|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায় – চারপাশের লেখার সাথে পরিচিত হই

৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায়: সাহিত্য বা পাঠ্যবইয়ের লেখার বাইরেও প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের লেখা দেখি। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এগুলোর আকার, রং ও উপাদান নানা রকম হতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাবসায়িক প্রচারণা, জনসংযোগ, সর্বসাধারণের জন্য নির্দেশনা বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর মতো নানামুখি কাজে এ সকল লেখা ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড প্রভৃতির কথা উল্লেখ করা যায়। প্রচলিত লেখার বাইরে ব্যতিক্রম এ সকল লেখাও ভাষিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এ ধরনের প্রায়োগিক লেখার মাধ্যমে অল্পকথায় সুনির্দিষ্ট বার্তা সহজেই বহুসংখ্যক মানুষকে জানানো যায়। এ কারণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, প্রচারণা বা জনসংযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের লেখার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রায়োগিক লেখা

যে লেখার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের বা বিশেষ কোনও উদ্দেশ্যে সকলের কাছে তথ্য বা বার্তা স্পষ্ট করা যায় তা-ই প্রায়োগিক লেখা। সৃজনশীল ও পেশাগত ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে মনের ভাব প্রকাশে প্রায়োগিক লেখা ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে লেখার অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে। ভাষা-নির্মিতির প্রয়োগ কৌশল সঠিকভাবে অনুসরণ করে প্রায়োগিক লেখা চর্চা করা হয়। এতে ভাষা ও শৈলী নির্ধারিত হয় ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুসারে।

প্রায়োগিক লেখার বৈশিষ্ট্যসমূহ

প্রায়োগিক লেখার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
ক. প্রায়োগিক লেখার প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনে লেখা হয়।
খ. এ লেখা তথ্য বা বার্তাভিত্তিক; কখনওই বিবৃতিভিত্তিক নয়।
গ. বিষয়ভিত্তিক ও সাধারণ মানুষের পরিচিত শব্দে প্রায়োগিক লেখা চর্চা করা হয়।

ঘ. সহজে যোগাযোগ করার জন্য সরল বাক্যই এ লেখায় প্রযোজ্য।
ঙ. জনসংযোগ গুণ থাকার ফলে প্রায়োগিক লেখার মাধ্যমে ভাষার প্রসার বিস্তৃত হয়।
চ. ভাষার আবেদন ক্ষমতা এ লেখার মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
ছ. সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রায়োগিক লেখার প্রভাব লক্ষণীয়।
জ. প্রায়োগিক লেখা যেকোনো আকস্মিক ঘটনা বা আন্দোলনের বিষয়বস্তুকে জনসমাজে সুপরিচিত করে তুলবার মোক্ষম মাধ্যম।

প্রায়োগিক লেখা প্রস্তুতের কৌশল

ভাষা প্রয়োগ করে বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ স্থাপন করা প্রায়োগিক লেখার মূল উদ্দেশ্য। যে বিষয়ে লেখা হবে তা যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্যে সে বিষয়ে সকল তথ্য জেনে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রায়োগিক লেখা সাধারণ মানুষের কাছে নিয়মিত পাঠ্য কিছু নয়।

নৈমিত্তিক জীবন থেকে মনোযোগ সরিয়ে মানুষকে এ লেখার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলা আবশ্যক। তার জন্য প্রয়োজন চুম্বক তথ্যভিত্তিক সংক্ষিপ্ত লেখা। সুপরিচিত শব্দে, সহজ বাক্যে লেখা হলেই কেবল তা লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। তার পাশাপাশি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে বাক্যের সাজসজ্জা। পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে ডিজাইন করে লিখলে তা আকর্ষণীয় হয়। কোনো কোনো চুম্বক শব্দ বড়ো অক্ষরে লেখা যায়।

বিশেষ কার্যক্রম বা অফার বড়ো অক্ষরে লিখলে প্রস্তুতকারীর উদ্দেশ্য সহজে বাস্তবায়িত হয়। আমন্ত্রণপত্রে অনুষ্ঠানের উপলক্ষ্য ও বিশেষ ব্যক্তির নাম রঙিন করে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব। ব্যক্তিগত, বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সকল প্রায়োগিক লেখাতেই সময়সূচি স্থান ও লেখার উদ্দেশ্য সংক্ষিপ্ত কিন্তু মনোযোগ তৈরিতে সক্ষম হতে হবে।


১. ব্যানার

ব্যানার হলো প্রতীক, লোগো, স্লোগান কিংবা কোনো বার্তা সংবলিত এক টুকরা কাপড়। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় চেতনা, পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা প্রভৃতি প্রকাশে সংক্ষিপ্তভাবে ব্যানার লেখা হয়। ব্যানার মূলত মিছিল, জনসমাবেশ বা জনাকীর্ণ স্থানে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পোস্টারের তুলনায় ব্যানার আকারে অনেক বড়ো হয়। ব্যানার সাধারণত এমনভাবে বানানো হয়, যেন অনেক দূর থেকেও পড়া যায়। ব্যানার তৈরির উপকরণ হিসেবে কাপড়, রং, চক, পেনসিল, হাতুড়ি, স্কেল, তুলি, রং মেশানোর পাত্র ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নির্দেশনার ভিত্তিতে ব্যানার তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যানারের কাপড়, রং, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের মাপ নির্দেশনাকারীর নির্দেশ অনুসারে নির্বাচন করা হয়।

ব্যানার তৈরির কৌশল

• ব্যানার লেখার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করতে হবে।
• বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে মাপ, রং ও ধরন অনুযায়ী কাপড় নিতে হবে।
• ব্যানারে যে বিষয়টি লেখা হবে, সেটা লেখার জন্য কাপড়ের ওপর চক ও স্কেলের সাহায্যে দাগ টানতে হবে যেন প্রতিটি লেখা একই মাপের হয়।
• এরপর দাগের ভেতরে যে তথ্য দেওয়া হবে, সেটা লিখতে হবে। লেখাটা প্রথমে চক দিয়ে লিখে নিতে হবে যেন কোনো ভুল হলে তা সংশোধন করার উপায় থাকে।

• লেখা শেষ হলে ব্যানার যে রং দিয়ে লেখা হবে তা ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
• ব্যানারটা সমান মেঝে বা দেয়ালে টাঙিয়ে চকের লেখার ওপর রং ও তুলির সাহায্যে লিখতে হবে।
• লেখা শেষ হলে রং শুকানোর জন্য ব্যানারটা কিছুক্ষণ বাতাসে রাখতে হবে।
• ব্যানারটিকে চাইলে হাতুড়ি ও পেরেকের সাহায্যে কাঠের ফ্রেমে আটকেও ব্যবহার করা যায়।
• সম্প্রতি কম্পিউটারে ব্যানার ডিজাইন করে পিডিসিতে মুদ্রণ করে ডিজিটাল ব্যানার তৈরি করা হয়।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. প্রতীক, লোগো, স্লোগান কিংবা কোনো বার্তা সংবলিত এক টুকরা কাপড়কে কী বলে?
উত্তর: ব্যানার।

প্রশ্ন-২. কীসের ওপর ব্যানার দেখা হয়?
উত্তর: কাপড়ের।

প্রশ্ন-৩. সম্প্রতি ডিজিটাল ব্যানার কীসে ডিজাইন করা হয়?
উত্তর: কম্পিউটারে।

প্রশ্ন-৪. সম্প্রতি ডিজিটাল ব্যানার কীসে মুদ্রণ করা হয়?
উত্তর: পিডিসিতে।


২. ফেস্টুন

ব্যানারের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ হলো ফেস্টুন। সাধারণত ওপর থেকে নিচের দিকে ঝোলানো যায় এমন স্লোগান-সংবলিত কাগজ বা কাপড়ের টুকরা হলো ফেস্টুন। এটি দেখতে আয়তাকার। মূলত, মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কাগজ বা কাপড়ে লিখে এটি তৈরি করা হয়। প্রচার- প্রচারণার জন্য ভবনের দেয়ালে, বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের মঞ্চের দুই পাশে, গাছে বা খুঁটিতে ফেস্টুন টানানো হয়। র্যালি ও মিছিলে ফেস্টুন হাতে বহন করা হয়।

ফেস্টুনের বৈশিষ্ট্য

ফেস্টুনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলো-
• ফেস্টুন দেখতে আয়তাকার।
• ফেস্টুন সহজে বহনযোগ্য।
• ফেস্টুন তৈরির খরচ তুলনামূলক কম।
• ফেস্টুন টেকসই হয়।

ফেস্টুন তৈরির কৌশল

ফেস্টুন তৈরির জন্য বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। সেগুলো হলো-
• ফেস্টুনের বিষয়বস্তু ঠিক করে নিতে হবে।
• বিষয়বস্তু অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপে কাগজ বা কাপড় কেটে নিতে হবে।
• লেখার জন্য কাগজ, কাপড়, স্কেল, কলম, পেনসিল, রং, তুলি, ঝোলানোর জন্য দড়ি বা সুতা প্রভৃতি সংগ্রহ করতে হবে। • বিষয়বস্তু অনুযায়ী লেখা লিখতে হবে।
• ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় ছবি আঁকতে হবে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. সাধারণত ওপর থেকে নিচের দিকে ঝোলানো যায় এমন স্লোগান-সংবলিত কাগজ বা কাপড়ের টুকরাকে কী বলে?
উত্তর: ফেস্টুন।

প্রশ্ন-২. ফেস্টুন কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: প্রচার-প্রচারণার জন্য।

প্রশ্ন-৩. ফেস্টুন কীসের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ?
উত্তর: ব্যানারের।

প্রশ্ন-৪. ফেস্টুন দেখতে কেমন?
উত্তর: আয়তাকার।


৩. পোস্টার

পোস্টার হলো কাগজে ছবি এবং শব্দের একটি মুদ্রিত নকশা। যা দৃশ্যমান প্রদর্শনীর মাধ্যম হিসেবে কোনো বিষয়বস্তু প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ, প্রচারণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো পোস্টার। বর্তমানে পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণা ব্যাপক জনপ্রিয়। পোস্টারের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা, বিভিন্ন পণ্যের প্রচারণা ইত্যাদি করা হয়।

প্রচার-প্রচারণার জন্য পোস্টার ব্যবহারের ইতিহাস বহু পুরোনো। কাগজ আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে মানুষ দেয়ালে, পাথরে, গাছে বিভিন্ন নিয়মকানুন, রীতিনীতি, গ্রেফতারি পরোয়ানা, সরকারি নির্দেশসহ নানাবিধ বিষয় লিখে বা সংকেত দিয়ে রাখত। এই বিষয়টিই প্রাক্- আধুনিক যুগে পোস্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ভারতবর্ষে ছাপানো পোস্টার ব্যবহার শুরু হয়েছে ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা দখলের পর। সে সময় সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দেবদেবীর ছবিও পোস্টার আকারে প্রকাশ করা হতো।

পোস্টারের ধরন

পোস্টার বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন:
• রাজনৈতিক প্রচারণামূলক পোস্টার
• সামাজিক সচেতনতামূলক পোস্টার
• বিনোদনমূলক পোস্টার
• শিক্ষামূলক পোস্টার
• ধর্মীয় প্রচারণামূলক পোস্টার
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনমূলক পোস্টার

পোস্টার তৈরির উপকরণ

পোস্টার তৈরির জন্য কাগজ, কলম, মার্কার, পেনসিল, আঠা ইত্যাদি উপকরণের প্রয়োজন হয়।

পোস্টার তৈরির কৌশল

• পোস্টারের বিষয়বস্তু ঠিক করে নিতে হবে।
• বিষয়বস্তু অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপে কাগজ কেটে নিতে হবে।
• পোস্টারের শুরুতে শিরোনাম দিতে হবে।
• শিরোনামের নিচে মূল বিষয়বস্তু লিখতে হবে।
• ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় ছবি যোগ করতে হবে।
• নিচে প্রচারকের নাম-ঠিকানা দিতে হবে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. কাগলে ছবি এবং শব্দের মুদ্রিত নকশাকে কী বলে?
উত্তর: পোস্টার।

প্রশ্ন-২. পোস্টার কেন তৈরি করা হয়?
উত্তর: কোনো বিষয়বস্তু প্রচারের উদ্দেশ্যে।

প্রশ্ন-৩. কাগজ আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে মানুষ কোথায় নানাবিধ বিষয় লিখত?
উত্তর দেয়ালে, পাথরে ও গাছে।

প্রশ্ন-৪. ভারতবর্ষে ছাপানো পোস্টার ব্যবহার শুরু হয়েছে কত সালে?
উত্তর: ১৭৫৭ সালে।

প্রশ্ন-৫. পোস্টারের একটি ধরনের নাম লেখো।
উত্তর: শিক্ষামূলক পোস্টার।

প্রশ্ন-৬. পোস্টার তৈরির জন্য কী কী প্রয়োজন হয়?
উত্তর: কাগজ, কলম, মার্কার, আঠা ইত্যাদি।


৪. প্ল্যাকার্ড

প্ল্যাকার্ড হলো মুদ্রিত বা হাতে লেখা একটি নোটিশ, যা দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রকাশ্যে বহনযোগ্য। প্ল্যাকার্ড বহনের জন্য এর হাতল লাগানো থাকে। সাধারণত শক্ত কাগজ, ধাতব পাত, কাঠ বা প্লাস্টিক পর্দায় লিখে প্ল্যাকার্ড তৈরি করা হয়। বিভিন্ন মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ প্রভৃতিতে অংশগ্রহণকারীদের প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। তাছাড়া বিভিন্ন স্টেশন কিংবা জনবহুল স্থানে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যও প্ল্যাকার্ড কাজে লাগে।

প্ল্যাকার্ডের বৈশিষ্ট্য

প্ল্যাকার্ডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলো-
• প্ল্যাকার্ড হলো সহজে বহনযোগ্য এক ধরনের নোটিশ।
• এর মাধ্যমে সহজে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
• মিছিল বা শোভাযাত্রার বক্তব্য-বিষয়কে সহজে উপস্থাপন করা যায়।
• প্ল্যাকার্ড রাস্তার দিক নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্ল্যাকার্ড তৈরির কৌশল

প্ল্যাকার্ড তৈরির জন্য বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। সেগুলো হলো-
• যে বিষয়ের প্ল্যাকার্ড বানাতে চাই তা ঠিক করে নেওয়া।
• প্ল্যাকার্ড তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ।
• শক্ত কাগজ, ধাতব পাত, কাঠ প্রভৃতি দিয়ে লেখার জন্য ফলক তৈরি।
• ফলকের ওপরে রং-তুলি, কলম, পেনসিল বা মার্কার দিয়ে বিষয়বস্তু অনুযায়ী লেখা।
• বহনের জন্য প্ল্যাকার্ডের সঙ্গে কাঠ, পাইপ প্রভৃতি দিয়ে হাতল লাগানো।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. কারো দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রকাশ্যে বহনযোগ্য লিখিত বা মুদ্রিত ফলক কোনটি?
উত্তর: প্ল্যাকার্ড।

প্রশ্ন -২. প্ল্যাকার্ড বহনের জন্য এতে কী লাগানো থাকে।
উত্তর: হাতল।

প্রশ্ন-৩: সাধারণত প্ল্যাকার্ড কীসের ওপর লিখে তৈরি করা হয়?
উত্তর: শুক্ত কাগজ, ধাতব পাত, কাঠ বা প্লাস্টিক পর্দায়।

প্রশ্ন-৪. কাদের প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়?
উত্তর: বিভিন্ন মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ প্রভৃতিতে অংশগ্রহণকারীদের।


৫. বিলবোর্ড

বিলবোর্ড হচ্ছে একটি সমতল পৃষ্ঠ বা বোর্ড, যেখানে বড়ো বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করা হয়। সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনের ফলককে বিলবোর্ড বলে। আমরা রাস্তাঘাটে কিংবা ভবনের ছাদে নানা রকম পণ্য ও অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণার জন্য বিলবোর্ড দেখে থাকি।

এগুলোতে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন থাকে, তেমনি পণ্য ও সৈবার বিবরণও থাকে। বিলবোর্ড বড়ো ধাতব পাত ব্যবহার করে তৈরি করা হয়ে থাকে। তাছাড়া বর্তমানে ডিজিটাল বিলবোর্ডও দেখা যায়। সেগুলোতে টেলিভিশনের মতো পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিলবোর্ডকে ব্রিটিশ ইংরেজিতে হোর্ডিং বলে।

বিলবোর্ডের বৈশিষ্ট্য

বিলবোর্ডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলো—
• বিলবোর্ড একটি প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের প্রচারণা-সংক্রান্ত বোর্ড।
• বিলবোর্ডে পণ্য, সেবা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় থাকে।
• কোনো কোনো বিলবোর্ডে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।
• প্রতিষ্ঠানটি বা পণ্যটি কী ধরনের সেই বিষয়ে ধারণা থাকে বিলবোর্ডে।

বিলবোর্ড তৈরির কৌশল

বিলবোর্ড তৈরির জন্য বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। সেগুলো হলো-
• যে বিষয়ের বিলবোর্ড বানাতে চাই তার তথ্য সংগ্রহ।
• বিলবোর্ড তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ। টিন, কাঠ, স্টিল প্রভৃতি দিয়ে লেখার জন্য ফলক তৈরি।
• ফলকের ওপরের দিকে পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় লেখা।
• নিচে পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য লেখা।
• নিচে যোগাযোগের ঠিকানা লেখা।

পঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. একটি সমতল পৃষ্ঠ বা বোর্ড যেখানে বড়ো বিজ্ঞাপন বা বিজ্ঞাপ্তি প্রপোস্ট করা হয়, তাকে কী বলে?
উত্তর: বিলবোর্ড।

প্রশ্ন-২. বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনের ফলককে কী বলে?
উত্তর: বিলবোর্ড।

প্রশ্ন-৩. আমরা কোথায় বিলবোর্ড দেখে থাকি?
উত্তর: রাস্তাঘাটে কিংবা ভবনের ছাদে।

প্রশ্ন-৪. বিলবোর্ডে কী কী থাকে?
উত্তর: প্রয়োজনীয় তথ্য এবং পণ্য ও সেবার বিবরণ।

প্রশ্ন-৫. বিলবোর্ড তৈরি করতে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: বড়ো ধাতব পাত।

প্রশ্ন-৬. টেলিভিশনের মতো পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় কোন ধরনের বিলবোর্ডে?
উত্তর: ডিজিটাল বিলবোর্ডে।


৬. নোটিশ

নোটিশ একটি ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা অর্থ বিজ্ঞপ্তি। এটি মূলত লেখা হয় অন্যকে কোনো তথ্য সম্পর্কে অবগত করার জন্য। স্কুল- কলেজ, অফিস-আদালত কিংবা অন্যান্য জায়গায় মানুষকে তথ্য জানানোর জন্য নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নোটিশ টাঙানোর জন্য একটি বোর্ড থাকে। একে নোটিশ বোর্ড বলে।

কোথাও কোথাও আবার বেশি জরুরি নোটিশ পাঠ করেও শোনানো হয়। দূরের মানুষের কাছে অনেক সময় নোটিশ চিঠির আকারে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেও পাঠানো হয়। নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন: পাবলিক নোটিশ, প্রকৃত নোটিশ, গঠনমূলক নোটিশ ইত্যাদি।

নোটিশের বৈশিষ্ট্য

নোটিশের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলো-
• আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানোর মাধ্যম হিসেবে নোটিশ ব্যবহৃত হয়।
• নোটিশ চিঠির আকারে বা ইমেইলে অন্যকে পাঠানো যায়।
• নোটিশের মধ্যে কোনোকিছু মান্য করা বা পালন করার নির্দেশ থাকে।
• স্কুল-কলেজে ছুটি, খেলাধুলা, ভর্তি পরীক্ষা বা অন্য কোনো তথ্য জানানোর মাধ্যম হিসেবে নোটিশ ব্যবহৃত হয়।
• সাধারণত নোটিশ বোর্ডে টাঙানো থাকে।

নোটিশ তৈরির কৌশল

নোটিশ তৈরির জন্য বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। সেগুলো হলো-
• লেখার বিষয়বস্তু ঠিক করে নেওয়া।
• প্রয়োজনীয় কাগজ ও লেখার সরঞ্জাম সংগ্রহ করা।
• সবচেয়ে ওপরে বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ কথাটি লেখা।

• ওপরের দিকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির বিষয়বস্তু নিয়ে শিরোনাম দেওয়া।
• বিষয়বস্তু অনুযায়ী শিরোনামের নিচে লেখা।
• লেখার সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো প্রয়োজনে মোটা হরফে লেখা
• লেখা বিজ্ঞপ্তিটি নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া।
• দূরের গন্তব্যে নোটিশ পাঠাতে হলে যথাস্থানে তা পৌঁছে দেওয়া।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. নোটিশ কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: ইংরেজি।

প্রশ্ন-২. নোটিশ শব্দের বাংলা অর্থ কী?
উত্তর: বিজ্ঞপ্তি।

প্রশ্ন-৩. অন্যকে কোনো তথ্য সম্পর্কে অবগত করার জন্য কী লেখা হয়?
উত্তর: নোটিশ।

প্রশ্ন-৪. নোটিশ টাঙানোর জন্য যে বোর্ড থাকে তাকে কী বলে?
উত্তর: নোটিশ বোর্ড।

প্রশ্ন-৫. কোথাও কোথাও বেশি জরুরি নোটিশ কী করা হয়?
উত্তর: পাঠ করে শোনানো হয়।

প্রশ্ন-৬. দূরের মানুষের কাছে নোটিশ কীভাবে পাঠানো হয়?
উত্তর: চিঠির আকারে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে।

প্রশ্ন-৭. নোটিশের মধ্যে কী নির্দেশ থাকে?
উত্তর: কোনোকিছু মান্য করা বা পালন করার নির্দেশ।

প্রশ্ন-৮. স্কুল-কলেজে ছুটি, খেলাধুলা, ভর্তি পরীক্ষা বা অন্য কোনো তথ্য কীভাবে জানানো হয়?
উত্তর: নোটিশের মাধ্যমে।


৭. লিফলেট

লিফলেট প্রচার-প্রচারণার জন্য লিখিত বা মুদ্রিত ছোটো কাগজ। ছোটো কাগজে লিখে লিফলেট তৈরি করা হয়। এটি কাগজের এক পাশে বা দুই পাশে লিখে তৈরি করা হয়। বিভিন্ন তথ্য ও পণ্যের প্রচার-প্রচারণার জন্য লিফলেট তৈরি করা হয়। লিফলেটের মাধ্যমে কম সময়ে নির্দিষ্ট এলাকায় অধিক মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানো যায়।

লিফলেট প্রচারের উদ্দেশ্য

লিফলেট বিভিন্ন কারণে প্রচার করা হয়। যেসব উদ্দেশ্য সামনে রেখে লিফলেট প্রচার করা হয় তা হলো-
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রচারণার জন্য;
• কোনো বিষয় নিয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য;
• কোনো সংবাদ দ্রুততম সময়ে অধিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য;
• নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে সরাসরি সংবাদ বা তথ্য পৌছানোর জন্য;
• স্বল্প খরচে নির্দিষ্ট এলাকায় অধিক মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর জন্য।

লিফলেটের ধরন

লিফলেট বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন:
• রাজনৈতিক প্রচারণামূলক লিফলেট
• সামাজিক সচেতনতামূলক লিফলেট
• বিনোদনমূলক লিফলেট
• শিক্ষামূলক লিফলেট
• ধর্মীয় প্রচারণামূলক লিফলেট
• বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনমূলক লিফলেট

লিফলেট তৈরির উপকরণ

লিফলেট তৈরির জন্য কাগজ, কলম, মার্কার, পেনসিল ইত্যাদি উপকরণের প্রয়োজন হয়।

লিফলেট তৈরির কৌশল

• প্রথমেই লিফলেটের বিষয়বস্তু ঠিক করে নিতে হবে।
• বিষয়বস্তু অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপে কাগজ কেটে নিতে হবে।
• লিফলেটের শুরুতে শিরোনাম দিতে হবে।
• শিরোনামের নিচে মূল বিষয়বস্তু লিখতে হবে।
• ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় ছবি যোগ করতে হবে।
• নিচে প্রচারকের নাম-ঠিকানা দিতে হবে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. প্রচার-প্রচারণার জন্য লিখিত বা মুদ্রিত ছোটো কাগজকে কী বলে?
উত্তর: লিফলেট।

প্রশ্ন-২. কীসে লিখে লিফলেট তৈরি করা হয়?
উত্তর: ছোটো কাগজে।

প্রশ্ন-৩. কীসের মাধ্যমে কম সময়ে নির্দিষ্ট এলাকায় অধিক মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানো যায়?
উত্তর: লিফলেটের।

প্রশ্ন-৪. জনগণের মাঝে লিফলেট কেন প্রচার করা হয়?
উত্তর: সচেতনতা সৃষ্টির জন্য।

প্রশ্ন-৫. লিফলেটের একটি ধরনের নাম লেখো।
উত্তর: সামাজিক সচেতনতামূলক লিফলেট।

প্রশ্ন-৬. লিফলেটের নিচে কী দিতে হবে?
উত্তর: প্রচারকের নাম-ঠিকানা।


৮. মোড়কের লেখা

মোড়ক হলো কাগজের টুকরা, প্লাস্টিক বা অন্যান্য উপাদান, যা কোনো কিছু ঢেকে রাখে এবং রক্ষা করে। আমরা দোকান থেকে যখন কোনো পণ্য ব্রুয় করি তা একটি মোড়কে করে আমাদের দেওয়া হয়। এই মোড়কের গায়ে সেই পণ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য থাকে। পণ্যের নাম, পণ্যের উপাদান উপকরণ, উৎপাদন ও মেয়াদ, পণ্যের দামসহ নানা তথ্য মোড়কের গায়ে লেখা থাকে। মোড়ককে আকর্ষণীয় করতে অনেক সময় মোড়কের গায়ে বিভিন্ন ছবিও থাকে।

মোড়কে লেখার বৈশিষ্ট্য

মোড়কের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলো হলো-
• মোড়কের লেখায় পণ্যের নাম এবং পণ্যটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকে।
• পণ্য উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ থাকে।
• পণ্য সংরক্ষণের নিয়মের বর্ণনা থাকে।
• ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য মোড়কের গায়ে সুন্দর নকশা থাকে।
• মোড়কের গায়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেডমার্ক থাকে।
• পণ্যের উপাদান উপকরণ মোড়কের গায়ে পরিমাণসহ উল্লেখ থাকে।

মোড়ক তৈরির কৌশল

মোড়ক তৈরির জন্য বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। সেগুলো হলো-
• কোন পণ্যের জন্য মোড়ক তৈরি করা হবে তা নির্ধারণ করতে হবে।
• পণ্যটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে হবে।
• মোড়ক তৈরির উপকরণ, কাগজ, কলম, পেনসিল, স্কেল, আঠা সংগ্রহ করতে হবে।
• পণ্যটির দাম, উপাদান, উপকরণ, পরিমাণ, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লিখতে হবে।
• মোড়ককে আকর্ষণীয় করতে এর গায়ে নানা রকম নকশা, ছবি যুক্ত করতে হবে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. মোড়কের কাজ কী?
উত্তর: কোনো কিছু ঢেকে রাখা এবং রক্ষা করা।

প্রশ্ন-২ দোকান থেকে কোনো পণ্য কিনলে তা কীসে করে আমাদের দেওয়া হয়?
উত্তর: মোড়কে করে।

প্রশ্ন-৩, পণ্যের নাম, পণ্যের উপাদান-উপকরণ, উৎপাদন ও মেয়াদ পণ্যের দামসহ নানা তথ্য কোথায় লেখা থাকে?
উত্তর: মোড়কের গায়ে।

প্রশ্ন-৪, অনেক সময় মোড়কের গায়ে বিভিন্ন ছবি থাকে, কেন?
উত্তর মোড়ককে আকর্ষণীয় করার জন্য।

প্রশ্ন-৫ ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য মোড়কের গায়ে কী থাকে?
উত্তর: সুন্দর নকশা।


৯. বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন হলো এক ধরনের একমুখী যোগাযোগ পদ্ধতি যার মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার এবং বিক্রির চেষ্টা করে। বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা এবং বিক্রি বাড়ানো। তবে সব সময় যে বিক্রির উদ্দেশ্যে সফল হয় তা নয়। তবে মানুষের অবচেতন মনে ওই পণ্যটির একটি ছাপ থেকে যায়। আর এটিই মূলত বিজ্ঞাপনের কাজ।

বিজ্ঞাপন তৈরির কৌশল

দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে বিজ্ঞাপন লেখার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন । যেমন:
১. ছোটো এবং সহজ বাক্যে সরাসরি পণ্যের কথা বলতে হবে। যেন প্রথম বাক্যটিই পাঠকের মনে আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
২. বাক্যের প্রবাহ আকর্ষণীয় হতে হবে।
৩. সংক্ষেপে আকর্ষণীয়ভাবে মূল বিষয়কে তুলে ধরতে হবে।
৪. বিজ্ঞাপনের শেষ বাক্যে চমক থাকতে হবে।
৫. বিজ্ঞাপনটি বারবার পড়ে ভুলত্রুটিগুলো শুধরে তারপর চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপনের প্রয়োজনীয়তা

পণ্যের চাহিদা সৃষ্টিতে বিজ্ঞাপনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি চাহিদা ও জোগানের সমতা সৃষ্টি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি এবং বিক্রেতাকে সহায়তা প্রদান করে। বিজ্ঞাপন রুচির বৈচিত্র্য, ব্রুয়ের সুবিধা, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব হ্রাস, শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও সামাজিক কল্যাণে, কাজ করে।

বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য

বিজ্ঞাপনের বেশ কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন:
১. ক্রেতার চাহিদাকে উজ্জীবিত করা।
২. পরীক্ষামূলক ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।
৩. পণ্যের ব্যবহার সুনিশ্চিত করা।
৪. পণ্য সম্পর্কে ভোক্তার মনে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা।
৫. অভ্যাস বা আচরণের পরিবর্তন ঘটানো।
৬. ব্যবসায়ীদের তথ্য জানানো।

বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যম

বিজ্ঞাপনের প্রচারের অনেক মাধ্যম রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:
১. অনলাইন বিজ্ঞাপন
২. মোবাইল ফোনে বিজ্ঞাপন
৩. পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে ছাপানো বিজ্ঞাপন
৪. ইমেইলে পাঠানো বিজ্ঞাপন
৫. বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা বিজ্ঞাপন

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. যে একমুখী যোগাযোগ পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি পণ্যের কথা তাদের পণ্যের প্রচার, প্রসার এবং বিক্রির চেষ্টা করে, তার নাম কী?
উত্তর: বিজ্ঞাপন।

প্রশ্ন-২. বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা এবং পণ্যের বিক্রি বাড়ানো।

প্রশ্ন-৩. বিজ্ঞাপনের ভাষায় আকর্ষণ এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিল না থাকলে কী হয়?
উত্তর: বিজ্ঞাপন দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

প্রশ্ন-৪. বিজ্ঞাপনে ছোটো এবং সহজ বাক্যে বলতে হবে কেন?
উত্তর: যাতে প্রথম বাক্যটিই পাঠকের মনে আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।

প্রশ্ন-৫. বিজ্ঞাপনের চমক কোথায় থাকতে হবে?
উত্তর: শেষ বাক্যে।

প্রশ্ন-৬, বিজ্ঞাপন প্রচারের একটি মাধ্যমের নাম লেখো।
উত্তর: পত্রিকা।


১০. আমন্ত্রণপত্র

কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের আগমন প্রত্যাশা করে যে পত্র লেখা হয়, তাকে আমন্ত্রণপত্র বলা হয়। বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হয়। জন্মদিন, বিয়ে, ভোজসভা ইত্যাদি উপলক্ষ্যে এ ধরনের আনুষ্ঠানিকপত্র ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দিবস পালন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, জন্মজয়ন্তী, মৃত্যুবার্ষিকী, পুনর্মিলন, সংবর্ধনা শোকসভা ইত্যাদি উপলক্ষ্যেও আমন্ত্রণপত্রের প্রয়োজন হয়।

আমন্ত্রণপত্রের বিভিন্ন অংশ

আমন্ত্রণপত্র অন্যান্য পত্র থেকে একটু আলাদা ধরনের। এ ধরনের পত্রে নিচের অংশগুলো থাকে।
১. পত্ৰশীর্ষ: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য আমন্ত্রণ প্রযোজ্য বলে সাধারণত এ ধরনের পত্রের শীর্ষে ধর্মীয় মঙ্গলসূচক কথা ব্যবহৃত হয় না। তবে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের পত্রশীর্ষে কেউ কেউ মুসলমান রীতিতে ‘পরম করুণাময়ের নামে এবং হিন্দু রীতিতে ‘শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ” লিখে থাকেন। পত্রশীর্ষে অনুষ্ঠানের শিরোনামও থাকতে পারে। যেমন: স্বাধীনতা উৎসব ও লোকমেলা ২০২৩’।

২. সম্ভাষণ: আমন্ত্রণপত্রের প্রাপককে সম্বোধন করার জন্য বিশেষ কিছু শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এদের মধ্যে ‘সুধী’ শব্দটি অধুনা বহুল প্রচলিত। এছাড়া সৌম্য, সবিনয় নিবেদন, জনাব, মহাশয়, মহোদয়, মহাত্মন, মান্যবর, সুহৃদ, সুজন ইত্যাদি সম্ভাষণও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

৩. মূল অংশ: আমন্ত্রণের উপলক্ষ্য জানিয়ে তাতে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। অনুষ্ঠানের উপলক্ষ্য, তারিখ, সময় ও স্থানের উল্লেখ থাকতে হয়। এ ধরনের পত্রের ভাষা সহজ, সরল, সাবলীল ও স্পষ্ট হওয়া উচিত। বক্তব্যের মধ্যে বিনম্র ভাবও থাকা চাই।

৪. ইতি বা সমাপ্তি: এ ধরনের পত্রে একসময় ‘পত্র দ্বারা নিমন্ত্রণের ত্রুটি মার্জনীয়’, ‘নিবেদন ইতি’ ইত্যাদি লেখার চল ছিল। আধুনিক রীতিতে এগুলো লেখা হয় না।
৫. নাম-স্বাক্ষরে সৌজন্য: চিঠির বিষয় অনুসারে এ ধরনের পত্রে ‘বিনীত’, ‘বিনয়াবনত’, ‘শ্রদ্ধাবনত’, ‘ভবদীয়’ ইত্যাদি বাম দিকে লিখে তার নিচে আমন্ত্রণকারীর নাম লিখতে হয়।

৬. ঠিকানা ও তারিখ: আমন্ত্রণপত্রের বাম দিকে তারিখ এবং ডান দিকে আমন্ত্রণকারীর নামের নিচে ঠিকানা লেখাই প্রচলিত নিয়ম।
৭. অনুষ্ঠানসূচি: কোনো কোনো অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে আলাদাভাবে তারিখ ও স্থানসহ অনুষ্ঠানসূচি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এর ফলে আমন্ত্রিত ব্যক্তি অনুষ্ঠানের প্রকৃতি, ব্যাপ্তিকাল ইত্যাদি সম্পর্কে আগেভাগেই ধারণা করে নিতে পারেন।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. গেনো অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের শুভাগমন প্রত্যাশা করে যে পত্র লেখা হয় তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: অনিন্ত্রণপত্র।

প্রশ্ন-২. অনুষ্ঠানের শিরোনাম আমন্ত্রণপত্রের কোথায় থাকতে পারে?
উত্তর: পরশীর্ষে।

প্রশ্ন-৩. সৌম্য, সবিনয় নিবেদন, জনাব, মহাশয়, মহোদয়, মহাখন, মান্যবর, সুহৃদ সুজন ইত্যাদি সম্ভাষণ কোথায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে?
উত্তর: আমন্ত্রণপত্রে।

প্রশ্ন-৪ আমন্ত্রণপত্রের ভাষা কেমন হবে?
উত্তর: সহজ, সরল, সাবলীল ও স্পষ্ট।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন-১: পাঠ্যবই বা গল্পের বইয়ের লেখা বাদে তোমরা দৈনন্দিন জীবনে আর কত রকমের লেখা দেখতে পাও বলতে পারো?
উত্তর: পাঠ্যবই বা গল্পের বইয়ের লেখা বাদে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ লেখা দেখতে পাই। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে— টু-লেট, দেয়ালিকা, যানবাহনের পিছনের লেখা যেমন: রিকশা, ট্রাক ও বাসের পিছনে, ইলেকট্রনিক ব্যানার, শুভেচ্ছা কার্ড প্রভৃতি। টু-লেট মূলত ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে একপ্রকার বিজ্ঞাপন বার্তা। অফিস, বাড়ি, ছাত্রাবাস, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় এর মাধ্যমে।

দেয়ালিকা হচ্ছে দেয়াল লিখন। বিভিন্ন মনীষীর বাণী, অসংগতি বা দিবসভিত্তিক দেয়ালিকা করা হয়। যানবাহনের পিছনেও অনেক ধরনের লেখা থাকে। যেমন: একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবনের কান্না; নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন; সাবধান প্রভৃতি। এছাড়া আমাদের আশপাশে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ব্যানার দেখতে পাওয়া যায়। যেখানে নানা রকম জনকল্যাণমূলক তথ্য প্রচার করা হয়। শুভেচ্ছা কার্ডও অনেক বেশি প্রচলিত। সাধারণত শুভেচ্ছা কার্ডে কোনো দিবসভিত্তিক উদযাপন বা শুভকামনা জানিয়ে শুভবার্তা প্রেরণ করা হয়।

প্ৰশ্ন-২: সম্প্রতি পাঠ্যবই বা গল্পের বইয়ের বাইরে কেউ কি এমন কোনো লেখা দেখেছ যা বিশেষভাবে মনে আছে বা গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর: সম্প্রতি পাঠ্যবই বা গল্পের বইয়ের বাইরে দেয়াল লিখন দেখেছি। যেটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ লেগেছে। দেয়াল লিখন এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা খুব সহজেই কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে ফুটিয়ে তোলা যায়। গত একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরিতে যাওয়ার সময় শহিদ মিনার সংলগ্ন একটি দেয়ালে বেশ কিছু লেখা দেখতে পাই এবং তার সবই ছিল আমাদের মাতৃভাষার ইতিহাসভিত্তিক স্মৃতিবিজড়িত বাণী ও গানের পক্তি।

যেটা দেখে তৎক্ষণাৎ আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে, আমার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। এটি এমন একটি পদ্মা যেখানে কোনো বার্তা প্রত্যক্ষভাবে প্রচার করা সম্ভব। কোনো বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া সম্ভব হয় দেয়াল লিখনের মাধ্যমে।

প্রশ্ন-৩: পড়াশোনার কাজের বাইরে আর কি কোনো ধরনের কাজে কেউ কিছু লেখো? কোন ধরনের লেখা লিখে থাকো?
উত্তর: পড়াশোনার কাজের বাইরে আরও বিভিন্ন ধরনের লেখা লিখতে হয় আমাদের। পড়াশোনার বাইরে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার বদৌলতে প্রায়ই ভিন্নতর লেখালেখির প্রয়োজন হয়।

যেকোনো সংগঠনে সদস্য সংগ্রহের প্রচারে সাংগঠানিক লেখা, দিবসভিত্তিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র লেখা, বিভিন্ন কর্মশালার রিপোর্ট রাইটিং, পত্রিকায় প্রচারের জন্য গল্প-প্রবন্ধ, আর্টিকেল প্রভৃতি বিষয়ভিত্তিক লেখা লিখে থাকি আমরা। অনুষ্ঠান উপস্থাপনার স্প্রিন্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা-বিজ্ঞাপনেও ভিন্নধর্মী লেখার প্রচলন রয়েছে। এভাবেই পড়াশোনা ব্যতীত বিতর্ক-বক্তৃতা, সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনে যুক্ত থাকার দরুন বিভিন্ন বিষয়ে লেখার অভিজ্ঞতা গড়ে ওঠে।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – ধ্বনির উচ্চারণ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের উচ্চারণ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – শব্দের শ্রেণি ও বাক্যের শ্রেণি
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – শব্দের অর্থ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৪র্থ পরিচ্ছেদ – যতিচিহ্ন
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৫ম পরিচ্ছেদ – বাক্য


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৪র্থ অধ্যায়” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।