|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – প্রায়োগিক লেখা

৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ: আলোচ্য অনুচ্ছেদে প্রায়োগিক লেখা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় লেখাকে কীভাবে সৃজনশীল করে ফুটিয়ে তুলতে হয় অনুচ্ছেদটিতে তাই তুলে ধরা হয়েছে। এখানে প্রয়োগিক লেখার নমুনা হিসেবে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস কামাল উদ্দীন মাহমুদের লেখা একটি চিঠি তুলে ধরা হয়েছে।

সেই চিঠিতে তিনি দেশকে শত্রুমুক্ত করে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মাকে সান্ত্বনা দিয়ে তাঁর দোয়া সঙ্গে আছে বলা হয়েছে। তাঁর মনে জমে থাকা অনেক ঘটনা মাকে শোনানোর অপেক্ষা দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এভাবেই অনুচ্ছেদটিতে একটি চিঠিকে হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অনুচ্ছেদটিতে চিঠির,বৈশিষ্ট্য ও লেখার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ

প্রায়োগিক লেখার ধারণা

বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা রচনা বা বাস্তব জীবনে সরাসরি প্রয়োজনে আসে, এরূপ লেখনীকে প্রায়োগিক লেখা বলা হয়। যেমন: রোজনামচা বা চিঠিপত্র। প্রায়োগিক লেখায় সাধারণত লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মতামত বা ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে আয়ত্ত বা অনুসরণ করে এর বিষয়বস্তু তৈরি হয় না বরং এগুলোতে রচয়িতার ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বা পর্যবেক্ষণ প্রাধান্য পায়। তাই এ ধরনের লেখাকে প্রায়োগিক লেখা বলা হয়। এক অর্থে বলতে গেলে প্রায়োগিক লেখা হলো সরাসরি বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতার নিরিখে লেখকের ব্যক্তিগত উপলব্ধির বয়ান।

প্রায়োগিক লেখার বৈশিষ্ট্য

প্রায়োগিক লেখায় যথেষ্ট সৃজনশীলতার পরিচয় থাকলেও এসব লেখার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। সেসব নিয়ম বা বৈশিষ্ট্য মেনেই প্রায়োগিক লেখার কাজ সম্পন্ন করতে হয়। নিচে এসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
• প্রায়োগিক লেখা বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
• এ ধরনের লেখায় সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি থাকে।

• এ ধরনের লেখা ব্যক্তিগত, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনের নিরিখে হতে পারে।
• প্রায়োগিক লেখা সাধারণত স্বতন্ত্র ও সৃজনশীল হয়ে থাকে।
• এ ধরনের লেখার ক্ষেত্রে স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় রাখতে হয়।
• এ ধরনের লেখায় প্রয়োজনে তথ্য-উপাত্তও যুক্ত হতে পারে।
• প্রায়োগিক লেখায় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি লিখন-দক্ষতাও প্রয়োজন।

প্রায়োগিক লেখা রচনার উপায়

প্রায়োগিক লেখা রচনার জন্য সৃজনশীল মানসিকতা অপরিহার্য। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা, মতামত, ইচ্ছা ইত্যাদি ফুটিয়ে তুলতে হয়। এ ধরনের লেখায় যেহেতু লেখকের ব্যক্তিগত বিষয়ের সন্নিবেশ ঘটে, তাই লেখককে প্রথমেই ভাবতে হবে কাকে উদ্দেশ করে এ লেখা রচনা করা হচ্ছে। তিনি বয়সে লেখকের ছোটো না বড়ো, সম্মানীয় নাকি বন্ধুসম – এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রায়োগিক লেখা রচনা করতে হয়। যদি রোজনামচা হয়, সেটিকে কীভাবে আকর্ষণীয় করে ফুটিয়ে তোলা যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

চিঠি হোক বা রোজনামচা হোক শব্দ চয়নে, বাক্য প্রয়োগে সচেতন হতে হবে। এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে পাঠক পরিতৃপ্তি পান। প্রতিটি বাক্য হবে সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে। এছাড়াও পরিস্থিতির সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ প্রায়োগিক লেখাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই সেদিকে লক্ষ রেখে এমন লেখা রচনা করা বাঞ্ছনীয়। ডায়েরি, রোজনামচা, দিনলিপি, দিনপঞ্জিকা এগুলো যেহেতু প্রায়োগিক লেখা, তাই এসব বিষয়ের মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।

কোন ধরনের লেখাকে আমরা প্রায়োগিক লেখা বলব

প্রায়োগিক লেখা মূলত এক ধরনের সৃজনশীল লেখা। তবে সৃজনশীল লেখা হলেই একে প্রায়োগিক লেখা বলা যাবে না। কেননা, প্রায়োগিক লেখা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেরই অংশ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে প্রায়োগিক লেখার প্রয়োজন হয়। যেমন— প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কোনো চাহিদা, প্রত্যাশা বা মতামত জ্ঞাপনের জন্য আমরা আবেদনপত্র লিখি।

আবার ব্যক্তিগত আবেগ, অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করার জন্য আমরা রোজনামচা বা-দিনলিপি লিখি। তবে এসব লেখাকে আরও আকর্ষণীয় ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে আমরা এর বক্তব্য, উপস্থাপনশৈলীসহ নানা বিষয়ে গুরুত্ব দিই। সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়ে থাকি। অর্থাৎ, বাস্তব জীবনে ব্যবহৃত এমন লেখা, যাতে সৃজনশীলতার পরিচয় রয়েছে, সেসব লেখাকেই প্রায়োগিক লেখা বলা যেতে পারে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. বাস্তবতার অনুগামী থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়ের লিখিত উপস্থাপনকে কী বলা হয়?
উত্তর: প্রায়োগিক লেখা।

প্রশ্ন-২. ডায়েরি, দিনলিপি, দিনপঞ্জিকা, রোজনামচা কীসের উদাহরণ?
উত্তর: প্রায়োগিক লেখা।

প্রশ্ন-৩. প্রায়োগিক লেখায় কীসের প্রতিফলন ঘটে?
উত্তর: লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মতামত বা ইচ্ছার।

প্রশ্ন-৪. কোন ধরনের লেখা আমাদের বাস্তব নিয়মতান্ত্রিক জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: প্রায়োগিক লেখা।

প্রশ্ন-৫. কোন ধরনের লেখায় স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় রাখতে হয়?
উত্তর: প্রায়োগিক লেখায়।

প্রশ্ন-৬. প্রায়োগিক লেখায় কী প্রাধান্য পায়?
উত্তর: ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতি বা পর্যবেক্ষণ।


রোজনামচা

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা রকম ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার কোনো কোনোটি আমরা লিখে রাখি। প্রতিদিনের ঘটা এসব ঘটনা লিখে রাখাকে ‘দিনলিপি’ বলে। দিনলিপি বা রোজনামচায় কোনো ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনে ঘটে যাওয়া বিশেষ কিছু ঘটনা লিখিত থাকে। ব্যক্তি সেখানে নিজের সঙ্গে দেশ-কাল, সমাজ-পরিবেশ, আচার-সংস্কৃতির তুলনা করার সুযোগ পায় ।

দিনলিপি একটি সৃজনশীল বিবরণী। এককথায় বলতে গেলে দিনলিপি হচ্ছে জীবনের আয়না। স্মৃতিকাতর মানুষ দিনলিপির পাতায় চোখ রেখে অতীতে অবগাহন করে। প্রকৃতপক্ষে, এটি একজন শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষের ভালো অভ্যাস। ব্যক্তিজীবনে দিনলিপির প্রয়োজন অনেক। এর মাধ্যমে মানুষ তার জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্তাকারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। এর দ্বারা অতীতের তথ্যকে ভবিষ্যতের যেকোনো কাজে ব্যবহার করা যায়। দিনলিপি ব্যক্তিজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা কখনো কখনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে।

দিনলিপির কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে—
• দিনলিপি সাধারণত নিত্যদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা হয়।
• দিনলিপিতে তারিখ ও সময় উল্লেখ করতে হয়।
• সাধারণত দিনলিপির পরিসর সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। তাই মূল বিষয়টি এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করতে হয়।
• সাধারণত দিনলিপিতে ঘটনার বর্ণনা ধারাবাহিকভাবে লেখা হয়।
• দিনলিপিতে সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ নয়; বরং নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাকে বর্ণনা করা হয়।
• দিনলিপি মূলত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির বয়ান।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১: দিনলিপি কাকে বলা হয়?
উত্তর: প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তারিখ অনুযায়ী লিখে রাখাকে দিনলিপি বলা হয়।

প্রশ্ন-২: দিনলিপিতে ব্যক্তির কী লেখা থাকে?
উত্তর: দিনলিপিতে ব্যক্তির প্রাত্যহিক জীবনে ঘটে যাওয়া বিশেষ কিছু ঘটনা লিখিত থাকে।

প্রশ্ন-৩: বিশেষভাবে কোন প্রায়োগিক লেখা ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে?
উত্তর: দিনলিপি ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।

প্রশ্ন-৪: সাধারণত দিনলিপিতে ঘটনার বর্ণনা কীসের নিরিখে হয়ে থাকে?
উত্তর: সাধারণত দিনলিপিতে ঘটনার বর্ণনা নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ে থাকে।

প্রশ্ন-৫: কোন প্রায়োগিক লেখায় ঘটনাকে ধারাবাহিক বর্ণনা করা হয়?
উত্তর: দিনলিপিতে ঘটনাকে ধারাবাহিক বর্ণনা করা হয়।


চিঠি

চিঠি বা পত্র হলো দূরে থাকা একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের লিখিত উপায়ে যোগাযোগের একটি মাধ্যম। নানান কারণে আামাদের চিঠি লিখতে হয়। বিভিন্ন কারণে অনেক সময় আমাদের পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে দূরে অবস্থান করার প্রয়োজন পড়ে। সে সময় তাদের কাছে চিঠি লিখলে তারা খুশি হয়।

এছাড়া বন্ধুবান্ধবের কাছেও অনেক সময় আমাদের চিঠি লিখতে হয়। বিদ্যালয়ে কখনো কখনো প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র লেখার প্রয়োজন হয়। এর বাইরে নিজেরা কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে আমন্ত্রণপত্র রচনার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া এলাকার কোনো সমস্যা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সংবাদপত্রে পত্র লেখার দরকার হয়। তাই বিভিন্ন ধরনের চিঠি বা পত্র লিখতে জানা খুবই জরুরি।

চিঠি বা পত্র নানা রকমের হতে পারে। যেমন: ব্যক্তিগত চিঠি, দরখাস্ত বা আবেদনপত্র ইত্যাদি। একেক ধরনের চিঠি লেখার সময়ে একেক ধরনের নিয়ম বা ছক মেনে চলতে হয়।

চিঠি লেখার সময় বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখা আবশ্যক। এগুলো হলো-
• শুরুতে তারিখ এবং স্থানের নাম লিখতে হবে।
• সম্বোধন দিয়ে চিঠি শুরু করতে হবে।
• চিঠির প্রথম দিকে বয়স ও মর্যাদা অনুযায়ী সম্ভাষণ করে সালাম বা প্রণাম, শুভেচ্ছা বা শুভাশিস জানাতে হবে।
• চিঠির বক্তব্য যতটা সম্ভব গোছানো, স্পষ্ট ও সহজ-সরল হতে হবে।
• বক্তব্য শেষে বিদায় জানাতে হবে এবং নিচে প্রেরকের নাম লিখতে হবে।
• এরপর চিঠিটি খামে ভরে এর ওপর প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা লিখে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।

চিঠির গঠনকাঠামো বা আঙ্গিক: চিঠির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন অংশে কী লেখা হয় এবং কোন রীতিতে লেখা হয়, তার একটা নির্দিষ্ট ছক আছে। সেই ছককে বলা হয় গঠনকাঠামো বা আঙ্গিক। গঠনকাঠামোর দিক থেকে ব্যক্তিগত চিঠির দুটো অংশ থাকে। যথা: ক. ভেতরের অংশ; খ. বাইরের অংশ।

ক. চিঠির ভেতরের অংশ: চিঠির ভেতরের অংশ পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো-
১. ঠিকানা: পত্রের ডান দিকে ওপরের কোনায় যেখান থেকে পত্র লেখা হচ্ছে, সেখানকার ঠিকানা লিখতে হবে।
২. তারিখ: ঠিকানার ঠিক নিচে যে তারিখে পত্র লেখা হচ্ছে, সেই তারিখ দিতে হবে। তারিখ দুইভাবে লেখা যায়। যেমন- ১ জানুয়ারি ২০২৩ অথবা ০১.০১.২০২৩

৩. সম্ভাষণ: পত্রের বাম দিকে যাকে পত্র লেখা হচ্ছে তাকে উপযুক্ত সম্ভাষণ করতে হবে। গুরুজন কিংবা সমবয়সি বন্ধুবান্ধবকে সম্বোধন করার ভাষা আলাদা। যেমন:
ক. গুরুজন আত্মীয় হলে: শ্রদ্ধেয় আব্বা, পরম পূজনীয় বাবা, শ্রদ্ধাভাজনাসু মা ইত্যাদি।
খ. গুরুজন আত্মীয় না হলে: মান্যবরেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, শ্রদ্ধেয়, শ্রদ্ধাভাজনেষু [মেয়েদের বেলায়: মাননীয়াসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, শ্রম্বেয়া, শ্রদ্ধাভাজনাসু ইত্যাদি)

গ. সমবয়সি বন্ধুদের বেলায়: প্রিয় আনিস, প্রীতিভাজন সোহ্লে, প্রীতিভাজনেষু, বন্ধুবরেষু [মেয়েদের বেলায় প্রিয় নীলিমা, প্রীতিভাজনীয়াসু] ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে কেবল নাম লিখেও সম্বোধন করা চলে। যেমন: সাজু, তোর পাঠানো চিঠি ও বই গতকালের ডাকে পেয়েছি।
ঘ. সম্পর্কে বা বয়সে ছোটোদের সম্বোধনে: স্নেহের মারুফ, স্নেহভাজন গৌতম, স্নেহাস্পদেয়, কল্যাণীয়। [মেয়েদের বেলায়: স্নেহের নীলা, স্নেহভাজনীয়াসু, কল্যাণীয়াসু] ইত্যাদি।

৪. মূল পত্রাংশ: এরপর এক বা একাধিক অনুচ্ছেদে পত্রের মূলবক্তব্য গুছিয়ে লিখতে হয়। বক্তব্যের প্রথমে বা শেষে কুশল- সংক্রান্ত প্রশ্ন (কেমন আছ?) বা প্রত্যাশা | আশা করি, তোমরা সবাই ভালো আছ] থাকতে পারে। বিদায় সম্ভাষণ ও নাম স্বাক্ষর বক্তব্য শেষ হলে পত্রের শেষ দিকে সমাপ্তিসূচক পদ সালামান্তে, প্রণামান্তে, শুভেচ্ছান্তে ইত্যাদি লেখা হয়। তারপর সম্পর্ক অনুসারে বিনীত, স্নেহধন্য, প্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, (মেয়েদের বেলায়: বিনীতা, স্নেহধন্যা, প্রীতিধন্যা, প্রীতিমুগ্ধা), তোমারই, তোরই, আপনারই, শুভাকাঙ্ক্ষী বা শুভার্থী লিখে তার নিচে নিজের নাম লেখা হয়। আগে এ ক্ষেত্রে ইতি লেখা হতো। এখন অনেকেই লেখেন না

খ. চিঠির বাইরের অংশ: চিঠির বাইরে খামের বা পোস্টকার্ডের ডান দিকে প্রাপকের (যিনি পাবেন তাঁর) নাম ও ঠিকানা লিখতে হয়। আর বাম দিকে লিখতে হয় প্রেরকের (যিনি চিঠি পাঠাচ্ছেন তাঁর) নাম। বাংলাদেশে বা পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষায়ই ঠিকানা লেখা চলে। তবে সাধারণভাবে বিদেশে চিঠি লিখলে ঠিকানা ইংরেজিতে লেখা উচিত।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. দূরে থাকা একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের লিখিত যোগাযোগের মাধ্যমকে কী বলে?
উত্তর: চিঠি বা পত্র।

প্রশ্ন-২. গঠনগত দিক থেকে চিঠির কয়টি অংশ রয়েছে?
উত্তর: দুটি অংশ।

প্রশ্ন-৩. চিঠির শুরুতে কী লিখতে হয়?
উত্তর: তারিখ ও জায়গার নাম।

প্রশ্ন-৪. চিঠির কোথায় বক্তব্য বিষয় লিখতে হয়?
উত্তর: মূল পত্রাংশ।

প্রশ্ন-৫. চিঠির ভেতরের অংশ কয়টি ভাগে বিভক্ত?
উত্তর: পাঁচটি অংশে।

প্রশ্ন-৬. চিঠির কোন দিকে সম্ভাষণ লিখতে হয়?
উত্তর: বাম পাশে।

প্রশ্ন-৭. প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা কোথায় লেখা হয়?
উত্তর: খামের ওপর।

প্রশ্ন-৮. চিঠির কোথায় বিদায় সম্ভাষণ ও নাম-স্বাক্ষর লিখতে হয়?
উত্তর: পত্রের শেষে।


প্রশ্ন-১: আমাদের দেশে নানান ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও পেশার মানুষ বাস করে। দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য সবার মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক জরুরি। এ বিষয়টি উপলব্ধি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব বর্ণনা করে তোমার বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।

পাংশা, রাজবাড়ী
৮ এপ্রিল ২০২৩

প্রিয় জাহান,
শুভেচ্ছা নিও। আশা করি ভালো আছ। আমি ভালো আছি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ তোমাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব সম্পর্কে লিখতে বসেছি। তুমি তো জান, প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে নানা ধর্মের, নানা জাতির, নানান পেশার মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ডেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধেও এ দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে। জাতীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন আমাদের দীর্ঘকালের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যেরই ফসল।

তবু সমাজের কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থে সাম্প্রদায়িক হামলার মতো গর্হিত কাজ করে যাচ্ছে। এমনটি কাম্য হতে পারে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শুধু একটি দেশের ঐক্য রক্ষার জন্যই জরুরি নয় বরং দেশের উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। কেননা, নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সদ্ভাব বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি সুখী, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে।

ইতি
তোমার বন্ধু
জেসি


প্রশ্ন- ০২: তোমার বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। তুমি তোমার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে একটি রোজনামচা লেখো।

২৫ বৈশাখ ১৪৩০
সোমবার
রাত ১০টা ২৫ মিনিট
ঢাকা

আজ আমাদের বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. সনজীদা খাতুন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রখাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাদী মোহাম্মদ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ। শুরুতে আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন আমাদের বাংলার শিক্ষক প্রদীপ মজুমদার। মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমরা শুনতে থাকি। আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

দুপুরবেলায় স্কুলের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজের। খাবার বিরতির পর আমরা সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশন করি। এটি ছিল আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা। এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশেষ অতিথির কন্ঠে গান পরিবেশন, যা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এ সময় শ্রোতাদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় । আমি রবীন্দ্রকবিতার আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করি। আমার হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ড. সন্‌জীদা খাতুন। এই স্মরণীয় মুহূর্তটি আমি কখনোই ভুলব না।


প্রশ্ন-৩: পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত চিঠিটি পড়েছ নিশ্চয়ই। সেখানে মায়ের প্রতি সন্তানের গভীর ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। এবার অনুরূপ আবেগ প্রকাশ করে সন্তানের কাছে মা লিখতে পারেন এমন একটি চিঠি লেখো।

উত্তর: পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত চিঠির অনুরূপ আবেগ প্রকাশিত হয়েছে এমন একটি চিঠি নিচে দেওয়া হলো-

লক্ষীপুর
৬ মার্চ ২০২৩

স্নেহের লিমন,
ভালোবাসা নিও। আমাদের ছোটো সন্তান হিসেবে তুমি অনেক আদরের। সবসময় অনেক ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে আগলে রেখেছি। সেই ছোটোবেলায় যখন তোমার বয়স মাত্র তিন বছর, তখন তুমি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলে। তোমার সুস্থতার জন্য কত চোখের জল ফেলেছি তা হয়তো তুমি বুঝবে না। আজ আমার বুকটা বড়ো শূন্য লাগে। লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে তুমি আমার কাছ থেকে বহুদূরে। কী খাও, কীভাবে ঘুমাও তা নিয়ে সারাদিন চিন্তায় থাকি। আমি জানি, নিশ্চয় তুমি একদিন অনেক বড়ো হবে।

তোমাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব। দেশ ও মানুষের কল্যাণে তুমি একদিন আত্মনিয়োগ করবে। ভালো মানুষ হবে— সেই আশা থেকেই নিজেকে সামলে যাচ্ছি। সেদিন তোমার চাচা-চাচি বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। কত ভালো ভালো খাবার রান্না করেছি। সবাই খেয়েছে। কেবল তুমি ছিলে না। আমি লুকিয়ে চোখের জল মুছেছি। তোমাকে ছাড়া কী করে খাই বলো? তোমার এ কষ্ট সার্থক হোক— সব সময় এই দোয়া করি। আমাদের জন্য ডেবো না। মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। নিজের প্রতি যত্ন নিও। স্কুল বন্ধ হলে বাড়ি চলে এসো। তোমাকে দেখার জন্য মন কাঁদে। আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন।

ইতি
তোমার মা


পাঠ্যবইয়ে প্রদত্ত চিঠিটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ক. চিঠির শুরুতে ‘মা’ লেখাটি চিঠির কোন অংশকে নির্দেশ করে?
উত্তর: চিঠির শুরুতে ‘মা’ লেখাটি চিঠির সম্বোধন অংশকে নির্দেশ করে ।

খ. ‘আমার প্রতিশ্রুতি আমি কখনো ভুলব না।’— পাঠ্যবইয়ের চিঠির এই বাক্যটিতে লেখকের কোন আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ‘আমার প্রতিশ্রুতি আমি কখনো ভুলব না।’— পাঠ্যবইয়ের চিঠির এই বাক্যটিতে লেখকের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে।

গ. চিঠির লেখক ‘রক্তের নদীতে সাঁতার কাটি’ কথাটি দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: উক্ত কথাটি দ্বারা চিঠির লেখক মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে তাঁদের সাহসী ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকাকে তুলে ধরেছেন। একসময় তিনি এতটাই সংবেদনশীল ছিলেন যে মুরগি জবাই করাও সহ্য করতে পারতেন না।

অথচ আজ দেশকে শত্রুমুক্ত করতে তিনি এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, পাশে রক্তাক্ত লাশ দেখেও ভয় করেন না। অজস্র মৃত্যু ও রক্তাক্ত পথ মাড়িয়েও তিনি আজ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেন। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও সেখানে হৃদয়স্পর্শীভাবে ফুটে উঠেছে।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – শব্দের অর্থ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – যতিচিহ্ন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – বাক্য
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৬ষ্ঠ অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: গান


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৫ম অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।