|

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায়: মহান আল্লাহ পৃথিবীর সকল কিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন কেবল তাঁর ইবাদাত করার জন্য। ইবাদাত অর্থ আনুগত্য করা। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নামই ইবাদাত।

সালাত, সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি যেমন ইবাদাত, তেমনি জীবনের প্রতিটি কাজ ইসলামি বিধিবিধান মেনে পালন করাও ইবাদাত। ইবাদাতকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথারীরিক ইবাদাত (শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে যে ইবাদাত করা হয়), আর্থিক ইবাদাত (অর্থ ও সম্পদ দ্বারা যে ইবাদাত করা হয়) এবং শারীরিক ও আর্থিক উভয়ের সংমিশ্রণে ইবাদাত।

মহান আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। আর জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করছেন কেবল তাঁর ইবাদাত। করার জন্য। এ সম্পর্কে কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ বলেন, “আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছি।” (সূরা আয্-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬।

ইবাদাত করলে আল্লাহ খুশি হন। এতে দুনিয়ার জীবন সুখময় হয়। পরকালে জান্নাত লাভ করা যায়। আমরা আল্লাহর ইবাদাত করব, আল্লাহর পথে জীবন পরিচালিত করব। তাহলে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারব।

আরও পড়ুনঃ নামায না পড়ার পরিনতি | বেনামাজির শাস্তি


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। “ইবাদাত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আনুগত্য করা।

প্রশ্ন ২। আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নাম কী?
উত্তর: ইবাদাত।

প্রশ্ন ৩। আমাদের জীবন-মৃত্যু সবই কার হাতে?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৪। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে আল্লাহর দেওয়া বিধান মেনে চলার নাম কী?
উত্তর: ইবাদাত।

প্রশ্ন ৫। মহান আল্লাহ পৃথিবীর সকল কিছু কাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: মানুষের জন্য।

প্রশ্ন ৬। “আর আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছি।”— কোন সূরার কত নম্বর আয়াত?
উত্তর: সূরা আয-যারিয়াত: আয়াত-৫৬।

প্রশ্ন ৭। দিনরাত কত ঘণ্টা ইবাদাত করা সম্ভব?
উত্তর: চব্বিশ ঘণ্টাই ।

প্রশ্ন ৮। পড়ার সময় আমরা কীভাবে পড়া শুরু করতে পারি?
উত্তর: ‘বিসমিল্লাহ’ বলে।

প্রশ্ন ৯। “যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পরামর্শ বা সন্ধান দেবে, সে ঐ কাজটি সম্পাদনকারীর সমান সাওয়াব পাবে।”- উক্তিটি কার?
উত্তর: মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর।

প্রশ্ন ১০। আমরা জীবনকে কীভাবে পরিচালিত করব?
উত্তর: আল্লাহর পথে।

প্রশ্ন ১১। ইবাদাতকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
উত্তর: তিন ভাগে।

প্রশ্ন ১২। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদাত করা হয় তাকে কোন ইবাদাত বলা হয়?
উত্তর: ইবাদাতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদাত।

প্রশ্ন ১৩। যাকাত, সাদকা ও দান-খয়রাত করা কোন ধরনের ইবাদাত?
উত্তর: ইবাদাতে মালি বা আর্থিক ইবাদাত।

প্রশ্ন ১৪। শুধু শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্য কিংবা শুধু অর্থ দিয়ে সম্পন্ন করা যায় না এমন একটি ইবাদাতের নাম লেখ।
উত্তর: হজ করা।

প্রশ্ন ১৫। প্রতিদিন আমাদের কয় ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে?
উত্তর: পাঁচ ওয়াক্ত।

প্রশ্ন ১৬। সালাম কী?
উত্তর: ইসলামি অভিবাদন।

প্রশ্ন ১৭। পরস্পরের সাথে দেখাসাক্ষাৎ হলে আমরা কোনটি বলব?
উত্তর: আসসালামু আলাইকুম।

প্রশ্ন ১৮। মুসাফাহা শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হাতে হাত মেলানো।

প্রশ্ন ১৯। কোনো সাক্ষাৎকারীর হাত ধরে নাম কী?
উত্তর: ‘মুসাফাহা’।

প্রশ্ন ২০। মু’আনাকা অর্থ কী?
উত্তর: গলায় গলা মেলানো বা কোলাকুলি।

প্রশ্ন ২১। কোনটির মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয় এবং হিংসা- বিদ্বেষ দূর হয়?
উত্তর: কোলাকুলির মাধ্যমে।

প্রশ্ন ২২। কোনটি নফল ইবাদাতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদাত?
উত্তর: কুরআন তিলাওয়াত।

প্রশ্ন ২৩। পবিত্র কুরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াতের জন্য কয়টি করে সাওয়াব লেখা হয়?
উত্তর: ১০টি।

প্রশ্ন ২৪। ‘তাসবিহ’ অর্থ কী?
উত্তর: পবিত্রতা ঘোষণা করা।

প্রশ্ন ২৫। আল্লাহ তা’আলার প্রশংসামূলক বাক্যকে কী বলা হয়?
উত্তর: তাসবিহ।

প্রশ্ন ২৬। ‘তাহারাত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পবিত্রতা।

প্রশ্ন ২৭। আল্লাহর ইবাদাত করার পূর্বে কোনটি অর্জন করতে হয়?
উত্তর: পবিত্রতা।

প্রশ্ন ২৮। কে পবিত্র ও পরিচ্ছন্নতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত ছিলেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ২৯। “পবিত্রতা ইমানের অংশ।”- উক্তিটি কার?
উত্তর: মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর।

প্রশ্ন ৩০। পবিত্রতা কত প্রকার?
উত্তর: ২ প্রকার।

প্রশ্ন ৩১। শরিয়তের বিধি অনুযায়ী ওযু, গোসল ও তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনকে কী বলে?
উত্তর: বাহ্যিক পবিত্রতা।

প্রশ্ন ৩২। ‘নাজাসাত’ অর্থ কী?
উত্তর: অপবিত্রতা।

প্রশ্ন ৩৩। শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর অপবিত্র হয়ে যায় অথবা যেসব দ্রব্য কোনো পবিত্র বস্তুতে লাগলে তা অপবিত্র হয়ে যায়, তাকে কি বলে?
উত্তর: নাজাসাত বা অপবিত্রতা।

প্রশ্ন ৩৪। কিসের কারণে শরীর, কাপড় ও ব্যবহারিক জিনিসপত্র অপবিত্র হয়ে যায়?
উত্তর: নাজাসাতের কারণে।

প্রশ্ন ৩৫। নাজাসাত কত প্রকার?
উত্তর: ২ প্রকার।

প্রশ্ন ৩৬। যে সকল অপবিত্রতা দেখা যায় না কিন্তু ইসলামি বিধানে তা নাজাসাতে বা অপবিত্রতা বলে গণ্য হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: নাজাসাতে হুকম।

প্রশ্ন ৩৭। পবিত্র পানি দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে পুরো শরীর ধৌত করাতে কী বলে?
উত্তর: গোসল।

প্রশ্ন ৩৮। খ্যাতিমান ইসলামি পণ্ডিতগণ মনের কতটি মৌলিক রোগ চিহ্নিত করেছেন?
উত্তর: ১০টি।

প্রশ্ন ৩৯। ইসলামের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত ও মুস্তাহাবগুলো যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে কোনটি অর্জন করা যায়?
উত্তর: মনের পবিত্রতা।

প্রশ্ন ৪০। ওযু শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও উজ্জ্বলতা।

প্রশ্ন ৪১। পবিত্রতা অর্জনের জন্য শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মুখমণ্ডল, দুই হাত (কনুইসহ) ও দুই পা (টাখনুসহ) ধৌত করা এবং মাথা মাসাহ করার নাম কী?
উত্তর: ওযু

প্রশ্ন ৪২। “আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে চিনতে পারব।”- মহানবি (সা.) কোন প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন?
উত্তর: ওযুর ফজিলত প্রসঙ্গে।

প্রশ্ন ৪৩। ওযুর ফরয কয়টি?
উত্তর: চারটি

প্রশ্ন ৪৪। শুয়ে অথবা হেলান দিয়ে ঘুমালে কী ভঙ্গ হবে?
উত্তর: ওযু।

প্রশ্ন ৪৫ গোসল অর্থ কী?
উত্তর: ধৌত করা।

প্রশ্ন ৪৬। গোসলের ফরয কয়টি?
উত্তর: তিনটি।

প্রশ্ন ৪৭। তায়াম্মুম অর্থ কী?
উত্তর: ইচ্ছা করা।

প্রশ্ন ৪৮। ইসলামি পরিভাষায় পবিত্র মাটি বা মাটি জাতীয় পবিত্র বস্তু দ্বারা পবিত্র হওয়ার নিয়মে মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুইসহ মাসাহ করাকে কী বলে?
উত্তর: তায়াম্মুম

প্রশ্ন ৪৯। ওযু ও গোসল উভয়ের পরিবর্তে কোনটি করা যায়?
উত্তর: তায়াম্মুম

প্রশ্ন ৫০। পবিত্রতা অর্জনের প্রকৃত মাধ্যম কোনটি?
উত্তর: পানি।

প্রশ্ন ৫১। তায়াম্মুমের ফরয কয়টি?
উত্তর: তিনটি।

প্রশ্ন ৫২। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিসের ভূমিকা অপরিসীম?
উত্তর: পবিত্রতার।

প্রশ্ন ৫৩। কোনটি শরীরকে সতেজ, সবল এবং মনকে প্রফুল্ল রাখে?
উত্তর: পবিত্রতা।

প্রশ্ন ৫৪। বর্তমানে কখন ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ পালিত হয়?
উত্তর: ১৫ অক্টোবর।

প্রশ্ন ৫৫। কোনটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
উত্তর: ইসলাম।

প্রশ্ন ৫৬। মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) আমাদের কোনটির ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন?
উত্তর: নিয়মিত মিসওয়াক করার ব্যাপারে।

প্রশ্ন ৫৭। শারীরিক পবিত্রতার সঙ্গে কোনটি একই সূত্রে গাথা?
উত্তর: মানসিক শান্তি।

প্রশ্ন ৫৮। সালাতের আভিধানিক অর্থ কী?
উত্তর: দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৫৯। ইসলামি পরিভাষায় আহকাম, আরকানসহ বিশেষ নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ইবাদাত করার নাম কী?
উত্তর: সালাত।

প্রশ্ন ৬০। ইসলামের কয়টি রুকন বা স্তম্ভ রয়েছে?
উত্তর: পাঁচটি।

প্রশ্ন ৬১। মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সন্তানদের কত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দিয়েছেন?
উত্তর: সাত বছর।

প্রশ্ন ৬২। ইমানের পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত কী?
উত্তর: সালাত।

প্রশ্ন ৬৩। কোনটি বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে?
উত্তর: সালাত।

প্রশ্ন ৬৪। কোনো বিষয়ে অস্থিরতা দেখা দিলে মহানবি (সা.) কী করতেন?
উত্তর: সালাত আদায়।

প্রশ্ন ৬৫। কোনটি অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে?
উত্তর: সালাত।

প্রশ্ন ৬৬। জামাআতে সালাত আদায় করলে কোনটি দৃঢ় হয়?
উত্তর: সামাজিক বন্ধন।

প্রশ্ন ৬৭। সালাতের মাধ্যমে কাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়?
উত্তর: আল্লাহ ও বান্দার।

প্রশ্ন ৬৮। যথাসময়ে সালাত আদায় করার জন্য কৈ আদেশ দিয়েছেন?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৬৯। নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা কাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য?
উত্তর: মুমিনদের।

প্রশ্ন ৭০। আল্লাহ তা’আলা কার মাধ্যমে নবি করিম (সা.)-কে সালাত আদায়ের পদ্ধতি এবং সালাতের সময় জানিয়ে দিয়েছেন।
উত্তর: হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে

প্রশ্ন ৭১। আকাশের পূর্ব দিগন্তে ভোর রাতে লম্বমান যে আলোর রেখা দেখা দেয় তাকে কী বলে?
উত্তর: সুবহে সাদিক।

প্রশ্ন ৭২। সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোন ওয়ান্ত শুরু হয়?
উত্তর: যোহরের ওয়াও।

প্রশ্ন ৭৩। ঠিক দুপুরের সময়ে কোনো বস্তুর যেটুকু ছায়া থাকে তাকে কী বলে?
উত্তর: ‘ছায়া আসলি’ বা আসল ছায়া।

প্রশ্ন ৭৪। কোন সময় আসরের সালাত আদায় করা মাকরুহ?
উত্তর: সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করলে।

প্রশ্ন ৭৫। কোন সময় এশার নামায আদায় করা উত্তম?
উত্তর: রাতের প্রথম প্রহরের মধ্যে।

প্রশ্ন ৭৬। বিতর সালাতের প্রকৃত সময় কখন?
উত্তর: শেষ রাত।

প্রশ্ন ৭৭। সালাতুল জুমুআর সময় ইমামগণ কোন ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন?
উত্তর: হেদায়াত-নসিহতমূলক।

প্রশ্ন ৭৮। প্রতিদিন কয় ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরয?
উত্তর: ৫ ওয়াক্ত।

প্রশ্ন ৭৯। কীভাবে সালাত আদায় করতে হয়?
উত্তর: বিনীত ও একাগ্রচিরে।

প্রশ্ন ৮০। কোন সালাত আল্লাহ তা’আলা কবুল করেন না?
উত্তর: লোক দেখানো কিংবা উদাসীনভাবে আদায় করা সালাত।

প্রশ্ন ৮১। রুকুতে গিয়ে কী বলতে হয়?
উত্তর: সুবহানা রাব্বিয়াল আফিম।

প্রশ্ন ৮২। সালাতে মোট ফরয কয়টি?
উত্তর: চৌদ্দটি

প্রশ্ন ৮৩। সালাতের পূর্বে প্রস্তুতিমূলক কয়টি ফরয রয়েছে?
উত্তর: সাতটি।

প্রশ্ন ৮৪। সালাতের ভেতরে সাতটি ফরয রয়েছে। এগুলোকে কী বলা হয়?
উত্তর: সালাতের আরকান।

প্রশ্ন ৮৫। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সালাত শুরু করাকে কী বলে?
উত্তর: তাকবিরে তাহরিমা।

প্রশ্ন ৮৬। সালাতের ওয়াজিব কয়টি?
উত্তর: সালাতের ওয়াজিব চৌদ্দটি।

প্রশ্ন ৮৭। প্রত্যেক রাকআতে কোন সূরা পড়তে হয়?
উত্তর: সূরা ফাতিহা।

প্রশ্ন ৮৮। মুস্তাহাব অর্থ কী?
উত্তর: উত্তম, পছন্দনীয়।

প্রশ্ন ৮৯। সালাতের মধ্যে এমন কিছু আমল আছে যা পালন করলে সাওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু পালন না করলে কোনো গুনাহ হয় না- এগুলোকে কী বলা হয়?
উত্তর: সালাতের মুস্তাহাব।

প্রশ্ন ৯০। কখন সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য কোনো কাজ বা কথা বলা হারাম হয়ে যায়?
উত্তর: তাকবির বলার পর।

প্রশ্ন ৯১। মাকরুহ অর্থ কী?
উত্তর: অপছন্দনীয়।

প্রশ্ন ৯২। মোট কয়টি সময় সালাত পড়া নিষিদ্ধ?
উত্তর: তিনটি সময়।

প্রশ্ন ৯৩। ‘সিজদাহ’ অর্থ কী?
উত্তর: মাথা অবনত করা।

প্রশ্ন ৯৪। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বান্দা তার কপাল অমিনে রাখাকে কী বলে?
উত্তর: সিজদাহ।

প্রশ্ন ৯৫। সিজদাহ একমাত্র কার প্রাপ্য?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলার।

প্রশ্ন ৯৬। সিজদাহ কীভাবে করতে হয়?
উত্তর: মাটিতে নাক ও কপাল স্পর্শ করে।

প্রশ্ন ৯৭। মানুষ নামায আদায়ের সময় যেসব সিজদাহ দিয়ে থাকে তাকে কী বলে?
উত্তর: ফরয সিজদাহ।

প্রশ্ন ৯৮। ভুলবশত নামাযে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে এবং সিজদাহ-এর আয়াত তিলাওয়াত করলে যে সিজদাহ দিতে হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: ওয়াজিব সিজদাহ।

প্রশ্ন ৯৯। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে যে সিজদাহ দেওয়া হয় তাকে কী বলে? 
উত্তর: মুস্তাহাব সিজদাহ।

প্রশ্ন ১০০। সিজদায়ে সাহু অর্থ কী?
উত্তর: ভূপের জন্য সিজদাহ্।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ইবাদাত কী?
উত্তর: আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নামই ইবাদাত।

প্রশ্ন ২। সালাম কী?
উত্তর: সালাম হলো ইসলামি অভিবাদন। সালামের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের উন্নয়ন হয়।

প্রশ্ন ৩। মুসাফাহা কী?
উত্তর: মুসাফাহা শব্দের অর্থ করমর্দন বা হাতে হাত মেলানো। কোনো সাক্ষাৎকারীর হাত ধরে অভিবাদন জানানোর নাম ‘মুসাফাহা’।

প্রশ্ন ৪। তাসবিহ অর্থ কী?
উত্তর: তাসবিহ অর্থ পবিত্রতা ঘোষণা করা, প্রশংসা করা, মহিমা ও গুণগান বর্ণনা করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৫। তাসবিহ কাকে বলা হয়?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলার প্রশংসামূলক বাক্যকে তাসবিহ বলা হয়।

প্রশ্ন ৬। ইসলামি পরিভাষায় তাহারাত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় তাহারাত বলতে দেহ, মন, পোশাক, স্থান বা পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা ও নির্মলতাকে বোঝায়।

প্রশ্ন ৭। শারীরিক পবিত্রতা লাভের মাধ্যমগুলো কী কী?
উত্তর: শারীরিক পবিত্রতা লাভের মাধ্যম হলো ওযু, গোসল ও তায়াম্মুম।

প্রশ্ন ৮। বাহ্যিক পৰিত্ৰতা কী?
উত্তর: শরিয়তের বিধি অনুযায়ী ওযু, গোসল ও তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনই বাহ্যিক পবিত্রতা।

প্রশ্ন ৯। নাজাসাত কাকে বলে?
উত্তর: শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর অপবিত্র হয়ে যায় অথবা যেসব দ্রব্য কোনো পবিত্র বস্তুতে লাগলে তা অপবিত্র হয়ে যায়, তাকে নাজাসাত বা অপবিত্রতা বলা হয়।

প্রশ্ন ১০। নাজাসাতে হাকিকি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নাজাসাতে হাকিকি বলতে ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে বোঝায় যেগুলো প্রকৃতিগত দিক থেকেই অপবিত্র এবং ইসলামি শরিয়ত সেগুলোকে অপবিত্র ঘোষণা করে।

প্রশ্ন ১১। ওযু কী?
উত্তর: শরীর পবিত্র করার নিয়তে পাক-পবিত্র পানি দিয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মুখমণ্ডল, দুই হাত (কনুইসহ) ও দুই পা টাখনুসহ) ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করার নাম ওযু।

প্রশ্ন ১২। গোসল কী?
উত্তর: পবিত্র পানি দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে পুরো শরীর ধৌত করাকে গোসল বলে।

প্রশ্ন ১৩। ইসলামি পরিভাষায় গোসল বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় গোসল বলতে পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্যে পবিত্র পানি দ্বারা পুরো শরীর ধৌত করাকে বোঝায়।

প্রশ্ন ১৪। তায়াম্মুম কাকে বলে?
উত্তর: পানি পাওয়া না গেলে অথবা অসুস্থ অবস্থায় রোগী পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে, মাটি বা মাটি জাতীয় বস্তু দ্বারা মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করাকে তায়াম্মুম বলে।

প্রশ্ন ১৫। সালাত কী?
উত্তর: ইসলামি পরিভাষায় আহকাম, আরকানসহ বিশেষ নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ইবাদাত করার নাম সালাত (নামায)।

প্রশ্ন ১৬। ফজরের ওয়াক্তের সময়কাল লেখ।
উত্তর: ফজরের সালাত শুরু হয় সুবহে সাদিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত এর সময় থাকে।

প্রশ্ন ১৭। সুবহে সাদিক কাকে বলে?
উত্তর: আকাশের পূর্বদিগন্তে ভোর রাতে লম্বমান যে আলোর রেখা দেখা দেয়, তাকেই বলে সুবহে সাদিক।

প্রশ্ন ১৮। যোহরের ওয়াক্তের সময়কাল লেখ।
উত্তর: সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। কোনো বস্তুর ছায়া ‘ছায়া আসলি’ বাদ দিয়ে দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত এই সময় থাকে।

প্রশ্ন ১৯। ছায়া আসলি কাকে বলে?
উত্তর: ঠিক দুপুরের সময়ে কোনো বস্তুর যেটুকু ছায়া থাকে, তাকেই ‘ছায়া আসলি’ বা আসল ছায়া বলে।

প্রশ্ন ২০। আসরের ওয়াক্তের সময়কাল লেখ।
উত্তর: যোহরের সময় শেষ হলেই আসরের সময় শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত থাকে।

প্রশ্ন ২১। মাগরিবের ওয়াক্তের সময়কাল দেখ।
উত্তর: সূর্যাস্তের পর পরই মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয়। পশ্চিম আকাশে যতক্ষণ লালিমা থাকে ততক্ষণ মাগরিবের সময় বাকি থাকে।

প্রশ্ন ২২। এশার ওয়াক্তের সময়কাল লেখ?
উত্তর: মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর এশার নামাযের শুরু হয় এবং সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত থাকে।

প্রশ্ন ২৩। বিতর সালাতের সময়কাল দেখ।
উত্তর: বিতর সালাতের প্রকৃত সময় শেষরাত। তবে এশার সালাতের পর পরও আদায় করা যায়। কিন্তু এশার আগে পড়া যায় না।

প্রশ্ন ২৪। সালাতের আহকাম কাকে বলে?
উত্তর: সালাতের পূর্বে প্রস্তুতিমূলক সাতটি ফরয রয়েছে। এগুলোকে সালাতের আহকাম বলা হয়।

প্রশ্ন ২৫। সালাতের আরকান কাকে বলে?
উত্তর: সালাতের ভেতরে সাতটি ফরয রয়েছে। এগুলোকে সালাতের আরকান বলা হয়।

প্রশ্ন ২৬। সালাতের ওয়াজিব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সালাতের ওয়াজিব বলতে ঐসব করণীয় বিষয় বোঝায়, যার কোনো একটি ভুলক্রমে ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু’ আদায় করে। সালাত শুদ্ধ করতে হয়।

প্রশ্ন ২৭। সুন্নত কাকে বলে?
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতের মধ্যে ফরয, ওয়াজিব ছাড়াও কিছু আমল বা কাজ করেছেন কিন্তু এগুলো আদায়ের ব্যাপারে ফরয ও ওয়াজিবের মতো গুরুত্বারোপ করেননি। এগুলোকে বলা হয় সুন্নত।

প্রশ্ন ২৮। সালাতের নিষিদ্ধ সময় কয়টি?
উত্তর: তিন সময়ে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ। ১. ঠিক সূর্যোদয়ের সময়, ২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় ও ৩. সূর্যাস্তের সময়।

প্রশ্ন ২৯। সিজদাহ অর্থ কী?
উত্তর: ‘সিজদাহ’ আরবি শব্দ। এর অর্থ মাথা অবনতকরণ।

প্রশ্ন ৩০। সিজদাহ কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বান্দা তার কপাল জমিনে রাখাকে সিজদাহ বলে।

প্রশ্ন ৩১। ফরয সিজদাহ কাকে বলে?
উত্তর: মানুষ নামায আদায়ের সময় যেসব সিজদাহ দিয়ে থাকে। তাকে ফরয সিজদাহ বলে।

প্রশ্ন ৩২। ওয়াজিব সিজদাহ কাকে বলে?
উত্তর: ভুলবশত নামাযে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে এবং সিজদাহ- এর আয়াত তিলাওয়াত করলে যে সিজদাহ দিতে হয় তাকে ওয়াজিব সিজদাহ বলে।

প্রশ্ন ৩৩। মুস্তাহাব সিজদাহ কাকে বলে?
উত্তর: খুশির সংবাদ শুনে, কোনো নিয়ামতপ্রাপ্ত হলে বা বিপদমুক্ত হলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে যে সিজদাহ দেওয়া হয় তাকে মুস্তাহাব সিজদাহ বলে।

প্রশ্ন ৩৪। সিজদায়ে সাহু কাকে বলে?
উত্তর: ভুলবশত নামাযে ওয়াজিব বাদ পড়লে, তা সংশোধনের জন্য নামাযের শেষ বৈঠকের দুটি সিজদাহ করা হয়, একেই সিজদায়ে সাহু বলে।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ইবাদাত বলতে কী বোঝায়? তুমি ইবাদাত করবে কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ইবাদাত আরবি শব্দ। এর অর্থ অনুগত্য করা, দাসত্ব করা, গোলামি করা। আর ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্মে আল্লাহ তা’আলার বিধিবিধান মেনে চলাকে ইবাদাত বলা হয়। মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আসমান, জমিন, চাঁদ- সুরুজ, ফল-ফুল, নদীনালা সব মানবজাতির জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর দেওয়া এসব অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করার পর এর শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করতে হবে। কাজেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য আমি আল্লাহর দেওয়া বিধানমতো ইবাদাত করব।

প্রশ্ন ২। ইবাদাত কত প্রকার? প্রত্যেক প্রকারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: ইবাদাত তিন প্রকার। প্রত্যেক প্রকার ইবাদাতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে দেওয়া হলো-
১. ইবাদাতে বাদানি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদাত করা হয় তাকে বলা হয় ইবাদাতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদাত। যেমন— নামায, রোযা ইত্যাদি।

২. ইবাদাতে মালি: অর্থের দ্বারা যে ইবাদাত করতে হয় সেগুলোকে বলা হয় ইবাদাতে মালি বা আর্থিক ইবাদাত। যেমন- যাকাত দেওয়া, দান-সদকা করা ইত্যাদি।
৩. ইবাদাতে মালি ও বাদানি: এমন কিছু ইবাদাত আছে যা করতে শরীর ও অর্থ উভয়ের প্রয়োজন হয়। যেমন- হজ করা, জিহাদ করা ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৩। তায়াম্মুম বলতে কী বোঝ? তায়াম্মুম করার নিয়ম বর্ণনা কর।
উত্তর: তায়াম্মুম অর্থ ইচ্ছা করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় তায়াম্মুম বলতে পবিত্র মাটি বা মাটি জাতীয় পবিত্র বস্তু (যেমন— পাথর, চুনাপাথর, বালি ইত্যাদি) দ্বারা পবিত্র হওয়ার নিয়তে মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুইসহ মাসাহ করাকে বোঝায়। ওযু ও গোসল উভয়ের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা যায়।

প্রথমে নিয়ত করে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়বে। তারপর দুই হাতের তালু একটু প্রসারিত করে পবিত্র মাটি বা ঐ জাতীয় পবিত্র বস্তু; যেমন- পাথর, চুনাপাথর, বালি ইত্যাদিতে দুই হাত লাগিয়ে সমস্ত মুখমণ্ডল একবার মাসাহ করবে। পুনরায় দুই হাত মাটিতে লাগিয়ে উভয় হাত বলুইসহ মাসাহ করবে। হাতে কোনো ঘড়ি বা অন্য কোনো জিনিস থাকলে তা সরিয়ে তার নিচেও মাসাহ করতে হবে।

প্রশ্ন ৪। মুসাফাহা ও মুআনাকা সম্পর্কে কী জান? বর্ণনা কর।
উত্তর: মুসাফাহা শব্দের অর্থ করমর্দন বা হাতে হাত মেলানো। কোনো সাক্ষাৎকারীর হাত ধরে অভিবাদন জানানোর নাম ‘মুসাফাহা’। মুসাফাহ উভয় হাতে করতে হয়। মু’আনাকা অর্থ কোলাকুলি। কোনো ব্যক্তির সাথে। দীর্ঘদিন পর বা সফর থেকে ফিরে আসার পর সাক্ষাৎ হলে কোলাকুলি করা সুন্নত। কোলাকুলিকারী উভয়ে গলা মিলাবে। কোলাকুলির মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয় এবং হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়।

প্রশ্ন ৫। তাহারাত বলতে কী বোঝায়? বর্ণনা কর।
উত্তর: ‘তাহারাত’ আরবি শব্দ। এর অর্থ পবিত্রতা। ইসলামি পরিভাষায় তাহারাত বলতে দেহ, মন, পোশাক, স্থান বা পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা ও নির্মলতাকে বোঝায়। আল্লাহর ইবাদাত করার পূর্বে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। ওযু, গোসল, তায়াম্মুম ইত্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। ইবাদাতের জন্য পবিত্র থাকা একান্ত প্রয়োজন। পবিত্র না হয়ে সালাত আদায় করা যায় না। এ প্রসঙ্গে মহানবি (সা.) বলেন, “পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না।” (মুসলিম)

প্রশ্ন ৬। পবিত্র থাকার উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর: ইসলামে পবিত্রতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইবাদাতের জন্য পবিত্র থাকা একান্ত প্রয়োজন। দুভাবে পবিত্রতা হাসিল করতে হয়। যথা- ১. অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ও ২. বাহ্যিক পবিত্রতা। হৃদয়কে যাবতীয় শিরক, আকিদা, রিয়া, গিবত ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখার নাম অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা। আর শরিয়তের বিধিমতো ওযু গোসল, তায়াম্মুম ইত্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনকে বাহ্যিক পবিত্রতা বলে।

প্রশ্ন ৭। বাহ্যিক পবিত্রতা সম্পর্কে কী জানো? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ইবাদাতের প্রস্তুতির জন্য শরীর, পোশাক-পরিচ্ছদ ও ইবাদাতের স্থান পবিত্র করতে হয়। শারীরিক পবিত্র লাভের মাধ্যম হলো- ওযু, গোসল ও তায়াম্মুম শরিয়তের বিধি অনুযায়ী ওযু, গোসল ও তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনই বাহ্যিক পবিত্রতা।

প্রশ্ন ৮। অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা কাকে বলে? পবিত্র থাকার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।
উত্তর: দেহের পাশাপাশি মনকেও যাবতীয় পাপ চিন্তা থেকে মুক্ত করতে হয়। কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইতে হয়। ভবিষ্যতে ভালো কাজ করার অঙ্গীকার এবং পাপ কাজ বর্জন করার দৃঢ় সংকল্প করতে হয়। এতে দেহ ও মন পবিত্র হয় এবং আল্লাহর ইবাদাতের জন্য প্রস্তুত হয়। এটাই অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা। মহান আল্লাহর ইবাদাত করতে হলে পাক-পবিত্র থাকা প্রয়োজন। পবিত্রতা ছাড়া ইবাদাত কবুল হয় না।

পাক-পবিত্র থাকলে শরীর-মন সুস্থ থাকে। ফলে ইবাদাত-বন্দেগিতে মন বসে। সর্বোপরি প্রফুল্লচিতে ইবাদাত-বন্দেগি করার জন্য আমাদের পাক-পবিত্র থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ পাক যেমন সবরকম অপবিত্রতা থেকে মুক্ত, তেমনি তিনি চান তাঁর বান্দাগণ পাক-পবিত্র অবস্থায় তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হোক। ইসলামের মৌলিক ইবাদাতসমূহ পালন করার জন্য পাক-পবিত্রতা ফরয।

প্রশ্ন ৯। ওযু কাকে বলে? ওযু কেন গুরুত্বপূর্ণ? বর্ণনা কর।
উত্তর: ওযু আরবি শব্দ। এর অর্থ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় পবিত্রতা অর্জনের জন্য শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মুখমণ্ডল, দুই হাত (কনুইসহ) ও দুই পা (টাখনুসহ) ধৌত করা এবং মাথা মাসাহ করার নাম ওষু ওযু বাতীত সালাত আদায়, কাবাঘরের তাওয়াফসহ বেশ কিছু ইবাদাত করা যায় না। ভালোভাবে ওযু করলে মন প্রফুল্ল থাকে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। ইবাদাতেও একাগ্রতা আসে।

ওযুর ফজিলত সম্পর্কে মহানবি (সা.) বলেন, “আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে চিনতে পারব।” জনৈক সাহাবি প্রশ্ন করলেন, “হে আল্লাহ রাসুল, কোটি কোটি মানুষের মধ্যে আপনি কীভাবে আমাদের চিনবেন?” নবি করিম (সা.) উত্তরে বললেন, “ওযুর ফলে আমার উম্মতের মুখমন্ডল এবং হাত-পা উজ্জ্বলতায় চকচক করবে। তাতেই আমি আমার উম্মতকে চিনতে পারব।” (বুখারি ও মুসলিম)

প্রশ্ন ১০। গোসলের নিয়ম বর্ণনা কর।
উত্তর: বিসমিল্লাহ্ বলে প্রথমে ডান হাতে পানি নিয়ে দুই হাত কবজি পর্যন্ত ভালো করে ধৌত করতে হবে। তারপর শরীরের কোথাও, অপবিত্র বস্তু লেগে থাকলে তা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ভালোভাবে ওযু করতে হবে। ওযুর পর মাথায় এমনভাবে পানি ঢালতে হবে যেন চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়। এরপর ডান কাঁধে তারপর বাম কাঁধে পানি ঢেলে সমস্ত শরীর ধৌত করতে হবে যেন শরীরের কোনো অংশ শুকনো না থাকে। সর্বশেষ পা ধুতে হবে।

প্রশ্ন ১১। পবিত্র থাকার উপকারিতা বর্ণনা কর।
উত্তর: পবিত্র থাকার উপকারিতা অনেক। পবিত্র থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। মন প্রফুল্ল থাকে। লেখাপড়া ও কাজকর্মে মন বসে। আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়। সর্বোপরি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আর উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।” (সূরা আত্-তাওবা : ১০৮) তাছাড়া পবিত্রতা ইমানের অংশ। রাসুল (স.) বলেছেন, “পবিত্রতা ইমানের অংশ।” (মুসলিম)

প্রশ্ন ১২। নাজাসাত বলতে কী বোঝায়? নাজাসাতে হাকিকি বর্ণনা কর।
উত্তর: ‘নাজাসাত’ আরবি শব্দ। এর অর্থ অপবিত্রতা। এটি তাহারাত বা পবিত্রতার বিপরীত। শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর অপবিত্র হয়ে যায় অথবা যেসব দ্রব্য কোনো পবিত্র বস্তুতে লাগলে তা অপবিত্র হয়ে যায়, তাকে নাজাসাত বা অপবিত্রতা বলা হয়। যেমন: মল-মূত্র, রক্ত ইত্যাদি। নাজাসাতে হাকিকি বলতে ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে বোঝায় যেগুলো প্রকৃতিগত দিক থেকেই অপবিত্র এবং ইসলামি শরিয়ত সেগুলোকে অপবিত্র ঘোষণা করে। ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে মানুষ অপছন্দ করে। যেমন- প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত ‘ইত্যাদি। ইসলাম এসব থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রশ্ন ১৩। নাজাসাতে হুকমি কী? প্রস্রাব-পায়খানা কোন ধরনের নাজাসাত? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: নাজাসাতে হুকমি হচ্ছে ঐ সকল অপবিত্রতা যা দেখা যায় না; কিন্তু ইসলামি বিধানে তা নাজাসাত বা অপবিত্র বলে গণ্য। যেমন- ওযু ভঙ্গ হওয়া, গোসলের প্রয়োজনে হওয়া ইত্যাদি। উল্লেখ্য, উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে শরীর পবিত্র রাখা একান্ত প্রয়োজন। প্রস্রাব-পায়খানা নাজাসাতে হাকিকি বা প্রকৃত অপবিত্রতা নাজাসাতে হাকিকি বলতে আমরা ঐ নাজাসাতকে বুঝি, যা থেকে মানুষ নিজে দূরে থাকতে চায় এবং নিজের শরীর, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য ব্যবহারের বস্তু বাঁচিয়ে রাখতে চায়। প্রস্রাব ও পায়খানা’ এমন বস্তু হওয়ায় এগুলো নাজাসাতে হাকিকি।

প্রশ্ন ১৪। সালাত শব্দ দ্বারা কী বোঝায়? সালাত আদায় গুরুত্বপূর্ণ কেন? বর্ণনা কর।
উত্তর: সালাত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত, ক্ষমা প্রার্থনা করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আহকাম, আরকানসহ বিশেষ নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ইবাদাত করার নাম সালাত (নামায)। সালাত ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক মুমিনকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “এবং তোমরা নামায কায়েম করো যাকাত আদায় করো।” (সূরা আল-বাকারা: ৪৩) তাছাড়া সালাত মানুষকে অন্যায় ও অম্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত : ৪৫) সুতরাং সালাত আদায় গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন-১৫। সালাতে একাগ্রতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম উপায় হলো একাগ্রতার সাথে সালাত আদায় করা। একাগ্রতা হচ্ছে অনূরকে স্থির রাখা, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনোকিছুর কল্পনাকে অন্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত না করা, অনর্থক নড়াচড়া না করা। নামায অবস্থায় বান্দার মন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে, অথচ নামাযি টেরও পায় না। কারণ মানব মন কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতে অভ্যস্ত। এজন্যই বান্দাকে বিনয়, সহিষ্ণুতা ও মনের স্থিরতার সাথে সালাত আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন ১৬। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম উপায় কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম উপায় হচ্ছে একাগ্রতার সাথে সালাত আদায় করা। সালাতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিকট তার আবেদন নিবেদন পেশ করে তৃপ্তি লাভ করতে চায়। আল্লাহ তায়ালাও বান্দার আবেদন গ্রহণ করে থাকেন। তাই বান্দাকে অবশ্যই বিনয়ের সাথে নামায আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন ১৭। নামায মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নামায এমন একটি ইবাদাত যা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে উপকৃত করে। তন্মধ্যে “নামায মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে” অন্যতম। অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিয়মিত নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে। দৈনিক পাঁচবার আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হয়, সে কোনোরূপ অন্যায় কাজ করতে পারে না। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবুত: ৪৫)

প্রশ্ন ১৮। সিজদাহ শব্দটির অর্থ কী? সিজদাহ কীভাবে করতে হয়? বর্ণনা কর।
উত্তর: ‘সিজদাহ আরবি শব্দ। এর অর্থ মাথা অবনত করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বান্দা তার কপাল জমিনে রাখাকে সিজদাহ বলে। সিজদাহ এমন এক সম্মাননা, যা শুধু আল্লাহ তা’আলারই প্রাপ্য। মাটিতে কপাল ও নাক স্পর্শ করে সিজদাহ করতে হয়। একই সাথে সিজদার সময় উভয় পায়ের হাঁটু এবং উভয় হাতের তালু মাটিতে স্থাপন করতে হয়। সিজদাহ কিবলার দিকে মুখ করে দিতে হয়।


আরও দেখুন: ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর


আশাকরি “ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ২য় অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।