|

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায়: আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি ওহি অবতীর্ণ করে আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত ওহিপ্রাপ্ত এসকল বান্দাই হলেন নবি ও রাসুল। আর যারা রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে নিজের জীবনকে আলোকিত ও মহিমান্বিত করেছেন, তাঁরা হলেন আল্লাহর প্রিয় বন্ধু বা ওলি।

আমরা মহান আল্লাহর ঐ সকল মহান নবি-রাসুল ও ওলিদের জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানব। তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে আমাদের জীবন আলোকিত করব। আদর্শ জীবন বলতে বোঝায়, যে জীবন অনুসরণ করলে জীবন সুন্দর ও সুগঠিত হয়। পৃথিবীতে এমন অনেক মহৎ ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, যাদের জীবন চরিত্র অন্যের জন্য আদর্শ। সুতরাং বাস্তব জীবনে এসব মনীষীর সমাজসেবামূলক কাজ অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মত্যাগ, সময়ানুবর্তিতা, পরমতসহিঞ্চুতা, দেশপ্রেমসহ অন্য গুণাবলি অনুসরণ করলে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফল জীবন লাভ করা যায়।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। কাকে আমাদের জন্য পৃথিবীতে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে?
উত্তর: মহানবি (সা.)-কে

প্রশ্ন ২। মহানবি (সা.)-এর আবির্ভাব সময়কালকে কী বলা হতো?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়া।

প্রশ্ন ৩। আইয়ামে জাহেলিয়া অর্থ কী?
উত্তর: অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ।

প্রশ্ন ৪। পবিত্র কাবাগৃহে আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগে কয়টি দেবদেবীর মূর্তি ছিল?
উত্তর: ৩৬০টি।

প্রশ্ন ৫। আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগে যারা কুসংস্কার ও পৌত্তলিকতা থেকে দূরে থাকত তাদেরকে কী বলা হয়?
উত্তর: হানীফ।

প্রশ্ন ৬। কে সকল নবি-রাসুলগণের মধ্যে সর্বশেষ নবি ও রাসুল?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ৭। কে নবিগণের নবি?
উত্তর: মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ৮। মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কুরাইশ বংশে

প্রশ্ন ৯। মহানবি (সা.) কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল।

প্রশ্ন ১০। মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পিতার নাম কী?
উত্তর: আবদুল্লাহ।

প্রশ্ন ১১। মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাতার নাম কী?
উত্তর: আমিনা।

প্রশ্ন ১২। কে মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় পিতা মারা যান?
উত্তর: মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ১৩। দাদা আব্দুল মুত্তালিব মহানবি (সা.)-এর নাম কী রাখেন?
উত্তর: মুহাম্মাদ।

প্রশ্ন ১৪। শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-কে লালন-পালনের জন্য বনু সা’দ গোত্রের কার কাছে অর্পণ করা হয়?
উত্তর: বিবি হালিমার কাছে।

প্রশ্ন ১৫। ধাত্রী মা হালিমার প্রতি কার অগাধ শ্রদ্ধা-ভক্তি ও ভালোবাসা ছিল?
উত্তর: মহানবি (সা.)-এর।

প্রশ্ন ১৬। মহানবি (সা.)-এর কত বছর বয়সে মা আমিনা মারা যান?
উত্তর: ৬ বছর।

প্রশ্ন ১৭। পিতা-মাতার মৃত্যুর পর মহানবি (সা.)-কে অত্যন্ত স্নেহ- ভালোবাসায় লালন-পালন করতে থাকেন কে?
উত্তর: দাদা আব্দুল মুত্তালিব।

প্রশ্ন ১৮। মহানবি (সা.) এর কত বছর বয়সে দাদা আব্দুল মুত্তালিব – ইন্তেকাল করেন?
উত্তর: আট বছর।

প্রশ্ন ১৯। দাদা আব্দুল মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর মহানবি (সা.) কার তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠতে থাকেন?
উত্তর: চাচা আবু তালেবের।

প্রশ্ন ২০। কে মহানবি (সা.)-কে শেষ জামানার নবি ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হিসেবে চিনতে পারেন?
উত্তর: বুহাইরা নামক খ্রিস্টান পাদ্রি।

প্রশ্ন ২১। মহানবি (সা.) কীসের ভয়াবহতা দেখে অত্যন্ত বাধিত হন?
উত্তর: হরবে ফুজ্জারের।

প্রশ্ন ২২। কে ‘হিলফুল ফুযুল’ নামে একটি যুব শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)

প্রশ্ন ২৩। ছোটবেলা থেকেই কে অনন্যসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী ছিলেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)

প্রশ্ন ২৪। কে নিজ হাতে পাথরখানা (হাজরে আসওয়াদ) কাবার দেয়ালে বসিয়ে দিলেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)

প্রশ্ন ২৫। কে নিষ্কলুষ চরিত্রের জন্য তাহিরা বা পুণ্যবতী নামে পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ২৬। খাদিজাতুত তাহিরা কাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব পাঠান?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে।

প্রশ্ন ২৭। বিবাহের সময় খাদিজা (রা.)-এর বয়স কত ছিল?
উত্তর: ৪০ বছর।

প্রশ্ন ২৮। খাদিজা (রা.)-কে বিবাহের সময় মহানবি (সা.)-এর বয়স কত ছিল?
উত্তর: ২৫ বছর।

প্রশ্ন ২৯। মহানবি (সা.) কত খ্রিস্টাব্দে পবিত্র রমযান মাসের ২৭ তারিখে ওহিপ্রাপ্ত হন?
উত্তর: ৬১০ খ্রিস্টাব্দে।

প্রশ্ন ৩০। ইসলামের প্রথম খলিফা কে ছিলেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)।

প্রশ্ন ৩১। হযরত আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে

প্রশ্ন ৩২। হযরত আবু বকর (রা.)-এর উপাধি কী ছিল?
উত্তর: সিদ্দিক বা সত্যবাদী।

প্রশ্ন ৩৩। হযরত আবু বকর (রা.) মহানবি (সা.)-এর কত বছরের ছোট ছিলেন?
উত্তর: তিন বছরের।

প্রশ্ন ৩৪। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.)-এর পিতার নাম কী?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)

প্রশ্ন ৩৫। মহানবি (সা.) কাকে ‘সিদ্দিক’ বা মহাসত্যবাদী উপাধি দেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-কে।

প্রশ্ন ৩৬। কে ইসলামের প্রথম মুসলিম পুরুষ?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)।

প্রশ্ন ৩৭। ইসলাম গ্রহণ করার পর কে সিদ্দিক (সত্যবাদী) এবং আতিক (দানশীল) উপাধি লাভ করেছিলেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)।

প্রশ্ন ৩৮। মহানবি (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী কে ছিলেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ৩৯। কে বিখ্যাত কুরাইশ বংশের আবদুল উযয্যা নামক পরিবারে ৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ৪০। বিশ্বের ইতিহাসে সম্মানিত নারীদের মধ্যে কে অন্যতম ছিলেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ৪১। কোন মহিলা আরবের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ৪২। হযরত খাদিজা (রা.) কার সততা, আমানতদারি ও বিশ্বস্ততারকথা শুনে তাঁর ব্যবসা দেখাশোনা করার জন্য অনুরোধ করেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৪৩। হযরত খাদিজা (রা.) কার বিভিন্ন গুণাবলিতে মুগ্ধ হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৪৪। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও হযরত খাদিজা (রা.)-এর বিবাহ কার সম্মতিক্রমে সম্পন্ন হয়?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচা আবু তালিবের।

প্রশ্ন ৪৫। তিনি একজন আদর্শ নারী, আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ ব্যবসায়ী ও আদর্শ মা ছিলেন।’- উক্তিটি কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর।

প্রশ্ন ৪৬। হযরত খাদিজা (রা.) কোন যুগে জন্মগ্রহণ করেও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন?
উত্তর: জাহিলি যুগে।

প্রশ্ন ৪৭। হযরত খাদিজা (রা.)-এর কোনটি অতুলনীয় ছিল?
উত্তর: স্বামী ভক্তি।

প্রশ্ন ৪৮। কে নারীকুলের গৌরব ছিলেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ৪৯। কে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী নারী ছিলেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)।

প্রশ্ন ৫১। খাদিজা (রা.)-এর কোন কন্যা জান্নাতে নারীদের সর্দার?
উত্তর: হযরত ফাতিমা (রা.)।

প্রশ্ন ৫২। কার উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিশ্বের নারীদের জন্য অনুপম আদর্শ।
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর।

প্রশ্ন ৫৩। ফিকহ শাস্ত্রের জনক বলা হয় কাকে?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে।

প্রশ্ন ৫৪। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ইরাকের কুফা নগরীতে।

প্রশ্ন ৫৫। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর আসল নাম কী?
উত্তর: নুমান।

প্রশ্ন ৫৬। ইমাম আবু হানিফার পিতার নাম কী?
উত্তর: সাবিত।

৫৭। কে একবার যা পড়তেন বা শুনতেন তা মুখস্থ হয়ে যেতো?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)।

৫৮। কে ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভাবক এবং হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)।

প্রশ্ন ৫৯। কার উদ্ভাবিত ফাতওয়া হানাফি মাযহাবের বিখ্যাত গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর।

প্রশ্ন ৬০। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) মুসলিম উম্মাহর জন্য কত হাজার মাসআলার সমাধান করে গেছেন?
উত্তর: প্রায় ৮৩ হাজার।

প্রশ্ন ৬১। কার মাযহাবই সারা বিশ্বে সমাদৃত ও সহজে পালনীয়?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর।

প্রশ্ন ৬২। হাদিস শাস্ত্রে ‘হাফেযুল হাদিস’ কে ছিলেন?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)।

প্রশ্ন ৬৩। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর সহিহ হাদিস সংকলনের নাম কী?
উত্তর: মুসনাদ আল-ইমাম আবি হানিফাহ।’

প্রশ্ন ৬৪। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) কী ধরনের মানুষ ছিলেন?
উত্তর: মুত্তাকি ও পরহেযগার।

প্রশ্ন ৬৫। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) কোন বিষয় থেকে সবসময় নিজেকে পবিত্র রাখতেন?
উত্তর: হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয় থেকে।

প্রশ্ন ৬৬। খলিফা মানসুর গোপনে তাঁকে বিষ প্রয়োগ করেন। এ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৫০ হিজরিতে সিজদাহরত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।- উক্তিটি কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)।

প্রশ্ন ৬৭। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কী ধরনের ব্যক্তি ছিলেন?
উত্তর: ইসলামের অন্যতম প্রধান সাধক ও আধ্যায়িক ব্যক্তি।

প্রশ্ন ৬৮। কে গাউসুল আজম বড় পীর হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)।

প্রশ্ন ৬৯। ১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: পারস্যের জিলান শহরে।

প্রশ্ন ৭০। জন্মভূমি জিলানের নামানুসারে কাকে জিলানী বলা হয়?
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-কে।

প্রশ্ন ৭১। কার উপাধি মুহিউদ্দিন বা দানের পুনরুজ্জীবক ছিল?
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)।

প্রশ্ন ৭২। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর পিতার নাম কী ছিল?
উত্তর: আবু সালেহ মুসা জঙ্গী।

প্রশ্ন ৭৩। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর মাতার নাম কী ছিল?
উত্তর: উম্মুল খায়ের ফাতিমা।

প্রশ্ন ৭৪। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কার বংশধর ছিলেন?
উত্তর: মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৭৫। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী মায়ের কোলে থাকতে শুনে শুনে কত পারা কুরআন মাজিদ মুখস্থ করেন?
উত্তর: ১৮ পারা।

প্রশ্ন ৭৬। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কত বছর বয়সে তাহাজ্জুদ নামায পড়তে শুরু করেন?
উত্তর: সাত বছর বয়সে।

প্রশ্ন ৭৭। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ডাকাত সর্দ্দারের কাছে কতটি স্বর্ণমুদ্রার কথা বলেন?
উত্তর: ৪০টি।

প্রশ্ন ৭৮। হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.) তাঁর শিষ্যদের নিয়ে একটি দল তৈরি করেন। দলটির নাম কী?
উত্তর: মুবাল্লিগ দল।

প্রশ্ন ৭৯। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কয়টি বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন?
উত্তর: প্রায় এগারোটি।

প্রশ্ন ৮০। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কোন ভাষায় কবিতা রচনা করেন?
উত্তর: আরবি ও ফার্সি।

প্রশ্ন ৮১। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কঠোর সাধনা করতেন?
উত্তর: মহান আল্লাহর।

প্রশ্ন ৮২। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) নিষিদ্ধ পাঁচ দিন ব্যতীত সারা বছরই কী করতেন?
উত্তর: রোযা পালন।

প্রশ্ন ৮৩। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কত বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন?
উত্তর: ৯০ বছর বয়সে।

প্রশ্ন ৮৪। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কখন ইন্তেকাল করেন?
উত্তর: ৫৬১ হিজরি সনের ১১ রবিউসসানি।

প্রশ্ন ৮৫। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর মাজার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: বর্তমান ইরাকের বাগদাদ শহরে।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আইয়্যামে জাহেলিয়া কী?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়া আরবি শব্দ। আইয়্যাম অর্থ যুগ বা সময় এবং জাহেলিয়া অর্থ মূর্খতা। সুতরাং আইয়্যামে জাহেলিয়া অর্থ অজ্ঞতা ও বর্বরতার যুগ।

প্রশ্ন ২। কাদেরকে হানীফ বলা হতো?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়া যুগে কতিপয় লোক ছিল যারা এক আল্লাহতে বিশ্বাস করত এবং তারা পৌত্তলিকতা থেকে দূরে থাকত, এদেরকে হানীফ বলা হতো।

প্রশ্ন ৩। আইয়্যামে জাহেলিয়ার সময়কালে আরববাসীদের কী কী ভালো গুণ ছিল?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়ার সময়কালে আবরবাসীরা সাহসিকতা, প্রখর স্মৃতিশক্তি, কাব্যচর্চা, বাগ্মিতা, গোত্রপ্রীতি, আতিথেয়তা প্রভৃতি গুণে গুণান্বিত ছিল।

প্রশ্ন ৪। মহানবি (সা.) কখন, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদেকের সময় মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ৫। আল-আমিন অর্থ কী?
উত্তর: আল-আমিন আরবি শব্দ। আল-আমিন শব্দের অর্থ বিশ্বাসী।

প্রশ্ন ৬। হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কে আল-আমিন নামে ডাকা হতো কেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সদা সত্য কথা বলতেন, কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। এজন্য শৈশবেই তাঁকে সবাই আল-আমিন বা বিশ্বাসী নামে ডাকা হতো।

প্রশ্ন ৭। হিলফুল ফুযুল কী?
উত্তর: মহানবি (সা.) কিশোর বয়সে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য যে যুব শান্তিসংঘটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটির নাম ছিল হিলফুল ফুযুল।

প্রশ্ন ৮। কিশোর মুহাম্মাদ (সা.) সিরিয়া গমন করেছিলেন কেন?
উত্তর: ১২ বছর বয়সে কিশোর মুহাম্মাদ (সা.) চাচা আবু তালেবের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া গমন করেছিলেন।

প্রশ্ন ৯। কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মহানবি (সা.) অত্যন্ত ব্যথিত হন?
উত্তর: ‘হরবে ফুজ্জার’ নামে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মহানবি (সা.) অত্যন্ত ব্যথিত হন; তাঁর মন বিগলিত হয়।

প্রশ্ন ১০। বিবি খাদিজা (রা.) কে তাহিরা বলা হতো কেন?
উত্তর: বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী। এজন্য তাকে তাহিরা বা পুণ্যবতী বলা হতো।

প্রশ্ন ১১। বিবি খাদিজা (রা.) মহানবি (সা.) কে বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন কেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)-এর অমায়িক ব্যবহার, সততা ও বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়ে বিবি খাদিজা (রা.) তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান।

প্রশ্ন ১২। হযরত আবু বকর (রা.) কে সিদ্দিক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)-এর উপাধি ছিল সিদ্দিক বা মহাসত্যবাদী। সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য মহানবি (সা.) তাঁকে এ উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রশ্ন ১৩। হযরত আবু বকর (রা.) কখন, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) মক্কার প্রসিদ্ধ কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রে ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ১৪। হযরত আবু বকর (রা.)-এর চরিত্র কেমন ছিল?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন স্বল্পভাষী, ধৈর্যশীল, সাহসী, পরোপকারী, বিচক্ষণ, দয়ালু, বৃদ্ধদের প্রতি যত্নশীল।

প্রশ্ন ১৫। হযরত আবু বকর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর কী উপাধি লাভ করেছিলেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর সিদ্দিক (সত্যবাদী) এবং আতিক (দানশীল) উপাধি লাভ করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৬। হযরত খাদিজা (রা.) কখন, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.) ৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে আব্দুল উযয্যা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ১৭। ফিকহশাম কী?
উত্তর: ইসলামি আইনকানুন বা মাসয়ালা-মাসায়িলসংক্রান্ত যে শাখা রয়েছে, সে শাখা ফিকহশাস্ত্র নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ১৮। কাকে ফিকহশাস্ত্রের জনক বলা হয়?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে ফিকহশাস্ত্রের জনক বলা হয়।

প্রশ্ন ১৯। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মৌলিক অবদান কী?
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ফিকহশাস্ত্রের উদ্ভাবক এবং হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা।

প্রশ্ন ২০। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কে ছিলেন?
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ছিলেন ইসলামের অন্যতম প্রধান সাধক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তি।

প্রশ্ন ২১। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) কী নামে সকলের নিকট পরিচিত?
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) সকলের নিকট গাউসুল আযম বা বড় পীর হিসেবে পরিচিত।

প্রশ্ন ২২। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর উপাধি কী?
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর উপাধি গাউসুল আযম, মুহিউদ্দিন বা দীনের পুনরুজ্জীবক ইত্যাদি।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আইয়্যামে জাহেলিয়া কী? আইয়্যামে জাহেলিয়ার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়া দুটি আরবি শব্দ। আইয়্যাম অর্থ যুগ বা সময় এবং জাহেলিয়া অর্থ অজ্ঞতা বা বর্বরতা। সুতরাং আইয়্যামে জাহেলিয়া অর্থ অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ। মহানবি (সা.)-এর আবির্ভাবের সময়কালকে আইয়্যামে জাহেলিয়া বলা হতো।

আইয়্যামে জাহেলিয়ার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই ভয়াবহ। তখন সমগ্র আরববাসী শিরক ও পাপাচারে নিমজ্জিত ছিল। তারা মদ, জুয়া, নারী ও যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে নিমগ্ন ছিল। তাদের মধ্যে ভালো-মন্দের পার্থক্য ছিল না। ঝগড়া-বিবাদ, চুরি- ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন, দুর্নীতি ও যুদ্ধবিগ্রহই ছিল তাদের জীবন। তারা এক আল্লাহর পরিবর্তে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তিপূজা করত।

প্রশ্ন ২। আইয়্যামে জাহেলিয়ার সময়কালে আরবদের নারীদের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়ার সময় আরবের নারীদের অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। তাদের কোনো সামাজিক অধিকার বা মর্যাদা ছিল না। তাদেরকে ভোগের সামগ্রী মনে করা হতো। তারা কন্যা সন্তানের জন্মকে দুর্ভাগ্য ও লজ্জার কারণ মনে করত। এমনকি কোনো কোনো গোত্র তাদের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধা করত না।

প্রশ্ন ৩। আইয়্যামে সময়কালে আরববাসীদের ভালো দিকগুলো কী ছিল?
উত্তর: আইয়্যামে জাহেলিয়ার সময়কালে তাদের ভয়াবহ নৈতিক অধঃপতনের পরেও তারা সাহসিকতা, প্রখর স্মৃতিশক্তি, কাব্যচর্চা, বাগ্মিতা, গোত্রপ্রীতি, আতিথেয়তা প্রভৃতি গুণে গুণান্বিত ছিল। তাদের মধ্যে কিছু লোক ছিল যারা জাহেলিয়ার এক আল্লাহতে বিশ্বাস করত। তারা কুসংস্কার ও পৌত্তলিকতা থেকে দূরে থাকত, তাদেরকে হানীফ বলা হতো।

প্রশ্ন ৪। হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্ম ও পরিচয় বর্ণনা কর।
উত্তর: আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদেকের সময় মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। প্রসিদ্ধ মত অনুসারে হস্তিবাহিনীর ঘটনার ৫০ দিন পরে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। তিনি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মাদ এবং স্নেহময়ী মা আমেনা তাঁর নাম রাখেন আহমাদ।

প্রশ্ন ৫। মহানবি (সা.) কে আল-আমিন উপাধিতে ভূষিত করা হয় কেন? বর্ণনা কর।
উত্তর: বাল্যকালে মহানবি (সা.)-এর মধ্যে চারিত্রিক উত্তম গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। তাঁর কোমল স্বভাব ও অমায়িক ব্যবহারে সবাই তাঁকে আদর করতেন। তিনিও সবাইকে শ্রদ্ধা করতেন ও ভালোবাসতেন। সর্বদা হাসি-খুশি থাকতেন, সকলের কষ্টে ব্যথিত হতেন। সদা সত্য কথা বলতেন, কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। এজন্য শৈশবেই তাঁকে সবাই আল-আমিন বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রশ্ন ৬। মহানবি (সা.) হিলফুল ফুযুল গঠন করেন কেন?
উত্তর: মহানবি (সা.) যখন কিশোর ছিলেন তখন আরবে ‘হরবে -ফুজ্জার’ নামে একটি ভয়াবহ যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মহানবি (সা.) অতান্ত ব্যথিত হন; তাঁর মন বিগলিত হয়। তাই তিনি সমাজের অরাজকতা দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মনিয়োগ করেন। এ সময় তিনি কতিপয় যুবককে নিয়ে ‘হিলফুল ফুযুল’ নামে একটি যুব শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন ৭। বিবি হালিমা কে ছিলেন? সংক্ষেপে লেখ।
উত্তর: বিবি হালিমা ছিলেন হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ধাত্রী মা। তৎকালীন আরবের প্রথা অনুসারে শিশু মুহাম্মাদ (সা.)-কে লালন- পালনের জন্য বনু সা’দ গোত্রের বিবি হালিমার নিকট অর্পণ করা হয়। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বিবি হালিমা তাঁকে নিজ সন্তানের ন্যায় আদর- যত্নে লালন-পালন করেন। এরপর শিশু মুহাম্মাদ (সা.) মা আমিনার গৃহে ফিরে আসেন। ধাত্রী মা হালিমার প্রতি মহানবি (সা.)-এর অগাধ ভক্তি-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিল।

প্রশ্ন ৮। দাদা আব্দুল মুত্তালিব কর্তৃক মহানবি (সা.)-এর লালন- পালনের ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর: মহানবি (সা.) ৬ বছর বয়সে পিতার কবর যিয়ারতের জন্য মায়ের সাথে মদিনায় যান। সেখান থেকে মক্কায় ফেরার পথে মা আমিনা ইন্তেকাল করেন। ফলে তিনি পিতা-মাতা উভয়কে হারিয়ে একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। এ সময় দাদা আব্দুল মুত্তালিব এতিম মুহাম্মাদের লালন-পালনের দায়িত্ব নিলেন। দাদা তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ- ভালোবাসায় লালন-পালান করতে থাকেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁর আট বছর বয়সে দাদাও ইন্তেকাল করেন।

প্রশ্ন ৯। কৈশোরে চাচা আবু তালিবের সাথে মহানবি (সা.)-এর সিরিয়া গমনের ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর: ১২ বছর বয়সে কিশোর মুহাম্মাদ (সা.) চাচা আবু তালেবের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া গমন করেন। পথে বুহাইরা নামক জনৈক খ্রিস্টান পাদ্রির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। খ্রিস্টান পাদ্রি কিশোর মুহাম্মাদ (সা.)কে শেষ জামানার নবি ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হিসেবে চিনতে পারেন।

তিনি আবু তালেবকে পরামর্শ দেন তিনি যেন এই বালককে পৌত্তলিক ইয়াহুদিদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেন; তাঁকে মক্কায় পাঠিয়ে দেন। তাই চাচা আবু তালেব পাদ্রির পরামর্শ মোতাবেক মহানবি (সা.)-কে মক্কায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

প্রশ্ন ১০। হাজরে আসওয়াদ স্থাপনে মহানবি (সা.) কীভাবে একটি অবশ্যম্ভাবী যুদ্ধ থেকে জাতিকে রক্ষা করল বর্ণনা কর।
উত্তর: মহানবি মুহাম্মাদ (সা.) যখন একজন যুবক, সে সময় মক্কার গোত্রপ্রধানরা মিলে পবিত্র কাবা ঘর সংস্কারের কাজ শুরু করেন। কাবাঘর সংস্কারের কাজ সমাপ্ত হলে পবিত্র হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) যথাস্থানে স্থাপন করা নিয়ে গোত্রসমূহের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। অবশেষে গোত্রপ্রধানরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, আগামীকাল সকালে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কাবা চত্বরে প্রবেশ করবেন, তিনিই এ বিবাদ মীমাংসা করবেন।

সকালবেলা হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সবার আগে কাবা চতুরে প্রবেশ করলেন। এটা দেখে সবাই সন্তুষ্ট হলো। তিনি তাঁর চাদরের মাঝখানে পবিত্র পাথরটি রেখে সকল গোত্রের সরদারকে চাদরের চারপাশে ধরতে বললেন। তারা সকলে মিলে চাদরটি ধরে যথাস্থানে নিয়ে গেল, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) নিজ হাতে পাথরখানা কাবার দেয়ালে বসিয়ে দিলেন। ফলে আরব জাতি একটি ভয়াবহ যুদ্ধ থেকে রক্ষা পেল এবং সকলে পাথরটি বসানোর গৌরব লাভ করল।

প্রশ্ন ১১। মহানবি (সা.)-এর নবুওয়াতপ্রাপ্তির ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর মহানবি (সা.) প্রায়ই মক্কার অদূরে হেরা পর্বতের গুহায় গভীর চিন্তায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। অবশেষে ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র রমযান মাসের ২৭ তারিখ ওহিপ্রাপ্ত হন। হযরত জিব্রাঈল (আ.) তাঁকে সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত পাঠ করে শোনান; তিনি নবুওয়াত লাভ করেন। নবুওয়াত লাভের পর তিনি মহান আল্লাহর একত্ববাদের দাওয়াত ও ইসলাম প্রচার শুরু করেন।

প্রশ্ন ১২। হযরত আবু বকর (রা.)-এর জন্ম ও পরিচয় সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা কর।
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.) মক্কার প্রসিদ্ধ কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রে ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম আব্দুল্লাহ, উপনাম আবু বকর এবং উপাধি সিদ্দিক বা সত্যবাদী। হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন বয়সের দিক থেকে হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর চেয়ে তিন বছরের ছোট। মহানবি (সা.)-এর প্রায় সমবয়সী হওয়ায় বাল্যকাল থেকে হযরত আবু বকর (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ছিল।

প্রশ্ন ১৩। হযরত আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা সংক্ষেপে উল্লেখ কর? তাকে ‘সিদ্দিক’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল কেন?
উত্তর: একদা হযরত আবু বকর (রা.) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইয়েমেনে গমন করেন। মক্কায় ফিরে শুনলেন হযরত মুহাম্মাদ (সা.) নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেছেন। এ ঘটনার কথা শুনে সাথে সাথেই তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে হাজির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর মিরাজ গমনের ঘটনা প্রচার হলে কাফিরগণ সেটি নিয়ে নানারূপ ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও অপবাদ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু হযরত আবু বকর (রা.) নির্দ্বিধায় মিরাজ গমনের ঘটনা বিশ্বাস করেছিলেন। এজন্য মহানবি (সা.) তাকে ‘সিদ্দিক’ উপাধি দেন। সিদ্দিক শব্দের অর্থ ‘মহাসত্যবাদী’।

প্রশ্ন ১৪। হযরত খাদিজা (রা.)-এর জন্ম ও পরিচয় সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা কর।
উত্তর: হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন মহানবি (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। তিনি বিখ্যাত কুরাইশ বংশের আবদুল উযয্যা নামক পরিবারে ৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। হযরত খাদিজা (রা.) আরবের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন পণ্যের আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায় তৎকালীন শাম দেশ তথা বর্তমান সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ৪০ বছর বয়সে খাদিজা (রা.) মহানবি (সা.)-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

প্রশ্ন ১৫। হযরত খাদিজা (রা.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি বর্ণনা কর?
উত্তর: হযরত খাদিমা (রা.) একজন আদর্শ নারী, আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ ব্যবসায়ী ও আদর্শ মা ছিলেন। হযরত খাদিজা (রা.) জাহেলি যুগে জন্মগ্রহণ করেও সৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। কখনো কোনো অন্যায় ও অসৎ কাজ করেননি। মহানবি (সা.)-এর প্রতি তাঁর প্রবল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল। হযরত খাদিজা (রা.) নারীদের কল্যাণমূলক কাজে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন।

তিনি বিধবা নারীদেরকে আশ্রয় দিতেন ও অবহেলিত নারীদেরকে নিজ বাড়িতে শিক্ষা দিতেন। তিনি অবসর সময়ে সেলাই করতেন। তিনি ছিলেন একজন দানশীল ও দয়ালু ব্যক্তি। তিনি শিশু, অসহায় ও এতিমদের ভালোবাসতেন। ইসলামের কল্যাণে তাঁর সকল সম্পদ দান করার কারণে আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। হযরত খাদিজা (রা.)-এর স্বামীভক্তি ছিল অতুলনীয়। তিনি রাসুল (সা.)-এর সকল কাজে শক্তি ও সাহস যোগাতেন। বিপদে- আপদে কাছে থাকতেন, তাঁকে সান্ত্বনা দিতেন।

প্রশ্ন ১৬। ইমাম আবু হানিফা কখন জন্মগ্রহণ করেন? তার বংশপরিচয় সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা কর।
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ৮০ হিজরি সনের ৪ শাবান মোতাবেক ৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম নুমান, পিতার নাম সাবিত। দাদার নামানুসারে তাঁর নাম রাখা হয় নুমান। তিনিই পরবর্তীতে ইমাম আযম আবু হানিফা নামে জগদ্বিখ্যাত হন। তাকে ফিকহ শাস্ত্রের জনক বলা হয়।

প্রশ্ন ১৭। ইমাম আবু হানিফাকে তাবেঈ গণ্য করা হয় কেন? ফিকহশাস্ত্রে তার অবদান বর্ণনা কর।
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। তিনি মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা ও সিরিয়ার বিখ্যাত মুহাদ্দিসগণের নিকট হতে হাদিসের জ্ঞান লাভ করেন। পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা শরিফে এলে বিভিন্ন দেশের মুহাদ্দিসগণের সাথে জ্ঞানের আদান-প্রদান করতেন। তিনি কয়েকজন সাহাবির সাক্ষাৎ পান। তাই তাকে তাবেঈ গণ্য করা হয়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ফিকহ শাস্ত্রের উদ্ভাবক এবং হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ইবাদাত ও আমলসমূহ আমরা যাতে সঠিকভাবে পালন করতে পারি সেজন্য তিনি কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত শরিয়তের বিধিবিধানকে অত্যন্ত সহজ করে গ্রন্থিত করেন। তাঁর উদ্ভাবিত ফাতওয়া হানাফি মাযহাবের বিখ্যাত গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রায় ৮৩ হাজার মাসআলার সমাধান করে গেছেন। তাঁর মাযহাবই সারাবিশ্বে সমাদৃত ও সহজে পালনীয়।

প্রশ্ন ১৮। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী কে ছিলেন? তাঁর জন্ম, বংশপরিচয় ও উপাধি সম্পর্কে লেখ।
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ইসলামের অন্যতম প্রধান সাধক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি গাউসুল আজম বড় পীর হিসেবেই সকলের নিকট পরিচিত। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) হিজরি ৪৭০ সালে রমযান মাসের ১ তারিখ মোতাবেক ১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মভূমি জিলানের নামানুসারেই তাঁকে জিলানী বলা হয়। তাঁর উপাধি গাউসুল আযম, মুহিউদ্দিন বা দীনের পুনরুজ্জীবক ইত্যাদি। তাঁর পিতা আবু সালেহ মুসা জঙ্গী এবং মাতা উম্মুল খায়ের ফাতিমা। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধর ছিলেন।

প্রশ্ন ১৯। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শৈশবকাল ও শিক্ষাজীবনের ওপর সংক্ষেপে আলোকপাত কর।
উত্তর: শৈশবে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর মধ্যে শিশুসুলভ চাঙলা ছিল না। তিনি ছিলেন শান্ত, নম্র, ভদ্র ও শির স্বভাবের অধিকারী। জনশ্রুতি রয়েছে, তিনি মায়ের কোলে থাকতে শুনে শুনে ১৮ পারা কুরআন মাজিদ মুখস্থ করে ফেলেন। সাত বছর বয়স থেকে তাহাজ্জুদ নামায পড়তে শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর তিনি ১৮ বছর বয়সে বাগদাদের বিশ্ববিখ্যাত নিজামিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখান থেকে তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, ইতিহাস ও আকিদা বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য লাভ করেন।

প্রশ্ন ২০। হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর সত্যবাদিতা সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করে আলোচনা কর।
উত্তর: হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) সদা সত্য কথা বলতেন, কখনো মিথ্যা বলতেন না। তিনি পড়াশোনার জন্য ব্যবসায়ী কাফেলার সাথে বাগদাদ আসার পথে একটি ডাকাত দলের কবলে পড়েন। ডাকাত সর্দার অন্যদের সবকিছু নিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সাথে কী আছে? তিনি বললেন, আমার নিকট ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা আছে।

ডাকাত সর্দার আশ্চর্যান্বিত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, হে যুবক! তুমি তো মিথ্যা কথা বলে আমার নিকট থেকে স্বর্ণমুদ্রা লুকাতে পারতে? তখন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বললেন, আমার মা মিথ্যা কথা বলতে নিষেধ করেছেন। তাঁর এ সত্যবাদিতা দেখে ডাকাত দলের মনে পরিবর্তন আসল এবং তারা সবাই তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে এ পাপের পথ ছেড়ে দিল এবং পুণ্যের পথে তাদের জীবন পরিচালনা শুরু করল।

প্রশ্ন ২১। ইসলাম প্রচারে আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর অবদান কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) একটানা ২৫ বছর মুরাকাবা- মুশাহাদা ও কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনায় নিয়োজিত থাকেন। তিনি জীবনের বাকি সবটুকু সময় ইসলামের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বিভিন্ন জনসভার আয়োজন করে বক্তৃতা ও উপদেশ দিতে থাকেন।

মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও তাঁর সভায় আসতেন। তাঁর দাওয়াতে প্রায় ৫ হাজার অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে একটি মুবাল্লিগ দল তৈরি করেন। তাদের দাওয়াতে বিমোহিত হয়ে সুদান, নাইজেরিয়া, চাদ, ক্যামেরুনের অসংখ্য মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি প্রায় ১১টি বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি আরবি ও ফার্সি ভাষায় কবিতা রচনা করেন।


আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৫ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।