|

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায়: আখলাক আরবি শব্দ। এর অর্থ চরিত্র, স্বভাব, আচার-আচরণ, ব্যবহার ইত্যাদি। মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টি হলো আখলাক। আখলাক দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- আখলাকে হামিদাহ ও আখলাকে যামিমাহ।

মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদাহ বা উত্তম চরিত্র বলা হয়। যেমন- সত্য কথা বলা, পরোপকার করা, মাতাপিতার সেবা করা ইত্যাদি। আখলাকে যামিমাহ অর্থ নিন্দনীয় স্বভাব।

মানুষের সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই ভালো নয়। বরং মানব চরিত্রে এমন কিছু দিক রয়েছে যা অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয়। মানব চরিত্রের এসব নিন্দনীয় স্বভাবগুলোকে আখলাকে যামিমাহ বলা হয়। আখলাকে যামিমাহ হলো আখলাকে হামিদাহর সম্পূর্ণ বিপরীত। আখলাকে যামিমাহর অপর নাম আখলাকে সায়্যিআহ। আখলাকে সায়্যিআহ অর্থ অসৎ চরিত্র, মন্দ স্বভাব ইত্যাদি।


আখলাকে যামিমাহর কুফল

আখলাকে যামিমাহ অর্থ নিন্দনীয় চরিত্র। আখলাকে যামিমাহ বলতে মানুষের মন্দ আচরণ যেমন- মিথ্যা বলা, প্রতারণা, ধোঁকা, ঈর্ষা, হিংসা, লোড, গিবত, গালি ও মন্দ কথা, অশ্লীলতা, অপচয়, অহংকার, ক্ষতিকর আসক্তি ইত্যাদিকে বোঝায়। আখলাকে যামিমাহ আত্মিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করে। যার মধ্যে মন্দ আচরণ বিদ্যমান সে সকলের কাছে ঘৃণিত। এরা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকে। একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে গেলে অবশ্যই মানুষকে আখলাকে যামিমাহ বর্জন করতে হবে।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আখলাকের আভিধানিক অর্থ কী?
উত্তর: স্বভাব, চরিত্র, আচার ও ব্যবহার ইত্যাদি।

প্রশ্ন ২। আখলাকে হামিদাহ-এর অর্থ কী?
উত্তর: প্রশংসনীয় চরিত্র।

প্রশ্ন ৩। মানুষের স্বভাব যখন সামগ্রিকভাবে সুন্দর, মার্জিত ও উত্তম হয়, তখন তাকে কী বলে?
উত্তর: আখলাকে হামিদাহ।

প্রশ্ন ৪। ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যার চরিত্র সবার চেয়ে সুন্দর।’ – উক্তিটি কার?
উত্তর: মহানবি (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৫। কোনটি মানুষকে মুক্তি দেয়?
উত্তর: সত্য।

প্রশ্ন ৬। কোনটি মানুষকে ধ্বংস করে?
উত্তর: মিথ্যা।

প্রশ্ন ৭। সত্যবাদিতা আমাদেরকে কোন পথ দেখায়?
উত্তর: জান্নাতের।

প্রশ্ন ৮। সত্যবাদিতাকে আরবিতে কী বলা হয়?
উত্তর: আস-সিদক।

প্রশ্ন ৯। সাধারণত যে ব্যক্তি সিদক বা সত্যবাদিতার চর্চা করে তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: সাদিক বা সত্যবাদী।

প্রশ্ন ১০। “তোমরা অবশ্যই সত্য কথা বলবে। কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায় আর পুণ্য জান্নাতের পথ দেখায়।” উক্তিটি কোন হাদিসে উল্লেখ আছে?
উত্তর: মুসলিম।

প্রশ্ন ১১। সত্য হলো প্রশান্তি এবং মিথ্যা হলো সংশয়।’ উক্তিটি কে করেছেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ১২। কে সত্যবাদিতার মূর্ত প্রতীক?
উত্তর: আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ১৩। কে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার চর্চা করে গেছেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

প্রশ্ন ১৪। বিশ্বসভ্যতায় কে সত্যের সুষ্ঠুধারা সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ১৫। সত্য বলো, যদিও তা তিক্ত হোক।’- উক্তিটি কে করেছেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)।

প্রশ্ন ১৬। কে আমাদের জীবনে আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত হিসেবে পরিগণিত হন?
উত্তর: মাতাপিতা।

প্রশ্ন ১৭। আনুগতা, সদাচরণ ও ভালোবাসা পাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর ও রাসুলের পরে কাদের স্থান?
উত্তর: মাতাপিতার।

প্রশ্ন ১৮। কারা আমাদের সুখ-শান্তির জন্য তাদের জীবনের সুখ-শান্তি বিলিয়ে দেন?
উত্তর: পিতামাতা।

প্রশ্ন ১৯। ‘জান্নাত তো মায়েদের পদতলে’- উক্তিটি কে করেছেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)।

প্রশ্ন ২০। ‘হে আমার রব! তাদের দুজনার প্রতি অনুগ্রহ করুন, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন। উক্ত দোয়াটি কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: মাতাপিতা।

প্রশ্ন ২১। আত্মীয় শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
উত্তর: আত্মা।

প্রশ্ন ২২। রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্ট আন্তরিক বন্ধনকে কী বলে?
উত্তর: আত্মীয়তা।

প্রশ্ন ২৩। কারা আমাদের পরম আপনজন?
উত্তর: আত্মীয়জন।

প্রশ্ন ২৪। মুমিন হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের একান্ত কর্তব্য কী?
উত্তর: আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করা।

প্রশ্ন ২৫। আত্মীয়তার সম্পর্ককে সাধারণত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
উত্তর: দু’ভাগে।

প্রশ্ন ২৬। আমাদের দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, ফুপু-ফুপা ও তাদের সন্তান-সন্ততিগণ কোন কুলের আত্মীয়স্বজন?
উত্তর: পিতৃকুলের।

প্রশ্ন ২৭। নানা-নানি, মামা-মামি, খালা-খালু ও তাদের সন্তান- সন্ততিগণ কোন কুলের আত্মীয়স্বজন?
উত্তর: মাতৃকুলের।

প্রশ্ন ২৮। ‘তুমি তোমার আত্মীয়ের অধিকার আদায় করো।’- এ বাণীটি কার?
উত্তর: মহান আল্লাহ তা’আলার।

প্রশ্ন ২৯। ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না’- এ বাণীটি কার?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৩০। মানুষ কোন ধরনের জীব?
উত্তর: সামাজিক।

প্রশ্ন ৩১। আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব কোনটি?
উত্তর: সবার প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করা।

প্রশ্ন ৩২। প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করার ব্যাপারে কোথায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে?
উত্তর: পবিত্র কুরআন-সুন্নাহতে।

প্রশ্ন ৩৩। প্রতিবেশী অভুক্ত থাকলে তাকে খাবার দেওয়া কিসের পরিচায়ক?
উত্তর: মুমিনের।

প্রশ্ন ৩৪। শিশু হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.) কে ছিলেন?
উত্তর: মহানবি (সা.) এর দৌহিত্র।

প্রশ্ন ৩৫। ছোটদের ভালো কাজের মূল্যায়ন করা এবং উৎসাহ প্রদান করা কাদের কর্তব্য?
উত্তর: বয়োজ্যেষ্ঠদের।

প্রশ্ন ৩৬। ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা কী?
উত্তর: ইসলামি শিষ্টাচার।

প্রশ্ন ৩৭। কে সকল মানুষকে সম্মানিত করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ।

প্রশ্ন ৩৮। ইসলাম কী ধরনের ধর্ম?
উত্তর: শান্তি ও কল্যাণের।

প্রশ্ন ৩৯। কে সকল সৃষ্টি জীবের কল্যাণের জন্য প্রেরিত হয়েছেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)।

প্রশ্ন ৪০। “আমি তো আপনাকে জগৎসমূহের রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’- উক্তিটি কে করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৪১। আল্লাহ তা’আলা কাদের থেকে সকল মানব সন্তানকে সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: বাবা আদম (আ.) ও মা হওয়া (আ.) থেকে।

প্রশ্ন ৪২। ইসলামের প্রথম খলিফা কে ছিলেন?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রা.)।

প্রশ্ন ৪৩। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা কে ছিলেন?
উত্তর: হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.)।

প্রশ্ন ৪৪। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ’- এ বাণীটি কে ঘোষণা করেছেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ৪৫। বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন জরুরি কেন?
উত্তর: পরিবেশের ভারসাম্য ও সংরক্ষণের জন্য।

প্রশ্ন ৪৬। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কাজ কোথায় নিষেধ করা হয়েছে?
উত্তর: ইসলামে।

প্রশ্ন ৪৭। কোনটি আল্লাহ প্রদত্ত সেবা থেকে বঞ্চিত করার শামিল?
উত্তর: পরিবেশ ধ্বংসের যেকোনো ধরনের কাজ।

প্রশ্ন ৪৮। ‘গাছ লাগানো মুসলিমদের জন্য সদকাস্বরূপ। এ বাণীটি কার?
উত্তর: প্রিয়নবি (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৪৯। আমাদের প্রিয় স্বদেশকে আমরা কেমন রাখবো?
উত্তর: পরিবেশবান্ধব রাখব।

প্রশ্ন ৫০। আখলাকে যামিমাহ অর্থ কী?
উত্তর: নিন্দনীয় চরিত্র।

প্রশ্ন ৫১। মিথ্যা বলা, প্রতারণা, হিংসা, লোভ, গিবত ইত্যাদিকে কী বলে?
উত্তর: আখলাকে যামিমাহ।

প্রশ্ন ৫২। ‘দুষ্ট ও কঠোর স্বভাবের ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’- উক্তিটি কে করেছেন?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.)।

প্রশ্ন ৫৩। কোনটি আত্মিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করে?
উত্তর: আখলাকে যামিমাহ 1

প্রশ্ন ৫৪। একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে গেলে একজন মানুষকে কোনটি বর্জন করতে হবে?
উত্তর: আখলাকে যামিমাহ।

প্রশ্ন ৫৫। মিথ্যা কী?
উত্তর: যা সত্য নয়।

প্রশ্ন ৫৬। কোনটিকে সকল পাপ কাজের জননী বলা হয়?
উত্তর: মিথ্যা।

প্রশ্ন ৫৭। অসংখ্য মিথ্যার জন্ম হয় কীভাবে?
উত্তর: মিথ্যা থেকে।

প্রশ্ন ৫৮। মিথ্যা কী ধরনের অপরাধ?
উত্তর: জঘন্য অপরাধ।

প্রশ্ন ৫৯। মিথ্যা কী ধরনের গুনাহ?
উত্তর: কবিরা গুনাহ।

প্রশ্ন ৬০। কোনটি সকল পাপের মূল?
উত্তর: মিথ্যা।

প্রশ্ন ৬১। যে সমাজে মিথ্যাচার বৃদ্ধি পায়, সে সমাজ কোনদিকে ধাবিত হয়?
উত্তর: ক্রমশ ধ্বংসের দিকে।

প্রশ্ন ৬২। ‘আর তোমরা দূরে থাক মিথ্যা কথন থেকে এ বাণীটি কার?
উত্তর: মহান আল্লাহ তাআলার।

প্রশ্ন ৬৩। মিথ্যা মানুষকে কোন পর্যন্ত পৌঁছে দেয়?
উত্তর: পাপাচার।

প্রশ্ন ৬৪। মুনাফিকের আলামত কয়টি?
উত্তর: তিনটি।

প্রশ্ন ৬৫। আমানতের খেয়ানত করা কিসের আলামত?
উত্তর: মুনাফিকের।

প্রশ্ন ৬৬। অসদুপায় অবলম্বন করে কোন কিছু পাওয়ার চেষ্টা করাকে কী বলে?
উত্তর: প্রতারণা।

প্রশ্ন ৬৭। প্রতারণা কী ধরনের অপরাধ?
উত্তর: সামাজিক অপরাধ।

প্রশ্ন ৬৮। প্রতারণা সমাজে কোনটি সৃষ্টি করে?
উত্তর: বিশৃঙ্খলা।

প্রশ্ন ৬৯। কে কখনোই প্রতারণার আশ্রয় নেয় না?
উত্তর: সত্যিকার ইমানদার

প্রশ্ন ৭০। লেনদেন ও বেচাকেনা কিংবা ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) অসংখ্য কী পাওয়া যায়?
উত্তর: হাদিস।

প্রশ্ন ৭১। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশ করাকে কী বলে?
উত্তর: গিবত।

প্রশ্ন ৭২। গিবত কী ধরনের কাজ?
উত্তর: একটি ঘূর্ণিত জঘন্য কাজ।

প্রশ্ন ৭৩। গিবত কী ধরনের গুনাহ?
উত্তর: কবিরা গুনাহ।

প্রশ্ন ৭৪। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে কিসের সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ঘৃণা ও শত্রুতা।

প্রশ্ন ৭৫। পবিত্র কুরআনুল কারীমে কোন কাজকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: গিবত করাকে।

প্রশ্ন ৭৬। গিবত বা পরনিন্দা কোনটি ধ্বংস করে দেয়?
উত্তর: ইমান ও আমল।

প্রশ্ন ৭৭। কার ভালো আমলগুলো নষ্ট হয়ে যায়?
উত্তর: গিবতকারীর।

প্রশ্ন ৭৮। ‘ইমান আনয়নের পর মন্দ নামে ডাকা অতিশয় গর্হিত কাজ’। এটি কোন সূরার কত নং আয়াত?
উত্তর: সূরা আল হুজুরাত, আয়াত: ১১।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আখলাক শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আখলাক আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ স্বভাব, চরিত্র, আচার ও ব্যবহার ইত্যাদি।

প্রশ্ন ২। ইসলামি পরিভাষায় আখলাক কী?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় আখলাক হচ্ছে মানব চরিত্র, ব্যক্তিগত স্বভাব, আচরণ এবং অন্য ব্যক্তি ও সমাজের সঙ্গে তার আচরণগত অভিব্যক্তি।

প্রশ্ন ৩। আখলাকে হামিদাহ অর্থ কী?
উত্তর: আখলাক অর্থ চরিত্র, আর হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয়। তাই আখলাকে হামিদাহ-এর অর্থ হলো প্রশংসনীয় চরিত্র।

প্রশ্ন ৪। আখলাকে হামিদাহ কী?
উত্তর: মহান আল্লাহর পছন্দের ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসৃত উত্তম আচার-আচরণ বা স্বভাব-চরিত্র হলো আখলাকে হামিদাহ।

প্রশ্ন ৫। আখলাকে হামিদাহ কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের স্বভাব যখন সামিগ্রকভাবে সুন্দর, মার্জিত ও উত্তম হয়, তখন তাকে আখলাকে হামিদাহ বলে।

প্রশ্ন ৬। আখলাকে যামিমাহ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আখলাকে যামিমাহ বলতে মানুষের মন্দ আচরণ যেমন- মিথ্যা বলা, প্রতারণা, ধোঁকা, ঈর্ষা, হিংসা, লোভ, গিবত, গালি ও মন্দ কথা, অশ্লীলতা, অপচয়, অহংকার, ক্ষতিকর আসক্তি ইত্যাদিকৈ বোঝায়।

প্রশ্ন ৭। মানবজীবনের অন্যতম সেরা গুণ কী?
উত্তর: সত্যবাদিতা মানবজীবনের অন্যতম সেৱা গুণ।

প্রশ্ন ৮। কাকে সত্যবাদী বলা হয়?
উত্তর: সাধারণত যে ব্যক্তি সিদক বা সত্যবাদিতা চর্চা করে তাকে সাদিক বা সত্যবাদী বলা হয়।

প্রশ্ন ৯। কারা আমাদের জীবনের আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত?
উত্তর: মাতাপিতা আমাদের জীবনে আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত।

প্রশ্ন ১০। আল্লাহ ও রাসুলের পরে কাদের স্থান এবং কেন?
উত্তর: জন্ম থেকে শুরু করে আমাদের শৈশবের প্রতিটি মুহূর্তে মাতাপিতার অনুগ্রহ ছাড়া আমাদের জীবন অচল। এজন্য আনুগত্য ও ভালোবাসা পাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসুলের পরেই মাতাপিতার স্থান।

প্রশ্ন ১১। মাতাপিতার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
উত্তর: মাতাপিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা সন্তানের ওপর ফরয বা অবশ্য কর্তব্য। পক্ষান্তরে, তাদের কোনোভাবে কষ্ট দেওয়া হারাম।

প্রশ্ন ১২। আত্মীয় কে?
উত্তর: আত্মীয় হলো আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ।

প্রশ্ন ১৩। আত্মীয়তা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আত্মীয়তা বলতে রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্ট অতিরিক্ত কখনকে বোঝায়।

প্রশ্ন ১৪। প্রতিবেশী কারা?
উত্তর: প্রতিবেশীরা হচ্ছেন আমাদের নিকটজন। সাধারণত যারা আমাদের অতি নিকটে বা পাশাপাশি বসবাস করেন, তারাই আমাদের প্রতিবেশী।

প্রশ্ন ১৫। রাসুল (সা.) প্রতিবেশীর পরিচয় সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: কতদূর এলাকার অধিবাসীরা প্রতিবেশী হিসেবে গণ্য হবে, এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সামনে, পিছনে, ডানে ও বামে চল্লিশ বাড়ি পর্যন্ত সবাই প্রতিবেশী।”

প্রশ্ন ১৬। প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের কর্তব্য কী?
উত্তর: প্রতিবেশীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকা ও সদাচরণ করা এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য।

প্রশ্ন ১৭। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি ছোটদের দায়িত্ব কী?
উত্তর: বয়োজ্যেষ্ঠদেরকে সাক্ষাতে সালাম প্রদান করা, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, শালীনতা বজায় রেখে কথা বলা, কোন কাজ শুরুর আগে তাদের পরামর্শ নেওয়া, তাদের উপদেশ মেনে চলা, প্রয়োজনে তাদের কাজকর্মে সহযোগিতা করা ছোটদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রশ্ন ১৮। পরিবেশ কী?
উত্তর: আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ।

প্রশ্ন ১৯। রোগব্যাধির প্রধান কারণ কী?
উত্তর: নোংরা ও দূষিত পরিবেশ রোগব্যাধির প্রধান কারণ।

প্রশ্ন ২০। মিথ্যা কী?
উত্তর: যা সত্য নয় তা-ই মিথ্যা।

প্রশ্ন ২১। মিথ্যা কীরূপ গুনাহ?
উত্তর: মিথ্যা একটি কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। মিথ্যা সকল পাপের মূল।

প্রশ্ন ২২। প্রতারণা কী?
উত্তর: প্রতারণা হচ্ছে অসদুপায় অবলম্বন করে কোনো কিছু পাওয়ার চেষ্টা করা।

প্রশ্ন ২৩। প্রতারণা কাকে বলে?
উত্তর: প্রচলিত আইন বা নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করে কিংবা ফাঁকি দিয়ে অসৎ উপায়ে কোনো কিছু অর্জন করাকে প্রতারণা বলে।

প্রশ্ন ২৪। প্রতারণা কীরূপ অপরাধ?
উত্তর: প্রতারণা একটি জঘন্য সামাজিক অপরাধ। প্রতারণাকারী মুনাফিক।

প্রশ্ন ২৫। গিবত কী?
উত্তর: কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশ করাকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা হয়।

প্রশ্ন ২৬। গিবত কীরূপ কাজ?
উত্তর: গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আখলাক কী? আখলাকে হামিদাহ বলতে কী বোঝায়? বর্ণনা কর।
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায়, আখলাক হচ্ছে মানব চরিত্র, ব্যক্তিগত স্বভাব, আচরণ এবং অন্য ব্যক্তি ও সমাজের সঙ্গে তার আচরণগত অভিব্যক্তি। আখলাক অর্থ চরিত্র আর হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয়। তাই আখলাকে হামিদাহ-এর অর্থ হলো প্রশংসনীয় চরিত্র। আখলাকে হামিদাহকে আবার আখলাকে হাসানাহ বা উত্তম চরিত্রও বলা হয়। মানুষের স্বভাব যখন সামগ্রিকভাবে সুন্দর, মার্জিত ও উত্তম হয়, তখন তাকে আখলাকে হামিদাহ বলে।

প্রশ্ন ২। আখলাকে যামিমাহ কাকে বলে? সিদক ও সাদিকের পার্থক্য লেখ।
উত্তর: আখলাকে যামিমাহ অর্থ নিন্দনীয় চরিত্র। আখলাকে যামিমাহ বলতে মানুষের মন্দ আচরণ যেমন- মিথ্যা বলা, প্রতারণা, ধোঁকা, ঈর্ষা, হিংসা, লোড, গিবত, গালি ও মন্দ কথা, অম্লীলতা, অপচয়, অহংকার, ক্ষতিকর আসত্তি ইত্যাদিকে বোঝায়। আখলাকে যামিমাহ আত্মিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন করে। সত্যবাদিতাকে আরবিতে বলা হয় আস-সিদক। কোনো বিষয় বিকৃত না করে হুবহু উপস্থাপন করাকে সত্যবাদিতা বলা হয়। সাধারণত যে ব্যক্তি সিদক বা সত্যবাদিতা চর্চা করে তাকে সাদিক বা সত্যবাদী বলা হয়।

প্রশ্ন ৩। সত্যবাদিতা কী? সত্যবাদিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ? বর্ণনা কর।
উত্তর: সত্যবাদিতাকে আরবিতে বলা হয় আস-সিদক। কোনো বিষয় বিকৃত না করে হুবহু উপস্থাপন করাকে সত্যবাদিতা বলা হয়। সত্যবাদিতা মানব জীবনের অন্যতম সেরা গুণ। সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে। সত্যবাদিতা আমাদেরকে জান্নাতের পথ দেখায়। সত্যবাদী লোককে সবাই ভালোবাসে। আমাদের জীবনে সত্যবাদিতার ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রে মৃত্যবাদিতার চর্চা করলে আমরা দুনিয়ায় শান্তি ও পরকালে মুক্তি পাবো।

প্রশ্ন ৪। মাতাপিতার নিকট আমরা চিরঋণী- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মাতাপিতা আমাদেরকে তাদের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। আমাদের সুখ-শান্তির জন্য তারা তাদের জীবনে সুখ- শান্তি বিলিয়ে দেন। আমরা যখন কোনো রোগ-শোকে আক্রান্ত হই, তখন তাদের দুশ্চিন্তার সীমা থাকে না। এমনকি তারা তখন আহার- নিদ্রা পরিত্যাগ করে আমাদের আরোগ্য কামনায় ব্যাকুল থাকেন। আমাদের জীবনে তাদের অবদানের সঙ্গে অন্য কারও কোনো অবদানের তুলনাই হয় না। তাই মাতাপিতার নিকট আমরা চিরঋণী।

প্রশ্ন ৫। আত্মীয়তা বলতে কী বোঝায়? আত্মীয়স্বজনদের প্রতি আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে লেখ।
উত্তর: আত্মীয় শব্দটি এসেছে আত্মা থেকে। আত্মীয় হলো আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ। আত্মীয়তা বলতে রক্তের সম্পর্কের মাধ্যমে অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্ট অতিরিক্ত বন্ধনকে বোঝায়। আমাদের সবার উচিত আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা ও তাদের সঙ্গে সদাচার করা। আত্মীয়স্বজনরা আমাদের পরম আপনজন।

আমাদের সুখ-দুঃখে তারা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তারা প্রয়োজনে সুপরামর্শ ও নানা ত্যাগ স্বীকার করে বিপদ-আপদে আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তাই মাতাপিতার হক আদায় করার পর আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করা মুমিন হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের একান্ত কর্তব্য।

প্রশ্ন ৬। প্রতিবেশী কারা? প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে তুমি কী জান?
উত্তর: প্রতিবেশীরা হচ্ছেন আমাদের নিকটজন। সাধারণত যারা আমাদের অতি নিকটে বা পাশাপাশি বসবাস করেন, তারাই আমাদের প্রতিবেশী। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ জীবনে সুখ-শান্তির জন্য আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এ জীবনে আমরা প্রতিবেশী ছাড়া চলতে পারি না। তারা আমাদের ভালো-মন্দ খবরাখবর সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় বেশি জানেন।

অনেক সময় আমাদের বিপদে আত্মীয়রা ছুটে আসার আগেই প্রতিবেশীরা আমাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। তাই তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা ও সদাচরণ করা এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য। প্রতিবেশী যে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা যে পর্যায়েরই হোক না কেন, সবার প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ করা আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব।

প্রশ্ন ৭। বয়োজ্যেষ্ঠ ও ছোটদের প্রতি আমরা কীরূপ আচরণ করব?
উত্তর: বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা ও ছোটদের স্নেহ করা মানব চরিত্রের অন্যতম প্রশংসনীয় দিক। ছোটরা যেমন দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ দায়িত্বশীল নাগরিক, তেমনি বয়োজ্যেষ্ঠরা সমাজের স্তম্ভ। তাই ছোটদের যেমন স্নেহ, আদর-ভালোবাসা দিতে হবে, তেমনি বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। বয়োজ্যেষ্ঠদের সাক্ষাতে সালাম প্রদান করা, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, শালীনতা বজায় রেখে কথা বলা, কোনে কাজ শুরুর আগে তাদের পরামর্শ নেওয়া, তাদের উপদেশ মেনে চলা, প্রয়োজনে তাদের কাজকর্মে সহযোগিতা করা ছোটদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রশ্ন ৮। সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সদাচারের বিষয়ে ইসলামের শিক্ষা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলাম জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, আরব-অনারব, সাদা-কালো, ধনী-গরিব সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলের সাথে মানবীয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। মানুষ হিসেবে সকলকে সম্মান প্রদর্শন করে সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করেছে।

মহানবি (সা.) সকল সৃষ্টি জীবের কল্যাণের জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তাই সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলেমিশে একত্রে সমাজে বসবাস করা ও সমগ্র সৃষ্টি জীবের কল্যাণ সাধন করা মানুষের দায়িত্ব। তাই আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, উঁচু-নিচু, ধনী-গরিব প্রভৃতি ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করব, অপরের বিপদে এগিয়ে আসব, সবার সাথে উত্তম ব্যবহার করব।

প্রশ্ন ৯। পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণের ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা কী? পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমাদের কী করতে হবে?
উত্তর: পরিবেশের ক্ষতি বা অনিষ্ট সাধন করা হলে এর ভারসাম্য নষ্ট হয়। ইসলাম মানুষের সুস্থতাকে উন্নত পরিবেশের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চায়। সেজন্য ইসলাম পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর। নোংরা ও দুষিত পরিবেশ রোগব্যাধির প্রধান কারণ। তাই যেখানে- সেখানে ময়লা-আবর্জনা, কফ, থুথু ও মল ত্যাগ করা যাবে না।

প্রকৃতিকে তার নিয়মানুযায়ী চলতে দেওয়া দরকার। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা ও দূষণ প্রতিরোধে সবার দায়িত্ব পালন করা দরকার। যত্রতত্র ময়লা- আবর্জনা নিক্ষেপ একদিকে যেমন পরিবেশ দুষণ হয়, অন্যদিকে এটি রুচিহীন কাজ। তাই মানুষের সুস্থ থাকার জন্য পরিবেশকে যথাযথ ও দৃষণমুক্ত রাখার প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

প্রশ্ন ১০। মিথ্যা কী? মিথ্যার কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর: যা সত্য নয় তা-ই মিথ্যা। কথা ও কাজে জেনেশুনে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করা একটি মন্দ আচরণ। মিথ্যাকে সকল পাপ কাজের জননী বলা হয়। মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ। এটি একটি কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। মিথ্যা সকল পাপের মূল প্রতারণা, প্রবঞ্চনা ও অন্যের সম্পদ আত্মসাৎসহ সকল অনৈতিক ও সমাজবিরোধী কর্মের মূলে রয়েছে মিথ্যাচার।

যে সমাজে মিথ্যাচার বৃদ্ধি পায়, সে সমাজ ক্রমে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না এবং ভালোবাসে না। বিপদের সময় তাকে কেউ সাহায্য করতে আসে না। তার কথাকে কেউ গুরুত্ব দেয় না। মহান আল্লাহ তা’আলা তার ওপর খুব অসন্তুষ্ট হন।

প্রশ্ন ১১। প্রতারণা কী? প্রতারণার কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর: প্রতারণা হচ্ছে অসদুপায় অবলম্বন করে কোনো কিছু পাওয়ার চেষ্টা করা। প্রচলিত আইন বা নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করে কিংবা ফাঁকি দিয়ে অসৎ উপায়ে কোনো কিছু অর্জন করাকে প্রতারণা বলে। প্রতারণা একটি জঘন্য সামাজিক অপরাধ প্রতারণার জন্য মানুষকে বিভিন্ন রকমের দুঃখ-কষ্ট অশান্তি। ভোগ করতে হয়। প্রতারণা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সত্যিকার ইমানদার কখনোই প্রতারণার আশ্রয় নেয় না, মানুষকে ধোঁকা দেয় না এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না। যে রূপেই প্রতারণা করা হোক না কেন, ইসলাম সেটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রশ্ন ১২। গিবত কী? গালি দেওয়া ও মন্দ কাজ সম্পর্কে আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষ-ত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশ করাকে গিবত বলে। কাউকে মন্দ নামে ডাকা, মন্দ কথা বলা, তিরস্কার করা, অশালীন বা অম্লীল কথা বলা হলো গালি দেওয়া। এটি একটি নিন্দনীয় কাজ।

মানুষ সভ্য জাতি, তারা কাউকে গালি দেবে না। অশালীন কথা বলা নিতান্তই খারাপ কাজ। যে গালি দেয় ও অশালীন কথা বলে, সে সমাজে ঘৃণিত। তাকে মানুষ পছন্দ করে না। সমাজে তার কোনো সমাদর থাকে না। তার সঙ্গে কেউ বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে না। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) গালি দিতে বা গালাগাল করতে নিষেধ করেছেন


আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।