|

৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়: বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। এ দেশে ৪৫টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাস। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা আসাদা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠী এক একটি আলাদা সম্প্রদায়।

এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, মণিপুরি ইত্যাদি। এছাড়াও আমাদের দেশে রয়েছে জেলে, কামার, কুমার, বেদে, হরিজন, হিজড়াসহ আরো অনেক সম্প্রদায়। এই শিখন অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনধারা, তাদের বৈশিষ্ট্য, সামাজিক অবস্থান ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানতে পারব।


৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায়

সম্প্রদায়

সমাজে বসবাসরত মানুষের মধ্যে নানান বৈচিত্র্য বিদ্যমান। আবার বেশ কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যও দেখা যায়। মানুষের কোনো দলের মধ্যে যদি বেশ কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, তাহলে মানুষের ঐ দলটিকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় হিসেবে বিবেচনা করা যায়। প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনো সম্প্রদায়ের অংশ। আবার একজন মানুষ একাধিক সম্প্রদায়েরও অংশ হয়ে থাকে। একই রকম জীবনধারা, বিশ্বাস, পেশা, স্বকীয়তাবোধ, একাত্মবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা এসব সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানুষকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. সম্প্রদায় কী?
উত্তর: এমন একটি জনসমষ্টি যারা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে এবং অভিন্ন জীবনধারা অনুসরণ করে।

প্রশ্ন–২. সম্প্রদায় বলে বিবেচিত হতে গেলে কোন বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা প্রয়োজন?
উত্তর: স্বকীয় পরিচয় বোধ, একাত্মবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা।


সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়

আমাদের চারপাশে আমরা যেসকল মানুষদের প্রতিনিয়ত দেখছি, তারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সম্প্রদায়ের অংশ। জীব ধরন, ভাষা, পেশা, রীতিনীতি ও ধর্মবিশ্বাস ইত্যাদির ভিন্নতার কারণে সমাজে বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায় রয়েছে। আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে পারি, বেদে সম্প্রদায়, জেলে সম্প্রদায়, কৃষক সম্প্রদায়, হিজড়া সম্প্রদায়ের নাম। আবার এই সকল সম্প্রদায়ের শিশুরা একই সাথে বিদ্যালয়ে একই ক্লাসে বসে যখন লেখাপড়া করছে, তখন তারাই আবার একটি সম্প্রদায়ভুক্ত হয়ে পড়ে।

বেদে সম্প্রদায়

আমাদের দেশের একটি বিশেষ সম্প্রদায় হলো বেদে সম্প্রদায়। বেদে সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনধারা ও পেশা তাদের অনন্যতা প্রদান করেছে। বেদেরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে এবং তাদের অধিকাংশ দলের জীবনযাত্রার ধরন ভবঘুরে বা যাযাবর। এরা নৌকায় ঘর বাঁধে এবং বড় একটি দল অনেকগুলো পরিবার এবং নৌকার বহর নিয়ে নৌপথে সারা বছর ঘুরে বেড়ায়। এদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক হয় এবং মেয়েরা পরিবারের অর্থনৈতিক দায়ভার গ্রহণ করে। তবে পুরুষেরা মাছ ধরা, সাপ ধরা, রান্না-বান্না ইত্যাদি করে থাকে।

বেদে দলের মধ্যে গভীর একাত্মবোধ লক্ষ করা যায়। বেদেরা কেউ কেউ পেশায় সাপুড়ে, কেউ সুগন্ধি মসলা বিক্রি করে, কেউ রঙিন চুড়ি, ফিতা ইত্যাদি বিক্রি করে। কেউ কেউ যাদুর খেলা দেখায়, বানরের খেলা দেখায়। কেউবা যাদু টোনা, মন্ত্র, তাবিজ ইত্যাদি দিয়ে থাকে, আবার ভাগ্য গণনাও করে থাকে। বেদেদের নিজস্ব জীবন কাঠামো এবং ভাষা রয়েছে। তাদের নিজেদের ভাষা ‘ঠার’ ভাষা। বেদেরা নিজ সমাজেই বিয়ে করে এবং বিয়ে হয় মুসলমান রীতিতে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. বেদেরা কাদেরকে তাদের পূর্ব-পুরুষ বলে মনে করে?
উত্তর: সাঁওতালদেরকে।

প্রশ্ন-২. বেদেদের পেশা কী?
উত্তর: বেদেরা সাপ ধরে, সাপের খেলা দেখায় এবং নানা রকম ওষুধ ও ‘তাবিজ বিক্রি করে।

প্রশ্ন-৩. সব বেদেই সাধারণত কী জানে?
উত্তর: তন্ত্রমন্ত্র ও যাদুটোনা।

প্রশ্ন-৪. বেদেদের জীবনে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কাদের ওপর অর্পিত হয়?
উত্তর: মেয়েদের ওপর।

প্রশ্ন-৫. বেদে পুরুষরা কী কী কাজের সাথে জড়িত?
উত্তর: বাচ্চা সামলানো, রান্না-বান্না করা ও ঘর-দোর গোছানো।

প্রশ্ন-৬. যাযাবর জীবনের আগে বেদেরা কোথায় থাকত বলে ধারণা করা হয়?
উত্তর: কারো মতে মিয়ানমারে, আবার কারো মতে ভারতে।


হিজড়া জনগোষ্ঠী

সমাজের আরেকটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী হলো হিজড়া সম্প্রদায়। মানুষের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে নারী ও পুরুষ লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরেও একটি বিশেষ ধরনের মানুষ বিদ্যমান। এ সকল মানুষের নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয়, সামাজিক লিঙ্গ পরিচয়ের চেয়ে ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই এই মানুষেরা পরিবার ও সমাজের কাছে সব সময় স্বীকৃতি পায় না এবং নিজেদের একটি ভিন্ন সমাজ গড়ে তোলে।

হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ পরিবার ও সমাজ ত্যাগ করে পরস্পরের সাথে একাত্মতার সঙ্গে বসবাস করে। এদের জীবনযাত্রায় কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও তারা অন্য সব মানুষের মতই স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং লেখাপড়া ও পেশা বেছে নিতে পারে। তবে প্রথাগত বিশ্বাসের কারণে সমাজে তারা অনেক সময় গ্রহণযোগ্যতা পায় না এবং বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়।

তারা সাধারণত নতুন বর-বউকে আশীর্বাদ করে, নবজাতককে আশীর্বাদ করে এবং মানুষের কাছে চেয়ে অর্থ উপার্জন করে। তবে বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজড়া সম্প্রদায়ের সকল অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের যথাযথ মর্যাদা, লেখাপড়া ও সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. হিজড়া জনগোষ্ঠী কারা?
উত্তর: যে জনগোষ্ঠী নারীও নয়, পুরুষও নয়।

প্রশ্ন-২. হিজড়াদের সাথে সমাজের বেশিরভাগ মানুষের আচরণ কেমন?
উত্তর: মিশতে চায় না, যোগ্যতা থাকলেও কাজ দিতে চায় না।

প্রশ্ন-৩. হিজড়া জনগোষ্ঠীকে কি একটি সম্প্রদায় বলা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, সম্প্রদায়ের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য হিজড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে লক্ষ করা যায় বলে এ গোষ্ঠীকে একটি সম্প্রদায় বলা যায়।


লিঙ্গ বৈচিত্র্য ও জেন্ডারের ধারণা

সাধারণভাবে সমাজে আমরা মানুষের লিঙ্গ বলতে নারী ও পুরুষের কথা জানি। একটি শিশুর জন্ম হলে তার লিঙ্গ দেখে সবাই ঠিক করে শিশুটি ছেলে না মেয়ে। এটি হলো শিশুর জৈবিক লিঙ্গ পরিচয়। জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে একজন মানুষের কাছে সমাজ যে আচরণ প্রত্যাশা করে তাকে আমরা ‘সামাজিক লিঙ্গ’ বলি। কিন্তু একজন মানুষের লিঙ্গ সবসময় তার জৈবিক লিঙ্গের উপর নির্ভর করে না।

একটি শিশু বড় হতে হতে নিজের লিঙ্গ সম্পর্কে বুঝতে ও অনুভব করতে পারে। তবে তার মানসিকতা তার লিঙ্গের বিপরীতও হতে পারে। অর্থাৎ জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে শিশুটি ছেলে হলেও মানসিক দিক থেকে সে নিজেকে মেয়ে মনে করতে পারে। আবার একটি মেয়ে শিশু নিজের ভেতরে ছেলের আত্মপরিচয় অনুভব করতে পারে। এই বিষয়টি হলো লিঙ্গ বৈচিত্র্য। এ ধরনের মানুষকে সাধারণভাবে ট্রান্সজেন্ডার’ বলা হয়।

সামাজিক লিঙ্কা ও প্রথাগত ধারণা: আমাদের সমাজে মানুষ অন্যজনের কাছ থেকে তার সামাজিক লিঙ্গ’ বা জেন্ডার অনুযায়ী আচরণ প্রত্যাশা করে। একজন পুরুষ নারীর মত চিন্তা-ভাবনা, আবেগ-অনুভূতি অনুভব ও প্রকাশ করবে এবং নারী একইভাবে পুরুষের মতন আচরণ করবে তা সমাজ মেনে নিতে চায় না। সমাজের প্রথাগত ধারণায় বিশ্বাসী মানুষেরা তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা অনেক ক্ষেত্রেই মানবেতর জীবনযাপন করে।

সমাজে হিজড়া সম্প্রদায়ের অবস্থান: সমাজের ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া মানুষেরা নিজেদের একটি ভিন্ন সমাজ গড়ে তুলেছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও একাত্মতার সাথে সেই সমাজে বসবাস করে। তাদের পরিবার পরিজনেরা এবং সমাজের অনেক মানুষই তাদের মেনে নেয় না এবং অধিকার বঞ্চিত করে। এ কারণে তাদের লেখাপড়া, চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের অধিকার, থাকলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয় না।

তাই তাদের মানুষের কাছ থেকে দোয়া আশীর্বাদের বিনিময়ে কিংবা সরাসরি অর্থ চেয়ে নিতে হয়। তবে আমাদের দেশে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। ২০১৩ সালে সরকার হিজড়া সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কাজ করছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর প্রচেষ্টা নিচ্ছে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. একজন মানুষ, ছেলে না মেয়ে তা জানার কি কোনো স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম আছে?
উত্তর: না, একজন মানুষ, ছেলে না মেয়ে তা জানার কোনো স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম নেই।

প্রশ্ন-২. অন্যের ক্ষতি না করে একজন ব্যক্তির কী প্রকাশের স্বাধীনতা আছে?
উত্তর: নিজের মত, নিজের অনুভূতি, নিজের পছন্দ-অপছন্দ।

প্রশ্ন-৩. ‘সামাজিক লিঙ্গ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জৈবিক লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন মানুষের কাছে সমাজ যে আচরণ প্রত্যাশা করে তাকে ‘সামাজিক লিঙ্গ’ বলে।

প্রশ্ন-৪. ‘ট্রান্সজেন্ডার’ কাদেরকে বলে?
উত্তর: যে মানুষ নারীও না, পুরুষও না।

প্রশ্ন-৫. বাংলাদেশ সরকার কত সালে হিজড়া সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দিয়েছে?
উত্তর: ২০১৩ সালে।


পারস্পরিক সহযোগিতা

পেশাজীবী সম্প্রদায়: সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষেরা একসাথে অবস্থান করে এবং সমাজকে সচল রাখতে ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার যেমন রয়েছে তেমনি পরিজ্ঞাতাকর্মী, রিকশাচালক, বাসচালক, মাঝি, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি প্রভৃতি পেশার মানুষ রয়েছে। অনেকে পারিবারিক ধারাবাহিকতায় বহু বছর ধরে একই ধরনের পেশা বেছে নেয়।

এ ধরনের মানুষ তখন ঐ নির্দিষ্ট পেশার জন্য একটি সম্প্রদায় গড়ে তোলে। এরকম পরিবার বা মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে পেশাজীবী সম্প্রদায়। আমাদের দেশে যেমন ‘হরিজন’ সম্প্রদায়ের মানুষেরা সাধারণত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করে। তাদের নিজস্ব ভাষা এবং স্বতন্ত্র জীবনধারা আছে। আবার পেশা বংশানুক্রমিক না হলেও পেশার ভিত্তিতে অনেক পরিবারের সাদৃশ্যতা ও একাত্মতার মধ্যে দিয়ে সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে।

পেশাজীবী সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের সহযোগিতা: সমাজের বিভিন্ন পেশা ও জীবিকার মানুষেরা আমাদেরকে অর্থের বিনিময়ে দেয়া দিয়ে থাকেন। কিন্তু কেবল অর্থ লেনদেনের মধ্য দিয়েই এই সেবা প্রদান ও গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হয় না। আমাদের সমাজ পেশাজীবী সম্প্রদায়ের উপর নির্ভরশীল। তারা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও সচল রাখে। কোনো একদিন রিকশাওয়ালা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জেলে কিংবা তাঁতিরা কাজ না করলে আমাদের স্বাভাবিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই এসব পেশাজীবী মানুষদের প্রতি আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

আমরা যাদের কাছ থেকে সাহায্য নিচ্ছি, তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে। এ বিষয়টি সব সময় মাথায় রাখব এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যখন আমরা পেশাজীবী সম্প্রদায়ের সাহায্য নেব তখন তার বিনিময়ে তাদেরকে বিভিন্ন উপায়ে সহায়তা করার চেষ্টা করব।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. পেশাজীবী মানুষেরা কী একটি সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে?
উত্তর: নির্দিষ্ট পেশায় কর্মরত মানুষেরা নিজস্ব স্বকীয়তা ও পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে নিজেদের একটি সম্প্রদায় তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন-২. জীবনযাপনের সব কাজ কি মানুষ একা করতে পারে?
উত্তর: না, জীবনযাপনের সব কাজ মানুষ একা করতে পারে না।

প্রশ্ন-৩. আমাদের দেশে কোন সম্প্রদায়ের মানুষেরা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে পরিচিত?
উত্তর: হরিজন সম্প্রদায়ের।

প্রশ্ন-৪. টাকা প্রদান করা ছাড়াও আমাদের আর কী করা উচিত?
উত্তর: ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা উচিত।

প্রশ্ন-৫. সমাজ কীভাবে টিকে থাকে?
উত্তর: সকল মানুষের পারস্পরিক সহায়তায়।


১. এক ধরনের বেদেরা মেয়েদের চুড়ি, ফিতা, সাজগোজের জিনিস বিক্রি করে। কাদের কী বলে?
২. গ্রামের মেলায় যাদু ও সার্কাস দেখায় বেদের দল। তাদের কী বলে?
৩. বেদেদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। তাদের ভাষার নাম কী?

৪. বাংলাদেশে অনেক বেদে বাস করে। তাদের আনুমানিক সংখ্যা কত?
৫. বেদেদের বিয়ে হয় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিতে। এটা কোন ধর্মের রীতি?
৬. শরীফা আক্তার একজন ট্রান্সজেন্ডার। তার আগের নাম কী ছিল?

৭. শরীফা আক্তার নিজেকে মেয়ে ভাবলেও সবাই তাকে কী মনে করতো?
৮. রমেশ একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। সে কোন সম্প্রদায়ের?
৯. রহিম মিঞা একজন বেদে। সে কোন ধর্মাবলম্বী?

উত্তর: ১. ‘শানদার’ বেদে। ২. ‘বাজিকর’ বেদে। ৩. ‘ঠার’ ভাষা। ৪. প্রায় আট লক্ষ। ৫. মুসলমান রীতি। ৬. শরীফ আহমেদ। ৭. ছেলে। ৮. হরিজন। ৯. ইসলাম।


১. বেদেরা গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। উত্তর: মিথ্যা।
২. বাংলাদেশের অধিকাংশ বেদে মুসলমান। উত্তর: সত্য 
৩. শরীফা আহমেদ একজন মেয়ে। উত্তর: মিথ্যা 
৪. ছেলে-মেয়েদের চেহারা, আচরণ, কাজ ইত্যাদির স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম নেই। উত্তর: সত্য 
৫. হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করে থাকে। উত্তর: সত্য 

৬. পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাসপাতালের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নয়। উত্তর: মিথ্যা 
৭. বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সাহায্য ছাড়া আমরা চলতে পারি না। উত্তর: সত্য 
৮. কাউকে বাইরে থেকে দেখে সব সময় ছেলে কিংবা মেয়ে বলা যায়। উত্তর: মিথ্যা 
৯. সরকার ট্রান্সজেন্ডারদের স্বীকৃতি দিয়েছে। উত্তর: সত্য 
১০. বাজিকর বেদেরা সাপের খেলা দেখায়। উত্তর: মিথ্যা।


সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্ন-১. জীবনযাপনের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে মানবসমাজকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হয়। এ ধরনের দলকে কী বলে?
উত্তর: মানুষের কোনো দলের মধ্যে যদি স্বকীয়তাবোধ, একাত্মতাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একই রকম জীবনধারা দেখা যায়, তাহলে ঐ দলকে একটি সম্প্রদায় বলা হয়।

প্রশ্ন-২. নিলয়রা তাদের স্কুল থেকে শিক্ষকের সাথে বেদের বহর দেখতে গেল। তাদের কোন বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলো?
উত্তর: শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলো নৌকায় তাদের যাযাবর জীবনযাপন, সদস্যদের মধ্যে সহমর্মিতা, একের সমস্যাকে সবার সমস্যা হিসেবে দেখা

প্রশ্ন-৩. তুমি কি জানো, মানুষ কখন একজনকে নারী বা পুরুষ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়?
উত্তর: কোনো মানুষের লিঙ্গ পরিচয়ের সঙ্গে তার জেণ্ডার ভূমিকা না মিললে সমাজের প্রথাগত ধারণায় বিশ্বাসী মানুষেরা তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

প্রশ্ন-৪. আমাদের এলাকায় কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন। তাদেরকে আমাদের প্রয়োজন হয় কেন?
উত্তর: পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবর্জনা, ময়লা ও নোংরা কাপড়-চোপড়, জিনিসপত্র পরিষ্কার করে পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখে বলে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন-৫. সরকারি স্বীকৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও হিজড়াদের সহায়তা করছে। তুমি এ বিষয়ে কী জানো? লেখো।
উত্তর: বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিজড়াদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর প্রচেষ্টা নিচ্ছে।


ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. জীবনযাপনের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে মানবসমাজকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়। বাংলাদেশে তোমার দেখা এরকম একটি জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মানুষ সমাজে মিলেমিশে বসবাস করলেও সকলের মধ্যেই ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। এই বৈচিত্র্য হতে পারে জীবিকার, ভাষার, ধর্ম বিশ্বাসের এবং আরও অনেক কিছুর। বৈচিত্র্যতার কারণে মানুষ তার নিজের জীবনধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য মানুষের সাথে বসবাস করতে চায় এবং এভাবেই গড়ে ওঠে একটি সম্প্রদায় মানুষের কোনো দলের মধ্যে যদি স্বকীয়তাবোধ, একাত্মতাবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব, ভাষা ও জীবনযাত্রার সাদৃশ্য দেখা যায়, তাহলে ঐ দলকে একটি সম্প্রদায় বলা যায়।

আমাদের দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। এমনকি আমরা নিজেরাও কোনো না কোনো সম্প্রদায়েরই অংশ। আমাদের দেশের এমনই সম্প্রদায় হল চাকমা সম্প্রদায়। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী এই সম্প্রদায়ের জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। চাকমাদের জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও উৎসব। চাকমারা নিজেদের তাঁত দিয়ে পোশাক তৈরি করে। চাকমা মেয়েদের পরনের কাপড়ের নাম ‘পিনোন’ ও ‘হাদি’।

চাকমা পুরুষেরা ধুতি, গামছা ও পাগড়ি ছেড়ে ইদানীং শার্ট, প্যান্ট ও লুঙ্গি পরিধান করে। চাকমারা বাঁশ ও বেত দিয়ে ঝুড়ি, পাখা, চিরুনি ও বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে। তাদের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস ও শাকসবলি। তাদের প্রিয় খাদ্য বাঁশ কোড়ল। চাকমারা হা-ডু-ডু, কুস্তি এবং ঘিলাখারা খেলতে ভালোবাসে। বাংলা নববর্ষের সময় আয়োজিত “বিজু’ তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসব।

প্রশ্ন-২. প্রত্যেক সমালে শিতা বৈচিত্র্য এবং জেন্ডার সম্পর্কে ধারণা ভিন্ন ভিন্ন হয়। আমাদের সমাজে এ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা কী এবং পরিবর্তিত ধারণা কী রকম হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর? শিখন অভিজ্ঞতার আলোকে মতামত দাও।
উত্তর: আমাদের সমাজে সাধারণভাবে মানুষের লিঙ্গ বলতে আমরা পুরুষ ও নারীকে বুঝি। একটি শিশু যখন জন্ম নেয় তখন তার শরীর দেখে আমরা ঠিক করি সে নারী নাকি পুরুষ। এটি হলো তার জৈবিক লিতা পরিচয়।

জৈবিক লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন মানুষের কাছে সমাজ যে আচরণ প্রত্যাশা করে তাকে আমরা ‘জেন্ডার’ বা সামাজিক লিঞ্জা’ বলি। জৈবিক লিঙ্গ পরিচয়ের সঙ্গে তার জেন্ডার ভূমিকা না মিললে সমাজের প্রথাগত ধারণায় বিশ্বাসী মানুষেরা তাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সমাজের প্রথাগত বিশ্বাস ও রীতিনীতি অনুযায়ী আমরা শুনেছি যে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একটা নির্দিষ্ট ধরনের হলে ছেলে হয়।

অন্য আরেক ধরনের হলে মেয়ে হয়। ছেলেদের গলার স্বর মোটা, মেয়েদের চিকন; মেয়েরা ঘরের কাজ বেশি করে, ছেলেরা বাইরে বেশি থাকে। মেয়েরা সাজগোজ করে, লাজুক ও নরম স্বভাবের হয়। ছেলেরা হয় এর বিপরীত। তবে এই বদ্ধমূল ধারণা সব সময় সঠিক হয় না। ছেলে-মেয়েদের চেহারা, আচরণ, কাজ বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কোনো স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম নেই। একজন মানুষ ছেলে নাকি মেয়ে তা নির্ভর করে তার নিজের চিন্তা-ভাবনার ওপর।

একজন মানুষকে শারীরিকভাবে ছেলে মনে হলেও সে মনে মনে নিজেকে মেয়ে ভাবতে পারে। আবার একজনকে দেখে মনে হতে পারে মেয়ে কিন্তু সে নিজেকে ছেলে মনে করতে পারে এবং ছেলের মতই আচরণ করতে পারে। এ ধরনের মানুষকে বলা হয় ট্রান্সজেন্ডার। ট্রান্সজেন্ডার’ মানুষকে প্রথাগত রীতিনীতির সমাজ মেনে নিতে চায় না, তাদের অধিকার দিতে চায় না। অথচ ট্রান্সজেন্ডাররাও আমাদের মতই মানুষ এবং বেঁচে থাকার জন্য তাদেরও আমাদের মতই সব ধরনের অধিকার রয়েছে। আমাদের সমাজের পরিবর্তিত ধারণা এরকমই হওয়া উচিত।

প্রশ্ন-৩. জোস্না ও তার পরিবার নৌকায় বাস করে এবং সাপের খেলা দেখায়। তারা কোন সম্প্রদায়ের সদস্য? তাদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জোত্স্না ও তার পরিবার বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য। আমাদের দেশের একটি বিশেষ সম্প্রদায় হলো বেদে সম্প্রদায়। বেদে সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনধারা ও পেশা তাদের অনন্যতা প্রদান করেছে। বেদেরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে এবং তাদের অধিকাংশ দলের জীবনযাত্রার ধরন ভবঘুরে বা যাযাবর।

এরা নৌকায় ঘর বাঁধে এবং বড় একটি দল অনেকগুলো পরিবার এবং নৌকার বহর নিয়ে নৌপথে সারা বছর ঘুরে বেড়ায়। এদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক হয় এবং মেয়েরা পরিবারের অর্থনৈতিক দায়ভার গ্রহণ করে। তবে পুরুষেরা মাছ ধরা, সাপ ধরা, রান্না-বান্না ইত্যাদি করে থাকে। বেদে দলের মধ্যে গভীর একাত্মতাবোধ লক্ষ করা যায়।

বেদেরা কেউ কেউ পেশায় সাপুড়ে, কেউ মসলা বিক্রি করে। কেউ রঙিন চুড়ি, ফিতা ইত্যাদি বিক্রি করে। ‘কেঁউ কেউ যাদুর খেলা দেখায়, বানরের খেলা দেখায়। কেউবা যাদু টোনা, মন্ত্র, তাবিল ইত্যাদি দিয়ে থাকে, আবার ভাগ্য গণনাও করে থাকে। বেদেদের নিজস্ব জীবন কাঠামো এবং ভাষা রয়েছে। তাদের নিজেদের ভাষা ‘ঠার’ ভাষা। বেদেরা নিজ সমাজেই বিয়ে করে।

প্রশ্ন-৪. আমাদের চারপাশে কিছু মানুষ আছেন যারা নারীও নন আবার পুরুষও নন। তুমি কি জানো, তারা কোন সম্প্রদায়ের সদস্য? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হ্যাঁ, আমি জানি, তারা হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য। সমাজের একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী হলো হিজড়া সম্প্রদায়। মানুষের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে নারী ও পুরুষ লিঙ্কা পরিচয়ের বাইরেও একটি বিশেষ ধরনের মানুষ বিদ্যমান। এ সকল মানুষের নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয়, সামাজিক লিঙ্গ পরিচয়ের চেয়ে ভিন্ন হয়ে থাকে।

তাই এই মানুষেরা পরিবার ও সমাজের কাছে সব সময় স্বীকৃতি পায় না। এবং নিজেদের একটি ভিন্ন সমাজ গড়ে তুলে। হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ পরিবার ও সমাজ ত্যাগ করে পরস্পরের সাথে একাত্মতার সঙ্গে বসবাস করে। এদের জীবনযাত্রায় কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও এরা অন্য সব মানুষের মতই স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং লেখাপড়া ও পেশা বেছে নিতে পারে। তবে প্রথাগত বিশ্বাসের কারণে সমাজে এরা অনেক সময় গ্রহণযোগ্যতা পায় না এবং বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এরা নতুন বর-বউকে আশীর্বাদ করে, নবজাতককে আশীর্বাদ করে এবং মানুষের কাছে চেয়ে অর্থ উপার্জন করে।

তবে বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজড়া সম্প্রদায়ের সকল অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের যথাযথ মর্যাদা, লেখাপড়া ও সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে সরকার হিজড়া সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দিয়েছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর প্রচেষ্টা নিচ্ছে।

প্রশ্ন-৫. রতন একজন রিকশাচালক। যে কোন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রতন পেশাজীবী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষেরা একসাথে অবস্থান করে এবং সমাজকে সচল রাখতে ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার যেমন রয়েছে তেমনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রিকশাচালক, বাসচালক, মাঝি, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি প্রভৃতি পেশার মানুষ রয়েছে। অনেকে পারিবারিক ধারাবাহিকতায় বহু বছর ধরে একই ধরনের পেশা বেছে নেয়। এ ধরনের মানুষ তখন ঐ নির্দিষ্ট পেশার জন্য একটি সম্প্রদায় গড়ে তোলে। এরকম পরিবার বা মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে পেশাজীবী সম্প্রদায়।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর


আশাকরি “৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।