|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ – শব্দের অর্থ

৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ: বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে শব্দের ভূমিকাই মুখ্য। কেননা, বিভিন্ন ধরনের শব্দ নিয়ম মেনে যুক্ত হয়েই বাক্য গঠিত হয়। যেকোনো আলোচনা, বা কথা বলার সার্থকতা তাই যথাযথ শব্দ প্রয়োগের ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে। এ কারণে বাক্যে অর্থ বুঝে শব্দ প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথা, যা বলতে চাই তা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। ক্ষেত্র বিশেষে কথার মানেও বদলে যেতে পারে। আলোচ্য অধ্যায়টিতে তাই একই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ, বিপরীত ও প্রতিশব্দ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও এর ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবে।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ

শব্দের অর্থ

একই শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার ভাষা ব্যবহারের অন্তর্নিহিত কারণ হচ্ছে মনের ভাব প্রকাশ। মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে মানুষ অর্থবোধক শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে এবং বাক্য তৈরি করে। শব্দ বা শব্দগুচ্ছের অর্থই মূলত বস্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোগ ঘটায়। অভিধানে প্রতিটি শব্দের যে অর্থ থাকে সেই অর্থের বাইরেও নানা অর্থে শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন: ‘কাটা’ একটি শব্দ। এর অর্থ হলো কোনো কিছু বাদ দেওয়া। কিন্তু যদি বলি ‘টিকিট কাটা’ বা মেঘ কেটে গেছে’ সে ক্ষেত্রে এর অর্থ পরিবর্তন হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। অর্থাৎ শব্দের অর্থে নির্দিষ্ট প্রতিবেশ বা ব্যবহারের ক্ষেত্র আছে।

মুখ্য অর্থ: যে সকল শব্দ তাদের আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই মুখ্য অর্থ। একটি শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে মনে যে ছবি ভেসে ওঠে সেটাই শব্দের মুখ্য অর্থ। যেমন— ‘মাথা’ শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের মুখ্য অর্থ। এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

গৌণ অর্থ: যে সকল শব্দ তাদের আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত না হয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়; ওই অন্য অর্থগুলো তাদের গৌণ অর্থ। বক্তা তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী শব্দের মুখ্য অর্থকে উপেক্ষা করে শব্দের ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করতে পারে। যেমন- তিনি গ্রামের মাথা — এখানে ‘মাথা’ শব্দ শোনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনো ছবি ভেসে ওঠে না, সম্মানীয় কোনো ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. ভাষা ব্যবহারের অন্তর্নিহিত কারণ কী?
উত্তর: মনের ভাব প্রকাশ করা।

প্রশ্ন-২. বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোগ ঘটে কীসের মাধ্যমে?
উত্তর: শব্দ বা শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে।

প্রশ্ন-৩. আমাদের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে গেলে কী দরকার?
উত্তর: শব্দশ্রেণির সুবিন্যস্ত প্রয়োগ হওয়া দরকার।

প্রশ্ন-৪. যে সকল শব্দ তাদের আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাদের কী বলে?
উত্তর: মুখ্য অর্থ।

প্রশ্ন-৫. একটি শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে মনে যে ছবি ভেসে ওঠে সেটি শব্দের কী?
উত্তর: মুখ্য অর্থ।

প্রশ্ন-৬. যে সকল শব্দ তাদের আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত না হয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়; ওই অন্য অর্থগুলোকে কী বলে?
উত্তর: ওই সকল শব্দের গৌণ অর্থ।


প্রতিশব্দ

ভাষায় এমন অনেক শব্দ রয়েছে, যাদের অর্থ অভিন্ন। এরকম অভিন্ন অর্থবিশিষ্ট শব্দকে প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, প্রতিশব্দ বলতে বোঝায় এমন কিছু শব্দকে যেগুলো কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে। প্রতিশব্দগুলো বাক্যে একটি অন্যটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রচনাকে প্রাঞ্জল করার জন্য প্রতিশব্দ জানা থাকা প্রয়োজন।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. ভাষায় এমন অনেক শব্দ রয়েছে, যাদের অর্থ অভিন্ন। এরকম অভিন্ন অর্থবিশিষ্ট শব্দকে কী বলে?
উত্তর: প্রতিশব্দ।

প্রশ্ন-২. প্রতিশব্দের অন্য নাম কী?
উত্তর: সমার্থক শব্দ।

প্রশ্ন-৩. প্রতিশব্দগুলো কী রকম অর্থ প্রকাশ করে?
উত্তর: কাছাকাছি অর্থ।

প্রশ্ন-৪. রচনাকে প্রাঞ্জল করার জন্য কী জানা প্রয়োজন?
উত্তর: প্রতিশব্দ।


বিপরীত শব্দ

ভাষার প্রধান উপাদান শব্দ। তাই ভাষা ব্যবহার করতে হলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের শব্দ সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। তার মধ্যে এমন কিছু শব্দ আছে যা অন্য কোনো শব্দের বিপরীত ভাব প্রকাশ করে থাকে। বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে এমন কতকগুলো শব্দ আছে, অর্থ ও ভাবের দিক থেকে সেগুলোর রয়েছে বিপরীত অর্থজ্ঞাপক রূপ। যার মাধ্যমে আমরা প্রদত্ত শব্দটির সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ বুঝে থাকি। যেমন- আলোর বিপরীত শব্দ অন্ধকার। স্বর্গের বিপরীত শব্দ নরক। উত্তমের বিপরীত শব্দ অধম। ঊর্ধ্বের বিপরীত শব্দ নিম্ন।

বিপরীত ভাব বা অর্থ প্রকাশক এসব শব্দ বিপরীত শব্দ নামে পরিচিত। কোনো শব্দ ভাব বা অর্থের দিক থেকে অন্য কোনো শব্দের পুরোপুরি বিপরীত হলে তাকে বিপরীত শব্দ বলে। অর্থাৎ, এক জোড়া শব্দ যখন পরস্পর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তখন একটিকে অন্যটির বিপরীত শব্দ বলে। যেমন: দিন’ ও ‘রাত’; ‘উঁচু’ ও ‘নিচু’; ‘ভালো’ ও ‘মন্দ’; ‘শক্ত’ ও ‘নরম’— এগুলো পরস্পর বিপরীত শব্দ।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. কোনো শব্দ ভাব বা অর্থের দিক থেকে অন্য কোনো শব্দের পুরোপুরি বিপরীত হলে তাকে কী বলে?
উত্তর: বিপরীত শব্দ।

প্রশ্ন-২. ভাষার প্রধান উপাদান কী?
উত্তর: শব্দ।

প্রশ্ন-৩. ‘ঠান্ডা’-এর বিপরীত শব্দ কী?
উত্তর: গরম।

প্রশ্ন-৪. “আকর্ষণ’-এর বিপরীত শব্দ কী?
উত্তর: বিকর্ষণ।

প্রশ্ন-৫. ‘ইতিবাচক’-এর বিপরীত শব্দ কী?
উত্তর: নেতিবাচক।

প্রশ্ন-৬. ‘নতুন’-এর বিপরীত শব্দ কী?
উত্তর: পুরোনো।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – ধ্বনির উচ্চারণ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের উচ্চারণ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – শব্দের শ্রেণি ও বাক্যের শ্রেণি
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ৩য় পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।