|

৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ – শব্দের উচ্চারণ

৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ: অঞ্চলভেদে একই ভাষার উচ্চারণ ও শব্দের বৈচিত্র্য থাকে। অঞ্চলভেদে একই ভাষার এই ভিন্ন ভিন্ন রূপকে বলা হয় আধুলিক ভাষা। তাই, সবার বোঝার সুবিধার্থে যেকোনো ভাষার ক্ষেত্রেই একটি মান নির্দিষ্ট করা থাকে, এই মান ভাষাকেই প্রমিত ভাষা বলে। অর্থাৎ, যেভাবে কথা বললে বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলের মানুষ সহজে বুঝতে পারে, সেটিই হলো প্রমিত বাংলা ভাষা ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানিক এমনকি অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে প্রমিত ভাষায় কথা বলতে পারাটা একটি প্রয়োজনীয় দক্ষতা। তবে তার মানে এই নয় যে, প্রমিত ভাষায় কথা বলতে না পারাটা দুর্বলতা বা লজ্জাজনক কিছু।

আমাদের মধ্যে যাদের পরিবারে বা বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিবেশে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার প্রচলন। রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় হয়তো প্রমিত ভাষায় কথা বলাটা সহজ নয় এবং এটা খুবই স্বাভাবিক। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে চেষ্টা করলে অবশ্যই প্রমিত বাংলায় কথা বলা যায়। প্রমিত ভাষার দুটি রূপ আছে: কথ্য প্রমিত ও লেখ্য প্রমিত। কথ্য প্রমিত ব্যবহৃত হয় আনুষ্ঠানিক কথা বলার সময়ে, অন্যদিকে লেখ্য প্রমিত ব্যবহৃত হয় লিখিত যোগাযোগের কাজে। আঞ্চলিক ভাষার প্রধান প্রয়োগ কথ্য উপায়ে হলেও অনেক সাহিত্যিকই তাঁদের লেখায় আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছেন।


৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ

শব্দের উচ্চারণ

উচ্চারণ একটি মৌখিক প্রক্রিয়া। মানুষ মুখ দ্বারা উচ্চারণ করে। ফুসফুস থেকে আসা বাতাস বাগযন্ত্রের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অর্থবহ হয়ে মুখ দিয়ে বের হয়। একই শব্দের উচ্চারণ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্নভাবে করে থাকে। এর কারণ আঞ্চলিকতার প্রভাব, ধ্বনির সঠিক উচ্চারণ না জানা, শুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি অনাগ্রহ, প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম না জানা ইত্যাদি।

শুদ্ধ উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তা

শব্দের উচ্চারণ শুদ্ধভাবে করতে না পারলে অর্থ বদলে যায় এবং ভাষা তার সৌন্দর্য হারায়। তাছাড়া একেক অঞ্চলের মানুষের একেক রকম উচ্চারণের কারণে ভাষিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অসুবিধার সৃষ্টি হয়। ফলে ভাষা হয়ে ওঠে দুর্বোধ্য। এক্ষেত্রে ভাষাকে সহজবোধ্য ও শ্রুতিমধুর করতে শুদ্ধ উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ কারণে প্রমিত ভাষায় শব্দের উচ্চারণ ঠিকভাবে করতে হয়।

শুদ্ধ উচ্চারণের ক্ষেত্র

দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়তই আমাদের কথা বলতে হয়। তবে সবক্ষেত্রে আমরা শুদ্ধ উচ্চারণ করি না বা প্রমিত ভাষায় কথা বলি না। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আমাদেরকে শুদ্ধ করে কথা বলতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়া বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রেও শুদ্ধ করে কথা বলতে হয়। যেমন— টেলিভিশনের বিবিধ অনুষ্ঠান, টকশো বা সংবাদ পাঠের সময় শুদ্ধ উচ্চারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তাছাড়া জনসংযোগ রয়েছে এমন স্কুলে যেমন- সভা, সমিতি প্রভৃতি ক্ষেত্রেও শুদ্ধ করে কথা বলার আবশ্যকতা রয়েছে। তাছাড়া শিক্ষক, চিকিৎসকদের মতো বিভিন্ন পেশাজীবীদেরও কর্মক্ষেত্রে শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলার প্রয়োজন পড়ে।

পাঠ মূল্যায়ন

প্রশ্ন-১. প্রমিত উচ্চারণ শেখা প্রয়োজন কেন?
উত্তর: ভাষিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাসুবিধা দূর করতে প্রমিত উচ্চারণ শেখা প্রয়োজন।

প্রশ্ন-২, ‘অজ্ঞ’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ কী?
উত্তর: অগুগোঁ।

প্রশ্ন-৩. ভাষা তার সৌন্দর্য হারায় কীভাবে?
উত্তর: শব্দের উচ্চারণ শুদ্ধভাবে করতে না পারলে।

প্রশ্ন-৪. শব্দের উচ্চারণ শুদ্ধভাবে করতে না পারলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: শব্দের অর্থ বদলে যেতে পারে।

প্রশ্ন-৫. প্রমিত ভাষায় কথা বলার প্রধান সুবিধা কী?
উত্তর: সবাই বুঝতে পারে।

প্রশ্ন-৬. ‘প্রাকাণ’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ কী?
উত্তর: প্রাপোন।

প্রশ্ন-৭. ‘স্মরণ’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ কী?
উত্তর: শরোন।


প্রশ্ন- একুশে ফেব্রুয়ারি) ছাব্বিশে মার্চ/ ষোলোই ডিসেম্বর বা অন্য কোনো দিবস উপলক্ষে প্রমিত ভাষায় বক্তৃতা উপস্থাপন করো।
নির্দেশনা: প্রদত্ত বিষয়গুলোর অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে প্রমিত ভাষায় বক্তৃতা উপস্থাপনার জন্য শিক্ষকদের সহায়তায় কিংবা নিজে নিজে একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করবে। স্ক্রিপ্টটি সুন্দর, সাবলীল ও আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করতে হবে। স্ক্রিপ্টে অনুষ্ঠানের বিষয় এবং বিষয়-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়ে গেলে বেশ কয়েকবার নিজে নিজে অনুশীলন করো।

উপস্থিত বক্তৃতা ২১শে ফেব্রুয়ারি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

সম্মানিত সুধী…
আজকের এই মহতী সভায় উপস্থিত সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং দর্শকবৃন্দ, সবার প্রতি আন্তরিক অভিবাদন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করছি। আমার বক্তব্যের নির্ধারিত বিষয় ২১শে ফেব্রুয়ারি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের তরুণদের আত্মদান বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সম্মানিত সুধী…
১৯৪৭ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেসময় পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা বাংলার মানুষের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে। অথচ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। একথা শুনে বাঙালিরা সাথে সাথেই তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। ভাষাশহিদদের এই আত্মত্যাগের খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো। ফলে গতি পায়। আন্দোলন। এমতাবস্থায় প্রবল চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।

মাতৃভাষার জন্য ভাষাশহিদদের এ আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের মহিমা ও তাৎপর্যকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে তৈরি করা হয়েছে শহিদ মিনার। এখানেই শহিদ হয়েছিলেন বরকত। এ শহিদ মিনার আজ আমাদের গর্ব আর অহংকারের প্রতীক।

সম্মানিত সুধী…
একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটির তাৎপর্য আজ স্বদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বসভায় পরিচিতি লাভ করেছে। গুরুত্ব বিবেচনায় দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তখন থেকে ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষ যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিনটি পালন করে আসছেন। এটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ভোরবেলা প্রভাতফেরির মিছিলে সমবেত হয় সর্বস্তরের মানুষ। শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সেই অমর সংগীত— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ দিবসটি ঘিরে আয়োজিত হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সম্মানিত সুধী…
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে এবং ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে শেখায়। একুশের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে আমরা সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করব। এই আশা ব্যক্ত করে। আমার বক্তৃতা শেষ করছি। সবাইকে ধন্যবাদ।


প্রশ্ন- নিজের কোনো অভিজ্ঞতা প্রমিত ভাষায় উপস্থাপন করো।
নির্দেশনা: নিজের যেকোনো অভিজ্ঞতা প্রমিত ভাষায় উপস্থাপনার জন্য যে অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাও প্রথমেই তা ভালোভাবে গুছিয়ে নিয়ে বলতে হবে। এছাড়াও উপস্থাপনার সময় উচ্চারণ যেন শুদ্ধ হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুমি প্রমিত ভাষায় উপস্থাপনা করতে পারো। বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য নমুনা উত্তর দেখো।

বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা

জীবনে অনেক ধরনের মেলায় গিয়েছি কিন্তু বৃক্ষমেলায় গিয়ে যে আনন্দ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করে তোলার জন্য প্রায় প্রত্যেক বছরই বড়ো বড়ো শহরে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়। কিছুদিন আগে বৃক্ষমেলা ঘুরে আসায় যে অভিজ্ঞতা লাভ করলাম, তা আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ছিল।

কয়েকদিন আগে রাজশাহীতে মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে তখন বৃক্ষমেলা চলছিল। মামি রানা ভাইয়াকে বললেন, আমাকে বৃক্ষমেলা থেকে ঘুরিয়ে আনতে। মেলার কথা শুনেই তো লাফিয়ে উঠলাম। মেলায় যেতে যেতে ভাইয়া বললেন, এই মেলা চলছে ২০ দিনব্যাপী মেলার স্লোগান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আসুন গাছ লাগাই’। মেলাটিতে দশ হাজারেরও বেশি গাছ প্রদর্শিত হয়েছিল। মেলায় ফল গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজিত স্টলটি ছিল সবচেয়ে বড়ো। কত রকমের যে গাছ ছিল সেখানে। পুরো মেলাজুড়ে ফুল, ফল, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ ও ঔষধি গাছ ছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেনের স্টলে ছিল দুষ্প্রাপ্য সব গাছ। কী তাদের রূপ, আর কী তাদের নাম! পুরো মেলায় আমার যে দুটি স্টল সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তা হলো বনসাই আর অর্কিডের স্টল। বনসাই তৈরির প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত তথ্য আমি এখান থেকেই জানতে পেরেছি। এরপর গিয়েছি ঔষধি গাছের স্টলে। ঔষধি গাছগুলো আজ বিপন্ন হতে চলেছে আমাদের অবহেলার কারণে। ভেষজ ওষুধ নিয়ে নানা রকম তথ্য এখানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। স্টলগুলো দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বাসায় ফেরার আগে ভাইয়া দুই-তিনটি ফুলের চারা ও একটি কাঁঠালগাছ কিনলেন। এরপর গাছগুলো নিয়ে মামাবাড়িতে ফিরে এলাম। পরের দিন মামিকে সঙ্গে নিয়ে গাছগুলো রোপণ করলাম।


আরও দেখুন: ৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ১ম পরিচ্ছেদ – ধ্বনির উচ্চারণ


আশাকরি “৭ম শ্রেণির বাংলা ২য় অধ্যায় ২য় পরিচ্ছেদ” আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে ফলো করতে পারেন আমাদের ফেসবুক পেজ ও সাবক্রাইব করতে পারেন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল।