|

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায়: কুরআন মাজিদ হলো আমাদের ধর্মগ্রন্থ। এটি মহান আল্লাহ তা’আলার পবিত্র বাণী। আর হাদিস হলো মহানবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি। কুরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফ ইসলামি শরীয়তের প্রধান দুটি উৎস। মহানবি (সা.) বলেছেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে (মেনে চললে) তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। এ দুটি হলো আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) ও তাঁর রাসুলের সুন্নাত।” (মুয়াত্তা ইমাম মালেক)

কুরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে মানবজীবনের সকল সমস্যা সমাধানের মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হলে কুরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। কুরআন কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: আরবি।

প্রশ্ন ২। কুরআন অর্থ কী?
উত্তর: পঠিত।

প্রশ্ন ৩। কোনটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পঠিত কিতাব?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ৪। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব কী?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ৫। আল্লাহ তা’আলা কার ওপর কুরআন নাযিল করেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ৬। কত বছরে কুরআন নাযিল হয়?
উত্তর: সুদীর্ঘ ২৩ বছরে।

প্রশ্ন ৭। মহাবিজ্ঞানময় গ্রন্থ কী?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ৮। আল-কুরআনের সংরক্ষক কে?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৯। লাওহে মাহফুয বা সংরক্ষিত ফলকে কী লিপিবদ্ধ রয়েছে?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ১০। সর্বপ্রথম সূরা আলাকের প্রথম কতটি আয়াত অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: ৫টি আয়াত।

প্রশ্ন ১১। আল-কুরআন কাদের জন্য রহমতস্বরূপ?
উত্তর: বিশ্ববাসীর।

প্রশ্ন ১২। মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তা’আলা সর্বমোট কতখানা আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন?
উত্তর: ১০৪ খানা।

প্রশ্ন ১৩। ১০০ খানা ছোট কিতাবকে কী বলা হয়?
উত্তর: সহিফা

প্রশ্ন ১৪। বড় আসমানি কিতাব কয়টি?
উত্তর: ৪টি

প্রশ্ন ১৫। সর্বশেষ আসমানি কিতাব কোনটি?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ১৬। ইসলামি শরিয়তের মূল উৎস কী?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ১৭। কোনটি মানুষকে সিরাতুল মুস্তাকিম তথা চিরসত্য ও সুন্দর পথে পরিচালিত করে?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ১৮। তিলাওয়াত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পাঠ করা, পড়া, আবৃত্তি করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ১৯। আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামের পরিভাষায় কী বলে?
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াত।

প্রশ্ন ২০। আল-কুরআন কোন ভাষায় নাযিল হয়েছে?
উত্তর: আরবি।

প্রশ্ন ২১। আল-কুরআন তিলাওয়াতের নিয়ম পদ্ধতিকে কী বলে?
উত্তর: তাজবিদ।

প্রশ্ন ২২। মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী কী?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ২৩। আমাদের বেশি বেশি কী তিলাওয়াত করা উচিত?
উত্তর: আল-কুরআন।

প্রশ্ন ২৪। কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া কী শুদ্ধ হয় না?
উত্তর: সালাত।

প্রশ্ন ২৫। কী তিলাওয়াত করা উত্তম ইবাদত?
উত্তর: কুরআন মাজিদ।

প্রশ্ন ২৬। কুরআন তিলাওয়াত করলে কে খুশি হন?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ২৭। তাজবিদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: উত্তম বা সুন্দর করা।

প্রশ্ন ২৮। কী অনুযায়ী কুরআন পড়া ওয়াজিব বা আবশ্যক?
উত্তর: তাজবিদ

প্রশ্ন ২৯। “কুরআন আবৃত্তি করো ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে।” এটি কোন সূরার আয়াত?
উত্তর: আল-মুযযাম্মিল।

প্রশ্ন ৩০। মাখরাজ কোন ধরনের শব্দ?
উত্তর: আরবি

প্রশ্ন ৩১। আরবি হরফ (বর্ণ) সমূহের উচ্চারণের স্থানকে কী বলা হয়?
উত্তর: মাখরাজ

প্রশ্ন ৩২। আরবি ভাষায় মোট হরফ রয়েছে কয়টি?
উত্তর: ২৯ টি।

প্রশ্ন ৩৩। মাখরাজ কয়টি?
উত্তর: ১৭ টি

প্রশ্ন ৩৪। ১৭টি মাখরাজ মুখের কয়টি স্থান থেকে উচ্চারিত হয়?
উত্তর: ৫টি।

প্রশ্ন ৩৫। এক নম্বর মাখরাজ কী?
উত্তর: জাওফ বা মুখের খালি জায়গা

প্রশ্ন ৩৬। কণ্ঠনালির উপরিভাগ থেকে উচ্চারিত হয় কোন দুটি হরফ?
উত্তর: খা ও গাইন।

প্রশ্ন ৩৭। কুরআন মাজিদের সর্বপ্রথম সূরা কী?
উত্তর: আল-ফাতিহা।

প্রশ্ন ৩৮। সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত সালাত শুরু করা হয় কোন সূরা দিয়ে?
উত্তর: সূরা ফাতিহা।

প্রশ্ন ৩৯। কোন সূরাকে ফাতিহাতুল কিতাব বা ফাতিহাতুল কুরআন বলা হয়?
উত্তর: সূরা ফাতিহা

প্রশ্ন ৪০। কোন সূরার অর্থ কুরআনের সূচনা বা ভূমিকা?
উত্তর: সূরা ফাতিহা

প্রশ্ন ৪১। সূরা ফাতিহার আয়াত সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: ফাতিহা।

প্রশ্ন ৪২। সূরা ফাতিহায় কার উচ্চ প্রশংসা করা হয়?
উত্তর: মহান আল্লাহর।

প্রশ্ন ৪৩। সূরাতুস সালাত বলা হয় কোন সূরাকে?
উত্তর: সূরা ফাতিহাকে।

প্রশ্ন ৪৫। সমগ্র কুরআনের সারমর্ম সংক্ষিপ্তভাবে বলে দেওয়া হয়েছে কোন সূরায়?
উত্তর: আল ফাতিহায়।

প্রশ্ন ৪৬। কার অসংখ্য নিয়ামত আমরা প্রতিনিয়ত ভোগ করি?
উত্তর: মহান আল্লাহর।

প্রশ্ন ৪৭। কে সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৪৮। মানুষের ভালোমন্দ কার হাতে?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৪৯। কোন সূরা মহান আল্লাহর সাথে বান্দার নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম?
উত্তর: সূরা ফাতিহা।

প্রশ্ন ৫০। কুরআন মাজিদের সর্বশেষ সূরা কী?
উত্তর: সূরা আন-নাস।

প্রশ্ন ৫১। সূরা আন-নাস কুরআন মাজিদের কততম সূরা?
উত্তর: ১১৪ তম।

প্রশ্ন ৫২। সূরা আন-নাস কোথায় অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: মদিনায়।

প্রশ্ন ৫৩। সূরা আন নাসের আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তর: ৬টি।

প্রশ্ন ৫৪। আন-নাস শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মানুষ, মানবজাতি।

প্রশ্ন ৫৫। মানুষকে কুমন্ত্রণাদাতা শয়তান কয় ধরনের?
উত্তর: দুই ধরনের।

প্রশ্ন ৫৬। কার সাহায্য ছাড়া শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচা যায় না?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলার।

প্রশ্ন ৫৭। সূরা আল-ফালাক পবিত্র কুরআন মাজিদের কত নম্বর সূরা?
উত্তর: ১১৩ নম্বর সূরা

প্রশ্ন ৫৮। সূরা আল-ফালাকের আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তর: ৫টি।

প্রশ্ন ৫৯। সূরা আল-ফালাক কোথায় অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: মদিনায়।

প্রশ্ন ৬০। কোন ইয়াহুদি তার কন্যার মাধ্যমে মহানবি (সা.)-এর ওপর জাদু করেছিল?
উত্তর: লাবিদ ইবন আসিম।

প্রশ্ন ৬১। আকাশ এবং পৃথিবীর সবকিছুই কার সৃষ্টি?
উত্তর: মহান আল্লাহ তা’আলার।

প্রশ্ন ৬২। সূরা আল-ইখলাস আল-কুরআনের কততম সূরা?
উত্তর: ১১২ তম সূরা

প্রশ্ন ৬৩। সূরা আল-ইখলাসের আয়াত সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: ৪টি।

প্রশ্ন ৬৪। সূরা আল-ইখলাস কোথায় নাযিল হয়?
উত্তর: মক্কায়।

প্রশ্ন ৬৫। “আল-ইখলাস সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।” উদ্ভিটি কে করেছেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)।

প্রশ্ন ৬৬। মক্কার কারা মূর্তিপূজা করত?
উত্তর: মুশরিকরা।

প্রশ্ন ৬৭। কে সকল প্রয়োজনের উর্ধ্বে?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৬৮। সূরা আল-হুমাযাহ আল-কুরআনের কততম সূরা?
উত্তর: ১০৪ তম।

প্রশ্ন ৬৯। সূরা-আল হুমাযাহর আয়াত সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: ৯টি।

প্রশ্ন ৭০। সূরা আল-হুমাযাহ সূরাটি কোথায় অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: মক্কায়।

প্রশ্ন ৭১। হুমাযাহ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পশ্চাতে নিন্দাকারী।

প্রশ্ন ৭২। “গিবত ব্যভিচারের চাইতেও মারাত্মক।” উক্তিটি কে করেছেন?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.)।

প্রশ্ন ৭৩। আমরা কার অনুগ্রহে এ পৃথিবীতে বেঁচে আছি?
উত্তর: মহান আল্লাহ।

প্রশ্ন ৭৪। আল্লাহ তা’আলার নিকট কোনোকিছু পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করাকে কী বলে?
উত্তর: মুনাজাত।

প্রশ্ন ৭৫। পৃথিবী মুমিন বান্দার জন্য কী?
উত্তর: পরীক্ষার ক্ষেত্র।

প্রশ্ন ৭৬। সকল মুসলিমের জন্য জ্ঞান অন্বেষণ করা ফরয।” কথাটি কে বলেছেন?
উত্তর: মহানবি (সা.)।

প্রশ্ন ৭৭। সকল জ্ঞানের মালিক কে?
উত্তর: মহান আল্লাহ।

প্রশ্ন ৭৮। হাদিস কী ধরনের শব্দ?
উত্তর: আরবি।

প্রশ্ন ৭৯। হাদিস কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: কথা, বাণী।

প্রশ্ন ৮০। ইসলামের পরিভাষায় মহানবি (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও তাঁর মৌন সম্মতিকে কী বলা হয়?
উত্তর: হাদিস।

প্রশ্ন ৮১। হিজরি কত সালে সরকারিভাবে হাদিস লেখার হুকুম জারি করা হয়?
উত্তর: হিজরি ১০০ সালে।

প্রশ্ন ৮২। হিজরি ১০০ সালে কে সরকারিভাবে হাদিস লেখার হুকুম জারি করেন?
উত্তর: উমাইয়া খলিফা উমর ইবন আব্দুল আযীয

প্রশ্ন ৮৩। ছয়টি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থকে কী বলা হয়?
উত্তর: সিহাহ্ সিত্তাহ।

প্রশ্ন ৮৪। ইসলামি শরীআতের দ্বিতীয় উৎস কী?
উত্তর: হাদিস।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। পৃথিবীতে সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীতে সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থের নাম আল-কুরআন।

প্রশ্ন ২। মহান আল্লাহ আল-কুরআন নাজিল করেন কেন?
উত্তর: মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তা’আলা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে শেষ নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর আল-কুরআন নাজিল করেন।

প্রশ্ন ৩। আল-কুরআনে কিসের বর্ণনা করা হয়েছে?
উত্তর: মানুষের দুনিয়ার জীবন যাতে সফল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ হয় এবং সেই সাথে পরকালীন জীবনে অনাবিল শান্তিও যেন সে লাভ করতে পারে তার বিস্তারিত পথ নির্দেশনা এ কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৪। আল-কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে কেন?
উত্তর: আল-কুরআন মহান আল্লাহ নিজেই হেফাজতের দায়িত্ব নেওয়ায় এ কিতাব কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে।

প্রশ্ন ৫। আল-কুরআন কোথায় লিপিবদ্ধ রয়েছে?
উত্তর: আল-কুরআন লাওহি মাহফুজ বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

প্রশ্ন ৬। লাওহি মাহফুজ থেকে আল-কুরআন প্রথমে কোথায় নাজিল করা হয়?
উত্তর: লাহি মাহফুজ থেকে আল-কুরআন প্রথমে কদরের রাতে প্রথম আসমানে ‘বাইতুল ইযযাহ’ নামক স্থানে এক সাথে নাজিল করা হয়।

প্রশ্ন ৭। কখন ও কোথায় সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত অবতীর্ণ হয়?
উত্তর: মহানবি (সা.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাকালে সেখানে সর্বপ্রথম সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত অবতীর্ণ হয়।

প্রশ্ন ৮। তিলাওয়াত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তিলাওয়াত শব্দের অর্থ পাঠ করা, পড়া, আবৃত্তি করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৯। কুরআন তিলাওয়াত কাকে বলে?
উত্তর: আরবিতে সুন্দর করে স্পষ্ট উচ্চারণে আল কুরআন পাঠ করাকে কুরআন তিলাওয়াত বলে।

প্রশ্ন ১০। কুরআন তিলাওয়াত করলে আমরা কীভাবে উপকৃত হব।
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াত করলে আমরা আল্লাহ তা’আলার আদেশ- নিষেধ সম্পর্কে জানতে পারব ও সে অনুযায়ী আমল করতে পারব।

প্রশ্ন ১১। কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে মহানবি (সা.) কী বলেছেন?
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেছেন, “পবিত্র কুরআনের প্রতিটি হরফ ( অক্ষর) তিলাওয়াতের জন্য দশটি করে নেকি লেখা হয়।”

প্রশ্ন ১২। নাযিরা তিলাওয়াত কাকে বলে?
উত্তর: আল-কুরআন দেখে দেখে পাঠ করাতে নাযিরা তিলাওয়াত বলে।

প্রশ্ন ১৩। তাজবিদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা।

প্রশ্ন ১৪। তাজবিদ কাকে বলে?
উত্তর: আল-কুরআনকে সহিহ-শুদ্ধরূপে পড়ার জন্য বেশকিছু নিয়মকানুন রয়েছে। এসব নিয়মকানুনসহ আল-কুরআনকে শুদ্ধরূপে সুন্দর করে পাঠ করাকে তাজবিদ বলে।

প্রশ্ন ১৫। মাখরাজ কাকে বলে? 
উত্তর: আরবি হরফসমূহ মুখ ও কণ্ঠনালি বিভিন্ন স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি হরফসমূহ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে।

প্রশ্ন ১৬। ফাতিহা শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ফাতিহা অর্থ সূচনা, শুরু, আরম্ভ, ভূমিকা, মুখবন্ধ ও উপক্রমণিকা।

প্রশ্ন ১৭। সূরা আল-ফাতিহাকে উম্মুল কুরআন বলা হয় কেন?
উত্তর: সূরা ফাতিহার ভেতর সমগ্র কুরআনের সারসংক্ষেপ একত্রিত হয়েছে বিধায় এটিকে উম্মুল কুরআন বলা হয়।

প্রশ্ন ১৮। সূরা ফাতিহাকে আসাসুল কুরআন বলা হয় কেন?
উত্তর: সমগ্র কুরআনে যে পরিপূর্ণ জীবন বিধান উপস্থাপন করা হয়েছে তার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে সূরা ফাতিহায় বর্ণিত কয়েকটি কথার ওপর। এজন্য এ সূরাকে আসাসুল কুরআন বা কুরআনের ভিত্তি বলা হয়।

প্রশ্ন ১৯। সূরা আল-ফাতিহাকে সূরাতুশ শিফা বলা হয় কেন?
উত্তর: সূরা আল-ফাতিহার প্রভাবে আধ্যাত্মিক ও দৈহিক রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। তাই এ সূরাটিকে সূরাতুশ শিক্ষা বলা হয়।

প্রশ্ন ২০। সূরা আন-নাসের আলোচ্য বিষয় কী?
উত্তর: অভিশপ্ত ও বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে কীভাবে বাঁচা যাবে তাই সূরা আন-নাসের আলোচ্য বিষয়।

প্রশ্ন ২১। সূরা আল-ইখলাসের বিশেষত্ব কী?
উত্তর: সূরা আল-ইখলাসের বিশেষত্ব হলো এটি আল-কুরআনের একটি ছোট সূরা; কিন্তু এর ফযিলত ও তাৎপর্য অত্যন্ত বেশি।

প্রশ্ন ২২। সুরা আল-হুমাযাহ’তে কী কী জঘন্য গুনাহের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সূরা আল-হুমাযাহ’তে তিনটি জঘন্য গুনাহের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। গুনাহ তিনটি হলো গীবত, সামনাসামনি মন্দ বলা ও অর্থলিপ্সা।

প্রশ্ন ২৩। নৈতিক মূল্যবোধ কী?
উত্তর: সততা, সত্যবাদিতা, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা, উন্নত চরিত্র, দয়া-মায়া, ক্ষমা, ভালোবাসা, পরস্পর সহযোগিতা-এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ।

প্রশ্ন ২৪। নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি কাকে বলে?
উত্তর: যখন একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচলন, উঠাবসা, আচার-ব্যবহার, লেনদেন সবকিছুই যখন প্রশংসনীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়, তখন তাকে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি বলে।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বর্ণণামূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। কুরআন কী? মানব জীবনে কুরআন কেন গুরুত্বপূর্ণ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। মানবজাতির হিদায়েতের জন্য আল্লাহ তা’আলা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে শেষ নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর সুদীর্ঘ ২৩ বছরে এ কিতাবটি নাযিল করেন। এটি মানুষের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন ভালোবাসা ও রহমতের নিদর্শন। মানুষের দুনিয়ার জীবন যাতে সফল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ হয় সেই সাথে পরকালীন জীবনের অনাবিল শান্তি ও যেন সে লাভ করতে পারে তার বিস্তারিত পথনির্দেশনা এ কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন ২। কুরআনের অবতরণ বা নাজিল সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)- এর ওপর আল-কুরআন নাজিল করেন। এটি নাজিল হয়েছে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে। তখন মহানবি (সা.)-এর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাকালে সর্বপ্রথম সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত অবতীর্ণ হয়। তারপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় প্রয়োজন অনুসারে অল্প অল্প করে ২৩ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়।

প্রশ্ন ৩। কুরআন তিলাওয়াত কী? কুরআন তিলাওয়াত কেন গুরুত্বপূর্ণ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: তিলাওয়াত শব্দের অর্থ পাঠ করা, পড়া, আবৃত্তি করা ইত্যাদি। আল-কুরআন পাঠ করাকে ইসলামের পরিভাষায় কুরআন তিলাওয়াত বলে । আল-কুরআন মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী। এতে মানুষের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিত বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা। কুরআন তিলাওয়াত করলে আমরা আল্লাহ তা’আলার আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে। জানতে পারব ও সে অনুযায়ী আমল করতে পারব। আমরা বুঝে বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করলে এর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারব।

প্রশ্ন ৪। কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত বা মাহাত্ম্য বর্ণনা কর। 
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াত করা হলো উত্তম ইবাদাত। রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা কুরআন পাঠ করো। কেননা কুরআন কিয়ামত দিবসে পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে।” (মুসলিম) কুরআন তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তা’আলা খুশি হন। যে ঘরে কুরআন পড়া হয়, সে ঘরে আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। মহানবি (সা.) বলেছেন, “পবিত্র কুরআনের প্রতিটি হরফ ( অক্ষর) তিলাওয়াতের জন্য দশটি করে নেকি লেখা হয়।” (মুসনাদ আহমাদ) সুতরাং বলা যায়, কুরআন তিলাওয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ।

প্রশ্ন ৫। তাজবিদ ও মাখরাজ কাকে বলে? বর্ণনা কর।
উত্তর: তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনকে সহিহ-শুদ্ধরূপে পড়ার জন্য বেশকিছু নিয়মকানুন রয়েছে। এসব নিয়মকানুনসহ আল-কুরআনকে শুদ্ধরূপে সুন্দর করে পাঠ করাকে তাজবিদ বলে।

প্রশ্ন ৬। সূরা আল-ফাতিহার নামকরণ সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: আল-ফাতিহা কুরআন মাজিদের সর্বপ্রথম সূরা ফাতিহা অর্থ সূচনা, শুরু, আরম্ভ, ভূমিকা, মুখবন্ধ ও উপক্রমণিকা। যেহেতু এ সূরার মাধ্যমে কুরআন মাজিদ শুরু করা হয়, সেজন্য এ সুরার নামকরণ করা হয়েছে আল-ফাতিহা। এটি কুরআন মাজিদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাযিলকৃত সূরা। এটিকে ফাতিহাতুল কিতাব বা ফাতিহাতুল কুরআনও বলা হয়। যার অর্থ কিতাব বা কুরআনের সূচনা বা ভূমিকা।

প্রশ্ন ৭। সূরা আন-নাস সম্পর্কে কী জানো লেখ।
উত্তর: কুরআন মাজিদের সর্বশেষ সূরা হলো আন-নাস। এই সুরাটি কুরআন মাজিদের ১১৪তম সূরা। সূরাটি সপ্তম হিজরিতে মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা আন-নাস এর আয়াত সংখ্যা ৬টি। সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে সূরায় ব্যবহৃত আন-নাস শব্দ দ্বারা। অভিশপ্ত ও বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ঠ থেকে কীভাবে বাঁচা যাবে তাই এ সূরার আলোচ্য বিষয়।

প্রশ্ন ৮। সুরা আল-ইখলাসের ফজিলত বা গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সূরা আল-ইখলাস আল-কুরআনের একটি ছোট সূরা; কিন্তু এর ফযিলত ও তাৎপর্য অত্যন্ত বেশি। এর ফযিলত সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেছেন, “এই সুরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (বুখারি ও মুসলিম) অন্য এক হাদিসে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি এ সূরাটি খুব ভালোবাসি। উত্তরে নবি করিম (সা.) বললেন, এর ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবশ করাবে।” (তিরমিযি)

প্রশ্ন ৯। সূরা আল-হুমাযাহ সম্পর্কে যা জানো লেখ।
উত্তর: সূরা আল-হুমাযাহ আল-কুরআনের ১০৪তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৯টি। এ সূরাটি পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। হুমাযাহ শব্দের অর্থ পশ্চাতে নিন্দাকারী। এ সূরার প্রথম আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ ‘হুমাযাহ’ অনুসারে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এ সূরাটিতে তিনটি জঘন্য গুনাহ ও তার শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। গুনাহ তিনটি হলো গীবত, সামনাসামনি মন্দ বলা ও অর্থলিপ্সা।

প্রশ্ন ১০। আদর্শ সমাজ গঠনে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজন কেন?
উত্তর: সততা, সত্যবাদিতা, সৌজন্যমূলক আচরণ, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা, উন্নত চরিত্র, দয়া-মায়া, ক্ষমা, ভালোবাসা, পরস্পর সহযোগিতা-এ সবকিছুর সমন্বয় হলো নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ। মানুষের জীবন ও সমাজকে সুন্দর করতে হলে এই নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অনুসরণ অপরিহার্য। এছাড়া আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য এ নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি।


আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর
আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ৩য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।