|

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায়: ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয়। যেমন- আল্লাহ নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, আখিরাত, তাকদির ইত্যাদির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। মুমিন হতে হলে সর্বপ্রথম এসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

ইমানের মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত অন্যতম। তাওহিদ শব্দের অর্থ হলো একত্ববাদ। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তা’আলাকে এক ও একক, তাঁর কোনো শরিক নেই- এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করার নামই তাওহিদ একজন মানুষকে মুসলিম হতে হলে সর্বপ্রথম তাওহিদে বিশ্বাসী হতে হয়।

ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায়
ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায়

রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি, সংবাদ বহন বা কোনো শুভ কাজের দায়িত্ব বহন করা; ইসলামি পরিভাষায়, রিসালাত বলতে মহান আল্লাহর বাণী ও বিধিবিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে বোঝায়। আর আল্লাহ তা’আলা যাঁকে রিসালাতের দায়িত্ব প্রদান করেন, তাঁকে বলা হয় রাসুল।

তাওহিদে বিশ্বাস স্থাপনের পর রিসালাতে বিশ্বাস স্থাপন অপরিহার্য। আখিরাত অর্থ পরকাল, পরজীবন, মরণোত্তর বা শেষ জীবন। ইসলামের পরিভাষায়, আখিরাত বলতে মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বোঝায়। আখিরাতে বিশ্বাস করা ইমানের অন্যতম একটি মৌলিক বিষয়।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় কুইজ প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ‘আকাইদ’ কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: আরবি।

প্রশ্ন ২। আকাইদ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিশ্বাসমালা।

প্রশ্ন ৩। আকীদাহ্ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বিশ্বাস।

প্রশ্ন ৪। ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি বিশ্বাসকে কী বলে?
উত্তর: আকাইদ।

প্রশ্ন ৫। আল্লাহ, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, আখিরাত, তাকদির ইত্যাদির প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকে কী বলে?
উত্তর: আকাইদ।

প্রশ্ন ৬। মুমিন হতে হলে সর্বপ্রথম কোন বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে?
উত্তর: আকাইদের প্রতি।

প্রশ্ন ৭। ইসলামে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য যা অন্তরে বিশ্বাসের সাথে মুখে উচ্চারণ করা হয়ে থাকে, সেটি কী?
উত্তর: কালিমা তাইয়্যেবাহ।

প্রশ্ন ৮। আল্লাহ ছাড়া কী নেই?
উত্তর: কোনো ইলাহ।

প্রশ্ন ৯। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।”- এটি কিসের বাংলা অর্থ?
উত্তর: কালিমা তাইয়্যেবাহর।

প্রশ্ন ১০। মহানবি (সা.) যা কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন, তার সবকিছুকে অন্তরে বিশ্বাস করাকে কী বলে?
উত্তর: ইমান।

প্রশ্ন ১১। কে এক এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ১২। মুহাম্মদ (সা.) কার বান্দা ও রাসুল?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ১৩। আকীদাহ কিসের বিস্তারিত বিষয়সমূহে বিশ্বাস?
উত্তর: ইমানের।

প্রশ্ন ১৪। কালিমা শাহাদাতকে কী বলা হয়?
উত্তর: সাক্ষ্যদানের বাক্য।

প্রশ্ন ১৫। সর্বশেষ নবি কে?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ১৭। ইমানের প্রথম কথা কী?
উত্তর: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস।

প্রশ্ন ১৮। মহানবি (সা.)-কে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়া বা তাঁকে হেয় জ্ঞান করা কী?
উত্তর: ইমানবহির্ভূত কাজ।

প্রশ্ন ১৯। সংক্ষিপ্তভাবে ইমানের একটি অঙ্গীকার বাণী আছে, যাকে কী বলা হয়?
উত্তর: ইমান মুজমাল।

প্রশ্ন ২০। ইসলামের মূল বিষয়গুলোকে সংক্ষেপে স্বীকার ও বিশ্বাস করাকে কী বলে?
উত্তর: ইমান মুজমাল।

প্রশ্ন ২১। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এবং আরও কয়েকটি বিষয়ে ইমান ও আকিদা বা বিশ্বাস স্থাপনের জন্য কোথায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে?
উত্তর: ইসলামে।

প্রশ্ন ২২। আমরা কার ওপর প্রেরিত ওহি তথা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহকে অনুসরণ ও অনুকরণ করব?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর।

প্রশ্ন ২৩। “নিঃসন্দেহে ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র দীন।” এটি কোন সূরার কত নং আয়াত?
উত্তর: সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১৯।

প্রশ্ন ২৪। তাওহিদ কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: আরবি

প্রশ্ন ২৫। তাওহিদের আভিধানিক অর্থ কী?
উত্তর: একত্ববাদ।

প্রশ্ন ২৬। কার কোনো শরিক নেই?
উত্তর: আল্লাহ তায়ালার।

প্রশ্ন ২৭। কে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রিজিকদাতা?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ২৮। কে ব্যতীত ইবাদাতের যোগ্য কেউ নেই?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত।

প্রশ্ন ২৯। কে সকল দোষত্রুটি থেকে মুক্ত?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৩০। আল্লাহ তা’আলার প্রতি বিশ্বাসের মূল কথা কী?
উত্তর: তাওহিদ।

প্রশ্ন ৩১। কে এক ও অদ্বিতীয়?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা।

প্রশ্ন ৩২। কার সমতুল্য কেউ নেই?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলার।

প্রশ্ন ৩৩। ইমান ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম কী?
উত্তর: তাওহিদ।

প্রশ্ন ৩৪। কে সবকিছুর স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকর্তা?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৩৫। “যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।” এটি কোন সূরার আয়াত?
উত্তর: সূরা আল-আম্বিয়া।

প্রশ্ন ৩৬। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে মহানবি (সা.) পর্যন্ত সকল নবি-রাসুল মানুষের নিকট কিসের বাণী প্রচার করেন?
উত্তর: তাওহিদের বাণী।

প্রশ্ন ৩৭। একজন মানুষকে মুসলিম হতে হলে সর্বপ্রথম কিসে বিশ্বাসী হতে হয়?
উত্তর: তাওহিদে।

প্রশ্ন ৩৮। কিসে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইমানদার হতে পারে না?
উত্তর: তাওহিদে।

প্রশ্ন ৩৯। তাওহিদের শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য কারা আজীবন চেষ্টা করেছেন?
উত্তর: নবি-রাসুলগণ।

প্রশ্ন ৪০। কিসের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
উত্তর: তাওহিদে বিশ্বাসের মাধ্যমে।

প্রশ্ন ৪১। তাওহিদে বিশ্বাসীরা আল্লাহর কী জানতে পারে?
উত্তর: গুণাবলির পরিচয়।

প্রশ্ন ৪২। “সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি।” কারা বিশ্বাস করে?
উত্তর: তাওহিদে বিশ্বাসীরা।

প্রশ্ন ৪৩। তাওহিদে বিশ্বাস একজন মানুষের মনে কী সৃষ্টি করে?
উত্তর: আল্লাহর ভয়।

প্রশ্ন ৪৪। এই বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও মালিক কে?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৪৫। কে সকল গুণের অধিকারী?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৪৬। আলো, বাতাস, পানি, খাদ্যসহ পৃথিবীতে এবং আকাশে যা কিছু আছে সব কার দান?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলার।

প্রশ্ন ৪৭। কার রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর নাম?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৪৮। রাহিমুন অর্থ কী?
উত্তর: পরম দয়ালু।

প্রশ্ন ৪৯। কে অসীম দয়ালু?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৫০। সবকিছুর ওপর কার রহমত বিরাজমান?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৫১। আযিযুন অর্থ কী?
উত্তর: প্রবল পরাক্রমশালী।

প্রশ্ন ৫২। সকল শক্তির অধিকারী কে?
উত্তর: মহান আল্লাহ।

প্রশ্ন ৫৩। “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” এটি কোন সূরার আয়াত?
উত্তর: আল বাকারার।

প্রশ্ন ৫৪। মুহাইমিনুন অর্থ কী?
উত্তর: রক্ষক, রক্ষণাবেক্ষণকারী, হেফাজতকারী।

প্রশ্ন ৫৫। কে আমাদের জাগতিক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৫৬। রায্যাকুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রিযিকদাতা।

প্রশ্ন ৫৭। বিশ্বের সকল প্রাণীর রিযিকের ব্যবস্থা করেন কে?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৫৮। আলিমুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সর্বজ্ঞ।

প্রশ্ন ৫৯। সকল জ্ঞানের অধিকারী কে?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৬০। “অন্তরে যা আছে আল্লাহ সে সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত।” এটি কোন সূরার আয়াত?
উত্তর: আলে ইমরান।

প্রশ্ন ৬১। হাকিমুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: প্রজ্ঞাময়, সুবিজ্ঞ ও সুনিপুণ কর্মদক্ষ।

প্রশ্ন ৬২। আমরা কার ইবাদাত করব?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৬৩। আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা।

প্রশ্ন ৬৪। আমরা সর্বদা কার শুকরিয়া আদায় করব?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৬৫। বিপদ-আপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা সবসময় কার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করব?
উত্তর: আল্লাহর নিকট।

প্রশ্ন ৬৬। আমরা সর্বদা ভালো করব এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সর্বপ্রকার পাপ কাজ থেকে কী করব?
উত্তর: দূরে থাকব।

প্রশ্ন ৬৭। রিসালাত কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: আরবি।

প্রশ্ন ৬৮। রিসালাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বার্তা।

প্রশ্ন ৬৯। মহান আল্লাহর বাণী ও বিধিবিধান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে কী বলে?
উত্তর: রিসালাত।

প্রশ্ন ৭০। আল্লাহ তা’আলা যাকে রিসালাতের দায়িত্ব প্রদান করেন তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: রাসুল।

প্রশ্ন ৭১। রিসালাতের প্রায় সমার্থক আরেকটি পরিভাষা কী?
উত্তর: নবুওয়াত।

প্রশ্ন ৭২। নবুওয়াত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান।

প্রশ্ন ৭৩। নবিগণ যে বার্তা লাভ করেন তাকে কী বলে?
উত্তর: নবুওয়াত।

প্রশ্ন ৭৪। কাদেরকে আল্লাহ তা’আলা কিতাব প্রদান করেননি বরং মৌখিক নির্দেশ প্রদান করেছেন?
উত্তর: নবিদেরকে।

প্রশ্ন ৭৫। কাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলা মৌখিক নির্দেশের সাথে সাথে আসমানি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন?
উত্তর: রাসুলদের।

প্রশ্ন ৭৬। নবুওয়াত ও রিসালাত কার দান?
উত্তর: আল্লাহর।

প্রশ্ন ৭৭। কিসের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ব এবং পরিচয় জানতে পেরেছে?
উত্তর: রিসালাতের মাধ্যমে।

প্রশ্ন ৭৮। কারা ছিলেন সৃষ্টির সেরা মানুষ?
উত্তর: নবি-রাসুলগণ।

প্রশ্ন ৭৯। কারা ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী?
উত্তর: নবি-রাসুলগণ।

প্রশ্ন ৮০। কারা মাসুম বা নিষ্পাপ ছিলেন?
উত্তর: নবি-রাসুলগণ।

প্রশ্ন ৮১। কারা সবসময় নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণ সাধনা করেছেন?
উত্তর: নবি-রাসুলগণ

প্রশ্ন ৮২। আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে কতজন নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন?
উত্তর: এক মতে, এক লক্ষ চব্বিশ হাজার।

প্রশ্ন ৮৩। আল্লাহ তা’আলা কতজন রাসুল পাঠিয়েছেন?
উত্তর: ৩১৩ জন।

প্রশ্ন ৮৪। আল্লাহ তা’আলা নবি-রাসুলদের মধ্যে সর্বপ্রথম কাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন?
উত্তর: হযরত আদম (আ.)কে।

প্রশ্ন ৮৫। পৃথিবীর প্রথম মানব কে?
উত্তর: হযরত আদম (আ.)।

প্রশ্ন ৮৬। পথভ্রষ্ট মানুষদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন কারা?
উত্তর: নবি-রাসুলগণ।

প্রশ্ন ৮৭। তাওহিদের বিশ্বাসের পরই কিসে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য?
উত্তর: রিসালাতে।

প্রশ্ন ৮৮। কার ওপর আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর।

প্রশ্ন ৮৯। হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কত খ্রিষ্টাব্দে পৃথিবীতে আগমন করেন?
উত্তর: ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে।

প্রশ্ন ৯০। হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কত বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন?
উত্তর: ৪০ বছর।

প্রশ্ন ৯১। কে সর্ববিষয়ে ও সর্বদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।

প্রশ্ন ৯২। কাকে ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে।

প্রশ্ন ৯৩। আখিরাত কোন ভাষার শব্দ?
উত্তর: আরবি।

প্রশ্ন ৯৪। আখিরাত শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পরকাল।

প্রশ্ন ৯৫। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে আখিরাতের জীবনকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে।
উত্তর: দুটি।

প্রশ্ন ৯৬। কবরের জীবনকে কী বলে?
উত্তর: বারযাখ।

প্রশ্ন ৯৭। জান্নাত কিংবা জাহান্নামে প্রবেশের মাধ্যমে মানুষ কী জীবন লাভ করবে?
উত্তর: অনন্ত।

প্রশ্ন ৯৮। কোন জীবনের শুরু আছে, শেষ নেই?
উত্তর: আখিরাতের।

প্রশ্ন ৯৯। কিসে বিশ্বাস ছাড়া মুমিন হওয়া যায় না?
উত্তর: আখিরাতে।

প্রশ্ন ১০০। কিসে বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল ও চরিত্রবান করে গড়ে তোলে?
উত্তর: আখিরাতে।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। আকাইদ কাকে বলে?
উত্তর: ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয়।

প্রশ্ন ২। ইসলামের সর্বপ্রথম বিষয়টি কী?
উত্তর: ইসলামের সর্বপ্রথম বিষয়টি হলো আল্লাহ তা’আলা এবং মহানবি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর ইমান আনা বা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।

প্রশ্ন ৩। তাওহিদ কী?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা এক ও একক, তাঁর কোনো শরিক নেই- এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ।

প্রশ্ন ৪। রাহিমুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রাহিমুন অর্থ পরম দয়ালু।

প্রশ্ন ৫। আযিযুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আযিযুন অর্থ প্রবল পরাক্রমশালী।

প্রশ্ন ৬। মুহাইমিনুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুহাইমিনুন অর্থ রক্ষক, রক্ষণাবেক্ষণকারী, হেফাজতকারী।

প্রশ্ন ৭। রায্যাকুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রায্যাকুন শব্দের অর্থ রিযিকদাতা।

প্রশ্ন ৮। আলিমুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: আলিমুন অর্থ সর্বজ্ঞ, অর্থাৎ যিনি সবকিছু জানেন বা যিনি সূকল জ্ঞানের অধিকারী।

প্রশ্ন ৯। হাকিমুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: হাকিমুন অর্থ প্রজ্ঞাময়, সুবিজ্ঞ ও সুনিপুণ কর্মদক্ষ।

প্রশ্ন ১০। আকাইদের সর্বপ্রথম ও প্রধান বিষয় কী?
উত্তর: আকাইদের সর্বপ্রথম ও প্রধান বিষয় হলো তাওহিদ। তাওহিদ অর্থ আল্লাহ তা’আলাকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা, তাঁর সঙ্গে। কাউকে শরিক না করা।

প্রশ্ন ১১। রিসালাত বলতে কী বোঝায়? 
উত্তর: রিসালাত বলতে মহান আল্লাহর বাণী ও বিধিবিধান মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে বোঝায়।

প্রশ্ন ১২। রিসালাত কী?
উত্তর: মহান আল্লাহ কর্তৃক রাসুলগণকে যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রদান করা হয়েছে তার নাম রিসালাত।

প্রশ্ন ১৩। রাসুল কাকে বলা হয়?
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা যাঁকে রিসালাতের দায়িত্ব প্রদান করেন, তাঁকে বলা হয় রাসুল।

প্রশ্ন ১৪। নবুওয়াত অর্থ কী?
উত্তর: নবুওয়াত অর্থ অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান।

প্রশ্ন ১৫। নবুওয়াত কাকে বলে?
উত্তর: নবিগণ যে বার্তা লাভ করেন তাকে বলে নবুওয়াত।

প্রশ্ন ১৬। রিসালাতে বিশ্বাস অর্থ কী?
উত্তর: রিসালাতের বিশ্বাসের অর্থ হলো, নবি-রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন বা তাঁরা আল্লাহর যে বাণী আমাদের কাছে পৌছিয়েছেন তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা।

প্রশ্ন ১৭। আখিরাত বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ইসলামের পরিভাষায় আখিরাত বলতে মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বোঝায়।

প্রশ্ন ১৮। বারযাখ কী?
উত্তর: পবিত্র কুরআন ও হাদিসে আখিরাতের জীবনকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের নাম হলো ‘বারযাখ বা কবরের জীবন, যা মৃত্যু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত।

প্রশ্ন ১৯। কোন সময়কালকে বারযাখের জীবন বলা হয়?
উত্তর: মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়কে কবর বা যারযাখের জীবন বলা হয়।

প্রশ্ন ২০। আখিরাতে বিশ্বাস বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আখিরাতে বিশ্বাস বলতে বোঝায়, এ দুনিয়ার জীবনই মানুষের জন্য শেষ নয়, দুনিয়ার জীবনের কর্মফল বা প্রতিদান ভোগ করার জন্য পরকালের জীবন রয়েছে, যা হবে অনন্তকাল, এ ধারণাটিতে বিশ্বাস করা।

প্রশ্ন ২১। কিসের মাধ্যমে আখিরাতে জীবন শুরু হয়?
উত্তর: মৃত্যুর মাধ্যমে আখিরাতের জীবন শুরু হয়।

প্রশ্ন ২২। কিয়ামত কী?
উত্তর: মহান আল্লাহর হুকুমে নির্দিষ্ট সময়ে হযরত ইসরাফিল (আ.) শিল্পায় ফুঁক দেবেন। এর ফলে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। বিশ্বজগতের এ ধ্বংসের নাম কিয়ামত।

প্রশ্ন ২৩। হাশর কী?
উত্তর: পুনরুত্থানের পর ভীত-শঙ্কিত জিন ও মানুষ একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে এক বিশাল ময়দানে সমবেত হবে। ইসলামের পরিভাষায় এর নাম হাশর বা মহাসমাবেশ।

প্রশ্ন ২৪। মীযান কী?
উত্তর: হাশরের দিন মানুষ ও জিনের পাপ-পুণ্যের ওজন করা হবে। আর যে পরিমাপক যন্ত্রের দ্বারা হাশরের দিন পাপ-পুণ্যের ওজন করা হবে তাকে ইসলামি পরিভাষায় মীযান বলা হয়।

প্রশ্ন ২৫। সিরাত কী?
উত্তর: সিরাত এমন একটি পুল যা কিয়ামত দিবসে জাহান্নামের ওপর স্থাপিত হবে। হাশরের ময়দানে বিচারকাজ সমাপ্ত হওয়ার পর মানুষকে এ সিরাত অতিক্রম করতে হবে।

প্রশ্ন ২৬। জান্নাত কী?
উত্তর: দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনের পর পুণ্যবান মু’মিনদের জন্য পরকালে আল্লাহ তা’আলা যে অনন্ত সুখময় চিরস্থায়ী আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রেখেছেন, তার নাম জান্নাত।

প্রশ্ন ২৭। জাহান্নাম কী?
উত্তর: হাশরের ময়দানে বিচারের পর কাফির, মুশরিক এবং পাপিদের যে স্থানে শাস্তির জন্য প্রেরণ করা হবে, তাই জাহান্নাম।

প্রশ্ন ২৮। ধর্মের মূল চেতনা কী?
উত্তর: ধর্মের মূল চেতনা হলো বিশ্বাস যা মানবজীবনের মূল চালিকাশক্তি।

প্রশ্ন ২৯। ইসলামি জীবন দর্শনে বিশ্বাসের অন্যতম মৌলিক বিষয় কয়টি?
উত্তর: ইসলামি জীবন দর্শনে বিশ্বাসের অন্যতম মৌলিক বিষয় তিনটি। এগুলো হলো- তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস, রিসালাত তথা নবি-রাসুলদের প্রতি বিশ্বাস এবং আখিরাত অর্থাৎ পরকালের প্রতি বিশ্বাস।

প্রশ্ন ৩০। কারা জান্নাত লাভ করবে?
উত্তর: দুনিয়াতে যে ভালো ও নেক কাজ করবে, আখিরাতে সে চিরশান্তির জান্নাত লাভ করবে।

প্রশ্ন ৩১। কারা জাহান্নাম লাভ করবে?
উত্তর: দুনিয়ায় যে অন্যায় ও পাপ কাজ করবে আখিরাতে সে চরম শাস্তির মুখোমুখি হবে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।


ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় ব্যাখ্যা ও বর্ণনামূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন ১। ইসলাম শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কোনোকিছু বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে সেই সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হয়। যেমন- সাঁতার কাটতে হলে প্রথমে সাঁতার কী, কীভাবে সাঁতার কাটতে হয় ইত্যাদি শিখতে হয়। গাড়ি চালাতে হলে গাড়ি ও গাড়ি চালনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ঠিক তেমনি ইসলাম অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য ইসলাম সম্পর্কে প্রথমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এ কারণে ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করব।

প্রশ্ন ২। ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নাম কী? বিশ্বাসগত দিকটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ইসলাম আল্লাহ তা’আলা মনোনীত একমাত্র দীন বা জীব ব্যবস্থা। এর দুটি দিক রয়েছে। যথা- বিশ্বাসগত দিক ও আচটাগত বা প্রায়োগিক দিক। ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামই হলো আকাইদ। আকাইদ আরবি শব্দ। এর অর্থ বিশ্বাসমালা। এটি বহুবচন। এর এক বচন আকীদাহ, যার অর্থ বিশ্বাস ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি নবি-রাসুল, দৃঢ় বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয়। আল্লাহ তা’আলা, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি আকাইদের অন্তর্ভুক্ত।

প্রশ্ন ৩। আল্লাহ তা’আলাকে সকল গুণের আধার বলা হয় কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: আল্লাহ তা’আলা সকল গুণের আধার। সকল গুণ তাঁর নিকট পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। তিনি সৃষ্টিকর্তা। বিশ্বজগৎ ও এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর সৃষ্টি। তিনি রিযিকদাতা। সকল সৃষ্টিই রিযিকের – জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনিই সর্বশক্তিমান সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। সকল কিছুই তাঁর পরিচালনায় সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এককথায় তিনি সর্বগুণে গুণান্বিত।

প্রশ্ন ৪। তাওহিদ বলতে কী বোঝায়? তুমি তাওহিদে বিশ্বাস করবে কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: তাওহিদ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো তাওহিদ। মহান আল্লাহ তা’আলা এক ও একক, তাঁর কোনো শরিক নেই- এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ বা একত্ববাদ। তাওহিদের মূলকথা হলো আল্লাহ তা’আলা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়। তিনিই প্রশংসা ও ইবাদাতের একমাত্র মালিক। তাঁর তুলনীয় কেউ নেই।

আমি তাওহিদে বিশ্বাস করি। কারণ, ইমানের প্রথম কথা হলো তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস। একজন মানুষকে মুসলিম হতে হলে সর্বপ্রথম তাওহিদে বিশ্বাসী হতে হয়। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইমানদার হতে পারে না। এককথায়, ইসলামের সকল বিধান এবং সকল শিক্ষাই তাওহিদে বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে আমি তাওহিদে বিশ্বাস করব।

প্রশ্ন ৫। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ বা ইলাহ নেই। অর্থাৎ পৃথিবীতে ইলাহ বা ইবাদাতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। তিনি ব্যতীত আর কেউ উপাস্য হতে পারে না। চন্দ্র, সূর্য, তারকারাজি, পাহাড়-পর্বত, বাঘ-সিংহ, রাজা-বাদশা কেউই ইবাদাতের যোগ্য নয়। বরং এসবের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’আলাই হলেন একমাত্র মাবুদ। অতএব বলা যায়, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা মহান আল্লাহর একত্ববাদের বিষয়টির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন ৬। কালিমা তাইয়্যেবাহ না-বোধক শব্দ দ্বারা শুরু করা হয়েছে কেন?
উত্তর: ‘লা-ইলাহা’ অর্থাৎ ‘ইবাদাতের যোগ্য কেউই নেই’। এ না- বোধক বাক্য দ্বারা কালিমাটি শুরু করা হয়েছে। এর কারণ রাসুল (সা.) যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন আরবের লোকেরা নানারকম কাল্পনিক দেবদেবীর উপাসনা ও শিরকের দ্বারা নিজেদের অন্তর অপবিত্র করেছিল। তাই এ না-বোধক ঘোষণা দ্বারা দেবদেবীর পূজা বাতিল করা হলো। তাদের অন্তর শিরকের কলুষতা থেকে পবিত্র করা হলো।

প্রশ্ন ৭। নবি-রাসুল বলতে কী বোঝায়? আমরা নবি-রাসুলগণকে অনুসরণ করব কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: যে সকল মহাপুরুষ নবুওয়াত বা রিসালাতের পবিত্র দায়িত্ব পালন করতেন তাঁরা হলেন নবি-রাসুল। নবি ও রাসুলের মধ্যে পার্থক্য আছে। যাদের কাছে আসমানি কিতাব আসত তাঁরা হলেন রাসুল। আর যাঁদের কাছে আসমানি কিতাব আসত না তাঁরা নবি। অতএব, প্রত্যেক রাসুলই নবি; কিন্তু সকল নবি-রাসুল নন। আসমানি কিতাবপ্রাপ্ত মন এমন নবিগণ পূর্ববর্তী কিতাব অনুসারে দীন প্রচার করতেন।

নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। সকল সৎ গুণাবলি তাঁরা অনুশীলন করতেন। তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত সৎ, সত্যবাদী এবং ন্যায়পরায়ণ। দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য ইত্যাদি সবধরনের মানবিক গুণাবলি তাঁদের চরিত্রে বিদ্যমান ছিল। মিথ্যা প্রতারণা, পরনিন্দা, হিংসা- বিদ্বেষ ইত্যাদি খারাপ স্বভাবের লেশমাত্র তাঁদের চরিত্রে কখনোই ছিল না। বরং তাঁরা ছিলেন সংস্বভাবের জন্য মানবজাতির অনুপম আদর্শ। তাই আমাদের জীবনকে তাঁদের জীবনের আলোকে গড়তে হলে তাঁদের চরিত্রের অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্ন ৮। এ বিশাল সৃষ্টির একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে কী হতো? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এ বিশাল সৃষ্টি একটি নিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দিন-রাতের আবর্তন, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, কোনোকিছুতেই কোনো প্রকার অনিয়ম নেই। এতেই প্রমাণিত হয়, এ বিশাল সৃষ্টির এক মহাশক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। একের অধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে এরূপ নিয়মশৃঙ্খলা থাকত না।

বস্তুত নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা যদি একের অধিক হতেন, তবে মহাবিশ্বের চিরন্তন নিয়মে ব্যাঘাত ঘটত। এক রাজ্যের স্বত্বাধিকারী একাধিক বাদশাহ থাকলে সে রাজ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কাজেই এ বিশাল সৃষ্টির একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিত এবং সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস হয়ে যেত।

প্রশ্ন ৯। কিয়ামত ও আলমে বারযাখ বলতে কী বোঝায়? বর্ণনা কর।
উত্তর: কিয়ামত আখিরাত জীবনের একটি স্তর। কিয়ামতকে মহাউপরও বলা হয়। ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে যেদিন প্রথম শিঙায় ফুঁক দিবেন সেদিন সারাবিশ্ব প্রায় হয়ে যাবে। এ প্রলয়ের পর তিনি দ্বিতীয়বার ফুঁক দেবেন তখন সকল মানুষ যে যেখানে থাকুক সেখান থেকে উঠে দাঁড়াবে। এ অবস্থাকেই কিয়ামত বলে।

আখিরাতের জীবনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রথম ধাপ হলো কবর বা আলমে বারযাখ। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত বা পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত সময়কে বলে আলমে বারযাখ। আলমে বারযাখে ‘মুনকার নাকির’ নামে দুজন ফেরেশতা তিনটি প্রশ্ন করবেন। যাদের কবর দেওয়া হয় না তারাও এ থেকে রেহাই পাবে না।

প্রশ্ন ১০। হাশর বলতে কী বোঝায়? বর্ণনা কর।
উত্তর: হাশর শব্দের অর্থ মহাসমাবেশ বা একত্রিত হওয়া। কিয়ামতের পর বহুকাল একমাত্র আল্লাহ তা’আলা বিদ্যমান থাকবেন। অতঃপর তিনি পুনরায় সমস্ত প্রাণীকে জীবিত করবেন। তাঁর হুকুমে ইসরাফিল (আ.) দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দিবেন। ফলে সকল প্রাণী পুনরায় জীবিত হবে। একে বলা হয় মৃত্যুর পর পুনরুত্থান। এসময় একজন ফেরেশতা সবাইকে আহ্বান করবেন। ফলে সকলে একটি বিশাল ময়দানে সমাবেত হবে। একে বলা হয় হাশর।

প্রশ্ন ১১। জান্নাত সম্পর্কে তুমি কী জানো? বর্ণনা কর।
উত্তর: দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনের পর পুণ্যবান মুমিনদের জন্য পরকালে আল্লাহ তা’আলা যে অনন্ত সুখময় চিরস্থায়ী আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রেখেছেন, তার নাম জান্নাত। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। জান্নাত পরম সুখ-শান্তির স্থান। সেখানে রোগ-শোক, জরা- মৃত্যু বা কোনো অশান্তি নেই।

প্রশ্ন ১২। জাহান্নাম সম্পর্কে তুমি কী জানো?
উত্তর: জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান বা চিরদুঃখের জায়গা। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শান্তির স্থান। আর জাহান্নামই হলো সে শান্তির জাগো। জাহান্নামকে নার বা আগুনও বলা হয়। জাহান্নাম চিরশান্তির স্থান। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষের পাপের পরিমাণ অনুসারে স্বস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

প্রশ্ন ১৩। নীতিহীন মানুষের কর্মকান্ড ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নীতিহীন মানুষ ভালো-খারাপ, কল্যাণ-অকল্যাণ কোনো কিছুরই পরোয়া করে না। নীতিহীন মানুষও ঠিক তেমনি। সে কোনো রূপ আইনকানুন, বিধিবিধান মানে না। নিজের লাভের জন্য সে অপরের ক্ষতি সাধন করে থাকে। মিথ্যা, প্রতারণা, ধোঁকা দেওয়া, পরচর্চা ইত্যাদি তার চরিত্রে ফুটে ওঠে।


৬ষ্ঠ শ্রেণির সকল বিষয়ের সাজেশন ও প্রশ্নোত্তর দেখতে এখান ক্লিক করুন।


আশাকরি “ইসলাম শিক্ষা ৬ষ্ঠ শ্রেণি ১ম অধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।