|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – বিবরণমূলক লেখা

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ: বিবরণমূলক লেখা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে লিখতে হয়। এ ধরনের লেখায় তথ্য-উপাত্তের চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বর্ণনা করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ছবি দেখে আমরা যেমন অনুভূতির বর্ণনা লিখি ঠিক একই ভাবে নিজের দেখা কোনো ঘটনার কথাও বিবরণমূলক লেখায় বাঙময় হতে পারে। সেখানে হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনা প্রকাশ পায়।


‘পিরামিড’ রচনার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

লেখক সম্পর্কে জেনে নাও

সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে আসামের করিমগঞ্জ তোলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। আফগানিস্তানের কাবুলে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। এছাড়া মিশরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি অধ্যাপনা করেন। তাঁর রচনার একটি বড়ো অংশ ভ্রমণকাহিনি। সরস ভাষায় ভ্রমণ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন ‘দেশে-বিদেশে’, ‘জলে ডাঙায়। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে আছে ‘পঞ্চতন্ত্র’, ‘চাচা কাহিনী’, ‘ময়ূরকণ্ঠী’ ইত্যাদি।

মূলবক্তব্য

ভ্রমণকাহিনিটিতে প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী মিশরের পিরামিড সম্পর্কে বিচিত্র অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। পিরামিড পৃথিবীর একটি আশ্চর্য নিদর্শন এবং তা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন কীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। যুগ যুগ ধরে পিরামিডের ভেতর ও বাহিরের রহস্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করছে মানুষ। অনেকে পিরামিডের ভেতরে ঢুকতে চেয়েছে সম্পদের লোভে, কিন্তু নির্মাতারা এমন. কৌশলে তা বানিয়েছিলেন যে সহজে কেউ যেন প্রবেশের রাস্তা না পায়। মিশরের ভেতরে বাইরে আরও পিরামিড থাকলেও গিজে অঞ্চলের তিন পিরামিডই জগৎ-বিখ্যাত। লেখক এগুলোর কথাই তুলে ধরেছেন আলোচ্য ভ্রমণকাহিনিটিতে। এ লেখাটির মাধ্যমে মূলত বিবরণমূলক লেখা সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে।


বিবরণমূলক লেখা

যেকোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি নিয়ে বর্ণনামূলক লেখাকেই বলা হয় বিবরণমূলক লেখা। এ ধরনের লেখার উদ্দেশ্য হলো, সকলকে সেই বিষয় সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। এর মাধ্যমে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনদর্শন প্রকাশিত হয়, যা পড়ে পাঠক নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তার তুলনা করতে পারেন। এ ধরনের লেখার লক্ষ্য হলো, পাঠককে লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নির্দিষ্ট জিনিস, স্থান বা ব্যক্তিকে অনুভব করানো। বিবরণমূলক লেখাটি কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান বা জিনিসকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন পাঠকের মনে হয় এটি তাঁদের চোখের সামনে উপস্থিত। এছাড়া লেখক এটি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন পাঠকের মনে হয় তাঁরা এটির স্বাদ গ্রহণ করছেন, অনুভব করছেন।

বিবরণমূলক লেখার বৈশিষ্ট্য

• বিবরণমূলক লেখাটি হয় স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট।
• এটিতে লেখকের একটি দৃষ্টিভঙ্গি থাকে।
• এটি মূলত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদির বর্ণনা।
• সাধারণত এর রচনাভঙ্গি স্বতন্ত্র হয়ে থাকে।
• এখানে লেখকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ফুটে উঠতে দেখা যায়।

ভ্রমণকাহিনি

আমরা প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করি। এসব ভ্রমণের ঘটনা আমাদের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকে। ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতা কাহিনি আকারে লিখে রাখাই হলো ভ্রমণকাহিনি। এটি বাংলা সাহিত্যের নবীনতম সংযোজন। ভ্রমণ করতে সবারই ভালো লাগে। কেউ কেউ আবার ভ্রমণকাহিনি লিখে রাখতে ভালোবাসেন। তবে কোথাও বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখে রাখার জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি। সেখানে কীভাবে যাওয়া হলো, কী দেখা হলো তার বর্ণনা দিতে হবে এবং সেখানকার সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

ভ্রমণকাহিনির বৈশিষ্ট্য

• ভ্রমণকাহিনিতে বিভিন্ন স্থানে কথা বর্ণিত থাকে।
• ভ্রমণকাহিনির রচনাভঙ্গি স্বতন্ত্র।
• ভ্রমণকাহিনিতে ঘটনার পরম্পরা বিবরণ থাকে।
• ভ্রমণকাহিনিতে পরিবেশ, প্রকৃতি, ইতিহাস, ভূগোলসহ নানা বিষয়ের ধারণা থাকে।
• রসবোধের আশ্রয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বর্ণনা থাকে।
• ভ্রমণকাহিনির বর্ণনায় লেখকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ফুটে ওঠে।
• সত্যিকারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণকাহিনি রচিত হয়।

আরও দেখুন: কম খরচে ভালো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. বিবরণমূলক লেখা কাকে বলে?
উত্তর: যেকোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি নিয়ে বর্ণনামূলক লেখাকেই বলা হয় বিবরণমূলক লেখা।

প্রশ্ন-২. লেখকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ফুটে উঠতে দেখা যায় কোন ধরনের লেখায়?
উত্তর: বিবরণমূলক লেখায়।

প্রশ্ন-৩. ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কাহিনি আকারে লিখে রাখা হয় যে রচনায় তাকে কী বলে?
উত্তর: ভ্রমণকাহিনি।

প্রশ্ন-৪. ঘোরাঘুরির অভিজ্ঞতা কাহিনি আকারে লিখে রাখা হলে তাকে কোন ধরনের সাহিত্য বলা যায়?
উত্তর: ভ্রমণকাহিনি।

প্রশ্ন-৫. ভ্রমণকাহিনিতে কোন বিষয়টি প্রাধান্য পায়?
উত্তর: ভ্রমণস্থানের বর্ণনা।

প্রশ্ন-৬. ভ্রমণকাহিনির মূল উৎস কোনটি?
উত্তর: বাস্তব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।


পিরামিড সম্পর্কে প্রশ্ন ও উত্তর

ক. লেখক এখানে কীসের বিবরণ দিয়েছেন?
উত্তর: লেখক এখানে পিরামিডগুলোর বিবরণ দিয়েছেন।

খ. পিরামিডগুলো কারা তৈরি করেছিলেন এবং কখন তৈরি করেছিলেন?
উত্তর: খ. মিশরের ফারাওরা পিরামিডগুলো তৈরি করেছিলেন। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বছর আগে পিরামিডগুলো তৈরি হয়।

গ. পিরামিডগুলো কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: অনন্ত জীবনের প্রত্যাশায় ফারাওরা পিরামিডগুলো তৈরি করেছিলেন। ফারাওদের বিশ্বাস ছিল মানুষের লাশ পড়ে গেলে তারা অনন্ত জীবনের অধিকারী হতে পারে না। তাই মৃতদেহকে ‘মমি’ বানিয়ে পিরামিডের ভেতরে রেখে দিলে অনন্ত জীবনের পথে আর বাধা থাকে না। কেননা, শক্ত পিরামিডের ভেতরে ঢুকে কেউ ‘মমি’কে ছুঁতেও পারবে না। তাই তারা পিরামিড তৈরি করেন।

ঘ. পিরামিডগুলো কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: পিরামিডগুলো পাথরের তৈরি। পাথর কেটে পাথরের একটি টুকরার ওপর আরেকটি টুকরা বসিয়ে পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল।

ঙ. পিরামিড একটি পুরাকীর্তি। বাংলাদেশের যেকোনো পুরাকীর্তির সঙ্গে এর মিল-অমিল খুঁজে বের করো।
উত্তর: বাংলাদেশের বিখ্যাত একটি পুরাকীর্তি হচ্ছে পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার। পিরামিডের মতো এটিও প্রাচীন স্থাপনা। তবে পিরামিডের প্রাচীনত্বের চেয়ে এর প্রাচীনত্ব কম। পিরামিড যেমন ফারাও রাজারা তৈরি করেছেন, তেমনি সোমপুর বিহারও পাল রাজাদের কীর্তি।

পিরামিডে মৃত রাজাদের দেহ মমি করে রাখা হতো, আর বিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন এবং শাস্ত্রচর্চা করতেন। পিরামিড ত্রিকোণ-বিশিষ্ট, আর সোমপুর বিহারটি চতুষ্কোণ-বিশিষ্ট। পিরামিডের ভেতরে যেমন ছোটো ছোটো কুঠুরি রয়েছে, বিহারের ভেতরেও তাই। বিহারের দেয়ালে টেরাকোটা চিত্র থাকলেও পিরামিডের দেয়ালে তেমন চিত্র নেই। তবে মিশরের পিরামিড ও সোমপুর বিহার দুটিই প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন।


নিজের এলাকার অন্তত ৫০ বছরের পুরোনো কোনো স্থাপত্য সম্পর্কে ১০০ থেকে ১৫০ শব্দের মধ্যে একটি বিবরণ লেখো।

রোমাঞ্ঝকর পুরাকীর্তি মহাস্থানগড়

রোমাশ্তকর এক স্থান প্রাচীন বাংলার অন্যতম নিদর্শন বগুড়ার মহাস্থানগড়। এমন প্রাচীন পুরাকীতি এখানে রয়েছে যা দেখলে নানা প্রশ্ন ও বিস্ময় জাগবে যেকোনো অনুসন্ধিৎসু মনে। বগুড়া শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এ গড়টি। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।

একসময় এটি বাংলাদেশের রাজধানী ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এখানে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। প্রাচীরবেষ্টিত এই নগরের ভেতরে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের অনেক নিদর্শন বিদ্যমান। এর দুর্গের ভেতরে কয়েকটি ঢিবি ও নির্মাণ-নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিয়ত কুণ্ড, মানকালীর ধাপ, পরশুরামের বাসগৃহ, বৈরাগীর ভিটা, খোদার পাথরভিটা ইআদি। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, একসময়কার মহাস্থানের রাজা নলের সঙ্গে তাঁর ভাই নীলের চরম বিরোধ ছিল। এ সময় মাতৃহত্যার দায়ে অভিশপ্ত ভারতের দক্ষিণাত্যের রাম নামের এক ব্রাহ্মণ এখানে প্রায়শ্চিত করতে আসেন।

তিনি এসে উক্ত দুই ভাইয়ের বিরোধের অবসান ঘটান ও রাজা নিযুক্ত হন। ইতিহাসে এই রাজা রামই পরশুরাম নামে পরিচিত। তৃতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে পঞ্চদশ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অসংখ্য হিন্দু রাজা ও অন্যান্য ধর্মের রাজারা এখানে রাজত্ব করেন। ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করতে আসা ফকিরবেশী দরবেশ না হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র)-এর সঙ্গে যুদ্ধে পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হন। ১৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন প্রথম মহাস্থানগড়ের অবস্থান চিহ্নিত করেন। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ০১: বিবরণমূলক লেখা কী? বিবরণমূলক লেখার কৌশল আলোচনা করো।
উত্তর: যেকোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, পরিস্থিতি, ঘটনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি নিয়ে বর্ণনামূলক লেখাকেই বলা হয় বিবরণমূলক লেখা। এ ধরনের লেখার উদ্দেশ্য হলো- সকলকে সেই বিষয় সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। এর মাধ্যমে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনদর্শন প্রকাশিত হয়, যা পড়ে পাঠক নিজের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তার তুলনা করতে পারেন।

বিবরণমূলক লেখার কৌশলগুলো হলো-
• পাঠকের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে চমকপ্রদভাবে ভ্রমণকাহিনি লেখা শুরু করতে হবে।
• লেখার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
• সহজ-সরল ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
• এমনভাবে লিখতে হবে যেন মানুষের মনে ওই স্থান ভ্রমণের আগ্রহ জেগে ওঠে।
• ভ্রমণকাহিনিকে ছোটো ছোটো অনুচ্ছেদে রসাত্মকভাবে লিখতে
• লেখাটি যেন বাস্তবোপযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
• ভূগোল, ইতিহাস সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।
• তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রশ্ন ০২: কোন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ‘পিরামিড’ রচনাটিকে বিবরণমূলক লেখা বলা যায়? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘পিরামিড’ রচনাটিতে লেখক পিরামিডের বর্ণনা দিয়েছেন। পিরামিড কী এবং কারা, কেন পিরামিড তৈরি করেছিলেন, লেখক সেই বিষয়গুলো এই রচনায় তুলে ধরেছেন। এর সঙ্গে আমরা এই রচনা পড়ে জানতে পেরেছি, পিরামিড কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল। যেহেতু এই রচনাটিতে পিরামিডের সামগ্রিক বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাই এই রচনাকে বিবরণমূলক লেখা বলা যায়।

প্রশ্ন ০৩: পিরামিড রচনাটি পড়ে যেসব তথ্য জানতে পেরেছ, তার একটি তালিকা তৈরি করো।
উত্তর: পিরামিড রচনাটি পড়ে আমি যেসব তথ্য জানতে পেরেছি তার তালিকা নিম্নরূপ-
ক. পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম।
খ. গিজে অঞ্চলের তিনটি পিরামিড নির্মিত হয়েছে রাজা খুকু, খাফরা ও সেনকাওরার সময়।

গ. গিজে অঞ্চলের তিনটি পিরামিডের ভূমিতে দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৭৫৫ ফুট, ৭০৬ ফুট এবং ৩৪৬ ফুট। এগুলোর উচ্চতা যথাক্রমে, ৪৮১ ফুট, ৪৭১ ফুট এবং ২১০ ফুট।
ঘ. পিরামিড বানাতে ২৩ লক্ষ টুকরা পাথরের প্রয়োজন হয়েছিল।
ঙ. মিশরের ভেতরে ও বাইরে আরও পিরামিড আছে।

প্রশ্ন ০৪: মমি কী? ‘পিরামিড’ রচনাটি পড়ে মমি সম্পর্কে তুমি যা জানতে পেরেছ তা লেখো।
উত্তর: প্রাচীনকালে মানুষ মারা গেলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার দেহ পচন থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করা হতো। সংরক্ষিত এই মৃতদেহকে মমি বলে। ‘পিরামিড” রচনাটি পড়ে আমি জানতে পেরেছি যে, মিশরের সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে রাখা হতো। সম্রাটরা ধারণা করতেন যে, তাঁদের শরীর যদি পচে যায়, তবে তাঁরা অনন্ত জীবন পাবেন না। এই ধারণা থেকেই তাঁরা তাঁদের মৃতদেহকে সংরক্ষণ করতে চাইতেন।

প্রশ্ন ০৫: নিচের শব্দগুলো থেকে একই অর্থযুক্ত শব্দ ‘পিরামিড’ অধ্যায় থেকে খুঁজে লেখো। অবাক, জোগাড়, কামরা, মহিমা, আকাঙ্ক্ষা।
উত্তর: অবাক – আশ্চর্য; জোগাড় – সংগ্রহ; কামরা – কুঠুরি; মহিমা – ঐশ্বর্য; আকাঙ্ক্ষা – মনোবাঞ্ছা।

প্রশ্ন ০৬: “পিরামিড’ রচনাটি পড়ার আগে পিরামিড সম্পর্কে তুমি কী জানতে? রচনাটি পড়ার পর তোমার ধারণার কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে তা সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: ‘পিরামিড’ রচনাটি পড়ার আগে আমি জানতাম যে, পৃথিবীতে মোট তিনটি পিরামিড রয়েছে। আর এগুলো তৈরি করেছে ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী।

কিন্তু ‘পিরামিড’ রচনাটি পড়ে আমার ধারণা পালটে গেছে। এখন আমি জানতে পেরেছি মিশরে আরও অনেকগুলো পিরামিড রয়েছে এবং মিশরের ফারাওরা (সম্রাটরা) তাঁদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য এগুলো তৈরি করেছিলেন। কেননা, তাঁরা বিশ্বাস করতেন, তাঁদের মৃতদেহ অক্ষত থাকলেই তাঁরা পরলোকে অনন্ত জীবন পাবেন। এছাড়া মৃতদেহ সংরক্ষণের পদ্ধতিকে যে “মমি’ বলা হয় রচনাটি পড়ে আমি তাও জানতে পেরেছি।

প্রশ্ন ০৭: তোমার জানা যেকোনো পুরোনো স্থাপত্য সম্পর্কে একটি বিবরণমূলক লেখা লেখো।

ষাট গম্বুজ মসজিদ

নাম শুনলেই মনে হবে ৬০টি গম্বুজের মসজিদ এটি। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বাংলাদেশের তিনটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে অন্যতম বাগেরহাট জেলা। বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে ষাট গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। এটি দেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মসজিদ। ধারণা করা হয়, খানজাহান আলী (র.) ১৫০০ শতাব্দীতে এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করেন। এটি মূলত খানজাহান আলীর বৈঠক করার দরবার হল ছিল। এর পাথরগুলো আনা হয়েছিল রাজমহল থেকে। এতে তুঘলকি ও জৈনপুরী নির্মাণশৈলী সুস্পষ্ট। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভেতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা।

পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভেতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮.৫ ফুট পুরু। এ মসজিদের নামকরণ নিয়ে রয়েছে রহ্ম্য। এ মসজিদে গম্বুজের সংখ্যা মোট ৮১। ৭ লাইনে ১১ টি করে ৭৭ টি এবং চার কোনায় ৪টি মোট ৮১টি। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলে এ মসজিদের নাম হয়েছে ষাটগম্বুজ মসজিদ। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, গম্বুজগুলো ৬০টি প্রস্তরনির্মিত স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলেই নাম ষাটগম্বুজ হয়েছে। কালের বিবর্তনে লোকমুখে ৬০ গম্বুজ বলতে বলতে ষাট গম্বুজ নামকরণ হয়ে যায়, সেই থেকে এটি ষাট গম্বুজ নামে পরিচিত।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – শব্দের অর্থ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – যতিচিহ্ন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – বাক্য
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায় – চারপাশের লেখার সাথে পরিচিত হই
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – প্রায়োগিক লেখা
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: গান


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।