|

৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের গঠন

৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ: শব্দ হলো নানা রকমের অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টি। অর্থাৎ অর্থপূর্ণ বিভিন্ন ধ্বনি নিয়ম মেনে যুক্ত হয়ে যখন অন্য একটি অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে শব্দ বলে। এছাড়া অনেক সময় ধ্বনির বদলে দুটি ছোটো ছোটো শব্দ বা একাধিক শব্দের বিভিন্ন অংশের সমন্বয়েও শব্দ তৈরি হয়। তবে যেভাবেই হোক না কেন শব্দ তৈরির এসকল উপায় বা পদ্ধতিকে শব্দগঠন বলা হয়।

ভাষাকে সমৃদ্ধ করতে শব্দগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি এর বহুমুখী ব্যবহারের পথও সুগম হয়। এ পরিচ্ছেদটিতে তাই শব্দগঠনের ধারণা হিসেবে সমাস-সাধিত শব্দ, উপসর্গ-সাধিত শব্দ, প্রত্যয়-সাধিত শব্দ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।


৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ

শব্দের গঠন

শব্দের মূল উপাদানের সঙ্গে অন্য উপাদান যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে শব্দগঠন। যেমন; ‘দিন’ শব্দটি দিয়ে গঠিত বিভিন্ন শব্দ— সুদিন, দুর্দিন, দিনকাল, দিনমজুর, দিনরাত্রি, দিনাতিপাত, দিনান্ত ইত্যাদি। শব্দ ছাড়া বাক্য হয় না। অর্থপূর্ণ শব্দকে বাক্যে ব্যবহার করে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে। মানুষের মন বিচিত্র ভাবের আধার। আর এজন্য নতুন নতুন শব্দ গঠন করতে হয়। বাংলা ভাষায় বিভিন্ন উপায়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সমাসযোগে শব্দগঠন, উপসর্গযোগে শব্দগঠন ও প্রত্যয়যোগে শব্দগঠন।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. শব্দের মূল উপাদানের সঙ্গে অন্য উপাদান যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
উত্তর: শব্দগঠন।

প্রশ্ন-২. শব্দ ছাড়া কী হয় না?
উত্তর: বাক্য।

প্রশ্ন-৩. মানুষ বাক্যে কী ধরনের শব্দ ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করে?
উত্তর: অর্থপূর্ণ।

প্রশ্ন-৪. শব্দ গঠনের কয়েকটি উপায় দেখো।
উত্তর: ১. প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন; ২. উপসর্গযোগে শব্দ গঠন; ৩. সমাসযোগে শব্দ গঠন।


সমাস

সমাস হচ্ছে একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে এক শব্দগঠন। অর্থাৎ, যেসব শব্দের দুটি অংশই অর্থযুক্ত সেসব শব্দকে বলা হয় সমাস সাধিত শব্দ। সমাস শব্দগঠনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। সমাসের মাধ্যমে গঠিত শব্দের উদাহরণ:

মাতা + পিতা = মাতা-পিতা
দিন + দিন = প্রতিদিন
সিংহ + আসন = সিংহাসন
বিষাদ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
ডাকের + ঘর = ডাকঘর

দিন রাত্রি = দিনরাত্রি
ভাই বোন = ভাই-বোন
আসা + যাওয়া = আসা-যাওয়া
ভালো + মন্দ = ভালোমন্দ
আলু সিদ্ধ আলুসিদ্ধ
টাক + মাথা = টাকমাথা

ত্রি + ফল = ত্রিফলা
চৌ + রাস্তা = চৌরাস্তা
হাত + ঘড়ি = হাতঘড়ি
‘কাজল + কালো = কাজলকালো
ছেলে + ভুলানো = ছেলেডুলানো
মামা + বাড়ি = মামাবাড়ি
মধু + মাখা = মধুমাখা
রান্না ঘর = রান্নাঘর

চা + বাগান = চা-বাগান
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
তেলে ভাজা = তেলেভাজা
লাল + পাড় = লালপেড়ে
গোঁফ + খেজুর = গোঁফখেজুরে
হাত + খড়ি হাতেখড়ি
বউ + ভাত = বউভাতা

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. একাধিক শব্দের একসঙ্গে যুক্ত হয়ে এক শব্দগঠনকে কী বলে?
উত্তর: সমাস।

প্রশ্ন-২ যেসব শব্দের দুটি অংশই অর্থযুক্ত সেসব শব্দকে কী বলা হয়?
উত্তর: সমাস-সাধিত শব্দ!

প্রশ্ন-৩. শব্দগঠনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার নাম কী?
উত্তর: সমাস।

প্রশ্ন-৪. ‘কাজলকালো’ কোন ধরনের শব্দ?
উত্তর: সমাস-সাধিত শব্দ।

প্রশ্ন-৫. ‘বিষাদসিন্ধু’ সমাস-সাধিত শব্দটির গঠন দেখাও।
উত্তর: বিষাদ সিন্ধু


উপসর্গ

উপসর্গ হচ্ছে একধরনের শব্দখণ্ড যা শব্দমূল বা ক্রিয়ামূলের আগে বসে নতুন নতুন শব্দ গঠন করে। অর্থাৎ যেসব শব্দের প্রথম অংশ সাধারণত কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, কিন্তু দ্বিতীয় অংশের সুনির্দিষ্ট অর্থ থাকে, সেসব শব্দকে বলা হয় উপসর্গ-সাধিত শব্দ। উপসর্গযোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ:

অ + কাজ = অকাজ
অ + কৃতজ্ঞ = অকৃতজ্ঞ
অ + খণ্ড = অখণ্ড
অ + সময় অসময়
উপ + কার = উপকার
উপ + লক্ষ্য = উপলক্ষ্য
উপ + জাতি = উপজাতি
প্র + কার = প্রকার
প্র + ক্রিয়া = প্রক্রিয়া

প্র + জন্ম = প্রজন্ম
প্রতি + বাদ = প্রতিবাদ
প্রতি + নিধি = প্রতিনিধি
অ + গভীর = অগভীর
অতি + মারি = অতিমারি
অধি+ বাসী = অধিবাসী
অনা + বৃষ্টি = অনাবৃষ্টি
অনু + রূপ = অনুরূপ
অপ + কর্ম = অপকর্ম

অব + রোধ = অবরোধ
অভি + জাত = অভিজাত
আ + জীবন = আজীবন
উৎ + ক্ষেপণ = উৎক্ষেপণ
উপ + গ্রহ উপগ্রহ
কদ + বেল = কদবেল
গর + হাজির = গরহাজির
দর + দালান = দরদালান
দুঃ + সময় = দুঃসময়

না + বালক = নাবালক
নিঃ + শেষ = নিঃশেষ
নিম + রাজি = নিমরাজি
পরা + জয় পরাজয়
পরি + ত্যাগ = পরিত্যাগ
পাতি + হাঁস = পাতিহাঁস
প্র + গতি = প্রগতি

প্রতি + ধ্বনি = প্রতিধ্বনি
বদ + মেজাজ = বদমেজাজ
বি + শেষ = বিশেষ
বে + দখল = বেদখল
ভরা + পেট = ভরপেট
সম + মান = সম্মান
সু + দিন = সুদিন
হা + তাত = হাভাত

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. যেসব শব্দের প্রথম অংশ সাধারণত কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, কিন্তু দ্বিতীয় অংশের সুনির্দিষ্ট অর্থ থাকে, তাদেরকে কী বলে?
উত্তর: উপসর্গ-সাধিত শব্দ।

প্রশ্ন-২. উপসর্গের কাজ কী?
উত্তর: নতুন শব্দগঠন করা।

প্রশ্ন-৩. অনা, আ, কদ, বে ইত্যাদি কীসের উদাহরণ?
উত্তর: উপসর্গ।

প্রশ্ন-৪. উপসর্গ-সাধিত শব্দের প্রথম অংশ কী প্রকাশ করে না?
উত্তর: অর্থ।

প্রশ্ন-৫. উপসর্গ-সাধিত শব্দের কোন অংশের সুনির্দিষ্ট অর্থ থাকে?
উত্তর: দ্বিতীয় অংশ।

প্রশ্ন-৬. ‘নিমরাজি’ শব্দটির গঠন দেখাও।
উত্তর: নিম + রাজি।


প্রত্যয়

প্রত্যয় হচ্ছে সে ধরনের শব্দখণ্ড যা ক্রিয়ামূল (ধাতু) বা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে। অর্থাৎ, যেসব শব্দের প্রথম অংশ অর্থযুক্ত এবং দ্বিতীয় অংশ অর্থহীন, সেসব শব্দকে বলা হয় প্রত্যয়-সাধিত শব্দ। প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ:

মিঠা + আই = মিঠাই
কৃ + তব্য = কর্তব্য
বিমান + ইক = বৈমানিক
মনু + অ = মানব
কুসুম + ইত= কুসুমিত
√চল্ + অ = চ
পথ + ইক পথিক

দেশ + ঈয় = দেশীয়
পড় + অ = পড়ো
পট্ + অক = পাঠক
দাপ + অ = দাপট
খেলনা
খেল্ + অন্য
মান + অনীয়
উড্ + অন্ত = উড়ন্ত
বাঘ + আ = বাঘা

ঢাকা + আই = ঢাকাই
সিদ্ + আই সেলাই
ঘির্ + আও= ঘেরাও
পড় + আ = পড়া
গাড়ি + আন = গাড়োয়ান
বিবি + আনা = বিবিয়ানা
বাবু + আনি = বাবুয়ানি
শুন্ + আনি = শুনানি
বেত + আনো = বেতানো
পাগল + আমি = পাগলামি
ভি + আরি = ডিখারি
বোমা + আরু = বোমারু
মাত্‌ + আল = মাতাল

রস + আলো রসালো
চাষ + ই = চাষি
ভাল্ + ই = ডালি
দিন + ইক = দৈনিক
পঠ + ইত = পঠিত
নীল + ইমা = নীলিমা
জাল + ইয়া = জালিয়া > জেলে
দীর্ঘ + তর = দীর্ঘতর
পঙ্ক + ইল = পঙ্কিল
চপ্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু
প্ৰাণ + ঈ = প্রাণী
গ্রাম + ঈ = গ্রামীণ
ঝাড় + উ = ঝাড়ু

পেট + উক = পেটুক
লেজ + উড়= লেজুড়
পড় + উয়া = পড়ুয়া
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া
বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা
জাদু + কর = জাদুকর
ডাক্তার + থানা = ডাক্তারখানা
জ্ঞা + ড = জাত
কৃ + তব্য = কর্তব্য
প্রিয় + তম প্রিয়তমা

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. যেসব শব্দের প্রথম অংশ অর্থযুক্ত এবং দ্বিতীয় অংশ অর্থহীন সেসব শব্দকে কী বলা হয়?
উত্তর: ধাতু।

প্রশ্ন-২ প্রত্যয় কোথায় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে?
উত্তর: শব্দের শেষে।

প্রশ্ন-৩. ক্রিয়ামূলের অপর নাম কী?
উত্তর: প্রত্যয়-সাধিত শব্দ।

প্রশ্ন-৪. প্রত্যয়-সাধিত শব্দের কোন অংশ অর্থযুক্ত?
উত্তর: প্রথম অংশ।

প্রশ্ন-৫. ‘কর্তব্য’ শব্দটির গঠন দেখাও।
উত্তর: কৃ + তব্য।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – ধ্বনির উচ্চারণ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের উচ্চারণ
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – শব্দের শ্রেণি ও বাক্যের শ্রেণি


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ৩য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।