|

৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ২য় অধ্যায়: আমরা যখন কোনো বিষয়ে যৌক্তিক বা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চাই তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, আমরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবো? কার মাধ্যমে নেবো? কোন উপায়ে নেবো? সিদ্ধান্তটি আসলেই যৌক্তিক হয়েছে কি না সেটা কীভাবে বুঝবো? এই শিখন অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানতে পারবো কীভাবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।


বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ধাপ

কোনো অনুসন্ধানী প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতির কতকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এগুলো হলো অনুসন্ধানের বিষয় নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উপস্থাপন, প্রশ্ন থেকে মূল ধারণা বের করা, তথ্যের উৎস নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নির্ধারণ, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ, ফলাফল বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফলাফল উপস্থাপন। ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে যেকোনো অনুসন্ধানী বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌছানো যায়।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতির ধাপ কতটি?
উত্তর: ৯টি।

প্রশ্ন-২. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতির প্রথম ধাপ কোনটি?
উত্তর: অনুসন্ধানের বিষয় নির্ধারণ।

প্রশ্ন-৩. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতির শেষ ধাপ কোনটি?
উত্তর: ফলাফল উপস্থাপন।

প্রশ্ন-৪. যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌছানো যায় কীভাবে?
উত্তর: বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতির ধাপগুলো অনুসরণ করে।


ব্যক্তিগত ধারণা ও তার যাচাই: যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌছানো পূর্বানুমান বা অনুমিত সিদ্ধান্ত

অনুসন্ধানী কাজের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের আগেই অনুসন্ধানের ফলাফল সম্পর্কে আমাদের ব্যক্তিগত অনুমানকে পূর্বানুমান বা অনুমতি সিদ্ধান্ত (Hypothesis) বলে। এটি অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ফলাফলের প্রেক্ষিতে সঠিক বা ভুল প্রমাণিত হতে পারে।

যৌক্তিক সিদ্ধান্ত: যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সাধারণ অনুসন্ধানের আগে অনুমিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে ঐ পূর্বানুমানটি সঠিক না কি ভুল ছিল তা বোঝা যায়। ভুল হলে পূর্বানুমানটি পরিবর্তন করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলে। অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতিতে অনুমিত সিদ্ধান্ত যাচাই করে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌছানো যায়।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. পূর্বানুমান বা অনুমিত সিদ্ধান্ত কী?
উত্তর: অনুসন্ধানী কাজের জন্য তথ্য সংগ্রহের আগেই তার ফলাফল সম্পর্কে একটি অনুমান করা।

প্রশ্ন-২ অনুমিত সিদ্ধান্ত আমরা কীসের ভিত্তিতে গ্রহণ করি?
উত্তর: ব্যক্তিগত ধারণা বা সাধারণ বুদ্ধির ভিত্তিতে।

প্রশ্ন-৩. কোনো অনুসন্ধানী কাজের জন্য আমরা কী সংগ্রহ করি?
উত্তর: অনুসন্ধানী কাজ সম্পর্কিত তথ্য।

প্রশ্ন-৪. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতিতে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌছানো যায় কীভাবে?
উত্তর: অনুমিত সিদ্ধান্ত যাচাই করে।


সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি ও মূল্যবোধ

সামাজিক রীতিনীতি: কোনো এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যেসব নিয়ম-কানুন, আচার-আচরণ মেনে চলে তাকে সামাজিক রীতিনীতি বলে। এগুলোর পিছনে সেই এলাকার মানুষের বিভিন্ন বিশ্বাস জড়িত থাকে। একেক সমাজের রীতিনীতি একেক রকম হয়ে থাকে। যেমন— বাংলাদেশের বাঙালি সমাজে পিতা বা পুরুষই পরিবারের প্রধান। অন্যদিকে বাংলাদেশের গারো ও খাসি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজে নারীরা পরিবারের প্রধান ও সম্পত্তির অধিকারী।

সামাজিক মূল্যবোধ: সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত এমন সব বিশ্বাসের সমষ্টি, যার মাধ্যমে সমাজের কোনো ঘটনা বা বিষয়ের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়। এটি ব্যক্তির মধ্যকার নৈতিক গুণাবলি, যা ভালো কাজ করা এবং মন্দ কাজ বর্জনের প্রেরণা যোগায়। কয়েকটি সামাজিক মূল্যবোধের উদাহরণ হলো— সততা, নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম, পরমতসহিষ্ণুতা, শিষ্টাচার ইত্যাদি। কিছু মূল্যবোধ সকল সমাজের একই রকম হতে পারে। যেমন— পৃথিবীর সব দেশেই মিথ্যা বলা বা চুরি করা খারাপ। আবার কিছু মূল্যবোধ আছে যা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। যেমন— এক সময় সতীদাহ প্রথাকে মূল্যবোধের মানদণ্ডে দীর্ঘদিন সমর্থন করা হলেও বর্তমানে এটি কেউ সমর্থন করে না।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. সামাজিক রীতিনীতি কী?
উত্তর: কোনো এলাকার বা সমাজের মানুষেরা দীর্ঘকাল ধরে যে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন, আচার-আচরণ মেনে চলে।

প্রশ্ন-২. সামাজিক রীতিনীতি সব এলাকা বা সমাজে একই, না ভিন্ন?
উত্তর: ভিন্ন ভিন্ন হয়।

প্রশ্ন-৩. মূল্যবোধ কী?
উত্তর: ভাল-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, কাঙ্খিত-অনাকাঙ্খিত ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে মানুষের ধারণা বা বোধ।

প্রশ্ন-৪. সামাজিক মূল্যবোধ কী?
উত্তর: সমাজে প্রতিষ্ঠিত এমন সব বিশ্বাসের সমষ্টি যার মাধ্যমে সমাজের কোনো ঘটনা বা বিষয়ের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।


সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তন হয়

প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তন: পরিবেশের যেসব উপাদান মানুষের সৃষ্টি নয় সেগুলো প্রাকৃতিক উপাদান। যেমন— গাছপালা, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত, আবহাওয়া, জলবায়ু প্রভৃতি। সময়ের সাথে সাথে প্রকৃতির এসব উপাদানের বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে, যা একটি চিরন্তন প্রক্রিয়া। উদাহরণস্বরূপ— ঋতুভেদে বৃষ্টিপাতের পার্থক্যের কথা বলা যায়। বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত বেশি হয় বলে আমাদের আশেপাশের নদী, পুকুর ইত্যাদি পানিতে ভরে ওঠে। গাছে গাছে সবুজ পাতার সমারোহ দেখা যায়। আবার শীতকালে খুব একটা বৃষ্টিপাত হয় না বলে নদীনালা শুকিয়ে যায় এবং গাছের পাতা ঝরে যায়।

পৃথিবীর ভূমিরূপ: পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্বত্র ভূমির গঠন এক রকম হয় না, কোথাও সমতল, কোথাও পাহাড়-পর্বত, আবার কোথাও নিচু জলাভূমি। অর্থাৎ ভূমির বিভিন্ন গঠনগত আকৃতি হলো পৃথিবীর ভূমিরূপ। প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের মতো সময়ের সাথে সাথে ভূমিরূপেরও পরিবর্তন ঘটে। যেমন— ২২৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীর সমগ্র স্থলভাগ একসাথে থাকলেও বর্তমানে পৃথিবীর স্থলভাগ ৭টি মহাদেশে বিভক্ত হয়ে গেছে। এর পেছনে ভূমিকম্প এবং টেকটনিক প্লেটগুলোর বিভিন্ন রকম চলাচল বা অবস্থানের পরিবর্তন দায়ী।

বাংলাদেশের ভূমিরূপ: বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। এদেশের অধিকাংশ এলাকা নদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সীমিত উঁচু ভূমি রয়েছে। বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ভূমিরূপকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, গ্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। এদেশের ভূখণ্ড উত্তর দিক থেকে ক্রমশ দক্ষিণে ঢালু হওয়ায় নদ-নদীগুলো বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

চ্যুতি রেখা (Fault line): ভূপৃষ্ঠের তলদেশে অবস্থিত টেকটনিক প্লেট যখন একটি অন্যটির সাথে ঘর্ষণ ছাড়া পাশাপাশি চলে যায় তখন সেখানে একটি ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয় একে চ্যুতি রেখা বলে। এ রেখার কাছাকাছি অঞ্চলে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল: বাংলাদেশের সিলেট থেকে শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত চ্যুতি রেখা বিস্তৃত হওয়ায় দেশের কিছু এলাকা ভূমিকম্পপ্ররণ। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার প্রভৃতি জেলা। মাঝারি ঝুঁকির আওতায় রয়েছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, বগুড়া, দিনাজপুর ইত্যাদি জেলা। বাংলাদেশের কম ভূমিকম্পপ্রবণ অন্যদের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো হলো— কুষ্টিয়া, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা প্রভৃতি।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. প্রাকৃতিক উপাদান কী?
উত্তর: পরিবেশের যে সকল উপাদান মানুষের সৃষ্ট নয়।

প্রশ্ন -২. পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ কীরূপ?
উত্তর: নরম এবং গলিত লাভা সমৃদ্ধ।

প্রশ্ন-৩. পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ কোনটি?
উত্তর: বাংলাদেশ।

প্রশ্ন-৪. বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা কীরূপ?
উত্তর: নদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি।

প্রশ্ন-৫. বাংলাদেশে চ্যুতি রেখা কতখানি বিস্তৃত?
উত্তর: সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত।

প্রশ্ন-৬. বাংলাদেশের কোন দুটি বিভাগীয় অঞ্চল অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ?
উত্তর: ময়মনসিংহ ও সিলেট।


প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন ০১: কোন গাছে বেশি পাতা হলো?
উত্তর: পারস্পরিক সহযোগিতার গাছটিকে সবচেয়ে বেশি পাতা যুক্ত হয়েছে। কারণ, ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সকলেই লেখাপড়া এবং অন্যান্য ব্যাপারে একজন অন্যজনকে সহায়তা করে এবং তাদের কাজগুলো পাতায় লিখে গাছে যুক্ত করে।

প্রশ্ন ০২: আমি কোন গাছে সবচেয়ে বেশি পাতা যোগ করেছি?
উত্তর: আমি সবচেয়ে বেশি পাতা যুক্ত করেছি পরমতসহিষ্ণুতার গাছে। আমি ক্লাসে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আলোচনায় অন্যদের মতামত ও বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনেছি এবং অনেক ক্ষেত্রেই আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত না হলেও সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছি।

প্রশ্ন ০৩: আমি কোন গাছে সবচেয়ে কম পাতা যোগ করেছি?
উত্তর: আমি সবচেয়ে কম পাতা যোগ করেছি বই পড়া গাছে। আমি আমার পড়ালেখা ও অন্যান্য কাজের মাঝে সময় করে খুব বেশি বই পড়তে পারিনি।

প্রশ্ন ০৪: কোন ধরনের চর্চা আমি বেশি করছি? কোনগুলোতে আমার আরও চর্চার প্রয়োজন? কীভাবে তা করতে পারি?
উত্তর: আমি পরমতসহিঞ্চুতা, সততা, পরোপকারিতার চর্চা বেশি করছি। বই পড়া, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার আরও বেশি চর্চা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে আমি আরও বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে পারি। যেমন— লাইব্রেরিতে বই পড়ার জন্য সপ্তাহের একটি দিন নির্দিষ্ট করে রাখতে পারি।


এক কথায় উত্তর

১. পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থির নয়। তুমি কি মনে কর যে, মহাদেশগুলো স্থির?
২. ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানী মি. ‘ক’ পৃথিবীর অভ্যন্তরের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন। এই অভ্যন্তর কীরূপ?
৩. ঘুমানা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপে বাস করে। এর নাম কী?

৪. তন্ময় বাংলাদেশের অধিবাসী। তার দেশের অধিকাংশ এলাকা কীরূপ?
৫. লিরার পাহাড় খুব ভালো লাগে। এদেশে কোথায় পাহাড়ি অঞ্চল আছে?
৬. বাংলাদেশের সব অঞ্চল সমান ভূমিকম্পপ্রবণ নয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়?

উত্তর: ১. স্থির নয়। ২. নরম এবং গলিত লাভা সমৃদ্ধ। ৩. বাংলাদেশ। ৪. নদী বিধৌত বিস্তীর্ণ সমভূমি। ৫. দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিকে। ৬. ৩টি।


সঠিক উত্তর বাছাই

১. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। এর প্রথম ধাপ- প্রশ্ন উত্থাপন / তথ্য সংগ্রহ/ বিষয়বস্তু নির্ধারণ।
২. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দ্বিতীয় ধাপ তথ্য সংগ্রহ। এর পদ্ধতি নয়— প্রশ্নমালা / চিন্তা ভাবনা/ সাক্ষাৎকার।

৩. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতিতে অনেকগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এর মোট ধাপ- নয়টি/ চারটি/সাতটি।
৪. তথ্য সংগ্রহের আগেই অনুসন্ধানের ফলাফল সম্পর্কে আনুমানিক ধারণা করতে হয়। একে বলে- যৌক্তিক সিদ্ধান্ত/ অনুমিত সিদ্ধান্ত / সম্ভাব্য ফলাফ।

৫. পূর্বানুমান বা অনুমিত সিদ্ধান্ত সঠিক নাকি ভুল, তা তুমি বুঝবে— ফিডব্যাক দ্বারা / সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন দ্বারা/ সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ দ্বারা।
৬. সমাজের মানুষেরা দীর্ঘকাল থেকে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন, আচার-আচরণ, মেনে চলে। এগুলোকে বলে— মূল্যবোধ/ ধর্মপালন/ প্রচলিত রীতি-নীতি।

৭. সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ সবসময় একরকম থাকে না। এগুলো আংশিক স্থবির/ স্থবির/ পরিবর্তনশীল।
৮. বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের প্রকৃতি খুব মনোরম। এদেশে পাহাড় রয়েছে— চট্টগ্রামে/ঢাকায়/ বরিশালে।

৯. ডোনাল্ড ইউরোপ মহাদেশে বাস করে। পৃথিবীতে এরকম মহাদেশ রয়েছে— ৮টি/৭টি/৯টি।
১০. বাংলাদেশের দুটি বিভাগ সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ। এর একটি হলো— পটুয়াখালী/ কুষ্টিয়া/সিলেট।

উত্তর: ১. বিষয়বস্তু নির্ধারণ ২. চিন্তা ভাবনা ৩. নয়টি ৪. অনুমিত সিদ্ধান্ত ৫. সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ দ্বারা ৬. মূল্যবোধ ৭. পরিবর্তনশীল ৮. চট্টগ্রামে ৯. ৭টি ১০. সিলেট।


সত্য মিথ্যা যাচাই

১. বাগেরহাট বাংলাদেশের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
২. অনুসন্ধানের জন্য প্রথমে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করতে হয়।
৩. শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক প্রবেশ করলে উঠে দাঁড়ানো একটি সামাজিক রীতি।
৪. ব্যক্তিগত ধারণা ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৫. ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে ভাসমান প্লেটের চলাচলের ফলে বিভিন্ন ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।

৬. কোনো বিষয় সম্পর্কে অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে আমাদের ধারণা পাল্টাতে পারি।
৭. অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহের পর তথ্য বিশ্লেষণ করে অনুমিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়।
৮. বিভিন্ন দেশে প্রচলিত রীতিনীতির মধ্যে পার্থক্য নেই।
৯. সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক উপাদানেরও পরিবর্তন ঘটে।
১০. বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে পাহাড় রয়েছে।

উত্তর: ১. মিথ্যা ২. সত্য ৩. সত্য ৪. মিথ্যা ৫. সত্য ৬. সত্য ৭. সত্য ৮. মিথ্যা ৯. সত্য ১০. মিথ্যা;


সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

প্রশ্ন-১. পূর্বানুমান সঠিক আবার ভুলও হতে পারে। এটা তুমি কীভাবে বুঝবে?
উত্তর: কোনো কাজ বা বিষয় অনুসন্ধানের জন্য সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, তার সম্পর্কে পূর্বানুমান সঠিক না ভুল।

প্রশ্ন-২. তোমার করা একটি প্রকল্প দেখে শিক্ষক ফিডব্যাক দিলেন। ‘এর মানে কী?
উত্তর: কোনো কাজ বা বিষয় অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত প্রক্রিয়ার ভাল-মন্দ দিক যাচাই করে মতামত দেওয়া হলো ফিডব্যাক।

প্রশ্ন-৩. কোনো জিনিস বা বিষয় সম্পর্কে আমাদের ধারণা কখন পাল্টাতে পারি?
উত্তর: কোনো জিনিস বা বিষয় সম্পর্কে আমাদের ধারণা তখনই পাল্টাতে পারি যখন অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে আমরা সেটি যাচাই করতে পারি।


ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন-১. সোহেল আজকাল প্রায়ই মিথ্যা কথা বলে এবং মা-বাবার কথা শোনে না। তার মধ্যে কীসের অবক্ষয় লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সোহেলের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয় লক্ষণীয়। মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে মূল্যবোধের নেতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়। যেসব ধ্যান-ধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, সংকল্প মানুষের আচার-আচরণ এবং কার্যাবলিকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিই হলো মূল্যবোধ। সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে থাকে। এ পরিবর্তন ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয়ই হতে পারে। সমাজে মূল্যবোধের নেতিবাচক পরিবর্তন বা অবনতিই হলো মূল্যবোধের অবক্ষয়।

প্রশ্ন-২. ভূমিকম্পের সময় যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরী। এ সময় সময় তুমি কীভাবে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ভূমিকম্পের সময় নিজেকে ধীরস্থির ও শান্ত রাখতে হবে। কেউ যদি একতলা ভবনে অবস্থান করে তবে তার ঘরের বাইরে চলে যাওয়া উচিত। ঘরের বাইরে থাকলে ঘরে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভূমিকম্প হওয়ার সময় বহুতল ভবনের ভেতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা খাটের নিচে যেতে হবে।

পূর্বপ্রস্তুতিস্বরূপ রেডিও ও টর্চ লাইট হাতের কাছে রাখতে হবে, প্রাথমিক চিকিৎসার সরগ্রাম প্রস্তুত রাখতে হবে, পানি ও বিদ্যুতের মেইন সুইচ কোথায় জানতে হবে এবং হাসপাতাল, ফায়ার ব্রিগেডের ফোন নাম্বার সবসময় সাথে রাখতে হবে। এই বিষয়গুলো মেনে চলা গেলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব হবে।

প্রশ্ন-৩. আজ থেকে প্রায় ২৫০০০ বছর পূর্বে এক ধরনের ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। এখানে কোন ভূমিরূপের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের সময়কে গ্লাইস্টোসিনকাল বলা হয়। বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে গ্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ গঠিত। প্লাইস্টোসিন যুগে আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবন সৃষ্টি হয়ে এ অঞ্চল গঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহের মধ্যে বরেন্দ্র ভূমি অঞ্চল সবচেয়ে বেশি এলাকা নিয়ে বিস্তৃত। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এ অঞ্চলের আয়তন ৯৩২০ বর্গ কিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এ অঞ্চলের উচ্চতা ৬-১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমি গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গ কিলোমিটার, সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬-৩০ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে ধূসর। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড় বিস্তৃত। পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে। মাটিতে নুড়ি, বালি ও কংকর মিশ্রিত রয়েছে।

প্রশ্ন-৪. ভূমিকম্পে সুমনদের এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলো। সে কিছুতেই বুঝতে পারলো না হঠাৎ এমন দুর্যোগ কেন ঘটলো। শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এর সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। তুমি কি শিক্ষকের সাথে একমত? মতামত দাও।
উত্তর: হ্যাঁ, আমি শিক্ষকের সাথে একমত। ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কোনো কারণে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অংশ আকস্মিকভাবে কেঁপে উঠলে তাকে ভূমিকম্প বলে। এ কম্পন অত্যন্ত মৃদু থেকে প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে থাকে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ভূমিকম্পের ফলে মুহূর্তেই কোনো জনপদ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হতে পারে। ভূমিকম্পের কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ আছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিত্তিশিলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক ভূ-আলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়। আবার আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচণ্ড শক্তিতে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও পাশাপাশি অবস্থানরত দুটি প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা অনুভূমিকভাবে আগে-পিছে সরে যায়। এ ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বিজ্ঞানীরা এর দুটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, প্লেটসমূহের সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকে যে ফাটলের সৃষ্টি হয় তা ভূমিকম্প ঘটায়। দ্বিতীয়ত, ভূ-অভ্যন্তরে বা ভূত্বকের নিচে ম্যাগমার সঞ্চারণ অথবা চ্যুতিরেখা বরাবর চাপমুক্ত হওয়ার কারণেও ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

প্রশ্ন-৫. সালমা বড়দের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ করে। তার মধ্যে কোন সামাজিক গুণ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সালমার মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ নামক গুণটি রয়েছে। সামাজিক মূল্যবোধ বলতে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, ধ্যানধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংস্থা ইত্যাদির সমষ্টিকে বোঝায়, যা পরোক্ষভাবে মানুষের আচার-আচরণ ও কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। যেকোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের, সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। এসব মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে পরোপকার করা, সত্য কথা বলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, বড়দের শ্রদ্ধা করা, অতিথিদের আপ্যায়ন করা, ছোটদের স্নেহ করা ইত্যাদি।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর


আশাকরি “৭ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।