগাছের পাশেই একটি সফেদা গাছ আছে। সফেদা অন্যান্য ফলের চেয়ে একটু অপ্রচলিত হলেও খেতে সুস্বাদু। স্কুলের রাস্তার পাশে দুটি কামরাঙা গাছ আছে। কামরাঙা টক ফল, তবে এতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। আমাদের স্কুলের পেছনে রয়েছে ঘন বন। বনেও প্রচুর ফলগাছ আছে। সেখানে রয়েছে লটকন ও গোলাপজামের গাছ। লটকন পাকলে হলুদ বর্ণের হয়। খেতে টক লাগে। আর গোলাপজাম সুমিষ্ট সুস্বাদু একটি ফল।

আমাদের স্কুলের পাশে থাকা মোট ফলগাছের সংখ্যা নিম্নরূপ:
নারকেল গাছ – ২টি
আমগাছ – ৫টি
জামগাছ – ১টি
সফেদা গাছ – ১টি
কামরাঙা গাছ – ২টি
লটকন গাছ – ৩টি
গোলাপজাম গাছ – ২টি

খ. স্কুলের আশপাশে কী কী ফুলের গাছ আছে? কখন কোন ধরনের ফুল ফোটে?
উত্তর: স্কুলের চারপাশের ফুলের গাছ আমাদের স্কুল একটি মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত।”আমাদের স্কুলের সামনের রাস্তার পাশেই রয়েছে নদী। নদীর ধারে কাশফুল ফোটে, স্কুল থেকে সেই দৃশ্য খুবই সুন্দর দেখায়। স্কুলের সামনে রয়েছে একটি বাগান।

এই বাগানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফোটে, যা আমাদের ঋতুবৈচিত্র্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষ করে শীতকালে বাগানের ফুলের আধিক্য লক্ষ করা যায়। এ সময় বাগানে গোলাপ, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি নানা রকমের ফুল ফোটে। স্কুলের রাস্তার পাশে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ রয়েছে। গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া ফোটে। কৃষ্ণচূড়ার রং লালচে। এছাড়া রয়েছে কিছু জাবুলগাছ। জারুল ফুলের রং হালকা বেগুনি। জারুলও একটি গ্রীষ্মকালীন ফুল।

আমাদের স্কুলে বারান্দার সামনেই রয়েছে একটি হাসনাহেনা ও একটি কামিনী ফুলের গাছ। উভয়েই শরৎকালীন ফুল। হাসনাহেনা রাতে ফোটে। দুটি ফুলই ঘ্রাণে চারপাশ মাতোয়ারা করে দেয়। আমাদের স্কুলের পেছনে রয়েছে একটি কদমগাছ। বর্ষাকালে কদম ফুল ফোটে। বর্ষাকালের প্রকৃতিতে কদম ফুল স্নিগ্ধতা সংযোজন করে।

আমাদের স্কুলের চারপাশের ফুলগাছে যে সময় ফুল ফোটে তার তালিকা নিম্নরূপ:
কৃষ্ণচূড়া – গ্রীষ্মকাল
গোলাপ, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা – শীতকাল
জারুল – গ্রীষ্মকাল
হাসনাহেনা – শরৎকাল
কামিনী – শরৎকাল
কদম – বর্ষাকাল
কাশফুল – শরৎকাল

গ. তোমাদের এলাকায় কোন কোন পাখি বেশি দেখা যায়? কোন পাখির রং কেমন?
উত্তর: আমার এলাকার পাখি আমার এলাকা সবুজে সুশোভিত গাছপালা সংবলিত একটি শহর। -এখানে সারা বছর পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যায়। বিভিন্ন রকম পাখির মধুর ডাকে প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙে। আমার এলাকায় অসংখ্য প্রজাতির পাখি আছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে চড়ুই, টুনটুনি, বুলবুলি, কাক, চিল, দোয়েল, ময়না, শালিক, ঘুঘু ইত্যাদি। বিভিন্ন পাখির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেও ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। এগুলোর কোনোটি গান গায়, কোনোটি শিকার করে। পাখির মধ্যে দোয়েল অন্যতম। দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি।

দোয়েলের গলার স্বর খুব মিষ্টি। কোকিলের কণ্ঠে ‘কুহু’ ম্বর শুনে আমরা বসন্তের পূর্বাভাস পাই। কোকিল মূলত কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। এছাড়া রয়েছে বুলবুলি, বউ কথা কও ইত্যাদি পাখি। কিছু পাখি মানুষের পোষ মানে। পোষ মানা পাখিদের মধ্যে ময়না, টিয়া, শালিক ইত্যাদি অন্যতম। কিছু পাখি শিকারি প্রবৃত্তির। যেমন- ইগল, মাছরাঙা। আমাদের এলাকায় ইগল দেখা যায় না তবে বিলে-ঝিলে প্রায়ই মাছরাঙা দেখা যায়। আরেকটি পাখির নাম বাবুই। বাবুই নারকেল, তাল, খেজুর প্রভৃতি গাছে নিজের বাসা বানায়। বাবুই পাখির বাসা খুবই শৈল্পিককারুকাজ সমৃদ্ধ। এজন্য বাবুই পাখিকে শিল্পী পাখিও বলা হয়।

দোয়েল – সাদা-কালো
ময়না – চকচকে কালো, মাথার কাছে হলুদ
মাছরাঙা – নীলাভ সবুজ ও কমলা
টিয়া – সবুজ
বাবুই – সোনালি হলুদ ও গাঢ় বাদামি
চড়ুই – ধূসর ও বাদামি

ঘ. তোমার এলাকায় কোন কোন পেশার মানুষ আছে? তারা কী ধরনের কাজ করেন?
উত্তর: আমার এলাকার মানুষের পেশাগত বৈচিত্র্য আমি একটি মফসল শহরে থাকি। আমার এলাকায় নানা শ্রেণি- পেশার মানুষ বাস করেন। আমার স্কুলে চার ধরনের পেশার মানুষ রয়েছেন। হাঁদের মধ্যে আছেন শিক্ষক, পিয়ন, দারোয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাঁদের সবাই নিজ কাজকে ভালোবাসেন ও নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। স্কুলের বাইরে রয়েছে একটি বইয়ের দোকান। সেখানে বই ও অন্যান্য স্টেশনারি সামগ্রী কিনতে পাওয়া যায়।

আমাদের শহরে একটি হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালে আছেন ডাক্তার। মানুষের রোগ হলে ডাক্তার তাঁদের চিকিৎসা করেন। হাসপাতালের পাশেই রয়েছে থানা। থানা পুলিশের কর্মস্থল। পুলিশ আমাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে থাকেন। থানার বাইরে রাস্তার ধারে একজন মুচি বসেন। আমাদের জুতা বা ব্যাগ তিনি ঠিক করে দেন।

শহর থেকে অদূরে রয়েছে কৃষি জমি। কৃষকরা সে জমি চাষ করেন। তাঁরা ধান ও অন্যান্য শস্য উৎপাদন করে আমাদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।’ মসজিদে আছেন ইমাম ও মুয়াজ্জিন। ইমাম মসজিদে নামাজ পরিচালনা করেন। মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে সাবইকে নামাজ পড়ার জন্য ডাকেন। মন্দিরে রয়েছেন পুরোহিত, তিনি পূর্জা-অর্চনা পরিচালনা করেন।

আমার এলাকার বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজের ধরন ছক আকারে দেওয়া হলোঃ
পরিচ্ছন্নতাকর্মী – পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা
শিক্ষাক – শিক্ষাদান করা
ডাক্তার – চিকিৎসা দেওয়া
মুচি – জুতা সেলাই করা
ইমাম – নামাজ পরিচালনা করা
মুয়াজ্জিন – আজান দেওয়া
পুরোহিত – পুজা পরিচালনা করা


৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ বড় প্রশ্ন

প্রশ্ন ০১: ‘জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন পদার্থ বিজ্ঞানী’— জগদীশচন্দ্র বসু কি শুধুই পদার্থ-বিজ্ঞানী ছিলেন? এ মতের পক্ষে-বিপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।
উত্তর: জগদীশচন্দ্র বসু একজন পদার্থ বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি রেডিও যোগাযোগের মূল কাঠামো আবিষ্কার করেন। এছাড়া ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্যের বৈদ্যুতিক চুম্বক-তরঙ্গ আবিষ্কার করেন। এতে প্রমাণিত হয় জগদীশচন্দ্র বসু একজন পদার্থবিজ্ঞানী। কিন্তু তিনি শুধুই একজন পদার্থ- বিজ্ঞানী ছিলেন না।

জগদীশচন্দ্র বসু প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে গবেষণা করেছেন। গাছেরও যে প্রাণ আছে তিনি তা প্রমাণ করেন। গাছের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ আবিষ্কার করেন। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে বলা যায় জগদীশচন্দ্র বসু শুধু একজন পদার্থ-বিজ্ঞানীই ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার পথিকৃত।

প্রশ্ন ০২: ‘জগদীশচন্দ্র বসু’ রচনাটি পড়ার আগে জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে তুমি কী জানতে? তোমার জানা বিষয়টি কেমন ছিল তা সংক্ষেপে তুলে ধরো।
উত্তর: ‘জগদীশচন্দ্র বসু’ রচনাটি পড়ার আগে আমি আমার বাবার কাছে এই মহান বিজ্ঞানীর সম্পর্কে শুনেছিলাম। আমি জেনেছিলাম, জগদীশচন্দ্র বসুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু ছিলেন। বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি ‘পলাতক তুফান’-এর রচয়িতাও বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু।

বিলেতে পড়ালেখা শেষে ১৮৮৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু সেখানে সব শিক্ষক ছিলেন ইউরোপিয়ান। তাঁরা ভাবতেন, বাঙালিদের যোগ্যতা কম। তাই অন্যান্য শিক্ষকের তুলনায় তাঁকে এক-তৃতীয়াংশ বেতন দেওয়া হতো। জগদীশচন্দ্র বসু এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন।

প্রশ্ন ০৩: একটি তথ্যমূলক লেখা কীভাবে লেখা যায় আলোচনা করো।
উত্তর: তথ্যমূলক লেখায় বিষয় অনুযায়ী প্রথমে একটি শিরোনাম দিতে হবে। যে বিষয়ে রচনাটি লিখতে হবে, সে বিষয়ে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ করতে সে বিষয়ের বইপত্র, অনলাইন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আশ্রয় নিতে হবে। কোন তথ্যের পরে কোন তথ্য পরিবেশন করা হবে, তার একটি ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। সাধারণত একই ধরনের তথ্য এক জায়গায় রাখতে হবে। তথ্যমূলক লেখার মধ্যে ছবি, ছক, সারণি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। তথ্যমূলক লেখার মূল উদ্দেশ্য পাঠককে তথ্য জানানো। তাই এ ধরনের লেখায় ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বর্জন করতে হবে।

প্রশ্ন ০৪: তোমার জানা যেকোনো একজন বিজ্ঞানী সম্পর্কে একটি তথ্যমূলক লেখা লেখো।
উত্তর: জামাল নজরুল ইসলাম একজন বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ, পদার্থ বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তিনি ১৯৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কিনাইদহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন অবিভক্ত ভারতের একজন সাব অজ। জামাল নজরুল ইসলামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতায়।

চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁরা চট্টগ্রাম চলে আসেন। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করায় জামাল নজরুল ইসলামকে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে সরাসরি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া হয়। এরপর তিনি পাকিস্তানের লরেন্স কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি কেমব্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজ থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। তিনি মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও গন্তব্য নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত কিছু বইয়ের মধ্যে রয়েছে।

“দ্য আলটিমেট ফেইট অব দ্য ইউনিভাসী। বইটি পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের মধ্যে তখন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মহাবিশ্ব যে সম্প্রসারিত হচ্ছে, এই বিষয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন। এছাড়া ডব্লিউ বি বনোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে প্রকাশ করেন ক্ল্যাসিক্যাল জেনারেল রিলেটিভিটি। তার অনান্য প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে ‘রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি’, ‘এন ইনট্রোডাকশন টু ম্যাথমেটিক্যাল কসমোলজি’ ‘কৃষ্ণবিবর’ ইত্যাদি।

১৯৮৪ সালে তিনি বিদেশের উন্নত জীবন ও গবেষণার অফুরন্ত সুযোগ ছেড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০১ সালে গবেষণা করার জন্য তিনি একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া তাঁর কীর্তিময় জীবনে আরও অনেক পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ এই মহান বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন ০৫: জগদীশচন্দ্র বসু’ রচনাটিকে তথ্যমূলক লেখা কেন বলব? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘জগদীশচন্দ্র বসু’ রচনাটিতে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। জগদীশচন্দ্রের জন্মস্থান, তাঁর কর্মজীবন ও শিক্ষা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রচনাটিতে ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতি বর্জন করা হয়েছে।

রচনাটি পড়ে আমরা জানতে পেরেছি, জগদীশচন্দ্র বসু মাইক্রোওয়েভ কুকার আবিষ্কার করেন। গাছের বৃদ্ধি নির্ণয়ক যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ আবিস্কার করেন। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে গাছেরও প্রাণ আছে। জগদীশচন্দ্র বসু রচনায় এসব তথ্যের জোগান পাওয়া যায়। তাই একে আমরা তথ্যমূলক লেখা বলব।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – শব্দের অর্থ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – যতিচিহ্ন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – বাক্য

আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায় – চারপাশের লেখার সাথে পরিচিত হই
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – প্রায়োগিক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – বিবরণমূলক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: গান


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।