|

৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায়: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এবং বিশ্ব দরবারে জায়গা করে নেয়।

তিনি বাংলাদেশের জাতির পিতা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি। এই শিখন অভিজ্ঞতা থেকে আমরা হাজার বছরের পরিক্রমায় বাংলা অঞ্চল থেকে কীভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে এবং এই দীর্ঘ যাত্রায় বঙ্গবন্ধু যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তা জানতে পারব।


৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. প্রাচীনকালে বাংলার মানুষেরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করত?
উত্তর: খাদ্য সংগ্রহ ও শিকার করে।

প্রশ্ন-২. প্রাচীন বাংলার মানুষের জীবন কেমন ছিল?
উত্তর: সংগ্রামমুখর।

প্রশ্ন-৩. বাংলা অঞ্চল প্রাচীনকালে কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
উত্তর: ‘বঙ্গ’।

প্রশ্ন-৪. ১৮ শতক থেকে আমাদের এই অঞ্চল কী নামে পরিচিতি পায়?
উত্তর: ‘বেতাল’ নামে।

প্রশ্ন-৫. কাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে পূর্ব বাংলা অংশ স্বাধীন হয়?
উত্তর: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন-৬. প্রাচীনবাংলা অঞ্চলে কোন কোন স্থানে নগরসভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
উত্তর: পুণ্ড্রনগর, তাম্রলিপ্তি, সমসহ বিভিন্ন স্থানে।

প্রশ্ন-৭. উত্তর ভারতে কোন কোন রাজবংশ আধিপত্য বিস্তার করেছিল?
উত্তর: মৌর্য, কুষাণ, গুপ্তসহ বিভিন্ন রাজবংশ।

প্রশ্ন-৮. উত্তর ভারতের রাজারা কেমন ছিল?
উত্তর: ক্ষমতালোভী আর উচ্চাভিলাষী।

প্রশ্ন-৯. ইউরোপীয় কোন কোন দেশের বণিকরা ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল?
উত্তর: পর্তুগাল, হল্যান্ড, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড।

প্রশ্ন-১০. পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ শুরু হয় কত সাল থেকে?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে।

প্রশ্ন-১১. পাকিস্তানের শাসন-শোষণের অবসান হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৭১ সালে।

প্রশ্ন-১২. বাংলায় সেন রাজবংশ শাসন করেছিল কোন সময়কাল পর্যন্ত?
উত্তর: ১২ শতক এবং ১৩ শতকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত।

প্রশ্ন-১৩. সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?
উত্তর: বিজয় সেন।

প্রশ্ন-১৪. গৌড়া ব্রাহ্মণ্যধর্ম প্রবর্তন করেন কে?
উত্তর: বল্লাল সেন এবং দক্ষণ সেন।

প্রশ্ন-১৫. বাংলার প্রায় সমগ্র অঞ্চল দখল করেন কে?
উত্তর: শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহ্।

প্রশ্ন-১৬. শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহের উপাধি কী ছিল?
উত্তর: ‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’।

প্রশ্ন-১৭. বাংলায় মুঘল শাসকদের আগ্রাসন শুরু হয় কত শতক থেকে?
উত্তর: ১৬ শতক থেকে।

প্রশ্ন-১৮. বাংলায় ছোট ছোট ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গ কী নামে পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: ‘বারো ভূঁইয়া’।

প্রশ্ন-১৯. বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন কারা?
উত্তর: ঈসা খান এবং মুসা খান।

প্রশ্ন-২০. ভারতে মুঘল এবং আফগান শাসকদের মধ্যে কোন যুদ্ধ হয়েছিল?
উত্তর: রাজমহলের যুদ্ধ।

প্রশ্ন-২১. রাজমহলের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
উত্তর: ১৫৭৬ সালে।

প্রশ্ন-২২. মুঘলদের অধীনে বাংলা কী নামে পরিচিতি পায়?
উত্তর: ‘সুবাহ বাংলা’।

প্রশ্ন-২৩. ব্রিটিশ শাসনামলে কর আদায়ের ব্যবস্থা কোথায় প্রবেশ করেছিল?
উত্তর: গ্রামের প্রত্যন্ত অংশে।

প্রশ্ন-২৪. ব্রিটিশ শাসনামলে কোন কোন আন্দোলন হয়?
উত্তর: নীল বিদ্রোহ, স্বদেশি আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ, অসহযোগ আন্দোলন।

প্রশ্ন-২৫. ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলায় বিপ্লবী নারী নেত্রী ছিলেন কে কে?
উত্তর: প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং ইলা মিত্র।

প্রশ্ন-২৬. ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী উপমহাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় কেন?
উত্তর: সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের কারণে।

প্রশ্ন-২৭. ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের শাসনামল কত সাল পর্যন্ত হিল?
উত্তর: ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত।

প্রশ্ন-২৮. সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করতে কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
উত্তর: রাজা রামমোহন রায়।

প্রশ্ন-২৯. পর্দা প্রথার শৃঙ্খল থেকে নারীদের মুক্ত করতে কে ভূমিকা রাখেন?
উত্তর: বেগম রোকেয়া।

প্রশ্ন-৩০. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কে ছিলেন?
উত্তর: একজন ইউরোপীয় কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তক ও দার্শনিক।

প্রশ্ন-৩১. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কোন কলেজে অধ্যাপনা করেন?
উত্তর: কলকাতার হিন্দু কলেজে

প্রশ্ন-৩২. ডিরোজিও এবং তাঁর শিষ্যরা কী আন্দোলন শুরু করেন?
উত্তর ‘ইয়াং বোল’ আন্দোলন।

প্রশ্ন-৩৩. বঙ্গবন্ধু কোন শাসনামলে মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন?
উত্তর: ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলে।

প্রশ্ন-৩৪. বাবন্ধু কেমন নেতা ছিলেন?
উত্তর: মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক।

প্রশ্ন-৩৫. বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে কবে মুক্তি পান?
উত্তর: ১৯৭২ সালে।

প্রশ্ন-৩৬. স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন?
উত্তর: ঘুষখোর এবং দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে।

প্রশ্ন-৩৭. বঙ্গবন্ধু সবার কাছে কী হিসেবে স্বীকৃত?
উত্তর: ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

প্রশ্ন-৩৮. বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত করা হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৭৩ সালের ২৩ মে।


৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় এক কথায় উত্তর

১. প্রাচীনকালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল। বাংলা অঞ্চল এসময় কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
উত্তর: বঙ্গ’।

২. পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ওপর ব্যাপক শোষণ চালায়। এর শুরু হয় কত সাল থেকে?
উত্তর: ১৯৪৭ সাল থেকে।

৩. পাকিস্তানের শাসন-শোষণের অবসান হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এই যুদ্ধ হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৭১ সালে।

৪. সেন রাজবংশ ছিল উচ্চাভিলাষী ব্রাহ্মণ্যবাদী। এই বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?
উত্তর: বিজয় সেন।

৫. সেন বংশের দুজন রাজা গোঁড়া ব্রাহ্মণ্যধর্ম প্রবর্তন করেন। তাদের নাম কী?
উত্তর: বল্লাল সেন এবং লক্ষণ সেন।

৬. ভারতে প্রথম আদমশুমারি থেকে জানা যায় বাংলায় মুসলমানের সংখ্যা বেশি। এই আদমশুমারি হয় কত সালে?
উত্তর: ১৮৭২ সালে।

৭. মুঘল ও আফগান মুসলমানদের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বাংলার সীমান্তে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধের নাম কী?
উত্তর: রাজমহল যুদ্ধ।

৮. মুঘলদের অধীনে এসে বাংলা নতুন নামে পরিচিত হয়। কী নামে?
উত্তর: ‘সুবাহ বাংলা’।

৯. প্রাচীনকালে উপমহাদেশে দুটি ধর্মকে বলা হতো যুগধর্ম। এগুলো কী কী?
উত্তর: হিন্দু ও বৌদ্ধ।


৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় সঠিক উত্তর বাছাই

১. অন্তু যে দেশে বাস করে সেটি প্রাচীনকাল থেকেই বিরল বৈশিষ্ট্যে বৈচিত্র্যময়। অন্তু বাস করে – বেলুচিস্তানে/ পারস্যে/বাংলায়।

২. একজন মহান নেতার নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হয়। তাঁর নাম- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী/ এ. কে. ফজলুল হক/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

৩. জনাব ‘ক’ বাংলা অঞ্চলে মুসলমানদের শাসন শুরু করেন। জনাব ‘ক’ এর নাম- বখতিয়ার খলজী/ ফকরুদ্দিন মোবারক শাহ্/ আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।

৪. একজন মহান নেতার দিকনির্দেশনায় বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়। তিনি হলেন- জুলফিকার আলী ভুট্টো/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান/ বখতিয়ার খলজী।

উত্তর: ১) বাংলায়; ২) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; ৩) বখতিয়ার খলজী; ৪) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান


৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন-১. অড়ি ইতিহাসের বই পড়ে প্রাচীন আমলের বাংলা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছে। শিখন অভিজ্ঞতার আলোকে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরো।
উত্তর: দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব অংশে বাংলা অঞ্চল অবস্থিত। এখানকার ভূমি ছিল উর্বর। তাই এখানে ফলমূলের আধিক্য ছিল। এই অঞ্চলের উত্তরে হিমালয় পর্বত, পূর্ব ও পশ্চিমের অন্যান্য পার্বত্য এলাকা থেকে নেমে আসা নদীগুলো বাংলায় প্রবেশ করে অসংখ্য শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়েছে। নদীগুলো অঞ্চলটিকে জালের মতো আবদ্ধ করেছে।

বন-জঙ্গল এবং নদীতে যেমন: সহজ খাদ্যের যোগান রয়েছে, তেমনই রয়েছে সাপ, কুমির, বাঘ প্রভৃতি হিংস্র জীবজন্তু এবং বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের প্রকোপ। ঝড়- তুফান আর বন্যা এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। উঁচু-নিচু জলাভূমি সমতল করে, বন-জঙ্গল পরিষ্কার করেই তাদের তৈরি করতে হয়েছে নিজেদের বাসভূমি এবং চাষ ক্ষেত্র। এখানে খাদ্যের যোগান সহজ হলেও মানুষের জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তুরস্ক, পারস্য, আফগানিস্তান, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারত, ইউরোপসহ নানা স্থান থেকে আসা যোদ্ধা এবং রাজাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও কখনও লড়াই করে, কখনও আপোষ-মীমাংসা করে বাংলা অঞ্চলের মানুষকে ঢিকে থাকতে হয়েছে।

প্রশ্ন-২. বাংলা দীর্ঘদিন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিলো। কিন্তু একসময় তারা ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। উল্লিখিত সময়ে বাংলা অঞ্চলের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলো কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বিভিন্ন কারণে ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা অঞ্চলের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এ সময় কর আদায়ের ব্যবস্থা গ্রামের প্রত্যন্ত অংশে প্রবেশ করেছিল। বহু দূরের ভূখণ্ড থেকে আগত ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী গরিব কৃষকদের জোর করে ভূমিতে নীলসহ অন্যান্য কৃষি দ্রব্যাদি চাষে বাধ্য করত এবং একই সাথে তাদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়নমূলক নীতি প্রয়োগ করত। এর ফলে নানা ধরনের বিদ্রোহ দেখা দেয়।

নীল বিদ্রোহের পাশাপাশি টক, নানকার, স্বদেশি আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ, অসহযোগ আন্দোলনসহ নানা ধরনের আন্দোলন ক্রমেই দানা বেঁধে ওঠে। এসব আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ও কৃষককূল ব্যাপকড়াবে অংশ নিতে শুরু করে। বাংলা অন্যলের মেয়েরাও বিপ্লব এবং প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেয়। বাংলা অঞ্চলের মতো গোটা ভারতবর্ষেই এ ধরনের আন্দোলন চলতে থাকে। এভাবে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের কারণে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

প্রশ্ন-৩. ব্রিটিশ শাসনামলের শেষদিকে যুক্তিবাদী সমাজ গঠন ও স্বাধিকারের প্রশ্নে বাংলায় আন্দোলন গড়ে ওঠে, যাকে বাংলার নবজাগরণ বলা হয়। এ সম্পর্কে একটি অনুচ্ছেদ লেখো।
উত্তর: ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ইংরেজরা এদেশের ক্ষমতা দখল করে। ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী উপমহাদেশে নিজেদের ক্ষমতাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৭৮১ সালে কলকাতা মাদ্রাসা এবং ১৭৯১ সালে সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফূরণ ঘটতে থাকে। এ সময় সমাজের সংবেদনশীল মানুষেরা সমাজের অনাচার নিয়ে যেমন আত্মসমালোচনা করেছেন, তেমনি শাসকদের অবিচারের বিরুদ্ধেও কঠোর সমালোচনা করতে দ্বিধা করেননি। সমাজে সৃষ্ট নতুন চেতনার ফলেই রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো সমাজ সংস্কারকগণ প্রচলিত কুপ্রথা দূর করতে ভূমিকা রাখেন।

তাদের উদ্যোগ এবং ইংরেজ শাসকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হিন্দুসমাজ থেকে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ হয়, বাল্যবিবাহ বন্ধ হয় এবং বিধবা বিবাহের প্রচলন ঘটে। শুধু সমাজ সংস্কারই নয়, ইংরেজ শাসনামলে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখের হাতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। ডিরোজিও, বিদ্যাসাগর প্রমুখ মুক্তমনে জ্ঞানচর্চার ধারা তৈরি করেন। আর এভাবেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মাধ্যমে বাংলায় সংঘটিত হয় নবজাগরণ।

প্রশ্ন-৪. ১৭৫৭-১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই উপমহাদেশ ব্রিটিশ শাসনের অধীন ছিল। এই শাসনামলের ধারণা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করলে তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে। ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষেত্রে দখলদার শক্তি চিরস্থায়ীভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসে না। তবে যতদিন তারা শাসক হিসেবে থাকে, ততদিন সেই দেশের ধন-সম্পদ নিজ দেশে পাচার করে। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলায় ইংরেজদের ঔপনিবেশিক শাসন বিদ্যমান ছিল।

প্রশ্ন-৫. ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। দেশ পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরে মজুতদার, দুর্নীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা এবং ১৯৭৩-৭৪ সালের বন্যা দেশের খাদ্য সংকটকে তীব্র করে তোলে।

এ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৫ সালে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করেন এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। এটিকে বঙ্গবন্ধু ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ নামে অভিহিত করেন।

প্রশ্ন-৬. ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বাংলা ভাগ করে যাকে বঙ্গভঙ্গ বলা হয়। এ সম্পর্কে তুমি যা জানো দেখো।
উত্তর: প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি, সুষম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্য কমাতে বঙ্গভঙ্গ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা ছিল বড় একটি প্রদেশ; আর যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল অনুন্নত। একজন গভর্নরের পক্ষে প্রদেশটির শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য ছিল।

রাজধানী কলকাতাকে কেন্দ্র করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বেশি হওয়াতে পূর্ব বাংলার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছিল। কলকাতা ছিল পশ্চিম বাংলায় আর সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস থাকায় তাদের উন্নতি বেশি হচ্ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ায় সাম্প্রদায়িক বৈষম্য বাড়ছিল। এসব অবস্থা বিবেচনা করে ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলাকে ভাগ করেন। যা ইতিহাসে ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত।


৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন-১. প্রাচীন আমলে বিভিন্ন এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছিলো। এ সময় বাংলা অঞ্চলে মানুষ কেন স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিল?
উত্তর: বাংলা অঞ্চলের মাটি ছিল উর্বর। এখানে প্রচুর ফসল, ফলমূল ও মাছ পাওয়া যেত। যার জন্য মানুষ স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিল।

প্রশ্ন-২. বাংলা বহু আগে থেকেই বিদেশি শক্তির আক্রমণের শিকার হয়েছিলো। এ অবস্থায় প্রাচীন বাংলার মানুষদের কীভাবে টিকে থাকতে হয়েছে?
উত্তর: বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যোদ্ধা এবং রাজাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে কখনও লড়াই করে, কখনও আপোষ-মীমাংসা করে বাংলা অঞ্চলের মানুষকে টিকে থাকতে হয়েছে।

প্রশ্ন-৩. ইতিহাস বই পড়ে সুভা মুঘল শাসকদের কথা জানতে পেরেছে। বাংলা অঞ্চলে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি কী ছিল?
উত্তর: পরিত্যক্ত ভূমি আবাদযোগ্য করা এবং সেখান থেকে খাজনা আদায় করাই ছিল বাংলা অঞ্চলে মুঘল শাসকদের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।

প্রশ্ন-৪. ব্রিটিশ শাসনামলে তরুণদের নেতৃত্বে ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ আন্দোলনের বিষয়বস্তু কী ছিল?
উত্তর: ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের বিষয়বস্তু ছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্য গ্রহণের পক্ষে আন্দোলন।

প্রশ্ন-৫. ডিরোজিও একজন উদ্যমী পুরুষ ছিলেন। তাকে কলকাতা হিন্দু কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো কেন?
উত্তর: ডিরোজিও ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও অন্ধত্বের বিরুদ্ধে তার শিক্ষার্থী ও অনুসারীদের সচেতন করে তোলেন। যার ফলে মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন এবং তাকে কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিলো।

প্রশ্ন-৬. বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন?
উত্তর: হোসেন সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক এবং মওলানা ভাসানীর মতো রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন।


🔰🔰 আরও দেখুন: বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ ৭ম শ্রেণি অধ্যায় ১৪ প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।